All posts by jitu

কুমিল্লা নগরীর রেইসকোর্সে চাঁদা না পেয়ে বিএনপি নেতাকে কোপাল যুবদল কর্মী

স্টাফ রিপোর্টার।।

কুমিল্লা নগরীর রেইসকোর্স এলাকায় বিশ লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় এক ব্যবসায়ীকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কিশোর গ্যাং লিডার যুবদলের কথিত কর্মী আকিবুর রহমান আকিবসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত ওই ব্যবসায়ী বর্তমানে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় আহতের স্ত্রী কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আহত জামাল হোসেন নগরীর উত্তর রেইসকোর্স এলাকার বাসিন্দা। তার স্ত্রী তাছলিমা আক্তার বৃহস্পতিবার কোতয়ালী মডেল থানায় দায়ের করা অভিযোগে উল্লেখ করেন, প্রায় এক বছর আগে জামাল হোসেন রেইসকোর্সের ধানমন্ডি ৬ নম্বর এলাকায় প্রায় ৮ দশমিক ৭৫ শতক জমি বায়নামূলে ক্রয় করেন। পরবর্তীতে ওই জমির প্রবেশপথে অভিযুক্তরা জোরপূর্বক বাউন্ডারি দেয়াল নির্মাণের চেষ্টা করলে জামাল হোসেন বাধা দেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হলে অভিযুক্তরা জমির মালিকানার কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। বরং তারা দাবি করেন, ওই জমি অন্য কারও কাছে বিক্রি করতে হলে তাদের ২০ লাখ টাকা চাঁদা দিতে হবে। অন্যথায় জামাল হোসেনকে প্রাণে হত্যা করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়।

তাছলিমা আক্তারের দাবি, সম্প্রতি তার স্বামী জমিটি বিক্রির পর ক্রেতাদের দখল বুঝিয়ে দিতে গেলে অভিযুক্তরা আবারও বাধা দেয়। এ সময় তারা চাঁদা দাবি করে এবং তাদের কাছে থাকা দেশীয় অস্ত্র, চাপাতি, চাইনিজ কুড়াল ও একটি পিস্তল প্রদর্শন করে ভয়ভীতি দেখায়। প্রাণনাশের আশঙ্কায় জামাল হোসেন সেখান থেকে চলে আসেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ফজরের নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হন জামাল হোসেন। পথে রেইসকোর্স এলাকার এস কে স্পোর্টসের সামনে থেকে অভিযুক্তরা তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে বায়তুল আমান ও তোফায়েল হোসেনের বাসার সামনের একটি খালি স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে পূর্বপরিকল্পিতভাবে সংঘবদ্ধ হামলা চালানো হয়।

অভিযোগে বলা হয়েছে, হামলার নেতৃত্বে থাকা আকিবুর রহমান আকিব প্রথমে ধারালো দা দিয়ে জামাল হোসেনের মাথায় কোপ দেন। পরে তার কাছে থাকা পিস্তল দিয়ে একটি গুলিও ছোড়েন। তবে গুলিটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় জামাল হোসেন প্রাণে বেঁচে যান।

স্থানীয় লোকজন ও স্বজনরা আহতের চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে দ্রুত কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ বিষয়ে কোতয়ালী মডেল থানার ওসি মো. তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, তারা অভিযোগ পেয়েছেন৷ বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এই হামলার অভিযোগে উল্লেখিত ১৩ জনের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীর পরিবার।

চৌদ্দগ্রামে দুই বাসের সংঘর্ষে সুপারভাইজার নিহত

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দুটি যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষে মো. আলমগীর হোসেন (৫০) নামে এক বাস সুপারভাইজার নিহত হয়েছেন।

শুক্রবার ভোর আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার হাঁড়ি সর্দার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

