All posts by jitu

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে মাদক নিয়ে সংঘর্ষে আহত যুবকের মৃত্যু

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে মাদক নিয়ে সংঘর্ষে আহত যুবকের মৃত্যু

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে মাদকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের জের ধরে আহত হওয়া যুবক বশির উদ্দিন (৪৫) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এ ঘটনায় বিক্ষুদ্ধরা অভিযুক্ত আবু রশিদ এর দুইটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে বাড়ি দু’টি জ্বালিয়ে দেয়।

নিহত বশির চৌদ্দগ্রাম পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের বৈদ্দেরখিল গ্রামের মৃত জয়নাল আবেদীন এর ছেলে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে পুলিশের ৬ সদস্য আহত হয়েছে। তথ্যটি মঙ্গলবার দুপুরে নিশ্চিত করেছেন চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আরিফ হোছাইন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ এপ্রিল রাতে পৌর এলাকার বৈদ্দেরখিল গ্রামে মাদক সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে স্থানীয় আব্দুল বারেকের ছেলে আবু রশিদ ও একই এলাকার মানিক মিয়ার ছেলে নাদির এর সাথে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এই সময় নাদির এর পক্ষের লোকজন আবু রশিদকে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। খবর পেয়ে আবু রশিদ এর দুই ছেলে আসিফ ও পারভেজ দলবল নিয়ে এসে নাদির এর পক্ষের লোকজনের উপর পাল্টা হামলা করে। হামলায় বশির গুরুতর আহত হয়। এ সময় হামলকারীরা বশির এর মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় বশির ও আবু রশিদকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের অবস্থার অবনতি ঘটলে তাদের দুইজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করা হয়। দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে সোমবার (২৭ এপ্রিল) দিবাগত রাতে বশির ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। বশির এর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ভোর রাতে বিক্ষুব্ধরা আবু রশিদ এর দুইটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। এতে তাদের দুইটি বসতঘর পুড়ে যায়। সংবাদ পেয়ে চৌদ্দগ্রাম ফায়ার সার্ভিস এর দুইটি ইউনিট এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

চৌদ্দগ্রাম থানা সূত্রে জানা যায়, গত ২১ শে এপ্রিল রাতে বৈদ্দেরখিল গ্রামে দুই পক্ষের সংঘর্ষে বশির উদ্দিন ও আবু রশিদ আহত হওয়ার ঘটনায় উভয় পরিবার থানায় দুইটি পৃথক মামলা দায়ের করে। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে বশির এর মৃত্যুর সংবাদ এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনার সংবাদ পেয়ে থানা পুলিশের একাধিক টিম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে ঘটনাস্থলে যায়। এই সময় বিক্ষুব্ধ জনতা আবু রশিদ এর দুইটি বাড়ীতে আগুন লাগিয়ে দেয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে এগিয়ে গেলে বিক্ষুব্ধরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে অন্তত ৬ পুলিশ সদস্য আহত হয়। তাদেরকে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা প্রদান করা হয়।

নিহত বশির এর চাচাতো ভাই মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, বশির পেশায় নির্মাণ শ্রমিক। ২১ শে এপ্রিল সংঘর্ষের সংবাদ শুনে তিনি উভয়পক্ষকে শান্ত করার জন্য ঘটনাস্থলে যান। কিন্তু আবু রশিদ এর পক্ষের লোকজন তাকে এলোপাতাড়িভাবে কোপানো ও শক্ত বস্তু দিয়ে মাথায় আঘাত করার কারণে তার অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে। ঢাকায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে বশির এর মাথায় জটিল অপারেশন করা হয়। দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে বশির সেখানে মৃত্যুবরণ করেন। বশির ৩ সন্তানের জনক।

৭নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর সাইফুল ইসলাম শাহীন বলেন, মাদকের ক্রয়-বিক্রয়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ২১ এপ্রিল রাতে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ৭নং ওয়ার্ডটি ভারতের সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়াতে বেশ কয়েকটি সিন্ডিকেট এই এলাকাটি ব্যবহার করে মাদক কেনাবেচা সহ সরবরাহ করে আসছে। নাদির ও আবু রশিদ এর পরিবার মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত। নিহত বশিরকে মাদক ব্যবসায়ীদের বলি হতে হয়েছে।

চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আরিফ হোছাইন বলেন, ২১ এপ্রিল বৈদ্দেরখিল এলাকায় ২ পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় ২ পরিবারই থানায় পৃথক ২টি মামলা করে। বিভিন্ন মাধ্যমে শুনেছি ওই ঘটনায় আহত হওয়ায় বশির নামের এক ব্যক্তি চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর খবরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধরা আবু রশিদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। সংবাদ পেয়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে গেলে বিক্ষুব্ধরা পুলিশের উপর ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে অন্তত ৬ পুলিশ সদস্য আহত হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কচুয়ায় ত্রিমুখী সংঘর্ষে কুমিল্লার ছেলে নিহত

ডেস্ক রিপোর্ট:

চাঁদপুরের কচুয়া-হাজীগঞ্জ-গৌরিপুর আঞ্চলিক সড়কে মাইক্রোবাস ও পিকআপের চাপায় ইব্রাহিম হোসেন সাগর (২৭) নামের এক মোটরসাইকেল চালক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় শাহাদাত হোসেন (২৯) নামের অপর একজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

আজ মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে কচুয়া উপজেলার ডুমুরিয়া এলাকার ব্রিজসংলগ্ন স্থানে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত ইব্রাহিম হোসেন সাগর কুমিল্লা জেলার কোতোয়ালি থানার শাসনগাছা (আড়াইউরা) গ্রামের সফিকুল ইসলামের ছেলে।

এ ছাড়া তার নানার বাড়ি কচুয়া পৌরসভার কড়ইয়া গাজী বাড়ির আব্দুল খলিলের পরিবারে। আহত শাহাদাত হোসেন কচুয়া উপজেলার করইশ গ্রামের কালা গাজী প্রধানীয়া বাড়ির মিজানুর রহমানের ছেলে। বর্তমানে তিনি কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্র জানান, হাজীগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা একটি মাইক্রোবাস ও একটি পিকআপ বেপরোয়া গতিতে কচুয়ার দিকে আসছিল।

ডুমুরিয়া এলাকায় ব্রিজ সংলগ্ন স্থানে এসে গাড়ি দুটি একে অপরকে ওভারটেক করার চেষ্টা করলে বিপরীত দিক থেকে আসা মোটরসাইকেলটিকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই মোটরসাইকেল চালক ইব্রাহিম হোসেন সাগরের মৃত্যু হয়।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা আহত শাহাদাতকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠান। খবর পেয়ে কচুয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে।

জানা যায়, সাগর তার মামার ‘সুরমা’ গাড়িতে সুপারভাইজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজিজুল ইসলাম জানান, ‘পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ঘাতক মাইক্রোবাস ও পিকআপ জব্দ করেছে। মরদেহ থানায় আনা হয়েছে এবং এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’

মেঘনায় ইয়াবাসহ ২ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার মেঘনা উপজেলায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদকদ্রব্য ও একটি সিসি ক্যামেরাসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আরেকজন পালিয়ে যায়। সোমবার বিকেলে মানিকারচর ইউনিয়নের শিখিরগাঁও এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তাররা হলেন রতনপুর গ্রামের শাহ আলমের ছেলে আরিফ হোসেন (৩৪) এবং শিখিরগাঁও গ্রামের সুন্দর আলীর মেয়ে রিনা আক্তার, (৪০)

পুলিশ জানায়, সোমবার সড়কের ওপর মাদক কেনা-বেচা চলছে- এমন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানকালে তল্লাশি করে আরিফ হোসেনের সাদা পলিথিনে মোড়ানো ৮ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। পরে নারী এসআই জেসমিন আক্তার ও উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে একটি সিসি ক্যামেরাসহ ইয়াবাগুলো জব্দ করা হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করলে দুজনকে গ্রেপ্তার করে এবং মোহাম্মদ আলী (৩৪) একজন পালিয়ে যান।

এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর অধীনে এসআই আলী হোসেন বাদী হয়ে মেঘনা থানায় একটি মামলা করেছেন।

মেঘনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শহীদুল ইসলাম জানান, অপরাধীদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে, মাদক, জুয়া ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অপরাধীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

মুরাদনগরে গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

মুরাদনগরে গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার মুরাদনগরে বিশেষ অভিযান চালিয়ে গাঁজা ও নগদ টাকাসহ দুই মাদক কারবারীতে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

আজ মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকালে উপজেলার পান্তি গ্রাম থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তাররা হলেন ওই এলাকার মৃত আব্দুল মালেকের স্ত্রী শাহিদা আক্তার (৪২) ও মৃত শাহ জালালের ছেলে মো. রাশেদ (৩৫)।

পুলিশ জানিয়েছে, ওসির নির্দেশনায় মুরাদনগর থানার এসআই মো. মহিন উদ্দিন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পান্তি গ্রামে অভিযান চালিয়ে মাদক কারবারী সাহিদা আক্তার ও রাশেদকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৮০০ গ্রাম গাঁজা এবং মাদক বিক্রির নগদ ৫৯ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন চৌধুরী জানায়, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে আদালতের মাধ্যমে কুমিল্লা জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ চলছে। মুরাদনগরকে অপরাধমুক্ত করতে আমাদের অভিযান আরও জোরদার করা হবে। পাশাপাশি অপরাধ দমনে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

কুমিল্লায় বৃষ্টির পানিতে ডুবেছে রাস্তা, দুর্ভোগ নিয়েই চলাচল স্থানীয়দের

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লা জেলা শহরের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলো বৃষ্টিতে ডুবে গেছে। এই দুর্ভোগ নিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে স্থানীয়দের। আজ মঙ্গলবার শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।

কুমিল্লা শহরের রেসকোর্স এলাকার প্রধান সড়কে, জেলা জজ আদালতের সামনের রাস্তায়, ঝাউতলা সড়কে ও টমছমব্রিজ এলাকার নিউ হোস্টেল সংলগ্ন রাস্তা সামান্য বৃষ্টিতেই ডুবে গেছে।

জলমগ্ন সড়কে চরম দুর্ভোগ সয়েই গন্তব্যে ছুটতে দেখা যায় অফিসগামী যাত্রী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ পথচারীদের।

জেলা আবহাওয়া কর্মকর্তা মো. আরিফুল ইসলাম জানায়, আজ দুপুর ১২টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টায় কুমিল্লায় ১০২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে।

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু জানান, বৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা নিরসনে আমরা ওয়ার্ডভিত্তিক লেবার নিয়োজিত করেছি। যেখানে যেখানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে সেখানে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

দাউদকান্দিতে মসজিদের কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্বে সংঘর্ষ, আহত ৪

জাকির হোসেন হাজারী, দাউদকান্দি:

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে মসজিদ কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্বে দুপক্ষের সংঘর্ষে নারীসহ ৪ জন আহত হয়েছেন। সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিকাল তিনটায় উপজেলার পশ্চিম হুগুলিয়া গ্রামে এঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হুগুলিয়া গ্রামের হাজী জৈয়নুদ্দিন ওয়াকফ এস্টেটের মারকাজ মসজিদ ও মক্তবের কমিটি নিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ বিরোধ চলছিল দুই পক্ষের মধ্যে। দুই পক্ষের দ্বন্ধে একমাস যাবৎ মসজিদ তালাবদ্ধ। কয়েকদিন আগে হুগুলিয়া গ্রামের লোকজন মোতয়াল্লী শাখাওয়াত ও মোস্তফার হাত থেকে মসজিদ রক্ষার দাবীতে মানববন্ধন করেছেন। আজ সোমবার শাখাওয়াত ও মোস্তফা তাদের লোকজন নিয়ে মসজিদের দখল নিতে গেলে গ্রামবাসীর সাথে মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে হুগুলিয়া গ্রামের হাসান আহমেদ, মুজিবুর রহমান, মিজানুর রহমান ও সেলিনা আক্তার নামে এক নারী আহত হয়েছেন।

হুগুলিয়া গ্রামের মনির হোসেন, হুমায়ুন কবির ও খলিল মিয়া জানান, একশো বছর আগে আমাদের গ্রামের হাজী জৈয়নুদ্দিন তার নিজের নামে ওয়াকফ এস্টেট, মসজিদ এবং মাদ্রাসার জন্য ১২ কানি(তিন একর) জমি দান করে গেছেন। দানকৃত দলিলে উল্লেখ করা আছে সমাজের ১২ জন মাতব্বর এবং তাদের মধ্যে একজন পরহেজগার আলেমকে মোতাওয়াল্লি করে কমিটি হবে। সেই মতে গ্রামের মুফতি ফজলুল হক আমিনীকে মোতাওয়াল্লি করা হয়েছিল। ২০১২ সালে তিনি মারা যান।

এরপর উনার মেয়ের জামাই শাখাওয়াত পরিচালনা শুরু করেন। কিছু দিন আগে গ্রামবাসীকে না জানিয়ে অন্য উপজেলার লোকজনসহ শাখাওয়াত নিজেকে মোতয়াল্লী করে কুমিল্লায় কমিটি জমা দেয়। গ্রামবাসী একমিটি বাতিলের দাবীতে বিক্ষোভ সমাবেশও করেছে। শাখাওয়াত অন্য উপজেলার, সে আমাদের গ্রামের জামাই, আজ বহিরাগত লোক নিয়ে মসজিদ দখল করতে আসলে গ্রামবাসী বাধা দিলে আমাদের হামলা চালায়।

এবিষয়ে মুঠোফোনে মুফতি শাখাওয়াত হোসেন বলেন, আমি সকাল থেকেই ঢাকায় আছি। মসজিদের কমিটি নিয়ে মারামারির ঘটনার কিছুই জানি না। আর ওয়াকফ এস্টেটের কমিটি গোপনে করার কোন সুযোগ নেই। মুলতঃ মারকাজ মসজিদটি তাবলীগ জামাতের দুই গ্রুপের পুর্বের দ্বন্দ্বের ধারাবাহিকতায় আজ গ্রামবাসীর মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছে। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক।

দাউদকান্দি মডেল থানার ওসি আব্দুল বারি বলেন, মারকাজ মসজিদ নিয়ে দ্বন্দ্বে আজ দুইপক্ষের লোকজন উত্তেজিত অবস্থানে ছিল। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছি। আর তাদের দ্বন্দে মারকাজ মসজিদটি একমাস যাবৎ বন্ধ। যা শুনেছি দীর্ঘদিন দুইপক্ষের দ্বন্দ্ব চলছে।

গুণগত মানের শিক্ষা নিশ্চিত করতে কাজ করছে সরকার: শিক্ষামন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক:

গুণগত মানের শিক্ষা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে সরকার। জানালেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। শিক্ষামন্ত্রীর সাথে তুরস্ক ও মালয়েশিয়ার প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎকালে মন্ত্রী বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার গুনগত মান উন্নয়নের লক্ষ্যে ব্যাপক কর্মসূচী গ্রহন করা হয়েছে বলে জানান।

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সাথে তুরস্কের রাষ্ট্রদূত রমিস সেন এবং মালয়েশিয়ার হাই কমিশনার মোহাম্মদ সুহাদা ওথমেন সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

আজ ২৭ এপ্রিল মন্ত্রণালয়ের অফিস কক্ষে বৈঠক দুটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে তুরস্ক ও মালয়েশিয়ার সাথে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠককালে তুরস্কের রাষ্ট্রদূত দু’দেশের দীর্ঘ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে বলেন, বাংলাদেশের সাথে তুরস্কের শিক্ষা, ব্যবসা সহ বিভিন্ন বিষয়ে অত্যন্ত দৃঢ় সম্পর্ক রয়েছে। এই সম্পর্কের ক্ষেত্র আরো বিস্তৃত করার সুযোগ রয়েছে। তুরস্ক দুই দেশের বিদ্যমান ব্যবসার প্রসার এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সম্পর্ক আরো সম্প্রসারণ করতে ইচ্ছুক।

এ সময় শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী জানান, সরকার গুণগত মানের শিক্ষা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে উক্ত দেশ গুলোর সমন্বিত কার্যক্রম এগিয়ে গেলে শিক্ষার মান আরও বৃদ্ধি পাবে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশ,তুরস্ক ও মালয়েশিয়ার মধ্যে সম্পর্ক ও সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

আজ মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার মোহাম্মদ সুহাদা ওথমেন এর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দলের সাথে মন্ত্রীর দ্বিতীয় সৌজন্য বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা হয়।

সাক্ষাৎকালে মন্ত্রী বলেন, শিক্ষার উন্নয়নে মালয়েশিয়া সারাবিশ্বে ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জন করেছে। তাদের এই অভিজ্ঞতা বাংলাদেশেও কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে।

মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার দুই দেশের সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

দেবিদ্বারে বৈষম্যবিরোধীর লোক দাবি করে কলেজে হামলা

দেবিদ্বার প্রতিনিধি:

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নাম ব্যবহার করে কুমিল্লার দেবিদ্বারের দি রয়েল ইন্টারন্যাশনাল কলেজে মব সৃষ্টি করে শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টায় কলেজ ক্যাম্পাসে এ ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন।

জানা গেছে, কলেজটির প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ তোফায়েল আহমেদ সরকারকে ‘স্বৈরাচারের দোসর’ আখ্যা দিয়ে দীর্ঘদিন কলেজের বাইরে রাখা হয়েছিল। দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে তিনি প্রায় ১০-১২ দিন আগে কলেজে ফিরে আসেন।

সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় তোফায়েলকে মব সৃষ্টি করে কলেজ থেকে বের করে দেওয়ার উদ্দেশ্যে অন্তত ৫০ জন বহিরাগত কলেজে প্রবেশ করে। বিষয়টি আঁচ করতে পেরে এলাকাবাসী ও কলেজের শিক্ষার্থীরা তাদের প্রতিহত করে। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

কলেজ সূত্র জানায়, কলেজের সাবেক সভাপতি শরিফুল আমিন, কমিটির সদস্য আবু সেলিম ভূঁইয়া, নাজমুল হাসান সরকার এবং জামায়াতে নেতা রুহুল আমিন খান, খন্ডকালীন শিক্ষক আব্দুল হালিমসহ আরো কয়েকজন কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ তোফায়েল আহমেদ সরকারকে কলেজ থেকে বের করে দিতে মব সৃষ্টি করার চেষ্টা করেন। তবে বিষয়টি এলাকাবাসী প্রতিহত করে। কুমিল্লা উত্তর জেলায় এই কলেজটি একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের কর্মকাণ্ডের কারণে প্রতিষ্ঠানটি আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে বলে অভিযোগ উঠেছে।

কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী মাজহারুল ইসলাম ও হাফসা আক্তার বলেন, ‘ভালো কলেজ জেনেই এখানে পড়াশোনা করতে এসেছি। কিন্তু এখন শিক্ষকদের দ্বন্দ্বে আমাদের পড়ালেখা ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। অধ্যক্ষ তোফায়েল স্যার যখন কলেজে প্রথম অধ্যক্ষ ছিল তখন অনেক সুনাম ছিল। আমরা তোফায়েল স্যারকেই কলেজে চাই।’

স্থানীয় কবির সরকার ও লিমন মিয়া বলেন, ‘এটি একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। কেউ যদি ভুল করে, বিষয়টি প্রশাসন দেখবে। এখানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের লোকজনের প্রয়োজন কি? তারা পুলিশের কাছে অভিযোগ করতে পারে, পুলিশই বিষয়টি দেখবে। অধ্যক্ষ তোফায়েল যদি স্বৈরাচারের দোসর হয়ে থাকে সেটিও প্রশাসনই দেখবে। এখানে বহিরাগতদের উপস্থিতি গুন্ডামি ছাড়া অন্য কিছু কি?’

দি রয়্যাল ইন্টারন্যাশনাল কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ তোফায়েল আহমেদ সরকার বলেন, ‘তারা আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে কলেজে হামলা চালিয়েছে। এতে আমার শিক্ষার্থীরা আতঙ্কিত। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর আমি কলেজে ফিরেছি। এটি আমার প্রতিষ্ঠিত কলেজ। আমি কেন এখান থেকে বের হব? যারা এসব কাজ করছে, তারা কলেজটিকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। আমাদের কলেজে আবার সুনাম ফিরে আসবে, ইনশাআল্লাহ।’

দেবিদ্বার থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। সেখানে গিয়ে আমরা কিছুই পাইনি। তবে দুপক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়েছে শুনেছি। এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোন লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিব।

চৌদ্দগ্রামে অস্ত্রহাতে দাড়িয়ে ট্রাক্টর দিয়ে শত বছরের পুরনো রাস্তা কেটে বিলীন!

চৌদ্দগ্রামে অস্ত্রহাতে দাড়িয়ে ট্রাক্টর দিয়ে শত বছরের পুরনো রাস্তা কেটে বিলীন!

চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি:

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে অস্ত্রহাতে দাড়িয়ে চাষাবাদের ট্রাক্টর দিয়ে শত বছরের পুরনো সরকারী রাস্তা বিলীন করেছে স্থানীয় একটি ভূমিদস্যু চক্র। এতে করে অন্তত ৫-৬টি পরিবারের চলাচল, পাশ্ববর্তী মসজিদে যাতায়াতের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। চক্রের সদস্যরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দাড়িয়ে থাকায় স্থানীয় ভুক্তভোগী মানুষ বাঁধা প্রদানের সুযোগ পায়নি।

গত বৃহস্পতিবার (২৩শে এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার জগন্নাথদিঘী ইউনিয়নের সাতঘড়িয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

এদিকে প্রকাশ্য দিবালোকে সাতঘরিয়া গ্রামের মফিজুর রহমানের নাতি ও লোকমানের ছেলে রিফাতের অস্ত্র হাতে দাড়িয়ে রাস্তা কেটে ফেলায় একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে শুক্রবার (২৪শে এপ্রিল) দুপুরে সংবাদকর্মীরা সরেজমিনে গেলে লোকমান গং তাদের উপরও চড়াও হয়।

জানা যায়, জগন্নাথদিঘী ইউনিয়নের সাতঘড়িয়া মৌজার বিএস ১নং খাস খতিয়ানভুক্ত হাল ৩২৭ দাগের ভূমি সরকারী রাস্তা শ্রেণির ভূমি। উক্ত দাগের ভূমি সিএস এবং আরএস জরিপেও রাস্তা হিসেবে লিপিবদ্ধ ছিল। উক্ত দাগে রাস্তা শ্রেণির ৭৩শতক ভূমির মধ্যে ৭-৮শতক ভূমিতে অন্তত ১০০ বছর ধরে চলাচল রাস্তা দৃশ্যমান। রাস্তাটি দিয়ে সাতঘড়িয়া গ্রামের ৫-৬টি পরিবারের সদস্যরা যাতায়াত করে এবং পাশ^বর্তী মসজিদে নামাজ পড়ে।

বিগত ২০১৫-১৬ সাল থেকে সাতঘড়িয়া গ্রামের মফিজুর রহমানের ছেলেদের নজর পড়ে রাস্তাটির উপর। তারা নানানভাবে রাস্তাটি দখলের চেষ্টা করে। একসময়ে তারা রাস্তাটির জায়গা দখল করে নাল শ্রেণির ভূমির সাথে অন্তর্ভুক্ত করে। দীর্ঘ বছরের পুরনো চলাচল রাস্তা বন্ধ হওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পি আর ৪৬৬/২০২৫নং মামলা দায়ের করেন। মামলার প্রেক্ষিতে উপজেলা ভূমি অফিসে তদন্ত আসলে বিগত ২০২৫ সালের ০২ই জুলাই তৎকালীণ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জাকিয়া সরওয়ার লিমা হাল ৩২৭ দাগের ভূমি সরকারী রাস্তা শ্রেণির ভূমি হিসেবে উল্লেখ করে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেন।
এসময় তিনি সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয় মানুষদের উপস্থিতিতে অদৃশ্য রাস্তাটি আবারও দৃশ্যমান করে আসেন। পিআর মামলার প্রেক্ষিতে এর আগে চৌদ্দগ্রাম থানার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আবুল কালাম  ৩২৭ দাগের ০৬শতক ভূমিতে সরকারী রাস্তাটির অবস্থান মর্মে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন।

ভুক্তভোগী পরিবারের আইয়ুব আলী জানান, রাস্তাটি এর আগেও প্রশাসন ও এসিল্যান্ড এসে উদ্ধার করে আমাদেরকে বুঝিয়ে দেয়। গত বৃহস্পতিবার দুপুর মফিজুর রহমানের ছেলে ও নাতিরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দাড়িয়ে চাষবাদের ট্রাক্টর এনে রাস্তাটি মাড়িয়ে ফেলে। এতে করে রাস্তাটি পাশ^বর্তী নাল জমিনের সাথে আবারও একিভুত হয়ে পড়ে। বর্তমানে আমরা চলাচলের আর কোন রাস্তা নাই।

দখলে অভিযুক্ত মোঃ মোস্তফা জানান, বিগত অন্তত ১০০ বছর পূর্বে বিরোধীয় অংশে রাস্তা ছিল। পরে জনগণের সুবিধার্থে অপর পাশ দিয়ে রাস্তা করা হয়। বিরোধীয় অংশ বহু পূর্ব থেকেই আমাদের দখলে। কিন্তু আইয়ুব গং এককভাবে রাস্তাটির সুবিধাভোগী।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ নুরুল আমিন জানান, জগন্নাথদিঘী ইউনিয়নের সাতঘড়িয়া গ্রামে সরকারী রাস্তা কেটে ফেলার বিষয়টি জানতে পেরেছি। দ্রুততর সময়ে বিষয়টি সরেজমিনে গিয়ে তদন্তের মাধ্যমে সমাধান করা হবে।

চৌদ্দগ্রামে কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি: কয়েকটি ইউনিয়নে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন

চৌদ্দগ্রামে কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি: কয়েকটি ইউনিয়নে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন

‎‎চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি:

‎কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে দুই দফা কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছে ঘরবাড়ি, ফসলি জমিন। বিদ্যুতের পিলার ভেঙ্গেপড়াসহ বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে উপজেলার পাঁচ লক্ষাধিক মানুষ। কমবেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উপজেলার ৪২৯টি গ্রামের জনপদ।

সোমবার এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক ছাড়াই রয়েছে অধিকাংশ এলাকা। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ঘরবাড়ি, খামার, ফসলি জমির মাঠ, উপড়ে পড়েছে গাছপালা।

‎স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার সন্ধ্যা পৌনে আটটায় শুরু হয় কালবৈশাখীর তান্ডব। এ সময় ঝড়ো হাওয়া, বৃষ্টি ও বজ্রপাত হয় প্রবলভাবে। ভেঙে পড়ে বিভিন্ন টিনের ঘর, গাছপালা। আঞ্চলিক সড়কগুলোতে গাছ উপড়ে পড়ায় চলাচল বন্ধ হয়ে যায় যান চলাচল। বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্কিং সেবা। এরপর সোমবার ভোরে আবারও শুরু হয় কালবৈশাখীর ঝড়। তীব্র বাতাশে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় শাকসবজি, ধান ও বিভিন্ন ফসলের মাঠ। এক কথায়, চৌদ্দগ্রাম পৌরসভাসহ উপজেলার তের ইউনিয়নের ৪২৯টি গ্রামের অধিকাংশ এলাকায় মানুষ কালবৈশাখী ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

‎মুন্সীরহাট ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক বেলাল হোসেন বলেন, বেশ কয়েকটি ক্ষেতের আধা পাকা ধান কালবৈশাখী ঝড়ে নূয়ে পড়েছে। এতে আমার ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ফসল ঘরে তুলতে শ্রমিকের ব্যয় বেড়ে যাবে।

‎বাতিসা ইউনিয়নের পাটানন্দী গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত খামারী জিয়াউল হক সবুজ বলেন, কালবৈশাখী ঝড়ে টিনশেড মুরগীর খামারটি পুরোপুরি ভেঙে যায়। এতে দশ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে।

‎কাশিনগর ইউনিয়নের শাহাপুর গ্রামের হতদরিদ্র কৃষক আবু মিয়া বলেন, রোববার রাতের কালবৈশাখী ঝড়ে আমার কৃষি ক্ষেতের সব ধান নুয়ে পড়েছে। এবার ভালোভাবে ফলন তুলতে পারবো কি না জানিনা। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহযোগিতায় সরকারের এগিয়ে আসা উচিত বলেও মনে করেন তিনি।

‎বিকাশ দোকানী সাদ্দাম হোসেন বলেন, কালবৈশাখী ঝড়ে ইন্টারনেট ও মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকায় মানুষের টাকা লেনদেন করা সম্ভব হয়নি। এতে অনেকে জরুরী সেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

‎চৌদ্দগ্রাম পিডিবির আবাসিক প্রকৌশলী ওহিদুর রহমান বলেন, রাতে ঝড়ের পর থেকে বিদ্যুৎ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। রাতভর বিরতিহীন চেষ্টায় লাইনগুলো সচল করা হচ্ছে।

চৌদ্দগ্রাম জোনাল অফিসের ডিজিএম নুরুজ্জামান নুর বলেন, আমাদের ১ লাখ ৩০ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। গত রাতে (বোরবার) কালবৈশাখী ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্থ লাইনগুলো মেরামতের চেষ্টা চলছে। এখন পর্যন্ত উপজেলা ৫০ ভাগ লাইন সচল করা হয়েছে। রাত ১০টা পর্যন্ত উপজেলার বাকী লাইনগুলো সচল করার কাজ চলবে।