,

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে কলেজ ছাত্র হত্যাকারিদের বিচারের দাবীতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ

আজকের কুমিল্লা ডট কম :
February 14, 2019
news-image

স্টাফ রিপোর্টারঃ
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় মুন্সীরহাট ডিগ্রী কলেজের ছাত্র আরিফুর রহমান আরিফকে হত্যাকারিদের বিচারের দাবীতে কলেজের বন্ধু মহল ও এলাকাবাসীর উদ্যোগে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

বৃহস্পতিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মুন্সিরহাট বাজারে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মুন্সীরহাট ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ আরিফুল ইসলাম লতিফের সভাপতিত্বে সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন মুন্সীরহাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাহফুজ আলম, জেলা ছাত্র সমাজের সভাপতি মিজানুর রহমান মিজানসহ ছাত্রলীগ, যুবলীগ, ছাত্রসমাজ , কলেজের ছাত্র-ছাত্রীসহ স্থানীয় জনতা।
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তাগন খুনের সাথে জড়িত লিমা আক্তার ও তার সহযোগিদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচার দাবী করেন।

উল্লেখ্য যে, স্থানীয় সূত্রমতে নিহত আরিফের সাথে দীর্ঘ তিন বছর ধরে পাশ্ববর্তী বারাইশ পশ্চিম পাড়ার সফিকুর রহমানের মেয়ে লিমার সাথে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গত বৃহস্পতিবার (৭ ফেব্রুয়ারী) সন্ধ্যায় আরিফ মুন্সীরহাট বাজারের ছাত্রাবাস থেকে কোচিং শেষে মোটরসাইকেল নিয়ে বাড়ি ফিরছিল। এসময় প্রেমিকা লিমা ফোন করে তাকে তার বাড়িতে ডেকে নেয়। পরে লিমার বাড়িতে অবস্থান নেওয়া দুর্বৃত্তরা তার উপর আক্রমণ করে এবং মাথায় গুরুতর আঘাত করে। পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা তাৎক্ষণিক তাকে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লায় প্রেরণ করলে পরিবারের সদস্যরা তাকে কুমিল্লা টাওয়ার হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে সেখানেও রোগির অবস্থা আশংকাজনক দেখে ডাক্তারের পরামর্শে তাকে দ্রুত ঢাকায় নিয়ে যায় পরিবার। পরে ধানমন্ডি নর্দান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে টানা তিন দিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১১ ফেব্রুয়ারী বিকাল ৩টা ১৫ মিনিটে আরিফের মৃত্যু হয়। মঙ্গলবার বাদ আছর জানাযার নামাজ শেষে আরিফের মরদেহ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

নিহতের চাচা রবিউল জানান, আরিফ-লিমার প্রেমের সম্পর্ক জানতে পেরে গত পাঁচ-ছয় মাস পূর্বে লিমার বাবার কাছে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে যায় আরিফের মা। এসময় লিমার বাবা আরিফের পরিবারের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় পরিবারের চাপে লিমাও আরিফের সাথে সম্পর্কের ইতি টানে। কিছুদিন পূর্বে অন্য জায়গা থেকে লিমার বিয়ের জন্য আসলে অজানা কারণে লিমার বিয়েটি ভেঙ্গে যায়। বিয়ে ভাঙ্গার ঘটনায় আরিফকে দায়ী করে লিমার পরিবার বিভিন্ন সময় আরিফকে হুমকি দিয়ে আসছিল বলে দাবী করে আরিফের স্বজনরা।