All posts by jitu

মহানবীকে অবমাননার দায়ে

মহানবীকে অবমাননার দায়ে ইরানে পপ তারকার মৃত্যুদণ্ড

মহানবীকে অবমাননার দায়ে ইরানে পপ তারকার মৃত্যুদণ্ড

ডেস্ক রিপোর্ট:

মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)–কে অবমাননা করার অভিযোগে ইরানের একটি আদালত পপ গায়ক আমির হোসেইন মাগসুদলু, যাকে তাতালু নামে পরিচিত, তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলোর বরাত দিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইনডিপেন্ডেন্ট এ তথ্য জানায়।

ইরানি পত্রিকা “এতেমাদ”-এর বরাতে এএফপি জানিয়েছে, ইরানের সুপ্রিম কোর্ট রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলির আপত্তি মেনে ব্লাসফেমির (ধর্ম অবমাননা) মামলায় আগে দেওয়া পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বাতিল করেছে। এরপর রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন গ্রহণ করে মামলাটি পুনরায় চালু করা হয় এবং আসামিকে নবী (সা.)–এর অবমাননার অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

তেহরানের প্রথম ফৌজদারি আদালত তাতালুকে মৃত্যুদণ্ড দেয়, তবে এই রায় এখনও চূড়ান্ত নয় এবং এটি সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ করা হতে পারে। তবে, ইরানি সংবাদমাধ্যম “ইরান ইন্টারন্যাশনাল” জানিয়েছে, তাতালুকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার খবর দেশটির বিচার বিভাগ অস্বীকার করেছে এবং তারা জানিয়েছে যে এখনো কোনো চূড়ান্ত রায় দেওয়া হয়নি।

তাতালু ইরানের আন্ডারগ্রাউন্ড সংগীতশিল্পী। তিনি ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে ছিলেন, পরে তাকে ইরানে প্রত্যর্পণ করা হয় এবং সেসময় থেকেই তিনি আটক রয়েছেন।

র্যাপ, পপ ও আরএন্ডবি মিশ্র সংগীতের জন্য পরিচিত তাতালু এর আগে ‘বেশ্যাবৃত্তি’ প্রচারের অভিযোগে ১০ বছরের সাজা পেয়েছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী প্রচারণা ও ‘অশ্লীল বিষয়বস্তু’ প্রকাশের অভিযোগ ছিল। তবে, বিতর্কিত ইমেজ থাকা সত্ত্বেও তিনি একসময় রক্ষণশীল ইরানি রাজনীতিকদের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এমনকি ২০১৭ সালে তিনি ইরানের প্রয়াত প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির সঙ্গে একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারেও অংশ নেন।

এছাড়া, ২০১৫ সালে তিনি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সমর্থনে একটি গান প্রকাশ করেন। তবে ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র ওই চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর কর্মসূচিটি বাধার মুখে পড়ে।

চৌদ্দগ্রামে বাসের ধাক্কায়

চৌদ্দগ্রামে বাসের ধাক্কায় প্রাণ কোম্পানির সেলসম্যানের মৃত্যু

চৌদ্দগ্রামে বাসের ধাক্কায় প্রাণ কোম্পানির সেলসম্যানের মৃত্যু

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে অজ্ঞাতনামা যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় মো: বেলাল হোসেন (৪০) নামে প্রাণ কোম্পানীর একজন সেলস্ রিপ্রেজেন্টেটিভ (এসআর) নিহত হয়েছে। নিহত বেলাল হোসেন লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি থানার চরমোহর গ্রামের এজহার আহমেদ এর ছেলে।

সোমবার (২০ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে আটটায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বাবুচি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেন মিয়াবাজার হাইওয়ে থানার সার্জেন্ট অর্পণ দেবনাথ।

হাইওয়ে থানা ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের ন্যায় সোমবার সকালে নিজ বাসা থেকে কর্মস্থল কাশিনগর এর উদ্দেশ্যে বাই সাইকেলযোগে রওনা করেন প্রাণ কোম্পানীর সেলস্ রিপ্রেজেন্টেটিভ (এসআর) বেলাল হোসেন। পথিমধ্যে তিনি মহাসড়কের বাবুচি এলাকায় পৌঁছলে ঢাকামুখি লেনে অজ্ঞাতনামা একটি দ্রুতগতির বাস তার বাই সাইকেলটিকে ধাক্কা দিলে মহাসড়ক থেকে ছিটকে পড়ে যান। এ সময় তিনি গুরুতর আহত হন। প্রচুর রক্তক্ষরণের ফলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

