All posts by jitu

কুবির ইরফানের চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে দিশেহারা পরিবার

চাঁদনী আক্তার, কুবি প্রতিনিধি:

সড়ক দুর্ঘটনায় আহত কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) পরিসংখ্যান বিভাগের ২০১৯-২০ সেশনের শিক্ষার্থী ইরফান উল্লাহর অবস্থার উন্নতি হয়নি এখনো। পারিবারিক সূত্র জানা যায়, তাক (ইরফান উল্লাহ) ঢাকার কল্যাণপুর ইবন সিনা প্রাইভট হসপিটালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। গত মঙ্গলবার ট্রাকিওস্টমি’র অপারেশন হয়েছে তবে যুকিমুক্ত না হওয়ায় এখানে লাইফ সাপার্টো রেখে ডাক্তার। টানা ১৪ দিন পার হলেও জ্ঞান না ফেরায় লাইফ সাপোর্ট কতদিন চলবে ডাক্তার ও সুনির্দিষ্ট করে কিছু জানাতে পারেনি। এদিকে ইরফানের চিকিৎসায় ব্যয় প্রতিদিন প্রায় ১ লক্ষ টাকা। ফলে চিকিৎসার ব্যয় চালিয়ে যেতে হিমশিম খেতে হচ্ছে পরিবারকে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকেও দেয়া হয়নি কোন সহায়তা। এমতাবস্থায় অর্থ সাহায্য চেয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

এদিকে দুর্ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী মিলে অর্থ সংগ্রহ করার চেষ্টা করলেও গত ১২ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. আমিরুল হক চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তিতে অর্থ সংগ্রহে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। পরে টাকা উত্তোলনকারী শিক্ষার্থীরা পরিবারের হাতে প্রায় ৫৩ হাজার টাকা তুলে দিয়েছেন বলে জানা যায়।

তবে প্রশাসনের অর্থ উত্তোলনে নিষেধাজ্ঞার পর এখনও কোনো আর্থিক সহযোগিতা করেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। যদিও ২২ নভেম্বর (বুধবার) বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পুনরায় অর্থ সহায়তা চেয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে।

ইরফানের চিকিৎসার জন্য পরিসংখ্যান বিভাগ থেকে দুই দফায় প্রায় দেড় লক্ষ টাকা আর্থিক সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়াও বিভাগ ভিত্তিক অর্থ সাহায্যের আবেদন করা হলেও তেমন সাড়া মেলেনি। গত ২০ নভেম্বর বিভাগের অনুমতিক্রমে পুনরায় অর্থ উত্তোলনের কাজ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। এতে কয়েকদিনের সংগ্রহকৃত অর্থ ইরফানের পরিবারের হাতে দেওয়া হয়েছে। গতকাল (২২ নভেম্বর) অর্থ সহায়তার জন্য উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. এফ এম আব্দুল মঈনের সাথে দেখা করেছেন ইরফান উল্লাহর বড় ভাই আব্দুল আজাদ।

ইরফানের চিকিৎসার সার্বিক বিষয় জানতে চাইলে আজাদ জানান, ‘ইরফানের চিকিৎসা পেছনে প্রতিদিন প্রায় ১ লক্ষ টাকার মতো ব্যয় হয় এর মধ্যে ঔষধ ব্যয় প্রায় ৫০ হাজার টাকা এবং লাইফ সাপোর্টের বিল প্রতিদিন প্রায় ৪৭ হাজার টাকা। টানা ১৪ দিনে ধরে এ ব্যয় বহন করে আসছে। যার মধ্যে লাইফ সাপোর্টের বিল এখনো বকেয়া রয়েছে। অর্থাৎ হসপিটালে লাইফ সাপোর্টের বকেয়া বিল হয়েছে প্রায় ৭ লক্ষ টাকা। পাশাপাশি এখন পর্যন্ত নগদ ঔষধ ব্যয় পরিশোধ করেছেন প্রায় ৫ লক্ষ টাকা। এছাড়াও আরও আনুষঙ্গিক খরচ রয়েছে যা হিসেবের বাহিরে। দিন যত যাচ্ছে এ ব্যয়ের পরিমান আর আর্থিক অনিশ্চয়তা বাড়ছে ইরফানের পরিারের। তবে সে অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের থেকে আর্থিক সহযোগিতা মিলেছে সামান্য। তিনি আরও জানান, ইরফানের চিকিৎসার পেছনে তাদের যা সঞ্চয় ছিল সব শেষ। এখন আত্মীয় স্বজন থেকে ঋণের মাধ্যমে চিকিৎসার ব্যয় বহন করছেন। এছাড়াও গত ১১ নভেম্বর মস্তিষ্কের ও মঙ্গলবারে ট্র্যাকিওস্টমি’র অপারেশন হয়েছে যা দুইটি ব্যয়বহুল ছিল।

এ বিষয়ে পরিসংখ্যান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. দুলাল চন্দ্র নন্দী জানান, পরিসংখ্যান বিভাগ ও অ্যাসোসিয়েশন উদ্যোগে দুই দফায় আর্থিক সহযোগিতা করা হয়েছে। ইরফানের চিকিৎসার ফান্ড কালেকশনের জন্য বিভিন্ন বিভাগে চিঠি দেওয়া হয়েছে। সে ফান্ড এখনো হাতে আসেনি। আমরা আর্থিক সহযোগিতা চেয়ে প্রশাসন বরাবরও চিঠি দিয়েছি। গত ১১ নভেম্বর শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা ইরফানকে দেখতে গিয়ে আর্থিক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। এদিকে টানা দশদিন পার হলেও চিকিৎসার জন্যে প্রশাসন থেকে কোনো রকম আর্থিক সহযোগিতা পায়নি ইরফান।

আর্থিক সহযোগিতার বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. আমিরুল হক চৌধুরী বলেন, এ বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই। কোষাধ্যক্ষ এ বিষয়ে বলতে পারবেন। একই কথা বলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) কাজী ওমর সিদ্দিকী।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন থেকে আর্থিক সহযোগিতার বিষয়ে কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আসাদুজ্জামান জানান, আর্থিক সহযোগিতার জন্য পরিসংখ্যান বিভাগ থেকে একটি আবেদন পেয়েছি। ইস্যুটা যেহেতু শিক্ষার্থীর যার কারনে আমরা বিভাগের হিসাবে টাকা দিতে পারছি না এরজন্য ভুক্তভোগী বা তার পরিবারের কাউকে আবেদন করতে হবে।

এদিকে ঘাতক বাস মালিকের সাথে একটি সমঝোতা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রক্টর। যদিও কি সমঝোতা হয়েছে সে বিষয়ে কিছু জানাননি তিনি। তবে ইরফানের বড় ভাইয়ের সাথে কথা বলে জানা যায়, বাস মালিক কতৃপক্ষ ১ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়ার আশ্বাস দিয়েছে এবং পরবর্তীতে আরও ক্ষতিপূরণ আদায় করে দেয়ার বিষয়ে আশ্বাস দেন উপাচার্য।

তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে কোনো রকম আর্থিক সহযোগিতা পেয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি জানান, এখন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন থেকে কোনো আর্থিক সহযোগিতা পাইনি তবে উপাচার্য ব্যাক্তিগত ফান্ড থেকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। তবে অর্থের পরিমাণ জানানো হয়নি তাকে।

কুমিল্লা রিজিওন হাইওয়ে পুলিশ সুপার মো. খাইরুল আলম জানান, মামলা হওয়ার সাথে সাথে কুমিল্লা ময়নামতি হাইওয়ে পুলিশের সহযোগিতায় আমরা বাসের ড্রাইভার জাবেদকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করেছি। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বাসের ড্রাইভার, মালিক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের উপস্থিতিতে আর্থিক ক্ষতিপূরণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কী পরিমান আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা হয়েছে এ বিষয়ে আমার জানা নেই।
এ বিষয় জানতে কুমিল্লা জেলা প্রশাসক খন্দকার মো. মুশফিকুর রহমানের মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি সাড়া দেননি।

এর আগে গত ৯ নভেম্বর ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কে কুমিল্লার জাগুরঝুলি এলাকায় তিশা পরিবহনের ঢাকা মেট্রো ব-১৫-১৬৪৮ নাম্বারের একটি যাত্রীবাহী বাসের চাপায় গুরুতর আহত হন ইরফান উল্লাহ। পরে কয়েক জায়গায় স্থানান্তর হয়ে বর্তমানে ঢাকার কল্যাণপুর ইবনে সিনা প্রাইভেট হসপিটালে লাইফ সাপোর্টে রয়েছেন তিনি।

রাজধানীতে আজমেরী গ্লোরি পরিবহনে আগুন

ডেস্ক রিপোর্ট:

রাজধানীর বিজয়নগর পানির ট্যাংকের সামনে আজমেরী গ্লোরি পরিবহনের একটি বাসে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।

বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা ৫৩ মিনিটে আগুনের খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, বাসে আগুনের খবর পেয়ে সিদ্দিক বাজার ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট পাঠানো হয়। দুপুর ১টা ৩ মিনিটে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।

পুলিশ লাইনসের ব্যারাক থেকে এসআইয়ের মরদেহ উদ্ধার

ডেস্ক রিপোর্ট:

সাতক্ষীরা পুলিশ লাইনসে সদ্য যোগদানকারী উপপরিদর্শক (এসআই) আজাহার আলী ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। বৃহস্পতিবার (২৩ নভেম্বর) সকালে পুলিশ লাইনসের ব্যারাকের দোতালায় একটি ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

আত্মহননকারী এসআইয়ের নাম মো. আজাহার আলী। তিনি যশোরের রাজারহাট এলাকার বাসিন্দা। তিনি গত ১৪ নভেম্বর নড়াইল জেলা থেকে বদলি হয়ে সাতক্ষীরা পুলিশ লাইনে যোগদান করেন।

সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) সজীব খান বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। তাছাড়া বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষ হলে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য দেওয়া যাবে।

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পরই দেশে হত্যার রাজনীতি শুরু হয়: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট:

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পরই এদেশে হত্যার রাজনীতি শুরু হয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ বৃহস্পতিবার (২৩ নভেম্বর) সকালে আওয়ামী লীগের সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের সভার শুরুতে এ কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই হত্যাকাণ্ডের পর জনগণের ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়, গণতন্ত্রের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়।

তিনি বলেন, জনগণের অধিকার আদায়ের জন্য বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সংগ্রাম করে গেছে। আর অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে গিয়েই আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী জীবন দিয়েছে।

এর আগে সকাল ১০টা ১০ মিনিটে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের তেজগাঁও কার্যালয়ে সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের এ সভা শুরু হয়। সভায় সভাপতিত্ব করছেন মনোনয়ন বোর্ডের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সারাদেশে ২৩৩ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন

ডেস্ক রিপোর্ট:

ষষ্ঠ দফায় বিএনপি ও সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর ডাকা টানা ৪৮ ঘণ্টার অবরোধের দ্বিতীয় দিন আজ। এসময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সারাদেশে ২৩৩ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ নভেম্বর) সকালে এ তথ্য জানান বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম।

তিনি জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঢাকা ও আশপাশের জেলায় মোতায়েন করা হয়েছে ২৮ প্লাটুন বিজিবি। সারাদেশে ২৩৩ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

এর আগে বুধবার (২২ নভেম্বর) ভোর ৬টা থেকে শুরু হয় এ অবরোধ। চলবে শুক্রবার ভোর ৬টা পর্যন্ত।

গত ২৮ অক্টোবর মহাসমাবেশে হামলা, হত্যা, নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের প্রতিবাদ এবং সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে ২৯ অক্টোবর হরতাল, এরপর ৩১ অক্টোবর, ১ ও ২ নভেম্বর মোট তিন দিনের অবরোধ কর্মসূচি পালন করে বিএনপি-জামায়াত ও শরিকরা।

এরপর ৫ ও ৬ নভেম্বর দ্বিতীয় দফায় এবং ৮ ও ৯ নভেম্বর তৃতীয় দফায় অবরোধ কর্মসূচি পালন করে তারা। ১১ ও ১২ নভেম্বর চতুর্থ দফা, ১৫ ও ১৭ নভেম্বর পঞ্চম দফায় ৪৮ ঘণ্টার অবরোধ ডাকা হয়।

অযৌক্তিক কারণে কাউকে বদলি করা হবে না: ইসি

ডেস্ক রিপোর্ট:

নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মো. আলমগীর বলেছেন, অযৌক্তিক কারণে প্রশাসনের কাউকে বদলি করা হবে না। তবে যৌক্তিক কারণ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বুধবার (২২ নভেম্বর) নির্বাচন ভবনের নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।

নির্বাচন কমিশনার বলেন, যদি যৌক্তিক কোনো কারণ থাকে— এই অফিসার নিরপেক্ষ নন, তার আচরণ ও কাজে প্রমাণ হয়েছে, তখন বদলি করব। যেমন জামালপুরের একজন জেলা প্রশাসককে আমরা বদলি করেছি, সেইসময় সিডিউল ঘোষণা হয়নি। উনি এক অনুষ্ঠানে একটি রাজনৈতিক দলের এমপির পক্ষে কথা বলেছেন। তখন তাকে বদলি করেছি।

প্রশাসনে নিয়ন্ত্রণ আনার জন্য রদবদল করবেন কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে ইসি আলমগীর বলেন, অনেকে নিজেদের ভাবনা থেকে এগুলো বলেন। আইনের ব্যাখ্যাটা হলো আরপিও অনুযায়ী পুলিশের কমিশনার, বিভাগীয় কমিশনার এবং এর নিচে যত কর্মকর্তা রয়েছেন তারা নির্বাচন কমিশনের অনুমতি ছাড়া বদলি হতে পারবে না। সরকার চাইলে এদের বদলি করতে পারবে না।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশনের কাছে যদি মনে হয় কোনো বিভাগের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর আচরণ নিরপেক্ষ নির্বাচনের বিপক্ষে, তখন কমিশন সেই বিভাগ বা কর্মকর্তাকে বদলি করতে পারে। রিটার্নিং অফিসার যাদের নিয়ে নির্বাচন করবেন অর্থাৎ প্রিজাইডিং অফিসার, পোলিং অফিসার তাদের জেলার বাইরে বদলি করা যাবে না। পুরো সরকারি আইন ও রাষ্ট্র আমাদের অধীনে এসেছে এটা আপনাদের কে বলেছে? এটা কোথায় পেয়েছেন। টকশো দিয়ে দেশ চলে না। সংবিধানে আছে নির্বাচন কমিশন নির্বাহী বিভাগের সহায়তা চাইলে তারা দিতে বাধ্য। আরওপিওতে আছে নির্বাচন কমিশন কোনো সংস্থা ও বিভাগের সহায়তা চাইলে তারা দিতে বাধ্য।

রদবদল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা রদবদল করবো কেন? একটা যৌক্তিক কারণ বা সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকতে হবে। যদি অভিযোগ থাকে এই কর্মকর্তা নিরপেক্ষ নন বা অমুকের পক্ষে কাজ করছেন, যদি সেই প্রমাণ থাকে তখন আমরা ব্যবস্থা নেব। এছাড়া এতো হাজার হাজার কর্মকর্তাদের বদলি করা হলে প্রশাসনে বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দেশ পরিচালনায় অথবা নির্বাচন পরিচালনায় যে একটা বিশাল বিশৃঙ্খলা দেখা দেবে এই দায়িত্ব কে নেবে। এখন কোন যুক্তিতে আমরা সবাইকে বদলি করবো। একটা যুক্তি তো থাকতে হবে। বদলি করলে তাদের প্রচুর টিএ বিল দিতে হবে, এই টিএ বিলের টাকাটা কে দেবে? প্রচুর টাকা লাগলে কয়েকশ কোটি টাকা টিএ বিল লাগবে। আপনারা জানেন একটা কর্মকর্তাকে বদলি করা হলে তার ফ্যামিলির যাওয়া আসার খরচ ও মালামাল পরিবহনের খরচ দিতে হয়। অনেক টাকা দিতে হয়। তারপর বাসা পরিবর্তন করতে হয় নতুন অফিসার এসে বলবে বাসায় রং করো, তার একটা খরচ আছে। কারণ আগের বাসায় তিনি থাকবে না। এই টাকা কে দেবে? মুখ দিয়ে বদলি বললেই হয় না। বদলি করতে টাকা লাগে। হ্যাঁ, আমরা অবশ্যই বদলি করবো যদি তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকে এবং প্রমাণ পায়।

বিরোধী দল অভিযোগ করছে সরকার নিজের মতো প্রশাসন সাজিয়ে রেখেছে? এমন প্রশ্নের জবাবে ইসি আলমগীর বলেন, এই অভিযোগ আমি ১৯৭০ সাল থেকে শুনে আসছি। আমি তখন ছোট, প্রাইমারি স্কুলের ছাত্র ছিলাম, যথেষ্ট বুঝতাম। তখন ইত্তেফাক পত্রিকা পড়েই দেখতাম এসব অভিযোগ। এরপর যত নির্বাচন বাংলাদেশে হয়ে এসেছে এই ধরনের অভিযোগ শুনে এসেছি। এই অভিযোগ কেয়ামত পর্যন্ত থাকবে।’

নৌকার প্রার্থীর পক্ষে সব নেতাকর্মী ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচন করবে: শিক্ষামন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট:

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, মনোনয়ন বোর্ড যাকেই মনোনয়ন দেবে, দেশের যে এলাকায় দেবে, সেই নৌকার প্রার্থীর পক্ষে আওয়ামী লীগের সব নেতাকর্মী ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচন করবে। তারা নৌকার বিজয়কে যেমন নিশ্চিত করবে এবং দলীয় ঐক্যকে আরও সুদৃঢ় করবে বলে প্রত্যাশা করি।

বুধবার (২২ নভেম্বর) দুপুরে চাঁদপুর শহরের কদমতলায় নিজ বাসবভনের সামনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ দেশের প্রাচীন বড় রাজনৈতিক দল। এ দলে যারা কাজ করেন তাদেরকে সারাজীবন আন্দোলন সংগ্রাম করেই একটা পর্যায়ে আসতে হয়। কাজেই প্রতিটি সংসদীয় আসনেই অনেক যোগ্য প্রার্থী থাকে। তারা এমপি হতে সকলেই চান। গণতন্ত্রে তাদের মনোনয়ন চাইবার অধিকারও আছে। মনোনয়ন কাকে দেওয়া হবে সেটা মনোনয়ন বোর্ডের সিদ্ধান্ত। কিন্তু মনোনয়ন চাইবার অধিকার সকলের আছে। এবার অনেক নারী ও তরুণরা মনোনয়ন চেয়েছেন। এটিকে আমি মনে করি একটা ভালো লক্ষণ। তারা সকলে জনপ্রতিনিধি হওয়ায় ইচ্ছুক। তাদের এই ইচ্ছা শক্তিকে ভালো লক্ষণ হিসেবে দেখছি।

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ নীতি-আদর্শ নিয়ে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সব সময় নির্বাচন করেছে এবং করবে। যখন প্রয়োজন হয়েছে জোটবদ্ধ নির্বাচন করেছে। আমাদের জোট সব সময় আদর্শিক জোট হয়েছে। কখনো কখনো আমরা নির্বাচনী জোট করেছি। আমাদের মনোনয়ন নির্ধারণ করার কাজ শেষে হলে বুঝা যাবে আমরা জোটবদ্ধ নাকি জোট ছাড়া নির্বাচন করবো। কারণ তখন বুঝা যাবে কোন দল বেশী শক্তিশালী।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমরা চাই সকল দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক এবং উৎসবমুখর পরিবেশে একটি নিরপেক্ষ, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক। যাতে করে ভোটাররা আগামী দিনে তাদের দেশ পরিচালনার জন্য দল পছন্দ করে নিতে পারে।

এ সময় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী এবং জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

নাশকতা-অপপ্রচার প্রতিহত করাই মূল লক্ষ্য: ওবায়দুল কাদের

ডেস্ক রিপোর্ট:

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নাশকতা ও অপপ্রচার প্রতিহত করাই আওয়ামী লীগের মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

নির্বাচন উপলক্ষে বুধবার (২২ নভেম্বর) দলটির ঢাকা জেলা কার্যালয়ে গঠিত সব-উপকমিটির সঙ্গে বৈঠক শেষে এ কথা বলেন তিনি।

নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করার কোনো চেষ্টাই সফল হবে না জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচন এসে গেছে। ফুল কিছু ফুটতে শুরু করেছে। আরো অনেক ফুল ফুটবে। নির্বাচনের মনোনয়নপত্র সরকারিভাবে নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া পর্যন্ত শতফুল ফুটবে। কাজেই এ নিয়ে চিন্তা করার কোনো কারণ নেই।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার চূড়ান্ত হয়েছে। বিদেশ নিয়ে এখন আর মাথা ঘামানোর প্রয়োজন নেই। তারা হামাস- ইসরায়েল, রাশিয়া- ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে ব্যস্ত। লেবানন এর মধ্যে জড়িয়ে গেছে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, শেখ হাসিনার শক্তি বাংলাদেশের জনগণ। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর এটি আরও পরিষ্কার হয়ে গেছে। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীনতা পেয়েছে। আর বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আরেকটি মুক্তিযুদ্ধের বিজয় নিশ্চত হবে, ইনশাআল্লাহ। আবারও সারাবাংলায় নতুন ইতিহাস সৃষ্টি হবে।

নির্বাচন পরিচালনা উপকমিটির সভায় সভাপতিত্ব করেন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো-চেয়ারম্যান কাজী জাফরুল্লাহ।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ১ বছরের শিশুর মৃত্যু

ডেস্ক রিপোর্ট:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সদর উপজেলায় মোটর পাম্পের তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে হাসান (১) নামে এক শিশু নিহত হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের শিলাউর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। নিহত হাসান একই এলাকার মাহফুজ উদ্দিন ছেলে।

স্থানীয়রা জানায়, মাহফুজ মিয়ার বাড়ির সিঁড়ির নিচে একটি মটর পাম্প বসানো আছে। মটর পাম্পটি বিদ্যুতিক লাইনে লাগানো ছিল। সকালে হাসান খেলতে খেলতে মটর পাম্পের তারের সঙ্গে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গুরুত্ব আহত হয়। তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসলাম হোসাইন জানান, একটি শিশু বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছেন। মরদেহটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা আছে।

বুড়িচংয়ে মোটরসাইকেল-সিএনজি অটোর সংঘর্ষ: কলেজ ছাত্র নিহত

কুমিল্লা প্রতিনিধি:

কুমিল্লার বুড়িচং -গোবিন্দপুর – রামপুর পোষ্টাফিস সড়কে সোমবার সন্ধ্যায় মোটর সাইকেল ও সিএনজির সংঘর্ষে মোটর সাইকেল আরোহী অনিক রহমান ( মোজাম্মেল) (১৬) নামের এক কলেজ ছাত্র নিহত হয়। তার সঙ্গে থাকা আপন চাচাত ভাই একই কলেজের ছাত্র রাফি আহত হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার সন্ধ্যায় কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার পীরযাত্রাপুর ইউনিয়ন এর গোবিন্দপুর বাজার এলাকায়।

প্রত্যক্ষ দর্শী স্থানীয় ইউপি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ বিল্লাল হোসেন ঠিকাদার ও অন্যান্য সূত্র জানায় সোমবার সন্ধ্যায় কুমিল্লার বুড়িচং – গোবিন্দপুর – রামপুর সড়কের গোবিন্দপুর এলাকায় একটি মোটর সাইকেল ও বুড়িচং গামী একটি যাত্রী সিএনজির সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এতে মোটর সাইকেল আরোহী দুই জন মারাত্মক ভাবে আহত হয়। স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে বুড়িচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে কুমিল্লা রেফার করে। কুমিল্লা ট্রমা সেন্টারে ভর্তি করলে রাতে চিকিৎসাধীনে অনিক রহমান (১৬) বুড়িচং এরশাদ ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র। সে বুড়িচং উপজেলার পীরযাত্রাপুর ইউনিয়ন এর গোবিন্দপুর গ্রামের কুয়েত প্রবাসী আলী আক্কাসের একমাত্র পুত্র সন্তান।

তার সঙ্গে থাকা অপর আহত রাফি (১৬) তার আপন চাচাত ভাই আবুল হাশেমের ছেলে এবং একই কলেজের একই শ্রেণির ছাত্র। এঘটনার খবর পেয়ে কুয়েত প্রবাসী আলী আক্কাস মঙ্গলবার সকালে বিমান যোগে বাংলাদেশ আসে এবং দুপুর ৩ টায় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে কলেজ ছাত্র অনিক রহমান কে দাফন করা হয়।