,

১৩ শ্রমিক নিহতের ঘটনায় ট্রাক চালক ও হেলপারের বিরুদ্ধে মামলা

আজকের কুমিল্লা ডট কম :
January 26, 2019
news-image

স্টাফ রিপোর্টারঃ
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের কাজী এন্ড কোং ইটভাটায় কয়লার ট্রাক উল্টে ১৩ ঘুমন্ত শ্রমিকের নিহতের ঘটনায় ট্রাকচালক ও হেলপারের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করা হয়েছে।

শুক্রবার রাতে নিহত শ্রমিক রঞ্জিত চন্দ্র রায়ের ভাই সঞ্জিত চন্দ্র রায় বাদি হয়ে চৌদ্দগ্রাম থানায় এ মামলাটি দায়ের করেন । মামলার বাদি সঞ্জিত চন্দ্র রায় দুঘর্টনাকবলিত ইটভাটায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করছেন। তিনি নীলফামারী জেলার জলঢাকা উপজেলার নিজপাড়া গ্রামের সুরেশ চন্দ্র রায়ের ছেলে।

মামলার আসামি ট্রাক চালক ও হেলপারের পরিচয় এখনো পায়নি থানা পুলিশ।

চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল্লাহ আল মাহফুজ মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, অজ্ঞাত ট্রাক চালক ও হেলপারকে গ্রেফতার করার জন্য পুলিশ কাজ করছে।

উল্লেখ্য যে, শুক্রবার ভোরে উপজেলার ঘোলপাশা ইউনিয়নের নারায়ণপুর গ্রামের ওই ইটভাটায় কয়লাবাহী একটি ট্রাক আনলোড করার সময় উল্টে গিয়ে শ্রমিকদের ঘরের উপর পড়ে। এতে ঘুমে থাকা শ্রমিকদের ১২ জন ঘটনাস্থলেই মারা যান। আহতাবস্থায় আরও তিনজনকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে একজনকে চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন। নিহতরা হলেন- নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার বিপ্লব (১৯), মনোরঞ্জন চন্দ্র রায় (১৯), শঙ্কর চন্দ্র রায় (২২), দিপু চন্দ্র রায় (১৯), অমৃত চন্দ্র রায় (২০), মৃণাল চন্দ্র রায় (২১), বিকাশ চন্দ্র রায় (২৮), রঞ্জিত চন্দ্র রায় (৩০), কনক চন্দ্র রায় (৩৫), তরুণ চন্দ্র রায় (২৫), মো. সেলিম (২৮), মো. মোরসালিন (১৮), মাসুম (১৮)। এরা সবাই স্থানীয় কাজী অ্যান্ড কোং নামে একটি ইটভাটার শ্রমিক । দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক আবুল ফজল মীর ও পুলিশ সুপার (বর্তমানে কুমিল্লা দক্ষিণ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে কর্মরত) আব্দুল্লাহ আল মামুন। নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে ২০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা ছাড়াও মরদেহ তাদের গ্রামের বাড়িতে নেওয়ার পরিবহন খরচও জেলা প্রশাসন বহন করেন। এছাড়া আহতদের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থাও করার আশ্বাস দেন জেলা প্রশাসক।

এদিকে শুক্রবার দুপুরে কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) কাইজার মোহাম্মদ ফারাবীকে আহ্বায়ক করে জেলা প্রশাসনের চার সদস্যের এবং পুলিশ সুপার (কুমিল্লা দক্ষিণে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদে কর্মরত) আবদুল্লাহ আল-মামুনকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এদিকে পুলিশের ব্যবস্থাপনায় নিহতদের মরদেহ শনিবার ভোরে নীলফামারীতে পৌঁছানোর পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে ।