All posts by jitu

কুমিল্লায় সাংবাদিকদের নিয়ে

কুমিল্লায় সাংবাদিকদের নিয়ে হাজী ইয়াছিনের ইফতার আয়োজন

 

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার কর্মরত সাংবাদিকদের সম্মানে ইফতার মাহফিল আয়োজন করেছেন বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক এমপি আমিন উর রশিদ ইয়াছিন।

মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) সন্ধ্যায় নগরীর টমছমব্রিজ এলাকার একটি পার্টি সেন্টারে আয়োজিত এই ইফতার মাহফিলে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং বক্তব্য প্রদান করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সভাপতি উৎবাতুল বারী আবু, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ মোল্লা টিপু, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি নিজাম উদ্দিন কায়সার, আদর্শ সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক রেজাউল কাইয়ুম, সদস্য সচিব শফিউল আলম রায়হানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

ইফতার মাহফিলে হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন বলেন, পবিত্র রমজান মাস দোয়া কবুলের মাস। তিনি কুমিল্লার জন্য, দলের জন্য এবং দেশের কল্যাণে সকলের দোয়া চান।

তিনি আরও বলেন, “বহু ত্যাগ স্বীকার করার পরও সমস্যাগুলো যেন আমাদের পিছু ছাড়ছে না। তাই দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষায় আমাদের সবাইকে একসঙ্গে এগিয়ে যেতে হবে।”

তিনি উল্লেখ করেন, “গত ১৬ বছর ধরে চলমান আন্দোলনের যে ফসল এসেছে, তা যেন কোনো চক্রান্ত নষ্ট করতে না পারে। এজন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। সাংবাদিকদের উচিত তাদের লেখনীর মাধ্যমে জনগণকে সচেতন করা।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা অতীতে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছি, এখনো তা টিকিয়ে রাখতে কাজ করছি। আমাদের দায়িত্ব আগামী প্রজন্মকে একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ উপহার দেওয়া। আমরা চাই না নতুন প্রজন্ম আন্দোলন ও সংগ্রামের মধ্যে বেড়ে উঠুক। বাকস্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকার রক্ষায় আমাদের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।”

কুমিল্লায় ওসির কক্ষের সামনে দাঁড়িয়ে শ্রমিক দল নেতাকে হত্যার হুমকি ছাত্রলীগ নেতার

ডেস্ক রিপোর্ট:

মুরাদনগরে ওসির রুমের সামনে দাঁড়িয়ে শ্রমিক দল নেতাকে হত্যার হুমকি দিয়েছে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সাজিব নামে এক স্থানীয় নেতা। যিনি আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি ইউসুফ আব্দুল্লাহ হারুনের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ।

২৪ মার্চ সোমবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। এদিকে স্থানীয় মানুষের মাঝে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে যে, ওসির কক্ষের সামনে দাঁড়িয়ে মাইক হাতে হুমকি দেওয়ার সাহস পেল কোথায়? তা ছাড়া ঘটনার সমাধানে দায়িত্বরত সেনাবাহিনী, পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাদের নিয়ে বৈঠকে বসলেও তা সমাধান হয়নি। বরং দুটি মামলা করা হয়েছে।

এই মামলায় বৈঠকে উপস্থিত বিএনপি নেতাদেরও আসামি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অবিলম্বে এ ঘটনার সমাধান না হলে যে কোনো মুহূর্তে আরও গোলযোগের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

ঘটনা প্রসঙ্গে স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী জানায়, অ্যাডভোকেট ওবায়েদ উল্লাহ কোম্পানিগঞ্জ সিএনজি স্ট্যান্ড থেকে সিরিয়ালের বাহিরে গাড়িতে গ্যাস নিতে গেলে আগে থেকেই লাইনে থাকা চালকরা বাধা দেন। পরে ওই ব্যক্তি নিজেকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের একজন উপদেষ্টার চাচাতো ভাই পরিচয় দেন এবং ক্ষিপ্ত হয়ে তার অনুসারীদের ডেকে এনে স্ট্যান্ডের কেরানি আবুল কালাম ও চালকদের মারধর করে কেরানিকে চাঁদাবাজ আখ্যা দিয়ে পুলিশে দেন।

সোমবার সন্ধ্যায় মুরাদনগর উপজেলার কোম্পানিগঞ্জ টার্মিনালে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই আবুল কালামের মুক্তির দাবিতে মুরাদনগর থানার সামনে হাজার হাজার বিক্ষুব্ধ জনতা বিক্ষোভ মিছিল করেন। এ সময় পরিবহন শ্রমিকদের চাঁদাবাজ আখ্যা দিয়ে মুরাদনগর থানার ওসির কক্ষের সামনে দাঁড়িয়ে মাইক হাতে শ্রমিক নেতাকে টেনে ছিঁড়ে ফেলার হুমকি দেন ওবায়েদ উল্লাহর ডাকে আসা মুরাদনগর সদর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের ছাত্রলীগের সেক্রেটারি সাজিব।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মুরাদনগর থানার সামনে সেনাবাহিনী, অতিরিক্ত পুলিশ ও প্রশাসনের একাধিক সংস্থার সদস্য অবস্থান নেন। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে স্থানীয়রা। সোমবার রাত ৮টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত মুরাদনগর সদর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি তৈরি হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

স্থানীয় এক ফল ব্যবসায়ী জানান, কুমিল্লা থেকে পুলিশ, সেনাবাহিনী, ডিবি পুলিশ এসে যেভাবে পুরো মুরাদনগর সদরে অবস্থান নিয়েছে মনে হচ্ছে আওয়ামী লীগের শাসন আবার ফিরে আসছে। তিনি বলেন, এই ঘটনার দ্রুত সমাধান না হলে আবার গোলযোগ হওয়ার আশঙ্কা রয়েই যাবে।

বিক্ষুব্ধ পরিবহন শ্রমিকরা জানান, অ্যাডভোকেট ওবায়েদ উল্লাহ তার বাড়ি মুরাদনগরের আকবপুরের বাড়িতে যাওয়ার জন্য কোম্পানিগঞ্জ টার্মিনালের সিএনজি স্ট্যান্ডে আসেন। এ সময় তিনি সিরিয়াল ছাড়াই গাড়িতে গ্যাস নিতে চাইলে অন্য চালকরা বাধা দেন। পরে চালকদের অকথ্য ভাষায় গালমন্দ ও হুমকি-ধামকি দিয়ে সিরিয়ালের বাহিরে সিএনজিতে গ্যাস নিতে চাইলে নিতে দেননি সিএনজিচালকরা। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয় অ্যাডভোকেট ওবায়েদ উল্লাহ ফোন দিয়ে ডেকে আনেন তার অনুসারীদের। এদের মধ্যে আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি ইউসুফ আব্দুল্লাহ হারুনের সমর্থক ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের একাধিক নেতাকর্মীর উপস্থিতি দেখা যায়।

ওবায়েদ উল্লাহ তার অনুসারীদের নিয়ে সিএনজি স্ট্যান্ডের কেরানি ও চালকদের মারধর করেন। পরে কেরানিকে আটকে চাঁদাবাজ আখ্যা দিয়ে পুলিশে দেন তারা। পুলিশের সামনেই সিএনজিচালকদের মারধর করে ওবায়েদ উল্লাহর সমর্থকরা।

মারধরের শিকার সিএনজিচালকরা জানায়, কোম্পানিগঞ্জ থেকে নগরপাড় সড়কে আমরা সিরিয়াল মেনে গাড়ি চালাই। আজ একজন আসে সিরিয়ালের বাহিরে সিএনজি নিয়ে যাওয়ার জন্য। আমরা তাকে যেতে না দেওয়ায় সে আমাদের হুমকি-ধামকি দিয়ে জিজ্ঞেস করে আমরা তাকে চিনি কিনা। আমরা না বলায় তিনি তার লোকজন নিয়ে এসে আমাদের মারধর করে চাঁদাবাজ দাবি করে স্লোগান দিতে থাকেন। এ সময় আমাদের স্ট্যান্ডের সিএনজির সিরিয়াল লেখক আবুল কালামকে চাঁদাবাজ আখ্যা দিয়ে মিছিল ও পুলিশে সোপর্দ করেন। আমরা তার মুক্তির দাবিতে মুরাদনগর সদরে অবস্থান করেছি।

এদিকে মধ্যরাতে বিক্ষুব্ধ জনতার মিছিলে ধাওয়া দিয়ে ৫ জনকে আটক করে নিয়ে আসে কুমিল্লা ডিবি পুলিশ। পুলিশের এমন একমুখী আচরণে স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ। তারা বলেন, ৫ আগস্টের পর যেখানে পুলিশের আচরণ পরিবর্তন হওয়ার কথা সেটি কিন্তু হয়নি। আমরা অবিলম্বে আটকদের মুক্তি দাবি করছি।

এদিকে উক্ত ঘটনার সমাধানে মুরাদনগর থানার ওসির রুমে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সঙ্গে সালিশে বসা বিএনপি নেতাদের নামেও মামলা দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে মুরাদনগর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মহিউদ্দিন অঞ্জন জানান, কোম্পানিগঞ্জে সিএনজিচালকদের সঙ্গে উপদেষ্টার চাচাতো ভাইয়ের ঝামেলা হয়েছে। সে খবরে আমরা সমস্যার সমাধানে থানায় যাই। সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন ও ওসির সঙ্গে সমস্যা সমাধানে মিটিং করি। অথচ আজকে দেখলাম আমাকে এবং আমার সঙ্গে থাকা কয়েকজন বিএনপি নেতাকেও মামলায় জড়িয়েছে। অবাক করা বিষয়! এমন মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা তো আওয়ামী লীগের আমলে হতো! এখনো কি ফ্যাসিবাদ রয়ে গেল?

উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাবেক চেয়ারম্যান মোল্লা মজিবুল হক জানায়, ৫ আগস্ট দেশের বিভিন্ন থানায় হামলা হয়েছে। আর আমরা আমাদের নেতা সাবেক এমপি কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদের নির্দেশে থানার নিরাপত্তা দিলাম। নিজেরা রান্না করে তাদের এক মাস খাবার দিলাম। অথচ সেই পুলিশ এখন ফ্যাসিবাদের ভূমিকা পালন করছে। উপকারের এ প্রতিদান দিল?

মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুর রহমান জানান, মুরাদনগর থানায় দুটি পৃথক মামলা হয়েছে। থানায় হট্টগোল করায় মুরাদনগর থানার এসআই আলী আক্কাস ৩২ জনের নাম উল্লেখ ও ৭০-৮০ অজ্ঞাত আসামি করে মামলা করেন। অপরটি আকুবপুর ইউনিয়নের আবুল ফয়সাল তাদের মারধর করায় ৩২ জনের নাম উল্লেখ ও ৭০-৮০ অজ্ঞাত আসামি করে মামলা করেন। এই দুই মামলায় এখন ৬ জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করেছে পুলিশ।

দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীকে বিতর্কিত করা যাবে না- চৌদ্দগ্রামের জাতীয় পার্টির ইফতার মাহফিলে কাজী নাহিদ

 

স্টাফ রিপোর্টার :

জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী মোঃ নাহিদ বলেছেন, আমরা চাচ্ছি নির্বাচন, এ নির্বাচনে জনগণ আ’লীগকে আস্তাকুড়ে নিক্ষেপ করবে। আমরা যারা জোটগতভাবে আন্দোলন করছি, আগামী দিনে জননেতা তারেক রহমানের নেতৃত্বে যে পার্লামেন্ট হবে, সেখানে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবো।

বিগত ২৫-৩০ বছর চৌদ্দগ্রামে যারা বিভিন্ন দল থেকে ক্ষমতায় ছিল, তাদের ভাই, ভাতিজারা, সংগঠনের ক্যাডাররা চৌদ্দগ্রামের মানুষকে চিবিয়ে খেয়েছে। তিনি মঙ্গলবার বিকেলে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জাতীয় পার্টি আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

কাজী নাহিদ আরও বলেন, দেশের এ ক্রান্তিলগ্নে দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীকে বিতর্কিত করা যাবে না। মনে রাখতে হবে, ১৯৭১ ও আর ২০২৪ সালের চেতনা এক নয়। ২৪ এর চেতনা অন্যায়, দুর্নীতি ও জুলুমের বিরুদ্ধে। ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারকে বিতাড়িত করেছে। সুতরাং আমরা ঐক্যবদ্ধ থেকে সকল ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে হবে।

উপজেলা জাতীয় পার্টির(জাফর) সভাপতি আবদুল্লাহ চৌধুরী পাশার সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম, জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা খবির আহমেদ মজুমদার। উপজেলা যুব সংহতির আহবায়ক কাজী শহীদের পরিচালনায় এ সময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন উপজেলা জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদক ওবায়দুল হক পাটোয়ারী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম, ওলামা পার্টির আহবায়ক মাওলানা আইয়ুব হোসেন, আলকরা ইউনিয়ন জাপা’র আহবায়ক জহিরুল ইসলাম, সদস্য সচিব আবুল কালাম আজাদ, গুণবতী ইউনিয়ন আহবায়ক জাকির আহমেদ জিকির, সদস্য সচিব জানে আলম দোভাষী, কনকাপৈত ইউনিয়ন আহবায়ক জাফর আহমেদ, শ্রীপুর ইউনিয়ন জাপা’র নেতা আবুল কাশেম, মুন্সিরহাট ইউনিয়ন জাপা’র আবদুল মালেক, আবদুল লতিফ, নুরুল ইসলাম, উপজেলা যুবসংহতির নেতা লুৎফুর রহমান, লিয়াকত আলী, জিসান আহমেদ, পাভেল মজুমদার, উপজেলা জাতীয় ছাত্রসমাজের নেতা মোবারক হোসেন, মিজানুর রহমান, ইকবাল হোসেনসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড থেকে আগত জাতীয় পার্টি এবং অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

চৌদ্দগ্রামে বিএনপি সাংগঠনিক সভায় হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

 

স্টাফ রিপোর্টার :

সদ্য ঘোষিত কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য সাজেদুর রহমান মোল্লা হিরণের উপর চৌদ্দগ্রাম বাজারে বিএনপির সাংগঠনিক সভায় প্রবেশের সময় হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে।

মঙ্গলবার দুপুরে নিজ বাসায় সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য রাখেন আহত সাজেদুর রহমান মোল্লা হিরণ। তিনি অভিযোগ করেন, চৌদ্দগ্রাম উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মোঃ কামরুল হুদার নির্দেশেই কতিপয় সন্ত্রাসী তার উপর হামলা করে। পর পর দুই বার হামলার ঘটনায় তিনি মাথাসহ শরীরের বিভিন্নস্থানে জখম হন। নেতাকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ভর্তি করায়। তাঁর ভাই বিএনপি নেতা আবদুল কাদের মোল্লা বাবলু বাদি হয়ে কামরুল হুদা, গিয়াস উদ্দিন, আশিক, গাজী শহীদ, দুলাল পাটোয়ারী, লিটন, সুজন, সুমন মিয়াজী, শরীফুল ইসলাম দুলাল, মমিন মিয়াসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ জমা দিয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন চৌদ্দগ্রাম উপজেলা বিএনপির সাবেক প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক খন্দকার মীর হোসেন নয়ন, সাবেক অর্থ সম্পাদক একে শাহ আলম, মুন্সিরহাট ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদের মোল্লা বাবলু, উপজেলা যুবদলের সাবেক সহ সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া, শুভপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি সোহাগ মজুমদার, সাবেক সহ সভাপতি রুহুল আমিন ভূঁইয়া প্রমূখ।

এ ব্যাপারে চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ হিলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘একটি অভিযোগ পেয়েছি। পরস্পর বিরোধী বক্তব্য শোনা যাচ্ছে, তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে’।

নিরাপদ ঈদযাত্রা ও যানজট নিরসনে মহাসড়কজুড়ে সেনাবাহিনীর কঠোর অবস্থান

 

স্টাফ রিপোর্টার:

পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরকে সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের ভোগান্তি লাঘব ও নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশের প্রধান সড়কগুলোর গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আজ মঙ্গলবার হতে দায়িত্ব পালন করছে।

এই কর্মসূচীর অংশ হিসেবে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা-সিলেটসহ লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর ও নোয়াখালী জেলার সড়ক সমূহের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ ও সম্ভাব্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড রোধে ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের প্রায় তিন শতাধিক সেনাসদস্য দায়িত্বরত আছে।

পরিবার-পরিজনের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেবার লক্ষ্যে সাধারণ মানুষের এই যাত্রা যাতে সুখকর হয় সে লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সকল বাস মালিক সমিতি ও
চালকদের ফিটনেসবিহীন গাড়ী চালনা, অধিক গতিতে গাড়ী চালনা, যত্রতত্র গাড়ী থামিয়ে যাত্রী উঠানো, অযথা লেন পরিবর্তন, ক্লান্তি নিয়ে গাড়ী চালানো হতে বিরত থাকার অনুরোধ করছে। এছাড়াও মহাসড়কের দুইপাশে যাতে ভাসমান দোকান স্থাপনের মাধ্যমে রাস্তা সংকীর্ণ না করা হয় সে বিষয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম, কুমিল্লা-সিলেট, কুমিল্লা-নোয়াখালী, কুমিল্লা-চাদপুর, কুমিল্লা-লক্ষ্মীপুর সড়কের পাশে অবস্থিত সকল বাজার মালিক সমিতিকে বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন সেনাবাহিনী।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৩ পদাতিক ডিভিশন প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানান, ঘরমুখী মানুষের ঈদ যাত্রায় বিঘ্ন ঘটে এমন কোন কারণ প্রতিহত করার লক্ষ্যে সেনাবাহিনী তার মেজিষ্ট্রেসী ক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার করবে বলে সেনাবাহিনী ।

‘সমরে ও শান্তিতে সর্বত্র দেশের তরে’ এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী অতীতে জনগনের পাশে ছিল, বর্তমানে আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকতে বদ্ধ পরিকর ।

সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাগণের গ্রেড উন্নীতকরণের দাবিতে

সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাগণের গ্রেড উন্নীতকরণের দাবিতে কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি প্রদান

 

স্টাফ রিপোর্টার:

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মাঠ পর্যায়ের উপজেলা/থানা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (ইউএপিইও) পদে কর্মরত কর্মকর্তাগণের গ্রেড (১০ম হতে ৯ম) উন্নীতকরণের দাবিতে কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছে সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার এসোসিয়েশন, কুমিল্লা জেলা শাখা।

মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) দুপুরে কুমিল্লা জেলা প্রশাসক আমিরুল কায়সারের কাছে স্মারকলিপি হস্তান্তর করা হয়।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাংগঠনিক কাঠামোভুক্ত ‘উপজেলা/থানা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (ইউএপিইও)’ পদটি ১৯৭৮ সালে সৃষ্টি হয়েছে। পরবর্তীতে ১৯৯৪ সালে সংশোধিত নিয়োগবিধি অনুযায়ী পদটি ১০ম গ্রেডে উন্নীত করা হয়। সে সময়ের অধস্তন প্রধান শিক্ষক পদটি ১৭ তম গ্রেডে এবং সহকারী শিক্ষক পদটি ১৮ তম গ্রেডে ছিল। পরবর্তিতে প্রধান শিক্ষক পদটি কয়েক দফায় উন্নীত করার ফলে ২০১৪ সালে ১১তম গ্রেড এবং সম্প্রতি উচ্চতর আদালতের রায়ে ১০ম গ্রেড ও সহকারী শিক্ষক পদটি চার দফায় ২০২০ সালে ১৩তম গ্রেডভুক্ত হয়। উল্লেখ্য, ১৯৯৪ সাল থেকে ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত এই দপ্তরের জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ও পিটিআই সুপারিনটেনডেন্ট পদটি ৯ম গ্রেড থেকে ৬ষ্ঠ গ্রেডে এবং পিটিআই ইন্সট্রাক্টর পদটি ৩য় শ্রেণি থেকে ১ম শ্রেণি (৯ম গ্রেড) উন্নীতকরণ করা হয়েছে। এছাড়াও উপজেলা পর্যায়ের অন‌্যান‌্য দপ্তরের সমগ্রেডের কর্মকর্তাগণ এই সুদীর্ঘ ৩০ বছরে ১০ম গ্রেড থেকে ৯ম গ্রেডে উন্নীতকরণ হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে ইউএপিইও পদটি ১০ম গ্রেডেই অপরিবর্তিত রয়েছে।

ইউএপিইওগণ তাদের চাকুরীর কর্মপরিধির বাহিরে বিভাগীয় কাজের পাশাপাশি অন্যান্য বিভাগের ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তাগণের ন্যায় সরকার কর্তৃক অর্পিত দায়িত্ব পালন করে থাকেন। ভোটার রেজিষ্ট্রেশন সংক্রান্ত কাজে সহকারী রেজিষ্ট্রেশন অফিসার, নির্বাচনে প্রিজাইডিং অফিসার, ভিজিএফ ও ভিজিডি সংক্রান্ত কাজে তদারককারী কর্মকর্তা, সমাজসেবামূলক কাজ, পরিবার পরিকল্পনা সংক্রান্ত কাজ, স্থাস্থ্য সেবা ও নকল মুক্ত পরিবেশে পাবলিক পরীক্ষা অনুষ্ঠানে সহায়তা প্রদানসহ জেলা ও উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক অর্পিত বিভিন্ন সরকারি দায়িত্ব পালন করে থাকেন। অর্থ মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারীকৃত এমএফ (আইসি) ২/৭৩/৩ নং স্মারক অনুযায়ী নন ক্যাডার ১ম শ্রেণির (৯ম গ্রেড) কর্মকর্তার জন্য নির্ধারিত শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং ইউএপিইওগণের নিয়োগবিধিতে উল্লেখিত শিক্ষাগত যোগ্যতা, নিয়োগ প্রক্রিয়া ও অন্যান্য শর্তাবলী একই।

বর্তমানে উপজেলা/থানা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এর অনুমোদিত পদসংখ্যা ২৬০৭ টি এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এর পদসংখ্যা ৫১৬ টি। উপজেলা/থানা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এর পদ সংখ্যা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এর পদ সংখ্যার পাঁচগুণেরও বেশি। নিয়োগবিধি অনুযায়ী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার পদের ৫০% হিসেবে ২৫৮টি পদে প্রতি ১০ জনে ১ জন ইউএপিইও পদোন্নতির সুযোগ রাখা হয়েছে। ফলে উপজেলা/থানা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারগণ দীর্ঘ ২০/২৫ বছর যাবৎ একই পদে চাকুরী করছেন, এমনকি অধিকাংশ কর্মকর্তা একই পদে থেকে অবসরে যাচ্ছেন। ফলে তাদের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি হচ্ছে এবং কর্মস্পৃহা হ্রাস পাচ্ছে। তাদের পদমর্যাদা বৃদ্ধি করা হলে পদোন্নতির প্রত্যাশা অনেকাংশে পূরণ হবে এবং কর্ম উদ্দীপনা বৃদ্ধি পাবে।

সম্প্রতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকগণের মামলার পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৩.০৩.২০২৫ তারিখে সিভিল রিভিউ পিটিশন ১২৪/২০২২ খারিজ হয় এবং মূল মামলার রিট পিটিশন নং ৩২১৪/২০১৮ এর রায় বহাল থাকে। অর্থাৎ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদটি ২০১৪ সালের ৯ মার্চ হতে ১০ম গ্রেডে উন্নীতকরণের চূড়ান্ত রায় প্রদান করা হয়। উল্লেখ‌্য ইউএপিইওগণ প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের প্রশাসনিক ও একাডেমিক তত্ত্বাবধায়ক, মেন্টর, মনিটর, এসিআর ও ছুটি প্রদানকারী কর্মকর্তা। এক্ষেত্রে ইউএপিইও, প্রধান শিক্ষক একই গ্রেড হওয়াতে তাদের নিয়ন্ত্রণকারী কর্মকর্তা হিসেবে মাঠ পর্যায়ে দায়িত্ব পালনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও চেইন অব কমান্ড ভেঙ্গে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সম্প্রতি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রাথমিক শিক্ষার বৈষম্য নিরসনে গঠিত কনসালটেশন কমিটির রিপোর্ট অনুযায়ী শিক্ষা প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনা এর ৪নং কলামে জনবল এবং আর্থিক ও বস্তুগত সম্পদ ব্যবস্থাপনায় শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের পদের গ্রেড উন্নীতকরণের বিষয়ে সুপারিশ করা হয়েছে। সহকারী উপজেলা/ থানা শিক্ষা অফিসারগণ দীর্ঘদিন যাবৎ এ পদটিকে ১০ম গ্রেড থেকে ৯ম গ্রেডে উন্নীতকরণের দাবী জানিয়ে আসছে। এই পদটি ২য় শ্রেণি থেকে ১ম শ্রেণিতে উন্নীতকরণের পক্ষে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি ১৯তম বৈঠকে সুপারিশ ছিল। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির ২য়, ১৮তম ও ২৫তম বৈঠকে প্রথম শ্রেণিতে উন্নীতকরণের সুপারিশ করা হয়েছিল। বিগত ০৬/০৯/২০০৬ তারিখে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব (বিধি) এর সভাপতিত্বে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় ইউ/টিএপিইও পদটি ২য় শ্রেণি থেকে ১ম শ্রেণিতে উন্নীত করার পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা (সওব্য) অনুবিভাগকে অনুরোধ করা হয়। ৮ম জাতীয় সংসদের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির ২১তম সভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন অগ্রগতি জানতে চেয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন অনুবিভাগ ১৬/০৩/২০০৯ তারিখ একটি ইউও নোট প্রেরণ করেন। তৎপ্রেক্ষিতে সওব্য অনুবিভাগ ১৭/০৩/২০০৯ খ্রি. তারিখের ২৩১ নম্বর স্মারকে উপজেলা/থানা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার পদটি ১ম শ্রেণিতে উন্নীতকরণ বিষয়ে অর্থ বিভাগের আনুষ্ঠানিক সম্মতিসহ প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটির সিদ্ধান্ত ও নিকারের অনুমোদনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণায়কে পরামর্শ প্রদান করেন। তৎপ্রেক্ষিতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বিগত ১৫/০১/১৩ খ্রি. তারিখ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে সার-সংক্ষেপ উপস্থান করেন।

ইউএপিইও এর পদটি ৯ম গ্রেডে উন্নীত করা হলে সরকারের তেমন আর্থিক সংশ্লিষ্টতা এবং বাড়তি বরাদ্দের প্রয়োজন হবে না। কারণ অধিকাংশ ইউএপিইওগণ ১০ম গ্রেড হতে উচ্চতর গ্রেড/টাইম স্কেল/সিলেকশন গ্রেড পেয়ে ইতোমধ্যে ৭ম, ৮ম ও ৯ম গ্রেডে বেতন ও ভাতাদি প্রাপ্ত হচ্ছেন।

তাই মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিতকরণ, মাঠ পর্যায়ে কাজের গতিশীলতা বৃদ্ধি ও প্রাথমিক শিক্ষা প্রশাসনের শৃংখলা/চেইন অব কমান্ড বজায় রাখার লক্ষ্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন কর্মরত ‘উপজেলা/থানা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার’ পদে কর্মরত কর্মকর্তাগণের গ্রেড ১০ম হতে ৯ম গ্রেড-এ উন্নীতকরণের আশু ব‌্যবস্থা গ্রহণের জন‌্য প্রধান উপদেষ্টার কাছে জোর দাবি জানান উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসাররা।

স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন বি পাড়া উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মাসুদ ইবনে হোসাইন, সদরের উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ জামাল হোসেন, মোঃ আনোয়ার হোসেন চৌধুরী, মোঃ ফারুক হোসেন, ইব্রাহিম খলিল, মীর কাশেদুল হক, আমির হোসেন, চান্দিনা উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার লিপিকা পোদ্দার, বুড়িচং উপজেলা সহকারি প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মামুন মুন্সি, কামাল হোসেন, চান্দিনা উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার কামাল হোসেন, চৌদ্দগ্রাম উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মাসুম হোসেন, বুড়িচং উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো: মোতালেব, নাঙ্গলকোট উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল ওহাব, চান্দিনা উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নুরজাহান আক্তার, দেবিদ্বার উপজেলা সহকারি প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার
আয়েশা আক্তার, বুড়িচং উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সালমা আক্তার প্রমূখ।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবির কর্তৃক ঈদ সামগ্রী বিতরন

 

চাঁদনী আক্তার, কুবি:

ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা কর্মী, আনসার, হল ডাইনিং ও ক্যাম্পাস সংলগ্ন দোকান কর্মচারীদের মাঝে ‘ঈদ ফুড প্যাকেজ’ বিতরণ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) শাখা।

সোমবার (২৪ মার্চ) রাতে কুবি ক্যাম্পাসে এসব ঈদ সামগ্রী বিতরন করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন কুবি শাখা ছাত্রশিবির সভাপতি হাফেজ ইউসুফ ইসলাহী ও সেক্রেটারি হাফেজ মো. মাজহারুল ইসলামসহ ছাত্রশিবিরের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।

এসময় সবার সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে ক্যাম্পাসে দায়িত্বরত প্রহরীদের ও দোকানের কর্মচারীদের মাঝে সর্বমোট ৬৫ প্যাকেট ঈদ সামগ্রী বিতরন করে তারা।

এবিষয়ে কুবি শাখা ছাত্রশিবির সভাপতি হাফেজ ইউসুফ ইসলাহী বলেন‚ ‘সবার সাথে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয়ার লক্ষ্যে ক্যাম্পাসের সিকিউরিটির দায়িত্বে থাকা সবার জন্য এবং ক্যাম্পাসের আশেপাশের দোকানগুলোতে কাজ করা হোটেল বয়দের নিকট আজ আমরা ইসলামী ছাত্র শিবিরের পক্ষ থেকে ৬৫ প্যাকেট ঈদ সামগ্রী পৌঁছে দেই। আপনারা জানেন আমাদের ক্যাম্পাসকে নিরাপত্তা দিতে গিয়ে এই আনসার সদস্যরা পবিত্র ঈদেও তাদের পরিবারের কাছে যেতে পারেনা। সেই জায়গা থেকে আমরা চেষ্টা করেছি নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী তাদের মুখে হাসি ফুটানোর। তেমনিভাবে ক্যাম্পাসের আশেপাশের হোটেলগুলোতে কাজ করা এই হোটেলবয়দেরও দিনশেষে পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর খুব বেশি সামর্থ্য হয়না। সেখান থেকেও তাদের পাশেও নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি আমরা। ঈদটা গরিব-ধনী সবার জন্যই আনন্দের হোক এই কামনা করি।’

ঢাকাস্থ ভারেল্লা দ: ইউনিয়নের আনুষ্ঠানিক যাত্রা

ঢাকাস্থ ভারেল্লা দ: ইউনিয়নের আনুষ্ঠানিক যাত্রা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

স্টাফ রিপোর্টার:

রাজধানীর কাকরাইল রিজেন্সী রুফটফ রেস্টুরেন্টে ঢাকায় বসবাসরত ভারেল্লা দ: ইউনিয়নের বিভিন্ন পেশাজীবী, ব্যবসায়ী ও ছাত্র ভাইদের নিয়ে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।আল আরাফাহ ব্যাংক, রামপুরা শাখার অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট জনাব ওবায়দুল্লাহর সভাপতিত্বে ও কৃষিবিদ ড. কাজী ডালিম এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অনেকেই শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন।এতে সবাই এই সংগঠনের সফলতা কামনা করেন ,বিভিন্ন পরামর্শ ও সুন্দর আলোচনা রাখেন।

সংগঠনটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক হিসেবে গড়ে তোলা ,সংগঠনের মাধ্যমে বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কাজে সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন।পাশাপশি ঢাকায় বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ওই ইউনিয়নের গরীব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে সহযোগী হিসেবে কাজ করার পরামর্শ দেন, লেখাপড়া শেষে চাকুরী পাওয়ার ক্ষেত্রে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান এবং ভবিষ্যতে এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ঢাকাতে আরো বড় আকারে প্রোগ্রাম করার প্রস্তাবনা দেন।আয়োজক কমিটির অন্যতম সদস্য ড. কাজী ডালিম, ময়নাল হোসেন,কাজী সাইফুল, রেজাউল করিম দুলাল, ইঞ্জি: আজিম উদ্দিন সুমন, জাকির ভূঁইয়া, আনোয়ার হোসেন, জহির উদ্দিন,ইঞ্জি: মহিবউল্লাহ ও ইঞ্জি: ইউসুফ শান্ত জানান ,যারা মানুষিক ,শারীরিক ও আর্থিকভাবে সহযোগিতা করেছেন তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান।