সংবাদ পেয়ে মিয়াবাজার হাইওয়ে থানা পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের লাশ উদ্ধার ফাড়ি থানায় নিয়ে আসে। পরে লাশের পরিচয় শনাক্ত করে নিহতের স্বজনদের খবর দেওয়া হলে তারা হাইওয়ে থানায় আসেন। সোমবার দুপুরে সকল আইনী প্রক্রিয়া শেষে স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছে হাইওয়ে থানা পুলিশ।

এ বিষয়ে মিয়াবাজার হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন জানান, ‘দুর্ঘটনার সংবাদ পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের লাশ করা হয়। স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে ।

বিজিবির জন্য কেনা হচ্ছে

বিজিবির জন্য কেনা হচ্ছে টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড

বিজিবির জন্য কেনা হচ্ছে টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড

ডেস্ক রিপোর্ট:

সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান প্রতিরোধে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সাউন্ড গ্রেনেড-টিয়ারশেল কেনা ও ব্যবহারের অনুমতি পেয়েছে। সোমবার (২০ জানুয়ারি) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়।

বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, “সীমান্তে সবসময় প্রাণঘাতী অস্ত্র দেওয়া ছিল। তবে বিজিবির কাছে সাউন্ড গ্রেনেড বা টিয়ারশেল ছিল না। অনেক সময় প্রশ্ন ওঠে— বিজিবি কেন টিয়ারশেল বা সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করেনি। মূলত এসব সরঞ্জাম তাদের কাছে ছিল না। এখন আমরা তাদের এগুলো কেনার অনুমতি দিয়েছি। শিগগিরই এগুলো কেনা হবে।”

সীমান্ত পরিস্থিতি অনুযায়ী কোন সময় কোন অস্ত্র ব্যবহার করা হবে, সে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বর্তমানে সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং কোনো বড় ধরনের সমস্যা নেই।”

ভারতের কাছে সাউন্ড গ্রেনেড থাকা এবং তাদের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “ভারতের কাছে সাউন্ড গ্রেনেড আছে। তারা এটি নিয়ে খারাপভাবে নেবে না।”

পুলিশ, র‌্যাব, আনসারের

পুলিশ, র‌্যাব, আনসারের নতুন পোশাক চূড়ান্ত

পুলিশ, র‌্যাব, আনসারের নতুন পোশাক চূড়ান্ত

ডেস্ক রিপোর্ট:

চূড়ান্ত হয়েছে পুলিশ, র‌্যাব ও আনসার বাহিনীর নতুন পোশাক।

সোমবার (২০ জানুয়ারি) আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

জানা গেছে, বৈঠকে আয়রন, রয়েল ব্লু, ডিপখাকি, ডিপব্লু, জলপাইসহ কয়েকটি রংয়ের পোশাকের মডেল উপস্থাপন করা হয়।

সেখান থেকে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে তিন বাহিনীর জন্য আলাদা আলাদা রংয়ের পোশাক চূড়ান্ত করা হয়।

বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পুলিশের পোশাকের রং হচ্ছে ‘আয়রন’। র‌্যাবের পোশাক হচ্ছে জলপাই বা অলিভ রংয়ের এবং আনসারের পোশাকের রং হচ্ছে ‘গোল্ডেন হুইট’।

পোশাক পরিবর্তনের কারণ হিসেবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ‘এসব সদস্যদের মানসিকতার পরিবর্তন করতেই পোশাকের পরিবর্তন করা হচ্ছে। মনোবল বৃদ্ধি ও দুর্নীতিরোধসহ নানান বিষয়কে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।’

নতুন পোশাকে বড় ধরনের অর্থ সংকুলান হবে কিনা- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এ ধরনের কিছু হবে না। নিয়মিত এসব বাহিনীর সদস্যদের নতুন পোশাক তৈরি হচ্ছে। সে ধারাবাহিকতায় ধীরে ধীরে পরিবর্তিত পোশাক তৈরি হবে। এটার জন্য বাড়তি অর্থের খুব একটা দরকার হবে না।’

এর আগে, ১১ আগস্ট পুলিশের ইউনিফর্ম ও লোগো পরিবর্তন করা হবে বলে জানিয়েছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন।

