,

ইরান যুদ্ধ নিয়ে উদ্বেগে ইসরাইল, খুঁজছে বের হওয়ার পথ

আজকের কুমিল্লা ডট কম :
March 10, 2026
news-image

 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক হামলা নিয়ে ইসরাইলের কিছু জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, এই যুদ্ধ আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য আরও ক্ষতিকর হওয়ার আগেই এটি থামানো দরকার। তাই তারা যুদ্ধ থেকে বের হয়ে আসার সম্ভাব্য পথ খুঁজছেন।

তবে যুদ্ধের সমাপ্তি নিয়ে আলোচনা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। হামলা বন্ধ করা হবে নাকি চালিয়ে যাওয়া হবে— সেই সিদ্ধান্ত মূলত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে। তিনি এখনো পূর্ণ বিজয় অর্জনের লক্ষ্য থেকে সরে আসেননি।

রোববার যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদপত্র দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন ইরান যুদ্ধের পরিকল্পনা ও কৌশল সম্পর্কে অবগত এক জ্যেষ্ঠ ইসরাইলি কর্মকর্তা। পরিস্থিতির সংবেদনশীলতার কারণে তিনি নিজের নাম প্রকাশ করতে চাননি।

ট্রাম্প বিভিন্ন সময়ে এই বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন। প্রথমে তিনি ইরান সরকারের তুলনামূলক নমনীয় সদস্যদের সঙ্গে আলোচনার কথা বলেছিলেন। কিন্তু পরে তিনি ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ দাবি করেন। তার মতে, যাদের তিনি আলোচনার জন্য উপযুক্ত মনে করতেন তারা এখন আর জীবিত নেই।

অন্যদিকে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু শনিবার বলেছেন, তিনি এই যুদ্ধকে ‘সত্যের মুহূর্ত’ পর্যন্ত এগিয়ে নিতে চান।

এ অবস্থান আরও কঠোর হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ রোববার ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মোজতবা খামেনির নাম ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরাইলি হামলায় নিহত সাবেক সর্বোচ্চ নেতার ছেলে। কট্টরপন্থী হিসেবে পরিচিত মোজতবা খামেনির সঙ্গে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, তিনি আলোচনার টেবিলে বসার মতো নেতা নন।

ইসরাইলি ওই কর্মকর্তার মতে, যুদ্ধের ব্যয় দ্রুত বাড়তে থাকায় উদ্বেগও বাড়ছে। উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চলছে। এর ফলে তেল ও গ্যাসের দাম বাড়ছে এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘শাসন উৎখাত না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া আমাদের স্বার্থে কি না তা নিশ্চিত নই। কেউই অনির্দিষ্টকাল ধরে যুদ্ধের ময়দানে থাকতে চায় না।’

তার দাবি, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের বোমা হামলা ইতোমধ্যে তাদের প্রধান সামরিক লক্ষ্য পূরণের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির অবশিষ্ট অংশ, দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ভান্ডার, অস্ত্র তৈরির কারখানা এবং সামরিক ও গোয়েন্দা নেতৃত্বের বড় অংশ ধ্বংসের মুখে।

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা অবশ্যই শাসন পরিবর্তন চাই, তবে সেটিই একমাত্র সমাপ্তি নয়।’ প্রধান সামরিক লক্ষ্যগুলো ধ্বংস হলে ইসরাইল তার উদ্দেশ্য পূরণ করেছে বলে দাবি করতে পারবে।

তবে ওই কর্মকর্তা স্পষ্ট করেছেন, তিনি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর হয়ে কথা বলছেন না। রোববার নেতানিয়াহু বলেছেন, যুদ্ধের পরবর্তী ধাপে ইসরাইল ইরানের শাসনকে অস্থিতিশীল করে পরিবর্তনের সুযোগ সৃষ্টি করতে চায়।

এদিকে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা পরিকল্পনাকারীদের সামনে আরও দুটি বড় উদ্বেগ রয়েছে। প্রথমটি হলো লেবাননে বড় ধরনের স্থল অভিযান চালানোর ঝুঁকি। কর্মকর্তাটি বলেন, ‘আমরা কাদায় আটকে যেতে চাই না।’ বর্তমানে ইসরাইলি সেনারা সীমান্ত এলাকায় লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর অবশিষ্ট শক্তিকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে, তবে বড় ধরনের স্থল অভিযানের পরিকল্পনা নেই।

তিনি আরও জানান, লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এবং প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালামের সঙ্গে যোগাযোগ করে যুদ্ধবিরতির পথ খোঁজার চেষ্টা চলছে।

দ্বিতীয় উদ্বেগ হলো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক। যুক্তরাষ্ট্রের দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের নেতারাই এই জোট নিয়ে বাড়তে থাকা উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা যুক্তরাষ্ট্রকে অন্তহীন যুদ্ধে টেনে নিতে চাই না। ইসরাইল একটি নির্ভরযোগ্য মিত্র— বোঝা নয়।’

এদিকে ট্রাম্প ইরানের বর্তমান শাসন ধ্বংস করে নতুন ইরান গড়ার স্বপ্নের কথা বলছেন। তবে সেই লক্ষ্য অর্জনের কোনো সুস্পষ্ট পরিকল্পনা এখনো সামনে আসেনি। ফলে আবারও সেই প্রশ্ন সামনে এসেছে— এই যুদ্ধ শেষ হবে কীভাবে?
সূত্র: দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট