All posts by jitu

কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) সংসদীয় আসনে চমক দেখাতে পারেন মনোয়ার সরকার

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) সংসদীয় আসনে বিএনপির প্রবীণ রাজনীতিবিদ এম কে আনোয়ারের মৃত্যুর পর এ আসনটিতে বিএনপি নেতৃত্ব সংকটে পড়েছে। তবে বিগত বছরের ৫ আগষ্ট আওয়ামী সরকারের পতনের পর ২/৩ জন রাজনীতিবিদ মাঠে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন।

এর মধ্যে যুক্তরাজ্য জিয়া পরিষদের ভাইস-প্রেসিডেন্ট মনোয়ার সরকার অন্যতম। বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে হামলা-মামলায় আতংকিত হয়ে তিনি এলাকায় না আসলেও বিদেশ থেকে এলাকাবাসির জন্য কাজ করে গেছেন।

 

করোনা, বন্যার সময় তিনি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। তবে ৫ আগষ্টের পর পুরোদমে সক্রিয়ভাবে এ সংসদীয় আসন চষে বেড়াচ্ছেন। সামাজিক আচার-অনুষ্ঠান, খেলাধুলা, ধর্মীয় অনুষ্ঠান, বিএনপির দলীয় সাংগঠনিক কর্মকান্ডে সক্রিয় রয়েছেন মনোয়ার সরকার। কুমিল্লা প্রেসক্লাবে জেলার কর্মরত সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করে জানিয়েছেন আগামী সংসদ নির্বাচনে বিএনপি দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদি হওয়ার কথা। এলাকাবাসির জন্য ভবিষ্যত উন্নয়ন পরিকল্পনার কথাও বলেছেন।

সংসদীয় আসনজুড়ে কর্মকান্ড:

বিগত সময়ে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে মনোয়ার সরকার বিভিন্ন এলাকায় দোয়া ও মাহফিল এবং আলোচনা সভার আয়োজন করেছেন। তিনি নিজেই প্রায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতেন। ৫ আগস্ট হাসিনা সরকারের বিদায়ের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে ওই আসনে বিজয় র‌্যালির অনুষ্ঠিত হয়। তিনি নিজে সেই র‌্যালিতে নেতৃত্ব দেন। তিনি বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ, লিফলেট বিতরণ ও সমাজের বিভিন্ন স্তরে মানুষের সাথে কুশল বিনিময় অব্যাহত রাখছেন।

২৯ জুলাই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি ঘোষিত জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের প্রথম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ ও ‘মায়ের ডাক’ -এর যৌথ কর্মসূচি ‘গণতান্ত্রিক পদযাত্রায়-শিশু’ শীর্ষক পথযাত্রা ও শহীদ পরিবারের সম্মানে বিশেষ অনুষ্ঠানে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকীতে ওই আসনের বিভিন্ন ইউনিয়নে মনোয়ার সরকারের উদ্যোগে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

বিগত রমজান মাসে বিভিন্ন ইউনিয়নে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আত্মার মাগফেরাত কামনায় ও বেগম খালেদা জিয়ার রোগ মুক্তি কামনা করে দোয়া মাহফিল এবং ইফতার পার্টির আয়োজন করেন মনোয়ার সরকার। মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বাংলাদেশের প্রথম রাস্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের ৮৯ তম জন্ম বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করেন।

হোমনা উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে আপামর জনসাধারণের মাঝে দুই দফায় ৫ হাজার কম্বল বিতরণ করেন মনোয়ার সরকার । ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলোতে মনোয়ার সরকারের সরব উপস্থিতি রয়েছে। ২৯ ডিসেম্বর হোমনার দুলালপুর ব্রিজ সংলগ্ন মাদ্রাসা মাঠে ইসলামী সুন্নি মহাসম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মনোয়ার সরকার। ডা. জুবাইদা রহমানের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে হোমনা উপজেলার দৌলতপুর নূরানী হাফেজিয়া মাদ্রাসায় মনোয়ার সরকারের উদ্যোগে ছাত্র-শিক্ষকসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা বৃক্ষরোপণ করেন।

যুক্তরাজ্যে আওয়ামী সরকার বিরোধী সকল প্রতিবাদ সমাবেশ আন্দোলনে মনোয়ার সরকার সক্রিয় ছিলেন। স্বাধীনতার ঘোষক, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৪তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে ইতালির ভেনিসের বাইতুল মামুর জামে মসজিদে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করেন। স্মরণকালের বন্যায় যখন ভাসছে কুমিল্লার বিস্তীর্ণ অঞ্চল। যখন জেলার গোমতী নদীর বাঁধ ভেঙ্গে ভয়াবহ অবস্থায় দাঁড়িয়েছে তিতাস উপজেলার বন্যা পরিস্থিতি। বন্যার পানিতে ডুবে সেখানে দুই শিশুসহ একাধিক মানুষের মৃত্যু হয়। তখন পৈত্রিক ভূমি তিতাস অঞ্চলের প্রিয়জনদের সাহায্যে এগিয়ে আসেন মনোয়ার সরকার।

হাজারো মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করে সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন ইউরোপ থেকে। মনোয়ার সরকারের সার্বিক সহযোগিতায় এবং তত্ত্বাবধানে বিশিষ্ট ক্রিয়া সংগঠক মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর ১০-তম মৃত্যুবার্ষিকী এবং খালেদা জিয়ার রোগ মুক্তি কামনায় হোমনা উপজেলার মাদ্রাসা ও এতিমখানায় মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করেন মনোয়ার সরকার।

করোনার লকডাউন চলাকালে তিনি ঢাকায় ভাড়াটিয়াদের ১২ লাখ টাকা বাড়ি ভাড়া মওকুফ করলেন। করোনার সময় স্যানিটাইজার, ঔষুধ, খাদ্যসামগ্রী দিয়ে অন্তত ৫ শতাধিক পরিবারকে সহায়তা করেন। নেশার জগত থেকে যুব সমাজকে ফেরাতে উপজেলাজুড়ে প্রতিনিয়ত খেলাধুলার আয়োজন করেন মনোয়ার সরকার। এসব কর্মকান্ড মনোয়ার সরকারকে স্থানীয় জনগণের আরো কাছে নিয়ে গেছে।

মনোয়ার সরকারের জীবন বৃত্তান্ত ও শিক্ষাজীবন:

মনোয়ার সরকার একজন বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ, সামাজিক কর্মী ও উদ্যোক্তা। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর একজন একনিষ্ঠ নেতা, যিনি দেশে ও বিদেশে দলের কার্যক্রমকে শক্তিশালী করতে কাজ করছেন। তিনি একইসঙ্গে বাংলা, ইংরেজি, ইতালিয়ান, ফরাসি, স্প্যানিশ, জার্মান এবং হিন্দি ভাষায় পারদর্শী, যা তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারকে বিস্তৃত করতে সহায়ক হয়েছে এবং তাকে বিশ্বমঞ্চে বিশেষভাবে পরিচিতি লাভে সাহায্য করেছে।

বাংলাদেশ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করার পর, তিনি ইতালির বিখ্যাত ভেনিস শহরের প্রসিদ্ধ একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতি, ব্যবসা ও পর্যটন বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। বর্তমানে যুক্তরাজ্যের সাউদাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিলোসফি ও পলিটিক্স বিষয়ে পিএইচডি অধ্যয়নরত।

রাজনৈতিক জীবন:

মনোয়ার সরকার ১৯৯১ সালে ঢাকা মহানগর ছাত্রদলের ৬৮ নম্বর ওয়ার্ড (তৎকালীন কোতোয়ালী-সূত্রাপুর থানা) শাখার সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন। তবে তাঁর রাজনৈতিক সক্রিয়তা শুরু হয় আরও আগে, ১৯৯০ সালের এরশাদবিরোধী গণঅভ্যুত্থানের সময়। বিএনপির একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে তিনি এ আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রামে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত ছিলেন।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর, তাঁকে রাজনৈতিকভাবে হয়রানির শিকার করা হয় এবং অন্যায়ভাবে কারাগারে পাঠানো হয়। এই নিপীড়নের ফলে তিনি বাধ্য হয়ে দেশত্যাগ করেন, কিন্তু বিদেশে গিয়েও তিনি বিএনপির জন্য কাজ করে গেছেন। ১৯৯৭ সালে ইতালিতে পাড়ি জমানোর পর, তিনি বিএনপির আন্তর্জাতিক শাখার সঙ্গে যুক্ত হয়ে দলীয় কর্মকাণ্ডকে এগিয়ে নিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। শেখ হাসিনা সরকারের নীতির বিরুদ্ধে তিনি প্রবাসী বাংলাদেশিদের সংগঠিত করেন এবং ইউরোপীয় রাজনীতিবিদদের কাছে লবিং করেন, যাতে বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তা আদায় করা যায়।

রাজনৈতিক অঙ্গনের বাইরেও ইতালির সমাজে তাঁর অবদান উল্লেখযোগ্য। তিনি ইতালির অন্যতম রাজনৈতিক সংগঠন “ঘঙও ঋটঞটজঙ”-এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, যা ইতালিতে অভিবাসীদের অধিকার রক্ষায় কাজ করে। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তাঁর সক্রিয় ভূমিকার কারণে বাংলাদেশ দূতাবাস কর্তৃক তিনি ২০১৭ সালে কালো তালিকাভুক্ত হন, ফলে তিনি দেশে ফেরার সুযোগ হারান।

শেখ হাসিনার ১৭ বছরের শাসনামলে বিএনপির নেতাকর্মীদের দিকনির্দেশনা ও অর্থনৈতিক সহায়তার মাধ্যমে তিনি সবসময় সক্রিয়ভাবে দলীয় কর্মকাণ্ড চালিয়ে গেছেন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও সামাজিক প্ল্যাটফর্মে আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালিয়ে গেছেন। তিনি যুক্তরাজ্যে বিএনপির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে দলের প্রভাব বিস্তারে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন।

যুক্তরাজ্যে বিএনপির সাবেক সভাপতি মাহিদুর রহমানের নেতৃত্বে, তিনি যুক্তরাজ্য বিএনপির একজন নিবেদিতপ্রাণ রাজপথের কর্মী হিসেবে প্রায় এক যুগ ধরে সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন।

বর্তমানে তিনি যুক্তরাজ্য জিয়া পরিষদের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও দলীয় নেতৃত্ব কর্তৃক আয়োজিত বিভিন্ন মিছিল, মিটিং ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে শুধু অর্থনৈতিক সহায়তা প্রদান করেননি, বরং সশরীরে উপস্থিত থেকে আন্দোলনের প্রতিটি পর্যায়ে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন।

গণমাধ্যম ও সমাজসেবা:

মনোয়ার সরকার শুধুমাত্র একজন রাজনীতিবিদ নন, বরং গণমাধ্যমেও তার সুস্পষ্ট উপস্থিতি রয়েছে। তিনি একটি জনপ্রিয় রাজনৈতিক টকশো পরিচালনা করেন, যেখানে তিনি সমসাময়িক রাজনৈতিক বিষয়াদি বিশ্লেষণ করেন এবং গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা করেন। এ ছাড়া তিনি বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে অতিথি বক্তা হিসেবে নিয়মিত অংশগ্রহণ করেন, যেখানে তিনি তার অভিজ্ঞতা ও রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। তার ধারালো বক্তব্য ও বিশ্লেষণধর্মী মন্তব্য গণমাধ্যমে তাকে আরও পরিচিত করেছে।

এসব কারণে, তিনি শুধু রাজনৈতিক মহলেই নয়, সাধারণ দর্শকদের মাঝেও পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছেন। গণমাধ্যমে তার সক্রিয় উপস্থিতি তাকে বিএনপির অন্যতম শক্তিশালী কণ্ঠস্বর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে, যা দলীয় রাজনীতিতে তার গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি করেছে।

যুক্তরাজ্য জিয়া পরিষদের ভাইস-প্রেসিডেন্ট মনোয়ার সরকার জানান, আওয়ামী সরকারের আমলে প্রবাসে থেকেও দলের জন্য কাজ করেছি। স্বৈরাচার সরকারের পতনের আন্দোলনে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ভূমিকা রেখেছি। আমি হোমনা-তিতাস উপজেলার মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। আমি দলীয় মনোনয়ন চাইবো। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের প্রতি আমাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। আশা করি তিনি সঠিক সিদ্ধান্ত নিবেন। বিএনপির একজন কর্মী হিসেবে আজীবন মানুষের সেবা করে যেতে চাই।

 

আত্মসমর্পণের পর ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক আউয়াল খানসহ ৮ জন কারাগারে

মোঃ জামাল উদ্দিন দুলাল:

১৩ বছর আগের মামলায় ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক সহ সাধারন সম্পাদক , ,তিতুমীর কলেজ ছাত্রদলের সাবেক জিএস, গুলশান থানা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক এম এ আউয়াল খান সহ ৬ জনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন সিএমএম ৭ নাম্বার আদালত।

রোববার ২১ (সেপ্টেম্বর) আসামিরা আদালতে সারেন্ডার করলে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। আসামিপক্ষের আইনজীবী ইলতুৎমিশ সওদাগর এ্যানি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

দন্ডপ্রাপ্ত অন্যরা হলেন- ছাত্রদলের সহসভাপতি রেজওয়ানুল হক সবুজ ও ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সহসাধারণ সম্পাদক সোহাগ মোল্লা, ঢাকা মহানগর উওর যুবদলের আহবায়ক কমিটির সদস্য শরিফুল আলম মাসুম, তিতুমীর কলেজ ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল হান্নান মামুন ও রাশেদ উল্লাহ রাশেদ।

২০১২ সালের ৯ ডিসেম্বর রাজধানীর বনানী এলাকায় সড়ক অবরোধের ঘটনায় দ্রুত বিচার আইনে বনানী থানায় মামলা করে পুলিশ। ওই মামলায় তদন্ত করে একই বছর ১৯ ডিসেম্বর ১০ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ।

পুলিশে দেওয়া অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে ২০১৩ সালের ২২ জানুয়ারি তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে ছয়জন সাক্ষীকে আদালতে হাজির করা হয়

চান্দিনায় চাঁদাবাজীর অভিযোগে শ্রমিক দল ও এলডিপি’র ৩ নেতা আটক

চান্দিনা প্রতিনিধি:

কুমিল্লার চান্দিনায় চাঁদাবাজীর অভিযোগে শ্রমিক দল ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) এবং এর সহযোগী সংগঠন গণতান্ত্রিক স্বেচ্ছাসেবক দল এর ৩ জন নেতাকে আটক করেছে যৌথ বাহিনী। আটককৃতরা হলো- পৌর এলাকার বেলাশ্বর গ্রামের মৃত মোহর আলীর ছেলে চান্দিনা পৌর গণতান্ত্রিক স্বেচ্ছাসেবক দল সাধারণ সম্পাদক মো. ওয়ালী উল্লাহ, একই গ্রামের মৃত আইয়ুব আলীর ছেলে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল কুমিল্লার উত্তর জেলা যুগ্ম-আহ্বায়ক ও চান্দিনা পৌর শ্রমিক দল আহ্বায়ক মো. আলাউদ্দিন, রমিজ উদ্দিনের ছেলে ৪নং ওয়ার্ড এলডিপির সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর।

রবিবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর চান্দিনাস্থ প্রধান কার্যালয় থেকে তাদেরকে আটক করা হয়। পরে তাদেরকে চান্দিনা থানা পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়।

পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র এবং মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়- ঢাকার বনানী আলীসা এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারী কোম্পানীর ম্যানেজার মো. রেজাউল করিম কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর চান্দিনাস্থ প্রধান কার্যালয় থেকে বৈদ্যুতিক তারসহ বিভিন্ন মালামাল দরপত্রের মাধ্যমে ক্রয় করেন। রবিবার বেলা পৌনে ২টায় মালামাল নিয়ে ঢাকায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিলে
চান্দিনা পৌর গণতান্ত্রিক স্বেচ্ছাসেবক দল সাধারণ সম্পাদক মো. অলিউল্লাহ ওই ম্যানেজারের মোবাইলে কল দিয়ে তার দলীয় পরিচয় দেয় এবং মালামাল নিতে হলে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দিতে হবে বলে জানায়। পরে অলিউল্লাহকে সমিতির স্টোর রুমে আসতে বলেন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার। সেখানে অলিউল্লাহ্ অপর দুই জন আসামিকে নিয়ে চাঁদার টাকা আনতে যায়। টাকা না দিলে তাকে হত্যার হুমকি দেয় চাঁদাবাজরা। বিষয়টি সেনাবাহিনীর ক্যাম্পে অবহিত করলে মেজর মাহমুদ এর নেতৃত্বে যৌথবাহিনী ঘটনাস্থল থেকে ওই ৩ জনকে আটক করেন।

এ ব্যাপারে চান্দিনা থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) মো. জাবেদ উল ইসলাম জানান, যৌথবাহিনী তাদেরকে আটক করেছে। মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

চান্দিনায় আওয়ামী লীগের ৫ নেতা-কর্মী আটক

চান্দিনা প্রতিনিধি:

কুমিল্লার চান্দিনায় পৃথক অভিযানে আওয়ামী লীগের পাঁচ নেতাকর্মীকে আটক করেছে থানা পুলিশ। এদের মধ্যে ৩ জনের বিরুদ্ধে পূর্বের কোন মামলা নেই। তাদেরকে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে দায়ের করা একটি মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতের বিভিন্ন সময় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। রবিবার (২১ সেপ্টেম্বর) তাদেরকে কুমিল্লা কারাগারে প্রেরণ করা হয়।

সন্ত্রাস বিরোধী আইনে গ্রেফতার দেখানোরা হলো- চান্দিয়ারা ভূইয়া বাড়ির মৃত তৈয়ব আলী ভূইয়ার ছেলে ফারুকুল ইসলাম ভূইয়া, সে চান্দিনা পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি। বেলাশ্বর কচুয়ারপাড় গ্রামের মৃত জুলফু মিয়ার ছেলে চান্দিনা পৌর তাঁতী লীগ সভাপতি মো. মাহাবুব আলম, হাসিমপুর গ্রামের মৃত আবুল কাশেম এর ছেলে বাতাঘাসি ইউনিয়নের যুবলীগ নেতা নজরুল ইসলাম লিটন।

এদিকে মাধাইয়া ইউনিয়নের যুবলীগ নেতা নাওতলা গ্রামের নূরুল ইসলামের ছেলে কামরুল হাসান (কুট্টি) এর বিরুদ্ধে পূর্বের ২টি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। অপরদিকে বেলাশ্বর গ্রামের কুটু মিয়ার ছেলে আওয়ামী লীগ নেতা জহিরুল ইসলাম কে বিস্ফোরক আইনে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

এব্যাপারে চান্দিনা থানার অফিসার ইন-চার্জ মো. জাবেদ উল ইসলাম জানান, আটককৃতদের মধ্যে ২ জনের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। অপর ৩ জনকে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে গ্রেফতার করা হয়েছে।

দেশের প্রথম টেলিকম অপারেটর হিসেবে ‘টপ এমপ্লয়ার ২০২৫’ স্বীকৃতি পেল বাংলালিংক

স্টাফ রিপোর্টার:

দেশের প্রথম টেলিযোগাযোগ অপারেটর হিসেবে ‘গ্লোবাল টপ এমপ্লয়ার ২০২৫’ সার্টিফিকেশন অর্জন করেছে শীর্ষস্থানীয় উদ্ভাবনী ডিজিটাল অপারেটর বাংলালিংক। আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘টপ এমপ্লয়ার্স ইনস্টিটিউট’ এ স্বীকৃতি দিয়েছে।

এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বিশ্বমানের মানব-সম্পদ (এইচআর) ব্যবস্থাপনা, প্রতিভা বিকাশ এবং কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার সংস্কৃতির মাধ্যমে একটি উৎপাদনশীল কর্মপরিবেশ তৈরিতে বাংলালিংকের অঙ্গীকারকে প্রতিফলিত করে। পাশাপাশি,এ অর্জন ভবিষ্যতমুখী একটি ডিজিটাল এমপ্লয়ার হিসেবে বাংলালিংকের অবস্থানকে সুদৃঢ় করে, যা কোম্পানির এমপ্লয়ার ভ্যালু প্রপোজিশন (ইভিপি) ‘লিড দ্য ফিউচার’ এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

ইভিপি শুধুমাত্র বাংলালিংকের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার একটি রুপরেখা নয় বরং একটি ইতিবাচক, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং প্রবৃদ্ধিমুখী কর্মপরিবেশ গড়ে তোলার উপর অপারেটরটির প্রাধান্যকেও প্রতিফলিত করে।

আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এইচআর বেস্ট প্র্যাকটিসেস সার্ভে-এর মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনার উৎকর্ষতা যাচাই ও তাদের স্বীকৃতি প্রদান করে টপ এমপ্লয়ার্স ইনস্টিটিউট। ছয়টি প্রধান ক্ষেত্র ও ২০টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর মূল্যায়ন করে প্রতিষ্ঠানটি, যার মধ্যে রয়েছে কর্মী-সংক্রান্ত কৌশল (পিপল স্ট্র্যাটেজি), কর্মপরিবেশ, নিয়োগ প্রক্রিয়া, প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন, বৈচিত্র্য ও অন্তর্ভুক্তি, এবং কর্মীদের কল্যাণ ও সুযোগ-সুবিধা।

২০২৫ সালে বিশ্বের ১২৫টি দেশ ও অঞ্চলের ২,৪০০-এর বেশি প্রতিষ্ঠান এই সার্টিফিকেশন পেয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ কর্মীর জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

এ অর্জন সম্পর্কে বাংলালিংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইওহান বুসে বলেন,“বাংলাদেশের প্রথম টেলিকম অপারেটর হিসেবে টপ এমপ্লয়ার সার্টিফিকেশন পাওয়া আমাদের জন্য এক গৌরবময় অর্জন। এটি প্রমাণ করে যে, আমরা একটি কর্মীবান্ধব ও ডিজিটালি অগ্রসর কর্মপরিবেশ গড়ে তুলছি, যেখানে প্রত্যেক কর্মী ভবিষ্যতে নেতৃত্বের জন্য প্রস্তুত। আমরা বিশ্বাস করি, আমাদের সাফল্যের মূল চালিকা শক্তি হলো কর্মীদের উন্নয়ন ও কল্যাণ। তাই আমরা এমন একটি কর্মীবান্ধব কর্মসংস্কৃতি গড়ে তুলছি, যেখানে উদ্ভাবন, সহযোগিতা ও শেখার সুযোগ ক্রমাগত সম্প্রসারিত হচ্ছে। ভবিষ্যতে একটি পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল অপারেটরে পরিণত হওয়ার অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে, আমরা নিশ্চিত করছি যেন প্রতিটি কর্মী মূল্যায়িত বোধ করেন, যথাযথ সমর্থন পান এবং গ্রাহকদের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব তৈরিতে নিজেদের সর্বোচ্চ অবদান রাখতে সক্ষম হন। পাশাপাশি, আমরা একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও উদ্দেশ্যনির্ভর সংস্কৃতি গড়ে তুলতে চাই, যা কর্মীদের বড় স্বপ্ন দেখতে এবং আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নেতৃত্ব দিতে অনুপ্রাণিত করবে।”

টপ এমপ্লয়ার্স ইনস্টিটিউট-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ডেভিড প্লিঙ্ক বলেন, “অসংগতিপূর্ণ বর্তমান সময়ে ধারাবাহিকতা ধরে রাখা এক বড় অর্জন । বিশেষত, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, ক্রমাগত পরিবর্তনশীল অর্থনৈতিক কিংবা সামাজিক প্রেক্ষাপটের

মধ্যেও বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে দেখা সত্যি অনুপ্রেরণাদায়ক। এ বছরের টপ এমপ্লয়ার্স সার্টিফিকেশন প্রমাণ করে, আমাদের শীর্ষ নিয়োগকর্তারা ধারাবাহিকভাবে বিশ্বমানের মানবসম্পদ (এইচআর) কৌশল চর্চা ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে এ সেক্টরে উৎকর্ষের মানদণ্ড তৈরি করছেন।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের টপ এমপ্লয়াররা কর্মীদের উন্নয়ন ও কল্যাণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রকে আরও সমৃদ্ধ ও প্রাণবন্ত করছেন। ২০২৫ সালের টপ এমপ্লয়ার স্বীকৃতি এই অসাধারণ কর্মীবান্ধব নেতা ও টিমগুলোর নিষ্ঠা ও সাফল্যের স্বীকৃতি, যা আমরা গর্বের সঙ্গে উদযাপন করছি।”

বাংলালিংক সম্পর্কে:

বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ডিজিটাল অপারেটর বাংলালিংক দেশের মানুষের ক্ষমতায়নে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। ‘ডিজিটাল ফর অল’ লক্ষ্য নিয়ে গ্রাহকদের জন্য বিস্তৃত পরিসরে ডিজিটাল সেবা নিশ্চিত করছে প্রতিষ্ঠানটি। বাংলালিংকের সেবার পোর্টফোলিওতে রয়েছে: টেলকো-অ্যাগনোস্টিক সুপার অ্যাপ মাইবিএল , বিনোদন প্ল্যাটফর্ম টফি ও দেশের প্রথম আই-নির্ভর ডিজিটাল লাইফস্টাইল প্যাকেজ রাইজ । নাসডাকের তালিকাভুক্ত বৈশ্বিক ডিজিটাল অপারেটর ভিওন লিমিটেডের সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান বাংলালিংক উদ্ভাবন ত্বরান্বিত করার পাশাপাশি লাদেশের জন্য একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমৃদ্ধ আগামী নিশ্চিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

যেকোনো পুরাতন স্মার্টফোনের বদলে পাওয়া যাবে নতুন অনার ডিভাইস

স্টাফ রিপোর্টার:

বৈশ্বিক প্রযুক্তি ব্র্যান্ড অনার সম্প্রতি বাংলাদেশে একটি ডিভাইস এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম চালু করেছে। এর মাধ্যমে যেকোনো ব্র্যান্ডের স্মার্টফোন বদলে নেওয়া যাবে একটি নতুন অনার ডিভাইস।

ফোনের বাজারদর বা মডেল যা-ই হোক না কেন এই এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামের আওতায় যেকোনো ব্র্যান্ডের এবং যেকোনো মডেলের স্মার্টফোন ব্যবহারকারী তার ব্যবহৃত ফোনটি পরিবর্তন করে নিতে পারবেন একটি নতুন অনার স্মার্টফোন।

গ্রাহকদের জন্য ন্যায্য মূল্য এবং সহজ এক্সচেঞ্জ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে একটি শীর্ষস্থানীয় ডিভাইস মূল্যায়ন এবং আপগ্রেড সমাধানদাতা প্রতিষ্ঠান ‘ফ্লিপার’ এর সঙ্গে অনার অংশীদারিত্ব করেছে।

ফ্লিপার এর মূল্যায়ন পদ্ধতি অনুসরণ করে অনার এর ব্র্যান্ড স্টোরের কর্মীরা পুরাতন ফোনের বর্তমান বাজারমূল্য মূল্যায়ন করবেন। তাদের এই মূল্যায়ন অনুযায়ী নির্ধারিত মূল্য নতুন অনার ডিভাইসের মূল মূল্য থেকে বিয়োগ করা হবে। এতে করে গ্রাহকেরা আরও সাশ্রয়ী মূল্যে তাদের পছন্দমত অনার স্মার্টফোন কিনতে পারবেন।

অনার বাংলাদেশ-এর হেড অব বিজনেস আবদুল্লাহ আল মামুন এ বিষয়ে বলেন, “সাধারণত, স্মার্টফোন বদলানোর পথে সবচেয়ে বড় বাধা হচ্ছে অর্থনৈতিক সামর্থ্য। আর আমাদের এই এক্সচেঞ্জ অফার গ্রাহকদের পছন্দের অনার ডিভাইস কেনার ক্ষেত্রে সেই বাধা দূর করবে। গ্রাহকদের আরও বেশি সুবিধা দেওয়ার লক্ষ্যে আমরা যেকোনো ব্র্যান্ডের স্মার্টফোন গ্রহণ করছি। গ্রাহকের সুবিধাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়াই আমাদের মূল লক্ষ্য।

এই এক্সচেঞ্জ অফারটি বর্তমানে বাংলাদেশের বাজারে থাকা সকল অনার স্মার্টফোনের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। এছাড়াও, নতুন অনার স্মার্টফোন কেনার সময় কিস্তিতে মূল্য পরিশোধের সুবিধাও থাকছে, যাতে বিভিন্ন আয়ের গ্রাহকেরা তাদের সুবিধা অনুযায়ী ফোন ক্রয় করতে পারেন।

অনারের অন্যতম প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্য হলো আধুনিক এআই প্রযুক্তিকে সবার জন্য সহজলভ্য করা এবং প্রিমিয়াম স্মার্টফোন ফিচারকে আরও সাশ্রয়ী দামে উপভোগ্য করে তোলা। এ এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম অনার-এর এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার একটি অংশ।

এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম সম্পর্কে আরও তথ্য জানতে অথবা নিকটস্থ অনার ব্র্যান্ড স্টোর খুঁজে পেতে, গ্রাহকরা অনার বাংলাদেশের ওয়েবসাইটে থাকা অনার স্টোর লোকেটর ব্যবহার করতে পারবেন।

দ্বিতীয়বারের মতো সুপারব্র্যান্ড পুরস্কার অর্জন করলো স্যামসাং মোবাইল

স্টাফ রিপোর্টার:

টানা দ্বিতীয়বারের মতো সুপারব্র্যান্ডস বাংলাদেশ-এর স্বীকৃতি অর্জন করেছে স্যামসাং মোবাইল । উদ্ভাবনী প্রযুক্তি, গ্রাহকদের আস্থা এবং সর্বাধুনিক এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য প্রতিষ্ঠানটিকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। এবারের স্বীকৃতিতে বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে স্যামসাংয়ের গ্যালাক্সি এআই।

স্যামসাংয়ের ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোনে যুক্ত হওয়া পরবর্তী প্রজন্মের এই গ্যালাক্সি এআই প্রযুক্তি আরও স্মার্ট, ব্যক্তিকেন্দ্রিক এবং সুরক্ষিত মোবাইল ব্যবহারের অভিজ্ঞতা দিবে। এটি দৈনন্দিন কাজকে করে তুলবে আরও সহজ, যোগাযোগকে করবে স্বাভাবিক ও স্বতঃস্ফূর্ত এবং সৃজনশীলতাকে নিয়ে যাবে এক নতুন মাত্রায়।

স্বাভাবিক কথোপকথনের মাধ্যমে কাজ করতে সক্ষম গ্যালাক্সি এআই, এর পাশাপাশি মিড রেঞ্জের এ-সিরিজ ডিভাইসে যুক্ত হয়েছে ‘অসাম ইন্টেলিজেন্স’। এই প্রযুক্তিগুলো একত্রে একটি উন্নত ইকোসিস্টেম গড়ে তোলে, যা ব্যবহারকারীর জীবনধারার সঙ্গে মানানসই সেবা দিতে সক্ষম।

পুরস্কার প্রাপ্তি নিয়ে স্যামসাং ইলেকট্রনিক্স বাংলাদেশ শাখার এমএক্স ডিভিশনের প্রোডাক্ট ও মার্কেটিং-কমিউনিকেশন প্রধান সৈয়দ মো. বদরুল আরিফীন বলেন, “সুপারব্র্যান্ড হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। মানুষের প্রতিদিনের অভিজ্ঞতাকে আরও উন্নত করার লক্ষ্যে আমরা সবসময় চেষ্টা করেছি বাংলাদেশে উদ্ভাবনী প্রযুক্তি নিয়ে আসতে। ভবিষ্যতেও আমরা একসঙ্গে কাজ করে আরও উন্নত ও সন্তোষজনক অভিজ্ঞতা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

বিশ্বের ৯০টি দেশে কার্যক্রম পরিচালনাকারী সুপারব্র্যান্ডস এমনসব ব্র্যান্ডকে স্বীকৃতি দেয় যারা গুণগতমান, নির্ভরযোগ্যতা ও বাজারে নেতৃত্বদানের দিক থেকে অন্যদের চেয়ে এগিয়ে থাকে। তারা নিয়মিত ব্র্যান্ড-ভিত্তিক বই ও বিভিন্ন প্রকাশনা প্রকাশ করে থাকে। একটি সুপারব্র্যান্ড ভোক্তাদের কাছে এমনসব ব্যবহারিক সুবিধা প্রদান করে, যা অন্যান্য প্রতিযোগীদের তুলনায় আলাদা এবং যার জন্য ভোক্তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ক্রয় করে থাকেন।

সুপারব্র্যান্ডস বাংলাদেশ টানা দুই বছর ধরে দেশের উল্লেখযোগ্য ব্র্যান্ডগুলোকে এই সম্মাননায় ভূষিত করছে।

টানা দ্বিতীয়বারের মতো সুপারব্র্যান্ডস স্বীকৃতি পেল স্যামসাং টিভি

স্টাফ রিপোর্টার:

টানা দ্বিতীয়বারের মতো সুপারব্র্যান্ডস ‘বেস্ট টিভি ব্র্যান্ড’ পুরস্কার পেয়েছে স্যামসাং টিভি। টেলিভিশন তৈরিতে ধারাবাহিক উৎকর্ষের জন্য ব্র্যান্ডটিকে এ স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক গালা ইভেন্টে এ স্বীকৃতি প্রদান করা হয়।

অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও সৃষ্টিশীল ভাবনার সমন্বয়ে টেলিভিশন তৈরির অভিজ্ঞতার কারণে বাংলাদেশের গ্রাহকদের কাছে বর্তমানে স্যামসাং টিভি রয়েছে জনপ্রিয়তার শীর্ষে। গ্রাহক জনপ্রিয়তার কারণেই টানা ১৯ বছর ধরে বৈশ্বিক টিভি বাজারে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে স্যামসাং। এই জনপ্রিয়তা ও সাফল্যের ধারাবাহিকতায় দ্বিতীয়বারের মতো সুপারব্র্যান্ডসের
‘বেস্ট টিভি ব্র্যান্ড’ স্বীকৃতি লাভ করেছে ব্র্যান্ডটি।

দুর্দান্ত ইমেজ, অধিকতর উজ্জ্বল ডিসপ্লে ও সিনেমা-গ্রেড নিখুঁত রঙের সমন্বয়ের কারণে বিশ্বব্যাপী সমাদৃত স্যামসাংয়ের টিভি। ব্র্যান্ডটির নতুন ভিশন এআই প্রযুক্তি স্মার্ট টিভির অভিজ্ঞতায় এনেছে আমূল পরিবর্তন। সিনেমা, খেলা দেখা বা গেমিং, যেকোন কনটেন্ট এখন আরও প্রাণবন্ত ও বাস্তবসম্মতভাবে উপস্থাপন করছে স্যামসাং টিভি।

শুরু থেকেই ব্র্যান্ডের ইমেজ ধরে রেখে ক্রেতাদের হৃদয় জিতে নেওয়ার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন পুরস্কার অর্জন করেছে স্যামসাং। এর স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৩ সালে
প্রথমবার সুপারব্র্যান্ডস থেকে ‘বেস্ট টিভি ব্র্যান্ড’ পুরস্কার লাভ করে। টানা দ্বিতীয়বারের মতো সুপারব্র্যান্ডস’র এ স্বীকৃতি স্যামসাংয়ের অর্জনে আরও একটি পালক
হিসেবে যুক্ত হলো।

এ বিষয়ে স্যামসাং কনজ্যুমার ইলেকট্রনিকসের ডিরেক্টর ও হেড অব বিজনেস শাহরিয়ার বিন লুৎফর বলেন, “এই খাতে শীর্ষ টিভি ব্র্যান্ড হিসেবে স্যামসাং এর এ ধারাবাহিক অর্জনে
আমরা গর্বিত। পরপর দুইবার সুপারব্র্যান্ডসের ‘বেস্ট টিভি ব্র্যান্ড’ স্বীকৃতি আমাদের জন্য বিশেষ গর্বের, কেননা এই স্বীকৃতি বাজারে আমাদের অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করবে।

একইসাথে, এ স্বীকৃতি ক্রেতা ও সরবরাহকারীদের আশ্বস্ত করেছে যে তারা সেরা ব্র্যান্ডই বেছে নিচ্ছেন। আমরা এই অর্জন যথাযথ মূল্যায়নের মাধ্যমে বাজারে আমাদের শীর্ষ অবস্থান ধরে রাখার ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

উল্লেখ্য, ব্র্যান্ড মূল্যায়নকারী প্রতিষ্ঠান সুপারব্র্যান্ডস বিশ্বব্যাপী ৯০টি দেশে কাজ করে যাচ্ছে। ১৯৯৪ সালে যাত্রা শুরুর পর থেকে ব্র্যান্ড সাফল্যের প্রতীকে পরিণত হয়েছে সুপারব্র্যান্ডস। বিভিন্ন ব্যাকগ্রাউন্ডের বিশেষজ্ঞ ও স্বেচ্ছাসেবীদের নিয়ে গঠিত প্যানেল (যেটা ব্র্যান্ড কাউন্সিল নামে পরিচিত) জটিল যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সুপারব্র্যান্ডগুলোকে নির্বাচিত করে।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত গালা ইভেন্টে পরের দুই বছরের জন্য সুপারব্র্যান্ডসের প্রকাশনা উন্মোচন করা হয়। প্রতিটি সুপারব্র্যান্ডের সাফল্যের গল্প জায়গা পায় সুপারব্র্যান্ডসের এই বিশেষ প্রকাশনায়, যা বিজ্ঞাপন, মার্কেটিং, ব্র্যান্ড ম্যানেজমেন্ট ও মিডিয়া সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য একটি বহুল আকাঙ্ক্ষিত বই।

প্লেনেট এস আর শপিংমলে ‘সুমি ফ্যাশন’-এর উদ্বোধন

স্টাফ রিপোর্টার:

নগরীর প্লেনেট এস আর শপিংমলে যাত্রা শুরু করেছে আধুনিক ও বৈচিত্র্যময় পোশাকের প্রতিষ্ঠান ‘সুমি ফ্যাশন’। শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে শপিংমলের দ্বিতীয় তলায় (ফ্লোর: C-10) শো-রুমটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র মনিরুল হক সাক্কু।

সুমি ফ্যাশনের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক সুমি মজুমদার জানান, প্রতিষ্ঠানটিতে থাকছে নারীদের জন্য প্রিমিয়াম মানের ওয়ান পিস, টু পিস, ব্যাগ, জুতা, কসমেটিকসসহ বিভিন্ন ধরনের পোশাক ও আনুষঙ্গিক পণ্য। এছাড়াও বাচ্চাদের পোশাকেরও রয়েছে বিস্তৃত সংগ্রহ।

তিনি আরও বলেন, “পোশাক শুধু আড়ম্বর নয়—এটি একজন ব্যক্তির রুচি, সংস্কৃতি, ব্যক্তিত্ব ও সামাজিক অবস্থানের প্রতিচ্ছবি। আমরা চাই, কুমিল্লার নারীরা যেন এক জায়গা থেকেই তাদের স্টাইল, স্বাচ্ছন্দ্য ও আভিজাত্যের চাহিদা পূরণ করতে পারেন।”

সুমি ফ্যাশনের লক্ষ্য, কুমিল্লা নগরীতে ফ্যাশনপ্রেমী নারীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য ও আধুনিক শপিং গন্তব্য হয়ে উঠা।

‎মুরাদনগরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের ১ বছর পর, কবর থেকে যুবকের লাশ উত্তোলন

‎‎মাহবুব আলম আরিফ, মুরাদনগর:

‎কুমিল্লার মুরাদনগরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার ১ বছর ১২ দিন পর আদালতের নির্দেশে কবর থেকে যুবকের লাশ উত্তোলন করা হয়েছে।

রবিবার সকাল থেকে মরদেহ তোলার কাজ শুরু হয়। উপজেলা সদর ইউনিয়নের ডুমুরিয়া এলাকা থেকে ওই যুবকের লাশ উত্তোলন করে বিকেল ৫টার দিকে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়।

এ সময় মুরাদনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো: সাকিব হাসান খান সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

‎মৃত শফিউল্লাহ(১৮) উপজেলা সদর ইউনিয়নের ডুমুরিয়া গ্রামের মোস্তাফিজুর রহমানের ছেলে।

‎পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৮ই সেপ্টেম্বর বিকেলে শফিউল্লাহ ও তার বন্ধু সোহাগ মোটরসাইকেল নিয়ে মুরাদনগর থেকে পার্শ্ববর্তী হোমনা উপজেলায় খেলা দেখতে যাওয়ার পথে (মুরাদনগর-হোমনা) সড়কের রঘুনাথপুর এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাইক থেকে ছিটকে পড়ে। এসময় ঘটনাস্থলেই শফিউল্লাহ’র ও চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সোহাগের মৃত্যু হয়।

মৃত্যুর বিষয়টি প্রথমে স্বাভাবিকভাবে নিলেও, সড়ক দুর্ঘটনার প্রায় একমাস পর নিহত শফিউল্লাহ’র বাবা মোস্তাফিজুর রহমান বাদী হয়ে মুরাদনগর উপজেলার বড় আলীরচর গ্রামের মৃত মিজানুর রহমানের ছেলে সিএনজি চালক মাইন উদ্দিন কে আসামি করে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় উল্লেখ করা হয় সিএনজি চালক মাইন উদ্দিন পূর্ব শত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে এই সড়ক দুর্ঘটনা ঘটিয়েছে।

মামলার বাদী মোস্তাফিজুর রহমানের দাবি, তার ছেলে কাশিপুর থেকে খেলা দেখে আসার পথে মাইন উদ্দিন পরিকল্পিতভাবে বেপরোয়া গতিতে সিএনজি চালিয়ে শফিউল্লাহ’র মোটরসাইকেলের ওপর উঠিয়ে দেয়। ফলে শফিউল্লাহ ও তার বন্ধু সোহাগ মিয়া মৃত্যুবরণ করেন।

এদিকে মোস্তাফিজুর রহমানের মামলার ভিত্তিতে আদালতের নির্দেশে কবর থেকে নিহত শফিউল্লাহ’র লাশ উত্তোলন করলেও, নিহত সোহাগ মিয়ার পরিবারের কোন অভিযোগ না থাকায় তার লাশ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়নি।

মুরাদনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো: সাকিব হাসান খান বলেন, এ ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে ময়নাতদন্তের জন্য যথাযথ প্রক্রিয়ায় কবর থেকে মৃত শফিউল্লাহ’র লাশ উত্তোলন করা হয়েছে। ওই দুর্ঘটনায় নিহত অপর ব্যক্তি সোহাগ মিয়ার লাশ আদালতের নির্দেশে কবর থেকে উত্তোলন করার কথা ছিল। তবে নিহত সোহাগের লাশ উত্তোলন করতে গেলে তার পরিবারের লোকজন বাধা প্রদান করে। তারা জানান সোহাগ মিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় তাদের পরিবারের সদস্যদের কোন অভিযোগ নেই।