মিয়াবাজার হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: রুহুল আমিন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নিহত আলমগীর হোসেন পাবনা জেলার আমিনপুর থানার রাজা নারায়নপুর গ্রামের মৃত আবদুল করিম মৃধার ছেলে। তিনি শ্যামলী এন.আর ট্রাভেলস পরিবহনের সুপারভাইজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

মিয়াবাজার হাইওয়ে থানা সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী শ্যামলী এন.আর ট্রাভেলসের একটি যাত্রীবাহী বাস মহাসড়কের হাঁড়ি সর্দার এলাকায় পৌঁছালে সামনে থাকা সেন্টমার্টিন সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস হঠাৎ কোনো ধরনের সিগন্যাল বা সংকেত ব্যবহার না করে মহাসড়কের বাম পাশে থামানোর চেষ্টা করে।

এ সময় পেছনে থাকা শ্যামলী বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সামনের বাসটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। ফলে উভয় গাড়ির ক্ষতিসাধন হয়। সংঘর্ষে শ্যামলী বাসের সুপারভাইজার আলমগীর হোসেন গুরুতর আহত হন। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মিয়াবাজার হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: রুহুল আমিন জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সামনের বাসটি কোনো ধরনের সংকেত ছাড়াই হঠাৎ সড়কের পাশে থামানোর চেষ্টা করায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন। ঘটনার পর উভয় বাসের চালক পালিয়ে গেছেন। দুর্ঘটনাকবলিত বাস দুটি জব্দ করা হয়েছে এবং পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

বরুড়ায় অভিযানের পর দুই হোটেলে পানির ফিল্টার স্থাপন

এমডি. আজিজুর রহমান, বরুড়া:

কুমিল্লার বরুড়ায় ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে দুইটি হোটেলে বিশুদ্ধ পানির ফিল্টার স্থাপন করা হয়েছে। এর ফলে এখন ভোক্তারা নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানি পান করতে পারবেন।

হোটেল দুটি হলো সাবেক সুপার স্টার হোটেল ও সৌদিয়া হোটেল।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সরেজমিনে গিয়ে পানির ফিল্টার স্থাপনের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। জানা যায়, ধারাবাহিক অভিযান ও তদারকির অংশ হিসেবে বরুড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আহসান হাফিজ এ কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

উল্লেখ্য, এর আগে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ ও ভোক্তা সেবার মান নিশ্চিত করতে এ দুই প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়েছিল। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিষ্ঠান দুটি বিশুদ্ধ পানির ফিল্টার স্থাপন করে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ উদ্যোগের মাধ্যমে ভোক্তারা আরও নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত সেবা পাবেন।

জলাবদ্ধতা নিরসনে বরুড়ায় চান্দিনা রোডের ড্রেন পরিষ্কার কার্যক্রম

এমডি. আজিজুর রহমান, বরুড়া:

কুমিল্লার বরুড়া পৌরসভায় পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে চান্দিনা রোডের পশ্চিম পাশের ড্রেন পরিষ্কার কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। এছাড়া দুর্ঘটনা এরাতে লাল কাপড় দিয়ে ড্রেনের খোলা স্থানটিতে চিহ্নিত করে দেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাতে বরুড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও বরুড়া পৌরসভার প্রশাসক আসাদুজ্জামান রনির নির্দেশনায় এ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

জানা যায়, বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা ও পানি নিষ্কাশনে প্রতিবন্ধকতা দূর করতে চান্দিনা রোড এলাকার পশ্চিম পাশের ড্রেন পরিষ্কার করা হয়। এ কার্যক্রমের মাধ্যমে ড্রেনের ময়লা-আবর্জনা অপসারণ করে পানি চলাচল স্বাভাবিক রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ সময় বরুড়া পৌরসভার পক্ষ থেকে বরুড়া বাজারের ব্যবসায়ীদের রাস্তায় এলোমেলোভাবে ময়লা-আবর্জনা না ফেলার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর পরিবেশ বজায় রাখতে সকলের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।

পৌর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জনস্বার্থে এ ধরনের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

কুমিল্লায় পুকুরের পানিতে ডুবে ১৮ মাস বয়সী শিশুর মৃত্যু

এমডি. আজিজুর রহমান, বরুড়া:

কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার মস্কিপুর গ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে ওয়াজিব নামের ১৮ মাস বয়সী এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ওয়াজিব উপজেলার মস্কিপুর গ্রামের মোঃ ইসমাইল হোসেনের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পরিবারের সকলের অজান্তে বাড়ির পাশের পুকুরে পড়ে যায় শিশু ওয়াজিব। কিছুক্ষণ পর পরিবারের সদস্যরা তাকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে স্থানীয়রা পুকুর থেকে তাকে উদ্ধার করে দ্রুত বরুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন। শিশুর আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বরুড়ায় দুই মাদকসেবীকে ৩ দিনের কারাদণ্ড দিলেন ভ্রাম্যমাণ আদালত

এমডি. আজিজুর রহমান, বরুড়া:

কুমিল্লার বরুড়া উপজেলায় দুই মাদকসেবীকে তিন দিনের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) উপজেলার তলাগ্রাম এলাকায় অভিযান চালিয়ে শ্রীকান্ত পাল ও আকাশ পালকে আটক করা হয়। তারা উভয়েই তলাগ্রামের বাসিন্দা।

জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে তাদের আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হলে মাদক সেবনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় উভয়কে ৩ (তিন) দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন বরুড়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আহসান হাফিজ।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মাদক নির্মূলে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং সমাজে মাদকের বিস্তার রোধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে।

বরুড়ায় মাদক মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেফতার

এমডি. আজিজুর রহমান, বরুড়া:

কুমিল্লার বরুড়া উপজেলায় একাধিক মাদক মামলার সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মোহাম্মদ আলীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বরুড়া থানার অফিসার ইনচার্জ কাজী নাজমুল হকের নির্দেশনায় এসআই (নিঃ) মোঃ এনামুল হক সঙ্গীয় ফোর্সসহ অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেফতার করেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত মোহাম্মদ আলী (পিতা: জাহাঙ্গীর হোসেন), বরুড়া উপজেলার তলাগ্রাম এলাকার বাসিন্দা। তিনি একাধিক মাদক মামলার আসামি ছিলেন। জিআর সাজা-১২৬/১৯ মামলায় আদালত তাকে ০২ (দুই) বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ০২ (দুই) মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।

বরুড়া থানার অফিসার ইনচার্জ কাজী নাজমুল হক বলেন, “আইনের আওতায় সকল সাজাপ্রাপ্ত ও পলাতক আসামিকে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অপরাধ দমনে বরুড়া থানা পুলিশ সবসময় তৎপর রয়েছে।”

গ্রেফতারের পর বৃহস্পতিবার তাকে আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বরুড়ায় কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী ফসলুক ওরফে রাজা গ্রেফতার

এমডি. আজিজুর রহমান, বরুড়া:

কুমিল্লার বরুড়া উপজেলায় কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী ফসলুক ওরফে রাজাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বুধবার (১৭ জুন) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার শিলমুড়ী এলাকা থেকে তাকে মাদকদ্রব্যসহ আটক করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ফসলুক ওরফে রাজা এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে তাকে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে।

বরুড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী নাজমুল হক বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ১৮ জুন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রুজু করে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। সমাজ থেকে মাদক নির্মূলে পুলিশের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে।”

চৌদ্দগ্রামে নবগ্রাম যুবসমাজের মাদকবিরোধী জনসচেতনতামূলক আলোচনা সভা

চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি :

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে নবগ্রাম সচেতন যুবসমাজ, প্রবাসী ও এলাকাবাসীর উদ্যোগে মাদকবিরোধী জনসচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহাদাৎ হোসেন।

সাবেক ইউপি সদস্য ইউনুস আলীর সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন চৌদ্দগ্রাম মাধ্যমিক পাইলট বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জামাল হোসেন, চৌদ্দগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম ফরায়েজী, সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসাইন, চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার উপ-পরিদর্শক বিবেক দেবনাথ, নবগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রৌশন আরা বেগম পুতুল।

ব্যবসায়ী হেলাল উদ্দিন ও স্বেচ্ছাসেবী শাকিল হোসেনের যৌথ সঞ্চালনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন গণ্যমান্য ব্যক্তিদের পক্ষে মোঃ মাসুম, নবগ্রাম প্রবাসী কল্যান সংস্থার সভাপতি সোহেল মজুমদার, কুয়েত প্রবাসী মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া, আবুল হাসেম, রিয়াজ হোসেন।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আবুল কাশেম, ওয়ার্ড বিএনপির সেক্রেটারী আবুল খায়ের, মানবাধিকার বাস্তবায়ন ফাউন্ডেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক জহিরুল ইসলামসহ গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

সভায় বক্তারা বলেন, মাদক প্রতিরোধে প্রত্যেকে পর্যায়ক্রমে নিজ ঘর, পরিবার, বাড়ি ও গ্রামে সোচ্চার ভুমিকা পালন করতে হবে। আরও সক্রিয় ভুমিকা পালন করতে হবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে। সর্বোপরি সন্তানদের ধর্মীয় অনুশাসন মানতে চেষ্টা করতে হবে। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় মাদক নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে।

উল্লেখ্য, গত কয়েক মাস যাবৎ পৌর এলাকার নবগ্রাম যুবসমাজ, প্রবাসী ও এলাকার সচেতন মানুষদের উদ্যোগে মাদকবিরোধী কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বেশ কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীকে আটকের পর ভালো হয়ে যাওয়ার সুযোগ দেয়া হয়েছে। এতে করে আগের চেয়ে মাদক কমেছে নবগ্রামে। তবে কিছু স্বার্থান্বেষী মহল যুবসাজের মাদকবিরোধী কর্মকান্ডের বিরোধীতা করায় জনসচেতনতামূলক সভার আয়োজন করা হয়।

‘রুকু থেকেই না ফেরার দেশে’, মুরাদনগরে মসজিদে মুসল্লির মৃত্যু

মাহবুব আলম আরিফ, মুরাদনগর:

কুমিল্লার মুরাদনগরে মসজিদে নামাজরত অবস্থায় মোঃ গিয়াস উদ্দিন সরকার (৬৫) নামে এক মুসল্লির মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার সদর ইউনিয়নের ধনীরামপুর বাজার মসজিদে এশার নামাজ আদায়ের সময় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত গিয়াস উদ্দিন সরকার ধনীরামপুর গ্রামের সরকার বাড়ির মৃত মনু মিয়ার ছেলে। তিনি পেশায় জমির পরিমাপক (আমিন) হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং এলাকায় একজন সজ্জন ও ধর্মপ্রাণ মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার রাতেও তিনি এশার নামাজ আদায়ের জন্য ধনীরামপুর বাজার মসজিদে যান। এশার ফরজ নামাজ শেষে বেতর নামাজ আদায়ের সময় তিনি দ্বিতীয় রাকাতের রুকুতে যান। সেখান থেকেই সামনের দিকে ঝুঁকে পরে যায়। বিষয়টি খেয়াল করে অন্য মুসল্লিরা এগিয়ে গিয়ে দেখেন তিনি অচেতন অবস্থায় পড়ে আছেন।

পরে স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

গিয়াস উদ্দিন সরকারের আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে, এক মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল ১০টায় ধনীরামপুর খেলার মাঠে তার জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। পরে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।

  • এদিকে, মসজিদে নামাজরত অবস্থায় তার মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়। অনেকেই তার জন্য মহান আল্লাহর কাছে মাগফিরাত কামনা করেছেন।