বাংলাদেশে এখনো ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা

বাংলাদেশে এখনো ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা যায়নি: প্রধান উপদেষ্টা

ডেস্ক রিপোর্ট:

১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের মূল লক্ষ্য ছিল একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠন, যেখানে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে, মানুষের মৌলিক অধিকার সুরক্ষিত হবে এবং একটি সাম্যবাদী সমাজ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে। কিন্তু আজও স্বাধীন বাংলাদেশে সেই ন্যায়সংগত সমাজ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়নি।

মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে স্বাধীনতা পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস এই মন্তব্য করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সকল বীর শহিদ ও মুক্তিযোদ্ধাদের গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “দীর্ঘকাল ধরে এ দেশের জনগণকে তাদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। দুর্নীতি, লুটপাট ও গুম-খুনের মাধ্যমে দেশে একটি ফ্যাসিবাদী শাসন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।”

জুলাই মাসের গণ-অভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের স্মরণ করে তিনি বলেন, “তাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা আজ একটি ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার স্বপ্ন দেখার সুযোগ পেয়েছি। এই সুযোগ আমরা কোনোভাবেই হারাতে দেব না।”

ড. ইউনূস আরও বলেন, “আজকের এই অনুষ্ঠান আমাদের স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে যে, মরণোত্তর পুরস্কারের চেয়ে জীবিত অবস্থায় সম্মাননা প্রদান অনেক বেশি অর্থবহ। যাকে আমরা মৃত্যুর পর সম্মান দিচ্ছি, তিনি তা অনুভব করতে পারছেন না।”

তিনি প্রস্তাব করেন, “আমাদের উচিত ভবিষ্যতে এমন একটি নিয়ম করা, যাতে মরণোত্তর পুরস্কারের তালিকা শেষ করে জীবিত ব্যক্তিদেরই প্রথমে সম্মাননা দেওয়া হয়। যারা জাতিকে মহান উচ্চতায় নিয়ে গেছেন, তাদের জীবদ্দশায়ই সম্মান জানানো উচিত।”

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “পুরস্কার প্রদানের মাধ্যমে আমরা কেবল তাদেরই সম্মানিত করছি না, বরং তাদের মাধ্যমে গোটা জাতি সম্মানিত হচ্ছে। এই ব্যক্তিরা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করেছেন। তাদের জীবিত অবস্থায় স্বীকৃতি না দিলে আমরা অকৃতজ্ঞ জাতি হিসেবে ইতিহাসে চিহ্নিত হব।”

 

লালমাইয়ে সালিশি বৈঠকে

লালমাইয়ে সালিশি বৈঠকে হামলা, নিহত ১

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় এক সালিশি বৈঠকে হামলার ঘটনায় হাবিবুর রহমান নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তার দুই ভাইও গুরুতর আহত হয়েছেন।

সোমবার বিকাল ৩টার দিকে বাকই উত্তর ইউনিয়নের হাতিলোটা গ্রামে এ হামলা ঘটে। নিহত হাবিবুর রহমান (৬০) ওই গ্রামের মৃত শরাফত আলীর ছেলে। আহতরা হলেন তার ভাই মিজানুর রহমান ও হাছান আলী। মিজানুর রহমানকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাবিবুর রহমানের সঙ্গে প্রতিবেশী আবদুল জলিলের পরিবারের মধ্যে জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল। এ বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য সোমবার আবদুল জলিলের বাড়িতে সালিশি বৈঠক ডাকা হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় ইউপি সদস্য রবিউল হোসেন খোকন, গ্রামের সর্দার ছালামত উল্লাহ ও অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

কিন্তু বৈঠকের একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে তর্কাতর্কি বেধে যায়। এ সময় আবদুল জলিলের ছেলে আবদুল্লাহ (২৩) লাঠি দিয়ে হাবিবুর রহমান ও তার ভাইদের ওপর হামলা চালায়। হাবিবুর রহমান মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়ার পর অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহতের মেয়ে মায়া আক্তার বলেন, “আমার বাবাকে আবদুল্লাহ লাঠি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছে। আমি চাই তার ফাঁসি হোক। শুনেছি হত্যাকারীরা দেশ ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করছে। পুলিশ যেন তাদের দ্রুত গ্রেফতার করে।”

লালমাই থানার ওসি মো. শাহ আলম বলেন, “জমি নিয়ে বিরোধের জেরে সালিশি বৈঠকে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে একজনের মৃত্যু হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেফতারের জন্য তৎপরতা চলছে।”