তিনি বলেছিলেন, ‘পুলিশের ইউনিফর্ম, লোগো সব পরিবর্তন করা হবে। অনেকের মন ভেঙে গেছে, এই ইউনিফর্ম পরে পুলিশ আর কাজ করতে চাইছে না। খুব দ্রুতই তা পরিবর্তন করা হবে। এসব বিষয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে আলোচনার পর সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘পুলিশ কমিশন হওয়া উচিত। সেই কমিশনের অধীনে পুলিশ পরিচালিত হবে। তারা কোনো রাজনৈতিক দলের অধীনে থাকবে না। পুলিশকে যেন রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার না করা হয়, সেটা নিশ্চিত করতে হবে।’

পরে ১২ আগস্ট পুলিশের ইউনিফর্ম ও লোগো পরিবর্তনের বিষয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়। ১০ সদস্যের কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়।

এদিকে পুলিশের লোগো পরিবর্তনের প্রক্রিয়া অনেকটা এগিয়েছে। নতুন লোগো নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া পুলিশের নির্ধারিত নতুন লোগো পাঠানো হয়েছে মন্ত্রণালয়ে। তা এখন অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে বলে জানা গেছে।

কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির কমিটি

কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির কমিটি বিলুপ্তির সম্ভাব্য ৫ কারণ

কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির কমিটি বিলুপ্তির সম্ভাব্য ৫ কারণ

ইমতিয়াজ আহমেদ জিতু:

কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্তির ফলে জেলাজুড়ে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। কোন কারণে এই কমিটি বিলুপ্তি করা হয়েছে তা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা রয়েছে তুঙ্গে। তবে নিদির্ষ্ট কোন কারণ কেউই বলতে পারছে না। স্থানীয় একাধিক সূত্র ও বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে সম্ভাব্য কয়েকটি কারণ পাওয়া গেছে।

১. সাংগঠনিক কর্মকান্ডে ব্যর্থতা: কমিটি গঠনের ২ বছর ৭ মাস পার হলেও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি সব উপজেলায় কমিটি দিতে পারেনি। লাকসাম ও চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় কমিটি দিয়েছিল এই আহ্বায়ক কমিটি। কিন্তু বাকি ৮ টি উপজেলায় (সদর, সদর দক্ষিণ, বরুড়া, মনোহরগন্জ, নাঙ্গলকোট, লালমাই, বুড়িচং ও বি-পাড়া) গত আড়াই বছরেও কমিটি দিতে পারেনি এই আহ্বায়ক কমিটি। তবে এই কমিটি সরকার বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ছিল সব সময়। এছাড়া সম্প্রতি হওয়া বন্যায় হাজী আমিন উর রশীদ ইয়াছিনের নেতৃত্বে জেলার বন্যাদুর্গত এলাকাগুলোতে ত্রাণ বিতরণসহ নানা কর্মকান্ড ছিল উল্লেখ্য করার মত। এছাড়া হাজী ইয়াছিনের বিরুদ্ধেও কোন নেতিবাচক অভিযোগ উঠেনি।

২. বাসস্ট্যান্ডগুলো দখল ও চাদাঁবাজির: কুমিল্লা সদর দক্ষিণের জাঙ্গালিয়া বাসস্ট্যান্ড ও সদরের শাসনগাছা বাসস্ট্যান্ডে বিভিন্ন পরিবহনগুলো দখল, চাদাঁবাদির অভিযোগ উঠেছে এই আহ্বায়ক কমিটির দুয়েকজনের বিরুদ্ধে।

৩. বি-পাড়া উপজেলা ও সদরের পাচঁথুবী এলাকা দিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের আশ্রয় ও পালানোর কাজে সহায়তার অভিযোগও রয়েছে কমিটির দুয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে।

৪. সম্প্রতি কমিটি বিলুপ্ত হওয়ার আগে চৌদ্দগ্রামে কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক কামরুল হুদা এক জনসভায় বলেছিলেন- শহীদ জিয়াউর রহমানের নাম নিলে বেহেশত নিশ্চিত। এই বক্তব্য নিয়ে অনেক সংবাদ প্রচার হয়। যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।

৫. জেলা ও মহানগর কমিটিতে যারা আছেন এবং যারা পদ পাননি এমন অনেক নেতাই নিজেদের মধ্যে কোন্দলে জড়িয়ে গেছেন। জেলা ও মহানগর মিলে অন্তত ৪টি গ্রুপে বিভক্ত কুমিল্লার বিএনপি। এক সাথে অনেককে বিভিন্ন দলীয় প্রোগ্রামে দেখা গেলেও তারা এখন নিজেরাই কোন্দলে জড়িয়ে পড়েছেন। আগামী সংসদ নির্বাচন ও কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপির কোন্দল আরো বাড়ছে। অনেকে মনে করছেন-এই কমিটি বিলুপ্তির পিছনে গ্রুপিং-কোন্দলও বড় ভূমিকা পালন করেছে।

উপরোল্লেখিত কারণগুলোর কারণে কমিটি বিলুপ্ত হয়েছে কিনা নিশ্চিত হলেও এই কারণগুলোই হয়তো মূল ভূমিকা পালন করেছে।

কমিটি গঠনের ২ বছর ৭ মাস পর কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। ২ জানুয়ারি রাতে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বার্তায় এ তথ্য জানা যায়। এর আগে ২০২২ সালের ৩০ হাজী আমিন-উর রশীদ ইয়াছিনকে আহ্বায়ক ও ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাজী জসিম উদ্দিনকে সদস্য সচিব করে ৪১ সদস্যের কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির কমিটি করে দলটি।

কুমিল্লায় নেতাকর্মীদের ফেসবুক প্রোফাইলজুড়ে হাজী ইয়াছিন

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির কমিটি বিলুপ্তি হয়েছে বেশ কিছুদিন হল। দুয়েকদিনের মধ্যেই নতুন কমিটি ঘোষণা হবে জানা গেছে। কে আসবে নতুন কমিটিতে তা নিয়ে বেশ সরব কুমিল্লার রাজনীতি। দুয়েকদিন ধরে নতুন আরেকটি ধারা পরিলক্ষিত হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে। সাবেক সংসদ সদস্য  হাজী আমিন উর রশীদ ইয়াছিনের সমর্থনে তাঁর সমর্থিত নেতাকর্মীরা ফেসবুক প্রোফাইলে নিজেদের ছবি পরিবর্তন করে হাজী ইয়াছিনের ছবি আপলোড করেছে। নতুন কমিটিতে হাজী ইয়াছিনকে পুনরায় আহ্বায়ক হিসেবে দেখার জন্যই নেতাকর্মীরা এ পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে একাধিক সূত্র জানায়।

হাজী আমিন উর রশীদ ইয়াছিন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির বিলুপ্ত কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন।

স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির কমিটি বিলুপ্তির পিছনে একাধিক কারণ থাকলেও হাজী ইয়াছিনের কর্মকান্ড ছিল ইতিবাচক। তাই নেতাকর্মীরা তাকে পুনরায় এই  কমিটিতে দেখতে চান। তারা বলেন- হাজী ইয়াছিন ভাই ক্লিন ইমেজের রাজনীতিবিদ। ৫ আগষ্টের পর অনেকের বিরুদ্ধে বাড়ি-ঘর, দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখলের অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু সেখানে হাজী ইয়াছিন ভাই ব্যতিক্রম। যার বিরুদ্ধে একটাও অভিযোগ নাই। বিগত ১৫ বছরে দলের দু:সময়ে তিনি সক্রিয় ছিলেন। নেতাকর্মীদের পাশে তিনিই ছিলেন। সুসময়ের পাখিদের দিয়ে যেন নতুন কমিটি না করা হয়। আমরা হাজী ইয়াছিনকে চাই। নতুন কমিটিতে নেতৃত্বে তিনিই থাকবেন । হাজী ইয়াছিনকে নিয়ে অনেক ষড়যন্ত্র হচ্ছে। বিগত সময়ে যারা এমপি বাহারের সাথে তাল মিলিয়ে চলেছে, তারা হাজী ইয়াছিনকে বাদ দিতে ষড়যন্ত্র করছে। কুমিল্লার রাজনীতিতে হাজী ইয়াছিনের বিকল্প নাই। সকল ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে আমরা আমাদের ফেসবুক প্রোফাইলে নেতা হাজী ইয়াছিনের ছবি দিয়েছি।

 

জুলাই বিপ্লবে আহত কুবি শিক্ষার্থীদের আর্থিক অনুদান প্রদান

 

চাঁদনী আক্তার, কুবি:

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আহত শিক্ষার্থীদের আর্থিক অনুদান প্রদান করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এসময় প্রায় ৩০ জন আহত শিক্ষার্থীর মাঝে চেক তুলে দেয়া হয়।

রোববার (১৯ জানুয়ারি) কুবির ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল হাকিমের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো: হায়দার আলী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাসুদা কামাল, কোষাধ্যক্ষ ড. মোহাম্মদ সোলাইমান এবং আরও উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক – শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তাগণ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কবৃন্দ।

এ সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক মোজাম্মেল হোসেন আবির বলেন‚ ‘অনেক দেরিতে হলেও কুবি আহত শিক্ষার্থীদের সহায়তার উদ্যোগ নিয়েছে। আন্দোলন করা বীররা কীসের প্রেক্ষিতে আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছিল তার ফল কি এখন দেখতে পাচ্ছি? এই প্রশ্নে আসলে আমরা হতাশা ছাড়া কিছুই দেখতে পাই না। ক্যাম্পাসে এখনো ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা, ছাত্রলীগের দোসররা নির্বিঘ্নে ঘুরে বেড়াচ্ছে। প্রশাসন থেকে কোন পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না। এছাড়াও যারা আমাদের ভাইদের বুকে গুলি চালিয়েছে তাদেরকে এখনো গ্রেপ্তার না করে বরং শেল্টার দেয়ার প্রবণতা রয়ে গেছে প্রশাসনের মধ্যে।’

শহীদ আব্দুল কাইয়্যুমকে স্মরণ করে তার অবদানকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়ার প্রয়োজনীয়তা দেখিয়ে উপ-উপাচার্য অধ্যাপ ড. মাসুদা কামাল বলেন‚ ‘জুলাই বিপ্লবে ছাত্র-জনতার যে আন্দোলন তা পৃথিবীতে বিরল। ছাত্ররা আবার প্রমাণ করে দেখিয়েছে যে ভীরুতা সমাধান নয় বরং সাহসিকতার সাথে নির্যাতনের বিরুদ্ধে মোকাবিলা করাটাই কাম্য। তাই তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। আমি আমাদের প্রশাসনের বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ শুনেছি। আমার খুবই ভালো লেগেছে। আসলে আমাদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে এবং আমরা ভুলের ঊর্ধ্বে নই।’

আন্দোলনের মর্মার্থ ব্যাখ্যা করে উপাচার্য ড. মো: হায়দার আলী বলেন‚ ‘এখানে প্রায় ত্রিশ জনের মতো আহত শিক্ষার্থী আছে। তারা আন্দোলনে শহীদ হতে পারতো। সেটাই সহজ ছিল। আমরা আহতদের জন্য তেমন কিছুই করতে পারিনি। সরকার থেকে আহতদের সাহায্য করার ঘোষণা দিয়েছিলো। আমরা ১১ জনের লিস্ট স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছিলাম। তারা এখনো কোন পদক্ষেপ নেননি। যাইহোক, মুক্তিযুদ্ধের সময় আমি চতুর্থ শ্রেণীতে পড়তাম। তখন মোংলা কমান্ডার নামের এক বীর মুক্তিযোদ্ধা এলাকায় পরিচিত ছিল। তিনি মুক্তিযোদ্ধা সনদ নেননি। ইতিহাসেও হয়ত তার নাম নেই। তিনি হোটেল চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। আন্দোলনে অংশ নেয়াটাই অনেক মর্যাদার বিষয়। গত সতেরো বছরে পরিকল্পিতভাবে দেশের মানুষের নৈতিকতা নষ্ট করে দেয়া হয়েছে। এখনও তার প্রভাব রয়ে গেছে, সমন্বয়কদের মধ্যেও দল তৈরি হয়ে গেছে। এভাবে সামনে আগানো বড় কঠিন। আমাদের মানুষ হতে হবে, মুনাফিক হলে চলবে না। তোমরা বীররা মানুষ থাকবা, মুমিন থাকবা। আমি আল্লাহর কাছে দোয়া করি, আল্লাহ যেন সকলের নৈতিকতার উন্নয়ন ঘটান। আমরা এখানে যে ৩০ জন বীরকে ডেকেছি, তাদের সকলের সুস্বাস্থ্য কামনা করছি।’

কুমিল্লা জেলা পর্যায়ে জাতীয়  গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্ণামেন্টের (অনুর্ধ্ব ১৭) উদ্বোধন

হাবিবুর রহমান মুন্না/উজ্জ্বল  হোসেন  বিল্লাল :

