,

কুমিল্লায় ‘ছেলেধরা’, ‘গলাকাটা’, আতঙ্ক!

আজকের কুমিল্লা ডট কম :
July 21, 2019
news-image

 

সেলিম সজীবঃ
কুমিল্লায় মানসিক প্রতিবন্ধী কিংবা অপরিচিত লোকজনের এলোমেলো চলাফেরা দেখলেই ছেলেধরা সন্দেহে গণধোলাই দিচ্ছে এলাকাবাসী।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ছড়ানোয় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতংক বিরাজ করছে।

যদিও পুলিশ বলছে, ছেলেধরা নিছক গুজব। আর যদি তারা ছেলেধরা হয়েও থাকে, এভাবে মারপিট করা ঠিক না। তাদেরকে পুলিশে সোপর্দ করার আহ্বান জাননো হয়েছে।

জানা যায়, কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও এলাকায় গুজব ছড়ানো হয়েছে পদ্মা সেতু নির্মাণের জন্য ঐ অঞ্চলের কাছে বেশ কয়েকটি এলাকায় বিভিন্ন বয়সী মানুষ অপহৃত হচ্ছে বলেও গুজব ছড়িয়ে পড়ায় কিছু এলাকায় মানুষের মধ্যে ভিত্তিহীন আতঙ্ক তৈরি হয়েছে বলে দেশের বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে খবরও বের হয়। এটা নিয়ে অভিভাবকরাও আতংকিত। এই আতংকের মধ্যে এলাকায় কোন অপরিচিতি লোককে এলোমেলো চলাফেরা করতে দেখলেই গণধোলাই দেওয়া হচ্ছে।

আজ, সকালে কুমিল্লা সদর উপজেলায় ছেলে ধরা সন্দেহে তিন ব্যক্তিকে গণপিটুনি দেওয়া হয়েছে। আমড়াতলি সড়ক এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। আহত অবস্থায় নারীসহ তিনজনকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

গত শনিবার, ছেলেধরা সন্দেহে লাকসামে এক ভিক্ষুককে গণপিটুনি দেয়া হয়েছে। এতে ওই ভিক্ষুকের পা ভেঙ্গে যায়। গুরুতর আহতাবস্থায় তাকে উদ্ধার করে লাকসাম সদর হাসপাতালে ভর্তি করেছে পুলিশ। শনিবার (২০ জুলাই) সকালে পৌরশহরের পেয়ারাপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, সকাল সাড়ে ৯টায় পেয়ারাপুর এলাকায় একটি বেগ হাতে নিয়ে বাড়ি বাড়ি ভিক্ষা করছিল রফিকুল ইসলাম (৪৩) নামে ওই ভিক্ষুক। ভিক্ষা শেষে জেলেপাড়া সংলগ্নে চা দোকানের কাছে ঘোরাফেরা করছিল।

এ সময় স্থানীয় লোকজন ছেলেধরা সন্দেহে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে অসংলগ্ন কথা বলায় গণপিটুনি দেয়। এতে তার ডান পা ভেঙ্গে যায়। পরে খবর পেয়ে লাকসাম থানার এসআই রফিকুল ইসলাম তাকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।

ছেলে ধরা চক্র এলাকায় ছদ্মবেশে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং শিশুদের অপহরণ করে নিয়ে হত্যা করে মাথা কেটে নিয়ে যাচ্ছে এমন গুজব ছড়িয়ে পড়েছে কুমিল্লায়।

ফলে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন গ্রামাঞ্চলের শিশু ও অভিভাবকরা। ‘ছেলে ধরা’ আতঙ্কে গ্রামের শিশুরা বাড়ি থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছে। অনেক গৃহিনীরা ভয়ে রোজা রাখার জন্য রাতে রান্না করা বন্ধ করে দিয়েছেন।

অপরিচিত লোক দেখলেই মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে। এতে বিপাকে পড়েছে ভিক্ষুকরা। অপরিচিত কেউ ভিক্ষা চাইতে গেলে গৃহস্থরা ভিক্ষা না দিয়ে ফিরিয়ে দিচ্ছেন।

জেলার কোথাও না কোথাও শিশু ধরে নিয়ে গলা কাটছে এমন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে মানুষের মাঝে। আবার কোথাও কোথাও ‘ছেলে ধরা’ চক্র ধরতে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেয়া হচ্ছে বলেও জানা গেছে।

প্রতিদিনই গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে ‘ছেলে ধরা’র খবর আসছে। তবে ঘটনা অনুসন্ধান করতে গেলে তার সুনির্দিষ্ট কোনো সত্যতা মিলছে না।