,

নাঙ্গলকোট সিয়ামের বেঁচে থাকা এখন শুধুই যন্ত্রণার

আজকের কুমিল্লা ডট কম :
October 15, 2017
news-image

 

সেলিম সজীবঃ

চার বছর বয়স শিশু সিয়ামের। এ বয়সে বাড়ির অন্য শিশুরা খেলাধুলায় ব্যস্ত থাকলেও সিয়াম লুকিয়ে থাকে মায়ের আঁচলে। মা ছাড়া কারও সঙ্গেই কথা বলে না। কেউ কোনও প্রশ্ন করলে উত্তর না দিয়ে সেই ব্যক্তির দিকে হতবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে সে। কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার যোড্ডা পূর্ব ইউনিয়নের আটঘর গ্রামের মো. জহিরুল ইসলামের শিশু সন্তান মো. সিয়াম। চার বছর বয়স হলেও তার শারীরিক গঠন অন্য শিশুদের চেয়ে অনেক কম। বিরল রোগে আক্রান্ত হওয়ায় তার কাছে এখন বেঁচে থাকা মানে শুধুই যন্ত্রণা। এলাকাবাসীর ধারণা কোনও এক অজানা বা বিরল রোগে আক্রান্ত সিয়াম। তবে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. দেবদাস দেব বলছেন ‘ইনগুইনাল হার্নিয়া’ রোগে ভুগছে সে। এ জন্য তাকে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালের শিশু সার্জারি বিভাগে ভর্তি করতে পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। তবে নাঙ্গলকোট থেকে কুমিল্লা মেডিক্যালে যাওয়ার সামর্থ্য নেই সিয়ামের বাবার। কারণ ছেলেকে সুস্থ করতে গত কয়েক বছরে নিজের সব কিছুই শেষ করেছেন তিনি। এখন স্ত্রী, এক কন্যা সন্তান আর সিয়ামকে নিয়ে দুই বেলা খেতেই শত কষ্ট করতে হয় তাকে। আগে বাসে পরিবহন শ্রমিকের কাজ করলেও বর্তমানে প্রায়ই বেকার সময় কাটছে জহিরুলের। এখন বেশিরভাগ সময় ছেলেকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় সময় পার করছেন তিনি। সরেজমিনে শিশু সিয়ামের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, দোচালা একটি ভাঙা টিনের ঘরে কোনমতে পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন মো. জহিরুল ইসলাম। সাত বছর বয়সী একটি কন্যা সন্তান রয়েছে তার। ২০১২ সালে মাত্র আড়াই বছর বয়সে জহিরুলের প্রথম ছেলে সন্তান সাইমন মারা গেছে। সেও সিয়ামের রোগেই আক্রান্ত ছিল। এ জন্য বাড়ির অন্যদের ধারণা, বড় ছেলের মতো সিয়ামেরও মনে হয় ধীরে ধীরে জীবন প্রদীপ নিভে আসছে। এদিকে, সিয়ামের মা নুরুন নাহার বেগমও শিশু পুত্রের জন্য উৎণ্ঠায় রয়েছেন। এই প্রতিবেদকে তিনি জানান, জন্মের সময় অন্য সব শিশুর মতোই স্বাভাবিক ছিল সিয়াম। কিন্তু জন্মের তিন মাসের মাথায় এই রোগ দেখা দেয়। এরপর আস্তে আস্তে বড় হতে থাকে রোগটি। তিনি জানান, শরীরের অস্বাভাবিকতার কারণে অনেকেই এড়িয়ে চলেন তার ছেলেকে। বাড়ির অন্য শিশুরাও তার কাছে আসতে ভয় পায়। এ কারণে সিয়াম সারাক্ষণ শুধু আমার কাছেই থাকে, কারও সাথে কথাও বলে না। নুরুন নাহার বলেন, “এটার (রোগের) ব্যাথার কারণে দিনের বেলায় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকে। আর রাতে ঘুমাতে গেলেই শুরু হয় চিৎকার। ওর কারণে আমরাও রাতে ঘুমাতে পারি না। শোয়া থেকে বার বার উঠে যেতে চায়। এখন কী করবো ছেলেকে নিয়ে নিজেও জানি না।