,

ব্রাহ্মণপাড়ায় চিপস কিনে দিয়ে দুই কন্যাসন্তানকে সড়কে ফেলে যাওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনার আসল সত্য উদঘাটন!

আজকের কুমিল্লা ডট কম :
October 13, 2026
news-image

ব্রাহ্মণপাড়া প্রতিনিধিঃ

“চিপস কিনে দিয়ে দুই কন্যাসন্তানকে সড়কে ফেলে গেলেন ‘মা’ শীর্ষক প্রচারিত সংবাদের প্রকৃত ঘটনা সরেজমিন তদন্তে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে।

মূলত মা কর্তৃক সন্তান ফেলে যাওয়ার খবরটি যেভাবে প্রচার হয়েছিল, পারিবারিক ও স্থানীয় তদন্তে তার ভিন্ন চিত্র পাওয়া গেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রায় ১২ বছর আগে কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার নাল্লা (গনি ফকির বাড়ি) গ্রামের মৃত ফজলুর রহমানের ছেলে ও অটোরিকশাচালক নুর মোহাম্মদ নাছির আলম (২৮)-এর সঙ্গে কোতোয়ালি থানার কালিবাজার জালগাঁও এলাকার রবিউল ইসলামের মেয়ে মোসাঃ জেসমিন আক্তার (২৭)-এর প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে (বিবাহ) হয়। তাদের সংসার আলো করে জন্ম নেয় দুই কন্যাসন্তান—ইসরাত (৮ বছর) এবং রোদা মনি (১৮ মাস)। তারা ব্রাহ্মণপাড়া বাজার পশ্চিমপাড়া এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।

তবে উভয়ের পারিবারিক মনোমালিন্যের জেরে প্রায় ৫ মাস পূর্বে তাদের আইনগতভাবে বিবাহবিচ্ছেদ (তালাক) ঘটে। তালাকের পর দুই কন্যাসন্তান তাদের মা জেসমিন আক্তারের সাথেই নানাবাড়িতে বা তার মায়ের দায়িত্বে ছিল।

গত ১১ অক্টোবর দুপুরে মা জেসমিন আক্তার দুই কন্যাসন্তানকে নিয়ে সাবেক স্বামী নুর মোহাম্মদ নাছিরের অজ্ঞাতসারে ব্রাহ্মণপাড়া বাজারে আসেন। বাজারে এসে তিনি তার সাবেক স্বামী নাছিরকে মোবাইল ফোনে বিষয়টি জানান। তখন নাছির তাকে জানান যে, তিনি বর্তমানে অটো রিক্সা নিয়ে কুমিল্লা শহরে অবস্থান করছেন।

এরপর মা জেসমিন আক্তার দুই শিশু কন্যা ইসরাত (৮) ও রোদা মনিকে (১৮ মাস) ব্রাহ্মণপাড়া বাজারে রেখে কুমিল্লায় চলে যান। পথিমধ্যে শিশু দুটি বাজারে ছোটাছুটি করলে স্থানীয় জনতা কৌতূহলী হয়ে তাদের ঘিরে ফেলে।

ঘটনার সময় দুই শিশুর চাচী শিরিনা বেগম মোবাইল ফোনে টাকা রিচার্জ করতে ওই বাজারে আসেন। তিনি উৎসুক জনতার মাঝে শিশু দুটিকে দেখতে পেয়ে দ্রুত চিনতে পারেন। পরবর্তীতে উপস্থিত জনতার সহযোগিতায় তিনি শিশুদের নিজ বাড়িতে নিরাপদে নিয়ে আসেন।

বর্তমানে শিশু দুটি তাদের পিতা নুর মোহাম্মদ নাছিরের নিরাপদ হেফাজতে রয়েছেন।

সংবাদে যেমনটি প্রচার হয়েছিল যে মা চিপস কিনে দেওয়ার নাম করে শিশুদের রাস্তার ওপর চিরতরে ফেলে পালিয়ে গেছেন, তদন্তে মূলত পারস্পরিক যোগাযোগহীনতা ও পারিবারিক টানাপোড়েনের জেরে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল বলে জানা গেছে।