All posts by jitu

কুমিল্লায় কাঁচা-বাসি খাবারের মান নিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ “লাহাম কিচেন” !

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লা শহরের পরিচিত রেস্টুরেন্ট ‘লাহাম কিচেন’ এ খাবারের মান নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন উঠেছে। সাম্প্রতিক সময়ে রেস্টুরেন্টটিতে খেতে আসা একাধিক গ্রাহক খাবারের স্বাদ, গুণগত মান ও স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি কিছু খাবারের মান আগের তুলনায় কমে গেছে, যা একটি মানসম্মত রেস্টুরেন্টের জন্য উদ্বেগজনক।

গ্রাহকদের অভিযোগে জানা যায়, পরিবেশিত খাবারের গন্ধ,কাচাঁ,বাসী খাবার, স্বাদ এবং উপস্থাপনা স্বাভাবিক মানের সঙ্গে মিলেনি। কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, কিছু খাবার ছিল নিম্নমানের বা অপর্যাপ্তভাবে রান্না করা। এতে গ্রাহকদের মাঝে সন্দেহ তৈরি হয়েছে রেস্টুরেন্টটি কি মান বজায় রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে?

ভুক্তভোগী ইসরাত জাহান ঐশি আজকের কুমিল্লাকে বলেন, “আগে এখানে খাবারের স্বাদ সত্যিই ভালো ছিলো। কিন্তু সাম্প্রতিক দুই তিনবার এসে দেখি মান আগের মতো নেই। কিছু আইটেম এমন ছিলো, যা রেস্টুরেন্টের মানসম্পন্ন পরিবেশনের সঙ্গে মানানসই নয়।”

তিনি আরও আজকের কুমিল্লার প্রতিবেদককে বলেন, “এত পরিচিত রেস্টুরেন্টে খাবারের মান খারাপ হওয়া দুঃখজনক। আশা করি তারা দ্রুত এ সমস্যার সমাধান করবে।”

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে লাহাম কিচেন কর্তৃপক্ষ আজকের কুমিল্লার প্রতিবেদককে বলেন, তারা সর্বদা খাবারের মান বজায় রাখতে সচেষ্ট। কোনো অনিয়ম বা ভুলত্রুটি হয়ে থাকলে তা সংশোধনে তারা আন্তরিক। গ্রাহকদের অভিযোগ গুরুত্বসহকারে পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের সমস্যা না থাকে সে বিষয়ে রেস্টুরেন্টের ব্যবস্থাপনা আরও সতর্ক থাকবে।

সুশীল সমাজের প্রতিনিধি মো: আলমগীর খাঁন আজকের কুমিল্লার প্রতিবেদককে বলেন, কুমিল্লার খাদ্য খাতে মান বজায় রাখার ক্ষেত্রে এই ঘটনা একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে গ্রাহকের সন্তুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব না দিলে যে কোনো প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ণ হতে পারে। সুতরাং দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণই পারে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে।

এ বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কুমিল্লা জেলা কার্যালয়ের কর্মকর্তা কাউসার মিয়াকে একাধিক বার কল দিয়েও পাওয়া যায়নি।

কুমিল্লা মুক্ত দিবস উদযাপন উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

স্টাফ রিপোর্টার:

বর্ণাঢ্য আয়োজনে কুমিল্লায় উদযাপিত হলো কুমিল্লা মুক্ত দিবস-২০২৫। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর হাত থেকে কুমিল্লা মুক্ত হয়েছিল। দিবসটিকে স্মরণ করে এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে জীবন উৎসর্গকারী বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দিনব্যাপী নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

সোমবার কুমিল্লা জেলা প্রশাসন ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের আয়োজনে র‍্যালি ও আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মুঃ রেজা হাসান ও জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার মোঃ আনিসুজ্জামান, পিপিএম।

আলোচনা সভায় বক্তারা মুক্তিযুদ্ধের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস, কুমিল্লা মুক্ত দিবসের গুরুত্ব এবং স্বাধীনতার জন্য আত্মোৎসর্গকারী বীর শহীদদের ভূমিকা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে তুলে ধরেন।

পরে কুমিল্লা মুক্ত দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়। সকলেই দেশমাতৃকার প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) রাশেদুল হক চৌধুরী, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ, বীর মুক্তিযোদ্ধাবৃন্দ, শহিদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যবৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

দেশপ্রেম, ত্যাগ ও গৌরবের এ দিনটি কুমিল্লাবাসীর মনে নতুন উদ্দীপনা ছড়িয়ে দেয়।

মনোহরগঞ্জে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার স্বামী-স্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ থেকে ইয়াবাসহ স্বামী-স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সোমবার দুপুরে মনোহরগঞ্জ উপজেলার লক্ষণপুর খালপাড় এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তাররা হলেন- কুমিল্লা জেলার আদর্শ সদর উপজেলার গাজীপুর গ্রামের কুতুব আলীর ছেলে মো. শিপন মিয়া (৩১) ও তার স্ত্রী রাহেলা আক্তার হাসি (২৬)।

জানা গেছে, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে খবর পেয়ে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে লক্ষ্ণপুর খালপাড় এলাকায় অভিযান চালায় যৌথবাহিনী। সেখানে স্বামী-স্ত্রীসহ তাদের আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১৫৭০টি ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া যায়।

মনোহরগঞ্জ সেনা ক্যাম্প কমান্ডার তাহমিদ বিন ফারুক জানান, যৌথবাহিনীর অভিযানে মাদক কারবারি স্বামী-স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জব্দকৃত মাদকসহ মনোহরগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, মাদক, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারসহ যৌথ বাহিনীর এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এই বিষয়ে মনোহরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুল ইসলাম জানান, ১৫৭০ পিস ইয়াবাসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন।

খাদ্য মজুদ যা থাকার কথা তার চেয়ে বেশি আছে: কুমিল্লায় খাদ্য উপদেষ্টা

ডেস্ক রিপোর্ট:

অন্তর্বর্তী সরকারের খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার বলেছেন, দেশে বর্তমানে সাড়ে ১৪ লাখ টন চাল মজুত রয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের মজুতের চেয়ে ৩ লাখ টন বেশি।

আজ সোমবার কুমিল্লা সার্কিট হাউজ সম্মেলন কক্ষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও খাদ্য অফিসারদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব এ তথ্য জানান।

তিনি জানায়, গত বছর এই সময় মজুতের পরিমাণ ছিল সাড়ে ১১ লাখ টন। সরকার ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ও যেন চাহিদার তুলনায় মজুত বেশি থাকে, তা নিশ্চিত করার জন্য কাজ করছে।

খাদ্যদ্রব্যের দাম প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, চাল-গম, ভুট্টার দাম নিম্নমুখী আছে। তবে এ বিষয়ে অভিযোগ আছে, কৃষক লাভবান হচ্ছে না। এ তিনটি খাদ্যদ্রব্যের দাম বাড়েনি বরং কমেছে। যেন না কমে সে বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

এসময় কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণসহ সংশ্লিষ্ট দফতরের জেলা-উপজেলার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

চান্দিনায় দুই সন্তানের জননীকে হত্যার অভিযোগ; স্বামী আটক

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার চান্দিনায় সাবিনা আক্তার (২৭) নামে এক গৃহবধূকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার সাথে জড়িত থাকার সন্দেহে স্বামী আবুল খায়ের কে আটক করেছে পুলিশ।

রবিবার (৭ ডিসেম্বর) দিনগত রাতে চান্দিনা উপজেলার গল্লাই ইউনিয়নের হোসেনপুর গ্রামে ওই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিহতের পিতা বাদী হয়ে সোমবার (৮ ডিসেম্বর) স্বামী সহ ৩ জনকে আসামী করে থানায় মামলা দায়ের করেন।

নিহত সাবিনা আক্তার একই গ্রামের মো. আবুল খায়েরের স্ত্রী এবং একই উপজেলার মহিচাইল ইউনিয়নের হারালদার গ্রামের ময়নাল হোসেনের মেয়ে। এই দম্পতির ১ ছেলে ও ১ মেয়ে রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়- প্রায় ১২ বছর পূর্বে বিবাহ হয় তাদের। বিবাহের পর থেকে তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ চলছিল। রবিবার রাতে স্বামী আবুল খায়ের উত্তেজিত হয়ে সাবিনা আক্তার কে প্রচন্ড মারধর করে। এক পর্যায়ে গলায় রশি প্যাচিয়ে ও বাথরুমের বালতির পানিতে মাথা চুবিয়ে নির্যাতন করে।

নিহতের পিতা ময়নাল হোসেন জানান- খবর পেয়ে আমরা রাতেই ওই বাড়িতে গিয়ে বাথরুমে আমার মেয়ের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখি। স্থানীয়দের সহযোগিতায় আবুল খায়েরকে আটক করে পুলিশে খবর দেই।

চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আতিকুর রহমান জানান- মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। স্বামী আবুল খায়েরকে আটক করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

চুরির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামী ফরিদ আমিন গণঅধিকারের এমপি প্রার্থী!

