All posts by jitu

নগরী রাজগঞ্জ বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য যাচাইয়ে সেনাবাহিনীর তদারকি অভিযান

 

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লা নগরীর রাজগঞ্জ কাঁচা বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য যাচাইয়ে আজ সোমবার (০৩ মার্চ ) কুমিল্লা জেলা প্রশাসক আমিরুল কায়সারের নেতৃত্বে এক বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়।

অভিযানে সেনাবাহিনী, পুলিশ, ডিবি, আনসার ও সিভিল গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা অংশ নেন।

অভিযানে বাজারের পণ্যমূল্য যাচাই করা হয় এবং কোথাও অতিরিক্ত মূল্য আদায় হচ্ছে কিনা তা পর্যবেক্ষণ করা হয়। কিছু পণ্যের মূল্য অধিক থাকায় তা সংশোধন করে সঠিক মূল্য নির্ধারণ করা হয়। এ সময় দোকান মালিকদের সতর্ক করা হয় এবং সঠিক দামে বিক্রির নির্দেশনা প্রদান করা হয়। কয়েকটি দোকানের মালিকানা সংক্রান্ত কাগজপত্র যাচাই করতে আগামীকাল এসিল্যান্ড অফিসে রিপোর্ট করতে বলা হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে—যদি ভবিষ্যতে মূল্য বৃদ্ধির অনিয়ম ধরা পড়ে, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ অভিযানে সেনাবাহিনী বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং ক্রেতাদের স্বার্থ রক্ষায় প্রশাসনকে সর্বাত্মক সহায়তা প্রদান করে।

এ ধরনের কার্যক্রমে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা ক্রেতাদের মধ্যে স্বস্তি আনলেও, বাজার সিন্ডিকেটের ভূমিকা নিয়ে এখনো প্রশ্ন থেকে যায়। নিত্যপণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে ভবিষ্যতেও আরও কঠোর মনিটরিং প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রোজাদারকে ইফতার করানো অত্যন্ত সওয়াবের কাজ- হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী

ডেস্ক রিপোর্ট:

রোজাদার সূর্যাস্তের পর যে পানাহারের মাধ্যমে রোজা ভাঙে তাকে ইফতার বলে। রমজানের অন্যতম সুন্নত হলো ইফতার। ইফতারের সময় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইফতার করা উত্তম। এ ছাড়া ইফতার সামনে নিয়ে যে দোয়া করা হয়, সেই দোয়া মহান আল্লাহর দরবারে গুরুত্বের সঙ্গে কবুল হয় বলে হাদিস শরিফে উল্লেখ রয়েছে।

খেজুর বা খুরমা দিয়ে ইফতার করা সর্বাপেক্ষা উত্তম। যদি তা সম্ভব না হয় তাহলে যেকোনো মিষ্টিজাতীয় বস্তু দিয়ে ইফতার করা ভালো। আর যদি এটাও সম্ভব না হয় তাহলে যেকোনো হালাল খাদ্য দিয়ে, এমনকি শুধু পানি দিয়েও ইফতার করা যায়।

রাসুলে করিম (সা.) এরশাদ করেছেন, তোমরা যখন ইফতার করো, তখন খুরমা বা খেজুর দিয়ে ইফতার করো, কেননা খুরমা বা খেজুরের মধ্যে বরকত রয়েছে, আর যদি খুরমা বা খেজুর পাওয়া না যায়, তাহলে পানি দিয়ে ইফতার করা ভালো, কেননা পানি পবিত্রকারী। হাদিসে পানিমিশ্রিত দুধ দিয়ে ইফতার করার হুকুমও বর্ণিত রয়েছে।

পবিত্র এই মাসে আল্লাহর বান্দারা পারস্পরিক উত্তম আমলের প্রতিযোগিতা করে। রোজাদারকে ইফতার করানোও অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। আল্লাহর রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে ইফতার করাবে সে ওই রোজাদারের সমপরিমাণ সওয়াব পাবে। এবং রোজাদারের সওয়াবও কমানো হবে না।’ (তিরমিজি, হাদিস : ৮০৭)

সাহাবায়ে কেরাম এ কথা শুনে বললেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ! আমাদের অনেকেরই রোজাদারকে ইফতার করানোর সামর্থ্য নেই। রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, পানিমিশ্রিত এক কাপ দুধ বা একটি শুকনো খেজুর অথবা এক ঢোক পানি দিয়েও যদি কেউ কোনো রোজাদারকে ইফতার করায়, তাতেও আল্লাহ তাকে সেই পরিমাণ সওয়াব দান করবেন। আর যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে তৃপ্তিসহকারে আহার করাবে, আল্লাহ তাআলা তাকে আমার হাউসে কাউসার থেকে এমন পানীয় পান করাবেন, যার ফলে সে জান্নাতে প্রবেশ করার আগ পর্যন্ত তৃষ্ণার্ত হবে না।

খাবার খাওয়ানোর ইবাদতের মাধ্যমে আরও অনেকগুলো ইবাদত পালিত হয়। নিমন্ত্রিত ভাইদের সাথে হৃদ্যতা ও ভালোবাসা। যে হৃদ্যতা ও ভালোবাসা জান্নাতে প্রবেশের কারণ। যেমনটি নবী (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা ঈমান আনা ছাড়া জান্নাত যেতে পারবে না। আর পারস্পারিক ভালোবাসা ছাড়া তোমাদের ঈমান হবে না।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৫৪) মহান আল্লাহ পাক যেন মুসলিম উম্মাহকে উপরোক্ত কথা গুলোর উপর আমল করার তাওফিক দান করেন, আমিন।

লেখক : বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ লেখক ও কলামিস্ট হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী, সাবেক ইমাম ও খতিব কদমতলী মাজার জামে মসজিদ সিলেট।

কুমিল্লার সীমান্ত এলাকা হতে বিভিন্ন প্রকার অবৈধ ভারতীয় পণ্য আটক

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার সীমান্ত এলাকা হতে কুমিল্লা ১০ বিজিবি অভিযান পরিচালনা করে ৫০ লক্ষ ৪০ হাজার ৪৯৫ টাকা মূল্যের বিভিন্ন প্রকার অবৈধ ভারতীয় মেহেদী, সিগারেট এবং বাজি আটক করেছে।

সোমবার (৩ মার্চ) ভোর সাড়ে পাঁচটায় কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি) এর অধীনস্থ বিবির বাজার বিওপির আওতাধীন কটকবাজার পোষ্টের বিশেষ টহলদল বালুতুপা এলাকায় মাদক ও চোরাচালান বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে।

এ সময় মালিকবিহীন অবস্থায় ১৫,৮৫৬ পিস মেহেদী, ২২৫ প্যাকেট সিগারেট এবং ১,২৩,৬৭৯ পিস বিভিন্ন প্রকার অবৈধ ভারতীয় বাজি আটক করা হয়।

উল্লেখ্য, জব্দকৃত মালামাল বিধি মোতাবেক কাস্টমস এ জমা করা হবে।

কুমিল্লা ১০ বিজিবির অধিনায়ক লেঃ কর্নেল এ এম জাহিদ পারভেজ অভিযানে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন

অনিয়মের অভিযোগে কুবি রেজিস্ট্রারকে বাধ্যতামূলক ছুটি

 

কুবি প্রতিনিধি:

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. মুজিবুর রহমান মজুমদারের বিরুদ্ধে আর্থিক ও প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ থাকায় তাঁকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। একইসঙ্গে গণিত বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেনকে রেজিস্ট্রারের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (৩ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. দলিলুর রহমান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

ওই আদেশে বলা হয়, মো. মুজিবুর রহমান মজুমদারের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষের নির্দেশক্রমে তাঁকে ৩ মার্চ থেকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন রেজিস্ট্রারের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করবেন এবং প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী সকল সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন।

বাধ্যতামূলক ছুটির সময় মো. মুজিবুর রহমান মজুমদার নিয়মিত বেতন-ভাতাদি পেলেও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারবেন না। এ সময় তিনি যানবাহন, টেলিফোন, মোবাইল ভাতা ও সংবাদপত্র সংক্রান্ত কোনো সুবিধা ভোগ করতে পারবেন না। তদন্তে দোষী সাব্যস্ত হলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাঁর বাধ্যতামূলক ছুটি বহাল থাকবে।

উল্লেখ্য, এর আগেও ২০১৮ সালে ২৭ ফেব্রুয়ারি বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ এনে রেজিস্ট্রার পদ থেকে মোঃ মজিবুর রহমান মজুমদারকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরী কার্যালয়ে অভ্যন্তরীন ব্যবস্থাপনা পদ সহ বদলী করা হয়।

কুমিল্লায় অবৈধভাবে অনুপ্রবেশের দায়ে এক ভারতীয় নাগরিক আটক

 

হাবিবুর রহমান মুন্না:

কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি) তাদের দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধ ও অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে, গতকাল ২ মার্চ (রবিবার) রাত ২টার দিকে কুমিল্লার বিবির বাজার বিওপির আওতাধীন গোলাবাড়ী পোস্ট এলাকায় সীমান্ত শূন্য লাইন থেকে প্রায় ২০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কেরানীনগর নামক স্থান থেকে বিজিবি টহল দল এক ভারতীয় নাগরিককে আটক করে।

আটককৃত ব্যক্তির নাম শাওন কর্মকার (৩৭)। তিনি ভারতের পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার খায়েরপুর থানার কাশিপুর মিশন রোড এলাকার বাসিন্দা। তার কাছ থেকে ভারত সরকার কর্তৃক প্রদত্ত একটি আধার কার্ড, একটি পার্মানেন্ট অ্যাকাউন্ট নম্বর (প্যান) কার্ড এবং একটি স্টেট ব্যাংক ক্লাসিক ভিসা কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, শাওন কর্মকার অবৈধভাবে আন্তর্জাতিক সীমানা অতিক্রম করে ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় আটক হন। এ ঘটনায় তাকে কুমিল্লার কোতোয়ালী মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান রোধে তারা সব সময় সতর্ক রয়েছে। এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে বিজিবি কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।

এদিকে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে এবং আটককৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

তাহসীন বাহার সূচনার ফ্ল্যাট জব্দ

তাহসীন বাহার সূচনার ফ্ল্যাট জব্দ, ৯ হিসাব অবরুদ্ধ

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র তাহসীন বাহার সূচনার উত্তরা আবাসিক এলাকার একটি ফ্ল্যাট জব্দ এবং নয়টি ব্যাংক হিসাবসহ মোট ৩ কোটি ৩ লাখ ২৫ হাজার ৬৩৫ টাকা অবরুদ্ধের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

সোমবার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক ইব্রাহীম মিয়া এ আদেশ দেন। দুদকের সহকারী পরিচালক আমিনুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

দুদকের আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র তাহসীন বাহার তার মেয়াদকালে নিজ ক্ষমতার অপব্যবহার করে দুর্নীতির মাধ্যমে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ অর্জন করেছেন। তার নামে ১৬টি ব্যাংক হিসাবে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ৪২ কোটি ৫৮ লাখ ৭৩ হাজার ১৯৩ টাকার অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেন করা হয়েছে। এছাড়াও, তিনি ৩ কোটি ৪ লাখ ৫০ হাজার ৭৭০ টাকা মূল্যের সম্পদ অবৈধভাবে অর্জন করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

দুদকের মামলায় বলা হয়েছে, তাহসীন বাহার দুর্নীতি দমন কমিশন আইনের ২৭(১) ধারা, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।

তদন্তকালে তাহসীন বাহারের অর্জিত সকল সম্পদ সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি। তবে, তার সম্পদ যাতে অন্যত্র হস্তান্তর বা স্থানান্তর করা না যায়, সেজন্য দুর্নীতি দমন কমিশন বিধিমালা ২০০৭-এর ১৮ বিধি এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২-এর ১৪ ধারা অনুযায়ী তার স্থাবর সম্পদ ক্রোক ও ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করা প্রয়োজন বলে আদালত রায় দিয়েছেন।

গরুর ঘাস কাটতে গিয়ে দেখা মিলে

গরুর ঘাস কাটতে গিয়ে দেখা মিলে দেশীয় অস্ত্রের

 

বিপ্লব সিকদার:

কুমিল্লার মেঘনা উপজেলায় স্থানীয় লোকজন গরুর ঘাস কাটতে গিয়ে দেশীয় অস্ত্র দেখতে পেয়ে এলাকাবাসীকে জানান ।

আজ সোমবার উপজেলার ভাওরখোলা ইউনিয়ন পরিষদের পূর্ব পাশে বালু ভরাট করা ভুমির ঢালে ঘাগড়া ঝোপের মধ্যে দেশীয় অস্ত্র দেখতে পায়। দেশীয় অস্ত্রের মধ্যে রামদা, শাবল, টর্চ লাইটসহ বিভিন্ন সরঞ্জামাদি রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, ঘাস কাটতে গিয়ে এইসব অস্ত্র দেখতে পাই । পরে স্থানীয় একজন সাংবাদিক আছে উনাকে জানাই।

স্থানীয় সাংবাদিক হাসান মাহমুদ মুক্তি বলেন, উনারা আমার বাড়িতে এসে ঘটনা জানালে আমি সঙ্গে সঙ্গে থানায় অবহিত করি।

এ বিষয়ে মেঘনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা( ওসি) আব্দুল জলিল বলেন, খবর পেয়েছি এখনই ফোর্স পাঠাচ্ছি।

আদালতে আওয়ামী লীগ থেকে

আদালতে আওয়ামী লীগ থেকে ‘পদত্যাগের’ ঘোষণা দিয়েছেন কামাল মজুমদার

আদালতে আওয়ামী লীগ থেকে ‘পদত্যাগের’ ঘোষণা দিয়েছেন কামাল মজুমদার

ডেস্ক রিপোর্ট:

সাবেক শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার রাজনীতি থেকে সম্পূর্ণ অব্যাহতি নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তিনি আওয়ামী লীগের সাধারণ সদস্য পদ থেকেও অব্যাহতি নিয়েছেন এবং এখন দলীয় কোনো পদে নেই। ৭৬ বছর বয়সে রাজনীতি করা সম্ভব নয় বলে উল্লেখ করে তিনি নতুন নেতৃত্ব আসার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছেন।

সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণে তিনি এ কথা বলেন। এদিন কামাল আহমেদ মজুমদারসহ ছয়জনকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। সকাল ১০টার দিকে পুলিশ প্রহরায় তাদের হাজতখানা থেকে আদালতের কাঠগড়ায় তোলা হয়। ১০টা ৭ মিনিটে বিচারক এজলাসে আসেন এবং কাফরুল থানার মামলায় ছয়জনকে গ্রেফতার দেখানোর শুনানি শুরু হয়।

শুনানির এক পর্যায়ে কামাল আহমেদ মজুমদার কথা বলার জন্য হাত তোলেন। বিচারক প্রথমে তাদের গ্রেফতার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন এবং পরে কামাল আহমেদ মজুমদারকে কথা বলার অনুমতি দেন। তখন তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “আমার বয়স ৭৬ বছর। আমার চোখে সমস্যা আছে, ৭০ শতাংশ দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হয়ে গেছে। আমি আমার পরিবারের কোনো খোঁজ-খবর নিতে পারছি না। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আমি আওয়ামী লীগের রাজনীতি করব না। আমি রাজনীতি থেকে ইস্তফা দিলাম এবং আওয়ামী লীগের কোনো পদে নেই। এখন থেকে প্রাথমিক সদস্য পদ থেকেও পদত্যাগ করলাম। কারাগারে ডায়াবেটিসের চেক করার জন্য ডিজিটাল যন্ত্র বা ওষুধ দেওয়া হচ্ছে না। এমনকি পবিত্র কোরআন শরিফও দেওয়া হয়নি। একের পর এক মামলা দেওয়া হচ্ছে এবং নির্যাতন করা হচ্ছে। এই বয়সে আমার উপর জুলুম চালানো হচ্ছে। আল্লাহকে ডাক দেওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই। তাই আমি আপনার কাছে অনুরোধ করছি, ডায়াবেটিসের ওষুধ, ডায়াবেটিস মাপার ডিজিটাল যন্ত্র এবং ডিজিটাল কোরআন শরিফ দেওয়া হোক।”

এসময় বিচারক তাকে আইনজীবীর মাধ্যমে আবেদন করার পরামর্শ দেন। এরপর বিচারক তার গ্রেফতার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন।

উল্লেখ্য, গত ১৮ অক্টোবর রাতে রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে কামাল আহমেদ মজুমদারকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর একাধিক মামলায় তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি কারাগারে আটক রয়েছেন।

একটা পলাতক দল অস্থিতিশীল করার জন্য

একটা পলাতক দল অস্থিতিশীল করার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করছে: প্রধান উপদেষ্টা

ডেস্ক রিপোর্ট:

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ‘একটি পলাতক দল দেশ ছেড়ে চলে গেছে, তারপরও তারা দেশটিকে অস্থিতিশীল করার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে।’ বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে তিনি এ কথা বলেন।

ড. ইউনূস বলেন, ‘সরকার যখন গঠন হলো, আমার কোনো চিন্তা ছিল না, ভাবনা ছিল না যে আমি হঠাৎ করে একটি সরকারের প্রধান হবো, দায়িত্ব পাবো এবং সেই দেশ এমন দেশ, যেখানে সব তছনছ হয়ে গেছে। কোনো জিনিস আর ঠিকমতো কাজ করছে না। যা কিছু আছে ধ্বংসস্তূপের মধ্য দিয়ে কাজ করতে হবে। এজন্য প্রথম চেষ্টা ছিল সেই ধ্বংসস্তূপ থেকে আসল চেহারাটা বের করে আনা। মানুষের দৈনন্দিন জীবন সহজ করে আনা। সেই চেষ্টাটার মধ্যে ছিলাম। তারপর আস্তে আস্তে ভবিষ্যতটা কী হবে, সেটার জন্য চিন্তা করা – কোনদিকে আমরা অগ্রসর হবো।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রথম চিন্তা আসলো যে আমাদের একটি সংস্কার দরকার। কারণ গত ১৬ বছর আমরা কিছুই করতে পারিনি। তিন-তিনটি নির্বাচন হয়ে গেলো, ভোটারের কোনো দেখা নাই। এই যে অসংখ্য রকমের দুর্নীতি এবং ব্যর্থতা, মিসরুল ইত্যাদি – সেখান থেকে আমরা কীভাবে টেনে বের করে আনবো। টেনে বের করে আনতে গেলে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারগুলো করতে হবে। সেজন্য আমরা প্রথমে সংস্কারের কথা চিন্তা করলাম।’

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা অর্থনীতি সহজ করেছি। দেশ-বিদেশের আস্থা অর্জন করেছি। এটা পরিষ্কার- সারা দুনিয়ায় আমরা আস্থা স্থাপন করতে পেরেছি। এটা কেউ প্রশ্ন করতে পারবে না যে আমি অমুক দেশের আস্থা অর্জন করতে পারিনি। যে দেশেই বলুন, তারা আমাদের উপর আস্থা স্থাপন করেছে। তারা বলছে আমরা অতীতে যা করি নাই তারচেয়ে বেশি করবো এখন, যেহেতু আমরা দেখছি যে সুন্দরভাবে সরকার চলছে এখন।’

দেশের মানুষেরও আস্থা আমাদের উপর আছে। আমরা কী করছি না করছি- এগুলো খুচরো বিষয় আছে। আমাদের খুচরো বিষয় এটাতে ভালো, ওটাতে মন্দ- কিছু ভালো, কিছু মন্দ, হতে থাকবে। এটা একটি অপরিচিত জগৎ, আমরা এসেছি। আমরা কোনো এক্সপার্ট এখানে এসে বসি নাই। আমরা এসেছি যার যার জগৎ থেকে এসেছি, নিজের মতো করে চেষ্টা করছি কীভাবে করতে পারি। তারমধ্যে ভুলভ্রান্তি হতে পারে। কিছু ভালো করেছে, কিছু ভালো করতে পারেনি। এটা হতে পারে। এটা আমিতো অস্বীকার করছি না।’

রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ফাটলের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক বক্তব্যের মধ্যে অনেক তফাৎ আছে। কিন্তু তার মানে এই নয়, ঐক্যের মধ্যে ফাটল ধরেছে। এরকম কোনো ঘটনা ঘটে নাই।’

ছাত্রদের রাজনৈতিক দল গঠনের প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার তাদের কোনো সহায়তা করে না। যে রাজনীতি করতে চায়, সে নিজেই ইস্তফা দিয়ে চলে গেছে। তিনজন ছাত্র প্রতিনিধি ছিল সরকারের ভেতরে। যিনি রাজনীতি করতে মন স্থির করেছেন, তিনি ইস্তফা দিয়ে সরকার থেকে চলে গেছেন। উনি প্রাইভেট সিটিজেনশিপে রাজনীতি করবেন, কার বাধা দেওয়ার কী আছে?’

সেনাবাহিনীর সহযোগিতা প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘সেনাবাহিনী আমাদের সর্বাত্মকভাবে সহযোগিতা করছে। তার বক্তব্য নিয়ে আমার ওনাকে এনডোর্স (সমর্থন) করা না করারতো বিষয় না।’

স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হওয়ার সম্ভাবনার বিষয়ে ড. ইউনূস বলেন, ‘এটাতো সবসময় থাকে। একটি পলাতক দল দেশ ছেড়ে চলে গেছে বা তাদের নেতৃত্ব চলে গেছে। তারা সর্বাত্মক চেষ্টা করছে এটাকে আনসেটেল করার জন্য। এটাতো সবসময় থ্রেট আছেই। প্রতি ক্ষণেই আছে, প্রতি জায়গাতেই আছে। কাজেই এটাতো সবসময় থাকবে। কারণ তারা (আওয়ামী লীগ) জাগো, কাজে নামো ইত্যাদি ইত্যাদি অনেক আহ্বান জানাচ্ছে। কর্মসূচি দিচ্ছে, হরতাল করো, অমুক করো। মানুষ কীভাবে নেবে এটাকে বলেন? এটা কি মিষ্টি মুখে চলে যাবে সব?’

রোজাদারকে মহান আল্লাহ তায়ালা নিজ হাতে পুরস্কার দিবেন! হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী

 

ডেস্ক রিপোর্ট:

রোজাদারকে মহান আল্লাহ তায়ালা নিজ হাতে পুরস্কার দিবেন- হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী। পবিত্র মাহে রমজান অত্যন্ত মর্যাদাশীল ও বরকতপূর্ণ। এ মাস সিয়াম সাধনা ও তাকওয়ার মাস, কল্যাণ ও বরকতের মাস, রহমত, মাগফিরাত এবং জাহান্নামের অগ্নি থেকে মুক্তি লাভের মাস। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন এ মাসটিকে বহু ফজিলত ও মর্যাদা দিয়ে অভিষিক্ত করেছেন। মুসলমানদের জন্য বছরের এ মাসটিই এক দুর্লভ সুযোগ এনে দেয় অশেষ পুণ্য লাভের। তাই এ মাসের গুরুত্ব এত বেশি।

এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘সুতরাং তোমাদের মধ্যে যারা এ মাস পাবে, তারা যেন এ মাসে রোজা পালন করে। (সূরা আল-বাকারাহ : ১৮৫) এ মাসে যারা সঠিকভাবে সিয়াম পালন বা রোজা রাখবেন তাদের মর্যাদাও হবে অনেক। রোজাদারের মর্যাদা সম্পর্কে মহান আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেছেন, মানুষ যত প্রকার নেক কাজ করে আমি তার সওয়াব ১০ গুণ থেকে ৭০০ গুণ বৃদ্ধি করে দিই। কিন্তু রোজা এই নিয়মের বাইরে। রোজার সওয়াব একই নিয়মে সীমাবদ্ধ বা সীমিত নয়। রোজার সওয়াবের পুরস্কার স্বয়ং আমি প্রদান করব।

অথবা আমি নিজেই রোজার সওয়াবের পুরস্কার। রমজানের রোজার সওয়াব সম্পর্কে আল্লাহ তায়লা নিজেই এরশাদ করেন- ‘নিশ্চয় রোজা আমার জন্য, আর এর প্রতিদান স্বয়ং আমিই দিব। –(সহিহ বোখারি ও মুসলিম)। পবিত্র রমজানে এবাদতের ফজিলতের কোনো শেষ নেই। এ প্রসঙ্গে হাদিস শরিফে উল্লেখ হয়েছে, যে ব্যক্তি এ মাসে কোনো নফল কাজ করল সে যেন অন্য মাসে একটি ফরজই আদায় করল। আর যে এ মাসে কোনো ফরজ আদায় করল সে যেন অন্য মাসে ৭০টি ফরজ আদায় করল।

আর রোজাদারের মর্যাদা সম্পর্কে রাসূল (সা,) এরশাদ করেছেন, রোজাদারের নিদ্রা ইবাদতের সমতুল্য, তার চুপ থাকা তসবিহ পাঠের সমতুল্য, সে সামান্য ইবাদতে অন্য সময় অপেক্ষা অধিকতর সওয়াবের অধিকারী হয়। ঈমান ও এহতেসাবের সঙ্গে যে ব্যক্তি রোজা রাখে তার অতীতের সব গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়।’ এ কারণেই বলা হয়, পবিত্র রমজান মাস হচ্ছে ইবাদত, পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, জিকির, শোকর ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক বিশেষ মৌসুম। মানব জাতির মুক্তির সনদ পবিত্র কোরআন মজিদ একত্রে লাওহে মাহফূয থেকে প্রথম আসমানে বাইতুল ইজ্জতে অবতীর্ণ হয় এ মাসেই। রাসূল (সা.)-এর নিকট সর্বপ্রথম এ মাসেই ওহি অবতীর্ণ হয়।

এ প্রসঙ্গে কোরআন মজিদে আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন- ‘রমজান মাসই হল সে মাস যাতে নাজিল করা হয়েছে কোরআন, যা মানুষের জন্য হেদায়াত এবং সত্য পথযাত্রীদের জন্য সুস্পষ্ট পথনির্দেশ। -(সূরা বাকারা, ১৮৫) পবিত্র রমজান মাসে রহমতের দরজা উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। হাদিসে আছে- ‘রমজন মাস শুরু হলেই রহমতের দরজা খুলে দেওয়া হয়।’ –(সহীহ মুসলিম)। অন্য এক হাদীসে এ মাসের ফজিলত সম্পর্কে বলা হয়েছে- ‘রমজন মাসের শুভাগমন উপলক্ষে জান্নাতের দরজাসমুহ উন্মুক্ত এবং জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। আর শয়তানকে করা হয় শৃংখলাবদ্ধ।’ (-বোখারি ও মুসলিম)।

হাদিস শরিফে এসেছে- ‘আল্লাহ তাআলা প্রত্যহ ইফতারের সময় অসংখ্য ব্যক্তিকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়ে থাকেন।’ -(মুসনাদে আহমদ) এ মাসে বেশি বেশি ইবাদত ও ইস্তেগফারের মাধ্যমে মুক্তির পরওয়ানা লাভ করার সুবর্ণ সুযোগ রয়েছে। কেননা এটি জাহান্নাম থেকে নাজাত লাভের মাস। সুতরাং এ মাসে মুমিনের কর্তব্য বেশি বেশি ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার নৈকট্য অর্জনের চেষ্টা করা এবং তওবা-ইস্তেগফারের মাধ্যমে মুক্তির সনদ লাভে সচেষ্ট হওয়া। তাই এমন মাস পেয়েও যে ব্যক্তি স্বীয় গুনাহ মাফ করাতে পারল না সে খুব হতভাগা।

প্রকৃত পক্ষে রমজান মাসের রোজা, পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, সাহরি, ইফতার, তারাবি নামাজ, সাদাকাতুল ফিতর, জাকাত, দান-খয়রাত প্রভৃতি আল্লাহর অসংখ্য নিয়ামতরাজি, যা রোজাদারদের কুপ্রবৃত্তি দমন ও তাকওয়া বা খোদাভীতিপূর্ণ ইবাদতের মানসিকতা সৃষ্টিতে যথেষ্ট অনুপ্রেরণা জোগায়। মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে প্রকৃত রোজা পালন এবং আমাদের সবাইকে আরো উত্তম আমল করার তাওফিক দান করুন আমিন।

লেখক: বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ লেখক ও কলামিস্ট হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী, সাবেকঃ- ইমাম ও খতিব কদমতলী মাজার জামে মসজিদ সিলেট।