তারুণ্যের উৎসব ২০২৫  উদযাপন উপলক্ষে কুমিল্লা জেলা পর্যায়ে জাতীয়  গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্ণামেন্ট বালক (অনুর্ধ্ব ১৭) ও জাতীয়  গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্ণামেন্ট বালিকা (অনুর্ধ্ব ১৭ )এর উদ্বোধন হয়েছে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে কুমিল্লা জেলা প্রশাসন ও জেলা ক্রীড়া অফিসের বাস্তবায়নে  এ টুর্ণামেন্ট শুরু হয়েছে।

রবিবার (১৯ জানুয়ারি)  সকালে কুমিল্লার শহীদ  ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে এই দুই  টুর্ণামেন্টের উদ্বোধন করেন  কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মো: আমিরুল কায়ছার।  পরে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।

এ সময় স্বাগত বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা সুমন কুমার মিত্র।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) পন্কজ বড়ুয়ার সভাপতিত্বে  উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা  ফাতেমা তুজ জোহরা, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মাহবুবুল আলম চপল, জেলা ক্রীড়া সংস্থার কোষাধ্যক্ষ সাইফুল আলম বাবু, ফুটবল কোচ তুহিন, সমন্বয়ক ওহিসহ আরো অনেকে।

 

কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের নতুন চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো: শামছুল ইসলাম

 

হাবিবুর রহমান মুন্না:

কুমিল্লাসহ দেশের চারটি শিক্ষা বোর্ডে একযোগে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

যশোর, কুমিল্লা, সিলেট ও দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে নতুন চেয়ারম্যান পদায়ন দেওয়া হয়েছে।

রবিবার (১৯ জানুয়ারি) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের ওয়েবসাইট এই প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়। এর আগে এতে স্বাক্ষর করেন, উপসচিব মাহবুব আলম।

পদায়ন পাওয়া নতুন চেয়ারম্যান হলেন, যশোর বোর্ডে অধ্যাপক ড. মোসাম্মৎ আসমা বেগম, কুমিল্লা বোর্ডে অধ্যাপক মো: শামছুল ইসলাম, সিলেট বোর্ডে অধ্যাপক মো: আনোয়ার হোসেন চৌধুরী এবং দিনাজপুর বোর্ডে অধ্যাপক মহা: তৌহিদুল ইসলাম। তাদেরকে প্রেষণে পদায়ন করা হয়েছে।

দ্বিতীয় দিনের মতো ফুটপাত দখলমুক্ত অভিযানে সেনাবাহিনী

 

হাবিবুর রহমান মুন্না:

কুমিল্লা নগরীর রাজগঞ্জ,ছাতিপট্টি,কাপড়িয়াপট্টি, কাশারীপট্টি মোড়,চকবাজার, শাসনগাছা ফ্লাইওভার, ও পাসপোর্ট অফিসের সামনে রাস্তার দুই সাইডে থাকা অবৈধ দোকান স্থাপনাসহ ১১ টি বাঁশের গেট ফুটপাত দখলমুক্ত করতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

রবিবার (১৯ জানুয়ারি) বেলা ১১টা থেকেই জেলা প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর কুমিল্লা সদর ক্যাম্পের যৌথ
উদ্যোগে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

এতে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার আব্দুল্লাহ আল নূর আশেক ও সেনাবাহিনীর কুমিল্লা সদর ক্যাম্পের সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার শাহাদাতের নেতৃত্বে এই দখলমুক্ত অভিযান পরিচালনা করা হয়।এতে সহযোগিতা করেন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন ও কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার আব্দুল্লাহ আল নূর আশেক জানান, জনগণের চলাচল বিঘ্ন করে ফুটপাত দখল করে রাখে ব্যবসায়ীরা। বারবার সতর্ক করার পরেও তারা ফুটপাত ছেড়ে দেননি। তারই প্রেক্ষিতে আজ ফুটপাত দখলমুক্ত করার অভিযান পরিচালনা করা হয়।

তিনি আরও জানান, কুমিল্লা নগরবাসীকে যেন সুন্দর একটা নগরী উপহার দিতে পারি সেজন্য আমাদের এই যৌথ প্রচেষ্টা। ভবিষ্যতে শহরের কোনো ফুটপাত দখল করে দোকানপাট বসানো ও দোকানের মালামাল এবং রাস্তা দখল করে গেইট করে রাখার ব্যাপারে কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। আমাদের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে