,

কুমিল্লা রণক্ষেত্র, শিক্ষার্থী-সাংবাদিক-পুলিশসহ অর্ধশতাধিক আহত

আজকের কুমিল্লা ডট কম :
July 18, 2024
news-image

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লায় কোটা সংস্কার আন্দোলনে পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। এতে শিক্ষার্থী, সাংবাদিক এবং পুলিশসহ অন্তত অর্ধশতাধিক আহত হয়েছেন। এতে মহাসড়কের দুই লেনেই যানবাহন চলচলা বন্ধ হয়ে গেছে।

সারা দেশে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে মহাসড়কের কোটবাড়ী এলাকায় শিক্ষার্থীরা এ কর্মসূচি পালন করেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, দুপুর ১টার দিকে কোটবাড়ি বিশ্বরোড এলাকার পশ্চিম পাশ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়সহ আন্দোলনরত বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা পুলিশের দিকে ভুয়া ভুয়া বলে স্লোগান দিতে দিতে অগ্রসর হন। এ সময় পুলিশ রাবার বুলেট, টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেডসহ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে। এতে কয়েকজন সাংবাদিকসহ অন্তত ৫০ জন শিক্ষার্থী ও পুলিশ আহত হন।

কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচিতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ছাড়াও বিক্ষোভে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজসহ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত কলেজ, জেলার বিভিন্ন প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

‘বঙ্গবন্ধুর বাংলায় বৈষম্যের ঠাঁই নাই’, ‘আমি কে, তুমি কে, রাজাকার রাজাকার’ ‘দিয়েছিতো রক্ত, আরো দিবো রক্ত,’ ‘আমার ভাইয়ের রক্ত, বৃথা যেতে দিবো না,’ আমার সোনার বাংলায়, বৈষম্যের ঠাঁই নাই,’ ‘মেধা না কোটা, মেধা মেধা,’ ‘জেগেছে রে জেগেছে, ছাত্রসমাজ জেগেছে’ ইত্যাদি স্লোগান দিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ও আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক মোহাম্মদ সাকিব হোসাইন বলেন, আমরা কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি পালন করছি। সরকার ছাত্রলীগকে আমাদের উপর লেলিয়ে দিয়েছে। পুলিশ এবং ছাত্রলীগ মিলে অন্যায়ভাবে আমাদের ছয় ভাইকে গুলি করে হত্যা করেছে। আমরা বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে এর বিচার বাদী করছি।

তিনি আরও বলেন, ছাত্রসমাজের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের পরও সরকার কোটা সংস্কার সমাধানের চেষ্টা করেনি। আমরা এর চূড়ান্ত সমাধান চাই। আমরা চাই, অনগ্রসর গোষ্ঠীর জন্য কোটাকে ন্যূনতম ৫ শতাংশে এনে সংসদে আইন পাস করে কোটা পদ্ধতিকে সংশোধন করতে হবে। কোটা সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত আমরা ঘরে ফিরে যাবো না।