স্টাফ রিপোর্টার:

কখনো ফরিদ আমিন, কখনো কে এম ফরিদ আমিন, কখনো ফরিদ আহাম্মদ নামে একেকস্থানে একেক পরিচয়ে প্রতারণা করেন কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনে গণঅধিকার পরিষদ মনোনীত এমপি প্রার্থী কেএম ফরিদ আমিন। চুরির মামলা, আদালতের সাজা, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী ফরিদ আমিনের নানান বিতর্কিত কর্মকান্ডের পর এবার নিজ পিতাকে মারধরের অভিযোগে চৌদ্দগ্রাম থানায় সাধারন ডায়েরী করেছেন ভুক্তভোগী পিতা রুহুল আমিন। গত ৪ই ডিসেম্বর ছেলে ফরিদ আমিন কর্তৃক হামলা ও মারধরের শিকার পিতা রুহুল চৌদ্দগ্রাম থানায় সাধারন ছেলে এবং নাতি ও ছেলের বউকে বিবাদী করে সাধারন ডায়েরী করেন।

এ ঘটনায় তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে চৌদ্দগ্রাম থানার এসআই  আবুল কালাম।

থানা সূত্রে এবং স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, ২০১০ সালের টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর থানার জনৈক আবু রশিদ ফরিদ আহাম্মদের বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় ফরিদ আহাম্মদ ওরফে ফরিদ আমিন জেলহাজতেও থাকেন। পলাতক থাকায় বর্তমানে এই মামলায় তার বিরুদ্ধে সাজা প্রদান করেছে আদালত।
ফরিদ আমিন চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসেও নিজ পিতাকে মারধর করেন। এই ঘটনায়ও চৌদ্দগ্রাম থানায় সাধারন ডায়েরী করেন ভুক্তভোগী পিতা।

গত ৪ই ডিসেম্বর দায়েরকৃত অভিযোগে ভুক্তভোগী পিতা উল্লেখ করেন, প্রায় সময় কেএম ফরিদ আমিন ও তাঁর স্ত্রী নাছরিন যোগসাজশে রুহুল আমিনকে মারধর করে। এসব ঘটনায় থানায় এর আগেও একাধিক জিডি ও অভিযোগ রয়েছে। ৩ই ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার বিকেলে পরস্পর যোগসাজশে একত্রিত হয়ে কেএম ফরিদ আমিন গং রুহুল আমিনের উপর হামলা চালিয়ে আহত করে। এ সময় রুহুল আমিনকে বাঁচাতে স্ত্রী ফরিদা বেগম, পাশের আবদুল আহাদ ও মরিয়ম এগিয়ে গেলে তাদেরকেও মারধর করে। এক পর্যায়ে হামলাকারীরা রুহুল আমিনের ঘর ভাংচুর করে। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার শেষে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা দেয়। তাৎক্ষণিক ৯৯৯-এ খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে থানা পুলিশের একটি টিম। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ বা আদালতে মামলা করলে ভিকটিমদেরকে হত্যা করার হুমকি দেয় কেএম ফরিদ আমিনসহ হামলাকারীরা।

ফরিদ আমিনের গ্রামের বাড়ি উপজেলার মুন্সীরহাট ইউনিয়নের বাংপাই গ্রামের জনৈক সাইফুল জানান, ফরিদ এর আগেও একাধিকার পিতা এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে যুগিরহাট গ্রামের বেশ কয়েকজন নারী-পুরুষ বলেন, যে সন্তান সাধারণ ঝামেলা নিয়ে পিতাকে মারধর করে, সে আবার এমপি নির্বাচন করবে? তাকে কেউ ভোট দিবে? অবিলম্বে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ তাঁর মনোনয়নের বিষয়টি পুনরায় ভেবে দেখা উচিত। তাকে আইনের আওতায় আনা উচিত।

অভিযোগ উঠেছে, এর আগে দায়েরকৃত অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তাদের সাথে অশালীন আচরণ করেছে কেএম ফরিদ আমিন। বিভিন্ন সময়ে গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতাদের দিয়ে প্রশাসনকে হুমকিও দিতেন তিনি।

তবে গণঅধিকার পরিষদের এমপি প্রার্থী কেএম ফরিদ আমিন শুক্রবার সন্ধ্যায় অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘বৃহস্পতিবার বিকেলে কাউকে মারধরের কোন ঘটনা ঘটেনি’।
অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার উপ-পরিদর্শক আবুল কালাম শুক্রবার সন্ধ্যায় বলেন, ‘অভিযোগ পেয়েছি। শিগগিরই তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে’

সৌদি আরবে বেকারিতে দ্বগ্ধ হয়ে চৌদ্দগ্রামের যুবকের মৃত্যু

স্টাফ রিপোর্টার:

সৌদি আরবে অগ্নিকান্ডে দ্বগ্ধ হয়ে মোঃ আলাউদ্দিন (৩০) নামে এক যুবক চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত রবিবার বাংলাদেশ সময়ে রাত ৮.৩০ঘটিকায় স্থানীয় একটি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেছেন।

নিহত আলাউদ্দিন কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মুন্সীরহাট ইউনিয়নের ফেলনা গ্রামের প্রবাস ফেরৎ আবুল কালামের ছেলে। মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন নিহতের বড় ভাই আশিক হোসাইন। আলাউদ্দিন গত ২৭শে নভেম্বর ভোরে সৌদি আরবের কর্মস্থল বেকারীতে আগুনের চুলা জ্বালানোর সময় আগুনে দ্বগ্ধ হন।

পরে তাকে উদ্ধার করে সৌদি আরবের কিং সৌদ মেডিকেল সিটি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, সৌদি আরবের কিং সৌদ মেডিকেল সিটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আলাউদ্দিন রবিবার সৌদি সময় বিকাল ৫টায় মৃত্যুবরণ করেন। আলাউদ্দিনের পিতা-মাতা, ভাই-বোনসহ ১ সন্তান ও স্ত্রী রেখে যান।

নিহতের বড় ভাই সৌদি প্রবাসী বিএনপি নেতা আশিক হোসাইন বলেন, ছোট ভাইকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ পুরো পরিবার। দ্রæততর সময়ে তার লাশ দেশে আনার চেষ্টা চলছে।

কুমিল্লায় পৌনে ৩ কোটি টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লা সেক্টরের সুলতানপুর ব্যাটালিয়ন (৬০ বিজিবি) গেল এক সপ্তাহে প্রায় ২ কোটি ৭৩ লাখ টাকা মূল্যের ভারতীয় পণ্য জব্দ করেছে।

সোমবার সকালে বিষয়টি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জিয়াউর রহমান।

বিজিবি জানান, ১ ডিসেম্বর থেকে ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত কুমিল্লা জেলার আদর্শ সদর, ব্রাহ্মণপাড়া, বুড়িচং এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া ও কসবায় সীমান্তবর্তী এলাকা চিরুনি তল্লাশি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

এ সময় বিজিবি সদস্যরা ভারতীয় শাড়ি, কম্বল, শাল-চাদর, কসমেটিকস সামগ্রী, ওষধ, আতশবাজি, গরু, সিএনজি, পিকআপসহ বিপুল পরিমাণ খাদ্য সামগ্রী জব্দ করে।

জব্দ করা পণ্যের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে প্রায় ৯৩ লাখ টাকা মূল্যের ভারতীয় শাড়ি, প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা মূল্যের ভারতীয় খাদ্য সামগ্রী। এ ছাড়া মাদকদ্রব্যের তালিকায় রয়েছে বিদেশি মদ, গাঁজা ও ইস্কাফ সিরাপ।

অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জিয়াউর রহমান জানান, বিজিবি সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আপসহীন। সীমান্তবর্তী এলাকায় অবৈধ চোরাচালান প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এই তৎপরতা আরও জোরদার করা হবে।

৮ ডিসেম্বর যেভাবে হানাদার মুক্ত হয় কুমিল্লা

ডেস্ক রিপোর্ট:

আজ ৮ ডিসেম্বর কুমিল্লা মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এদিনে কুমিল্লা পাক হানাদার বাহিনী থেকে মুক্ত হয়। দীর্ঘ নয় মাসের যুদ্ধ আর নির্যাতনের পরিসমাপ্তি ঘটিয়ে মুক্তিযোদ্ধা ও মিত্রবাহিনীসহ সর্বস্তরের জনগণের উল্লাস ধ্বনিতে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে এই অঞ্চল।

কুমিল্লা জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক নুরে আলম ভূইয়া জানায়, ৭ ডিসেম্বর রাতে মিত্রবাহিনীর ৬১ ব্রিগেডের ব্যাটালিয়ন কমান্ডার লে. কর্নেল মাহেন্দ্রপাল সিং, বাংলাদেশের মেজর আইন উদ্দিন, ক্যাপ্টেন আশরাফ, লে. হারুন ও মুক্তিযোদ্ধা রেজাউর রহমান বুলবুল, মো. শাহ আলম ও সফিউল আহমেদ বাবুলদের নেতৃত্বে বিমান বন্দরের পাকিস্তানি সেনাদের ঘাঁটিতে আক্রমণ করে।

রাতের মধ্যে বিমান বন্দরের যৌথবাহিনীর সঙ্গে সম্মুখ যুদ্ধে পাক হানাদার সেনাদের প্রধান ঘাঁটির পতন হয়। অনেক পাকিস্তানি সেনা নিহত হন। তখন নির্যাতিত অনেকে এসে তাদের মরদেহের মুখে থুতু ছিটায়। কুমিল্লা বিমানবন্দরের ঘাঁটিতে কয়েকজন পাক হানাদার সেনা আত্মসমর্পণ করে। কিছু সেনা বিমানবন্দরের ঘাঁটি ত্যাগ করে শেষ রাতে বরুড়ার দিকে ও সেনানিবাসে ফিরে যায়। পরদিন ৮ ডিসেম্বর কুমিল্লা পাক হানাদার সেনা মুক্ত হয়।

এদিন ভোরে মুক্তি সেনারা শহরের চকবাজার টমছমব্রিজ ও গোমতী পাড়ের ভাটপাড়া দিয়ে আনন্দ উল্লাস করে শহরে প্রবেশ করে। তখন রাস্তায় জনতার ঢল নামে। কুমিল্লার জনগণ সূর্যসন্তান মুক্তিযোদ্ধাদের ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে বরণ করে নেন।

পরে এদিন বিকেলে কুমিল্লা টাউন হল মাঠে বীর মুক্তিযোদ্ধা, মিত্রবাহিনী ও জনতার উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়। তৎকালীন পশ্চিম পূর্বাঞ্চলের প্রশাসনিক কাউন্সিলের চেয়ারম্যান জহুর আহমেদ চৌধুরী দলীয় পতাকা ও কুমিল্লার প্রথম প্রশাসক অ্যাডভোকেট আহমেদ আলী জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন।

তিতাসে যৌথবাহিনীর অভিযানে অবৈধ পিস্তল ও গুলিসহ ৩ অস্ত্র ব্যবসায়ী গ্রেফতার

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লা জেলার তিতাস উপজেলায় যৌথবাহিনীর বিশেষ অভিযানে অবৈধ পিস্তল ও গুলিসহ ৩ অস্ত্র ব্যবসায়ী গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় ১টি পিস্তল, ৩ রাউন্ড গুলি, ১টি রামদা এবং ইয়াবা তৈরির সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়।

রোববার (০৭ ডিসেম্বর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন তিতাস থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মো. মফিজ উদ্দিন।

পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সূত্রে জানা যায়, দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, সন্ত্রাস দমন এবং মাদক নির্মূলের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। এরই অংশ হিসেবে এ অভিযান পরিচালনা করেছে যৌথ বাহিনী।

ভোরে তিতাস উপজেলার শাহাপুর এলাকায় অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের উদ্দেশ্যে বিশেষ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে শাহাপুর এলাকা থেকে একটি ৯ মি.মি পিস্তল, ৩ রাউন্ড গুলি, ১টি রামদা এবং ইয়াবা তৈরির সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে অবৈধ অস্ত্র ব্যবসায়ী ৩ জনকে গ্রেফতার করে যৌথ বাহিনী।

উদ্ধারকৃত অস্ত্র, গুলি ও সরঞ্জামাদি যথাযথ প্রক্রিয়ায় তিতাস থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

ওসি জানায়, যৌথবাহিনীর অভিযানে আটককৃত আসামী, উদ্ধারকৃত অস্ত্রসহ অন্যান্য সরঞ্জাম থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। আটককৃতরা অস্ত্র ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে জানা যায়। এ ব্যাপারে থানায় মামলা হয়েছে।