All posts by jitu

শেখ হাসিনার এভাবে পালিয়ে যাওয়া দেশের জন্য লজ্জাজনক: ইসলামি সমাজ

 

দাউদকান্দি প্রতিনিধি:

ভাংচুর,অগ্নিসংযোগ ও হামলার প্রতিবাদে দাউদকান্দিতে মিছিল ও কর্মীসমাবেশ করেছে ইসলামী সমাজ । বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) বিকেলে সংগঠনটির প্রধান কার্যালয় থেকে একটি মিছিল বের হয়। মিছিলটি কুশিয়ারা থেকে ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের রায়পুর বাসস্ট্যান্ড হয়ে স্কুল মাঠে গিয়ে শেষ হয়। মিছিল থেকে “এই মুহুর্তে দরকার, ইসলামী সরকার” ” মানুষের কল্যানে দরকার, ইসলামি সরকার” ” গণতন্ত্র খতম করো, রাব্বুন আল্লাহ ঘোষণা করো” স্লোগান দিতে দেখা গেছে। পরে রায়পুর বাসস্ট্যান্ডে পথসভায় বক্তব্য রাখেন সংগঠনটির আমীর সৈয়দ হুমায়ুন কবির।
তিনি বলেন, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী গণতন্ত্রের নামে স্বৈরতান্ত্রিক জুলুমবাজ হাসিনা সরকারের পতনের মাধ্যমে জাতীয় জীবনে এক নতুন বিপ্লবের সূচনা হয়েছে। বৈষম্য মুক্ত সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের পথ পরিষ্কার হয়েছে।

স্বৈরতান্ত্রিক জুলুমবাজ হাসিনা মনে করেছিলেন তাকে আর কেউ ক্ষমতা থেকে সরাতে পারবে না। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলো ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন করেও সরাতে পারেনি। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন কিছু সংখ্যক ছাত্রনেতার নেতৃত্বে তীব্র আন্দোলন ঘটিয়েছেন। যদি আল্লাহর ইচ্ছা না থাকত তাহলে ছাত্ররা বুক পেতে দিতনা। এদেরকে(ছাত্রদের) মাঠে কে নামিয়েছিল, কেন নামিয়েছিলেন? হাসিনার পতন ঘটানোর জন্য আল্লাহ তাদের(ছাত্রদের) নামিয়েছিলেন। এর মাধ্যমে দেশের মানুষকে এবং বিশ্বের মানুষকে আল্লাহ শিক্ষা দিতে চেয়েছেন। যে যত ক্ষমতাই দেখাওনা কেনো, আল্লাহর ইচ্ছা হলে সব ক্ষমতাই মুহুর্তেই ধুলিঃস্বাৎ হয়ে যাবে।

আর হাসিনা তার দলের লোকদের কোন দিকনির্দেশনা না দিয়ে, বিপদের মধ্যে ফেলে দেশ ছেড়ে উড়ে পালিয়ে গেলেন । তাঁর এভাবে চলে যাওয়া বাংলাদেশের জন্য একটি লজ্জাজনক বিষয়।

তিনি আরও বলেন, বৈষম্য মুক্ত সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর আইন-বিধানের ভিত্তিতে সংবিধান রচনা করলেই মানুষের জীবনে সুশাসন ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা হবে। বৈষম্য মুক্ত সমাজ ও রাষ্ট্র গঠন হলে সকল ধর্মের লোকেরা শান্তিপূর্ণভাবে যার যার ধর্ম পালন করতে পারবে।

কুবিতে সকল ধরনের রাজনীতি বন্ধের সিদ্ধান্ত

 

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) সকল ধরনের রাজনীতি বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির।

বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০০ তম সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সিন্ডিকেট সদস্য জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সিন্ডিকেটেই সকল ধরনের রাজনীতি বন্ধের সিদ্ধান্ত হয়েছিলো। এবং তারই আলোকে আজ ১০০ তম সিন্ডিকেট সভায় সকল ধরনের রাজনীতি বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কোনো শিক্ষার্থী যদি রাজনৈতিক সংগঠন কিংবা তার ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের সাথে যুক্ত থাকে তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের ৪৩ অনুচ্ছেদের ৪ নং ধারায় বলা আছে, কোন শিক্ষক, কর্মকর্তা বা কর্মচারী কোন রাজনৈতিক সংগঠনের সদস্য হইতে পারিবেন না৷ সে জন্য নতুন করে নিষিদ্ধ করার কিছু নাই।

এই বিষয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মো: আমিরুল হক চৌধুরী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল প্রকার ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়েছে এর সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা কোন রাজনৈতিক দলের সাথে জড়িত থাকতে পারবে না বলে ১০০তম সিন্ডিকেট সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

প্রসঙ্গত আজ বিকাল ৪ টার মধ্যে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে সকল ধরনের রাজনীতি বন্ধের আল্টিমেটাম দেয় শিক্ষার্থীরা। যার প্রেক্ষিতে জরুরি সিন্ডিকেট সভা ডেকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়৷

ট্রাফিক সেবায় নিয়োজিত শিক্ষার্থীদের ছাতা দিল বসুন্ধরা সিমেন্ট ও শুভসংঘ

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে ট্রাফিক সেবায় নিয়োজিত আছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তাদের সাথে কাধে কাধ মিলিয়ে কাজ করছে বসুন্ধরা শুভসংঘ সদস্যরা। এই রোদ এবং বৃষ্টি থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের বাঁচাতে বসুন্ধরা সিমেন্টের পক্ষ থেকে ছাতা বিতরণ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শুভসংঘ বন্ধুরা।

এছাড়াও আজ সকালে পলাশী বাজার এবং ফকিরাপুল বাজারে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রন এবং বাজারে ভারসাম্য বজায় রাখতে কাজ করছে বসুন্ধরা শুভসংঘের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা শুভসংঘ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মো. আমিনুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক রূহানী খাতুন, ঢাকা কলেজ শাখার সভাপতি রাজীব, ঢাবি শাখার সদস্য আশরাফুল, শাকিল, ফারিহাসহ অনেকে।

বসুন্ধরা শুভসংঘ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মো. আমিনুর রহমান বলেন শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে সামাজিক কাজে অংশগ্রহণ করে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। বসুন্ধরা সিমেন্টের পক্ষ থেকে আমাদের ছাতা বিতরণ তাদেরকে অনুপ্রাণিত করবে। এছাড়াও আমরা পুলিশের কর্মবিরতিতে থাকাকালীন ট্রাফিক সেবা দিচ্ছি এবং ক্যাম্পাস পরিচ্ছন্নতার কাজে অংশগ্রহণ করছি। এসব সামাজিক কাজে অংশগ্রহণ শিক্ষার্থীদের উন্নত সমাজ বিনির্মাণে সহযোগিতা করবে।

কুমিল্লায় দেখা নেই ট্রাফিক পুলিশ; যানজট নিরসনে কাজ করছে শিক্ষার্থীরা

 

মো: উজ্জ্বল হোসেন বিল্লাল:

পুলিশ ও ট্রাফিক পুলিশের কর্মবিরতির কারণে কুমিল্লা নাগরীর বিভিন্ন সড়কে তীব্র যানজট ও বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। তবে এই যানজট নিরসনে শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে ট্রাফিক পুলিশের ভূমিকায় দেখা গেছে শিক্ষার্থীদের।

বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) সকাল থেকে নগরীর কান্দিরপার, রাজগঞ্জ, চকবাজার, মোগলটুলি ফৌজদারি, পুলিশ লাইনস, শাসনগাছা, সালাউদ্দিন মোড়, টমচমব্রীজ, পদুয়ার বাজার সহ নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে ট্রাফিকের দায়িত্বে ছিলেন বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থী। তারা রোদ, বৃষ্টি উপেক্ষা করে যানজট নিরসনে কাজ করছেন।

এ সময় দায়িত্বরত শিক্ষার্থীরা হেলমেটবিহীন মোটরসাইকেল চালকদের থামিয়ে তাদের হেলমেট পরে মোটরসাইকেল চালানো এবং সিরিয়াল মানতে অনুরোধ করেন।

কান্দিরপার থেকে পদুয়ার বাজার যাওয়া যাত্রী আনোয়ার ইসলাম দৈনিক আজকের কুমিল্লাকে বলেন, ছাত্রছাত্রীদের এমন ভূমিকায় সত্যিই মুগ্ধ হয়েছি। রাস্তায় অনেকটাই শৃঙ্খলা ফিরে এসেছে। বিগত দিনে ট্রাফিক পুলিশরা বিভিন্ন ধাপে জিবির টাকার আদায় করা পর যেটা পারে নাই কিন্তু শিক্ষার্থীরা স্বেচ্ছায় কাজ করে নিয়ন্ত্রণ করতেছে।

অটোরিকশাচালক সোহেল আহমেদ বলেন, ‘ছাত্রছাত্রীরা সবাইকে শৃঙ্খলার মধ্যে চলতে অনুরোধ করছেন। তাদের সুন্দর ব্যবহার শালীন আচরণে সবাই খুব খুশি।

সিএনজি চালক আব্দুল মতিন বলেন, অনেকদিন পর শৃঙ্খলার মধ্যে শহরে সিএনজি চালাতে পারতেছি। শিক্ষার্থীদের আচরণ সত্যিই আমি মুগ্ধ করছে।

নগরীর কান্দিরপার ট্রাফিক চত্বরে দায়িত্বে থাকা শিক্ষার্থী ফরহাদ হোসেন বলেন, নগরীতে ট্রাফিক পুলিশ নেই তাতে কি হয়েছে, আমরা রাজপথে এতদিন ধরে আন্দোলন করেছি। তাতে চালকদের ও জনসাধারণকে অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। আমরা এখন যানজট নিরসন ও দুর্ভোগ দূরীকরণে কাজ করছি।

টমচমব্রীজ স্থানে দায়িত্ব পালন পালনকারী শিক্ষার্থী তানভীর হোসেন বলেন, আমাদের দেশ আমরা নতুন করে সাজাতে চাই। যতদিন ট্রাফিক পুলিশ কাজে না ফিরবে ততদিন আমরা নগরীর রাস্তা গুলোতে যানজট নিরসনে কাজ করব এবং মানুষকে স্বস্তি দেওয়ার চেষ্টা করে যাবো।

বিডি ক্লিন কুমিল্লার শাহ আরেফিন ও আইটি এন্ড মিডিয়ার দায়িত্বে থাকা উপ-সমন্বয়ক বলেন, ছাত্রদের এই দেশ সংস্কারের আয়োজন যতদিন পর্যন্ত শেষ না হয় ততদিন পর্যন্ত আমাদের এই কাজ চলমান থাকবে। ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে সমন্বয় করে আমাদের বেশ কয়েকটি ইউনিট মাঠে কাজ করছে কেউ ট্রাফিকের দায়িত্বে কেউ বাজার মনিটরিং করছে যেনো দ্রব্যমূল্যে দাম নিয়ন্ত্রণ থাকে। আমাদের এই কাজ চলমান থাকবে ইনশাআল্লাহ আমরা পথচারী থেকে শুরু করে চালক সহ অন্যান্য সকলে সহযোগিতা কামনা করছি যেনো আমরা আগামীর সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে পারি।

আমার প্রতি আস্থা রাখলে কারও ওপর হামলা করা যাবে না: ড. ইউনূস

ডেস্ক রিপোর্ট:

দেশে ফিরে ড. ইউনূস সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। বলেছেন, আমার প্রতি যদি আস্থা রাখেন তাহলে কারও ওপর হামলা করা যাবে না।

শান্তিতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস আজ রাতে অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান হিসেবে শপথ নেবেন। তিনি বৃহস্পতিবার দুপুর ২ টায় ফ্রান্স থেকে শাহজালালে এসে পৌছান। তাকে স্বাগত জানাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গিয়েছেন গণ-আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদসহ অন্য সমন্বয়কেরা।

এ সময় তিনি উপস্থিত সবার উদ্দেশে বলেন, দ্বিতীয়বার স্বাধীনতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ। এই স্বাধীনতা রক্ষা করতেই হবে। দেশের প্রতিটি মানুষকে সুরক্ষা দেওয়া আমাদের দায়িত্ব।

ড. ইউনূস এ সময় শিক্ষার্থীদের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি শহীদ আবু সায়ীদের আত্মত্যাগকে স্মরণ করেন। তিনি অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুলের ভূমিকা নিয়েও প্রশংসা করেন।

ড. ইউনূস বিমানবন্দরে নেমে উপস্থিত ছাত্র নেতাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। এরপর তিনি বাসায় যাবেন।

দেশে ফিরলেন ড. ইউনূস

ডেস্ক রিপোর্ট:

দেশে ফিরেছেন শান্তিতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) দুপুর ২টার পর তাকে বহনকারী ফ্লাইটটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। এর আগে বুধবার (৭ আগস্ট) ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের চার্লস দ্য গল বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা করেন ড. ইউনূস।

শান্তিতে নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের শপথ হতে পারে আজ রাত ৮টায়।

বুধবার (৭ আগস্ট) বিকেল পৌনে ৬টার দিকে সেনাসদরে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান সেনাবাহিনী প্রধান। এ সরকারে ১৫ জন সদস্য থাকতে পারেন বলেও জানান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা অন্তর্বর্তী সরকারের ১৫ জনের নামের একটি তালিকা তৈরি করেছেন বলে জানা গেছে।

মঙ্গলবার রাতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে তিন বাহিনী প্রধান ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের বৈঠকে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রধান করে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের সিদ্ধান্ত সিদ্ধান্ত হয়।

সোমবার (৫ আগস্ট) দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন শেখ হাসিনা। তার সঙ্গে ছোট বোন শেখ রেহানাও দেশত্যাগ করেন। এর পরপরই মন্ত্রিসভা বিলুপ্ত হয়।

শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। ভাষণে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করে দেশ পরিচালনা করা হবে।

এদিকে মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ বিলুপ্ত ঘোষণা করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। বঙ্গভবন থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১২ কোটি টাকার অবৈধ ভারতীয় মালামাল জব্দ

ডেস্ক রিপোর্ট:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল ব্যাটালিয়ন-২৫ বিজিবির চোরাচালানবিরোধী অভিযানে কয়েক কোটি টাকা মূল্যের উন্নতমানের বিভিন্ন অবৈধ ভারতীয় মালামাল জব্দ করা হয়েছে। ২৫ বিজিবির অধীন ব্রাহ্মণবাড়িয়া ট্রানজিট ক্যাম্পের একটি বিশেষ টহল দল, জেলা প্রশাসন এবং পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত টাস্কফোর্স টিম এ অভিযানে অংশ নেয়।

বুধবার দুপুরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সরাইল ব্যাটালিয়ন গত ৪ আগস্ট ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সরাইল বিশ্বরোড এলাকায় ঢাকাগামী বালুবোঝাই ট্রাকে অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় তল্লাশি চালিয়ে অভিনব উপায়ে ট্রাকের ভেতরে লুকিয়ে রাখা কোটি টাকা মূল্যের ভারতীয় বিভিন্ন প্রকারের সানগ্লাস এবং চশমা জব্দ করা হয়। যার মূল্য ৯ কোটি ২০ লাখ ৬৮ হাজার ১০০ টাকা।

এ ছাড়া গত ১ আগস্ট ২ কোটি ২৬ লাখ ১৮ হাজার ৮০ টাকা মূল্যের ভারতীয় কসমেটিকস, চকলেট ও চিনি জব্দ করা হয়। গত ৩০ জুলাই ৩ জন আসামিসহ ভারতীয় ১৪ হাজার কেজি চিনি ও ১টি কাভার্ডভ্যান জব্দ করা হয়। যার মূল্য ৭২ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

সরাইল ব্যাটালিয়ন ২৫ বিজিবি অধিনায়ক লে. কর্নেল ফারাহ্ মোহাম্মদ ইমতিয়াজ বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রাষ্ট্রীয় সম্পদ, স্থাপনা এবং ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক সার্বক্ষণিক সচল রাখার দায়িত্বে রয়েছেন বিজিবি সদস্যরা। দিনরাত টহল কার্যক্রম পরিচালনাকালে জেলা প্রশাসন এবং পুলিশের সহযোগিতায় আমরা এ বিপুল পরিমাণ চোরাচালানি মালামাল জব্দ করতে সক্ষম হই।

তিনি বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানায় বিক্ষুব্ধ জনতার অগ্নিসংযোগের কারণে জব্দকৃত চোরাচালানি মালামাল বিজিবির হেফাজতে রয়েছে।

হদিস পাওয়া যাচ্ছে না পাপনের

ডেস্ক রিপোর্ট:

ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনের মুখে সোমবার পদত্যাগ করে দেশ ছেড়েছেন শেখ হাসিনা। আর এতেই বিপদে পড়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) একাধিক কর্মকর্তা। প্রধানমন্ত্রীর দেশত্যাগের পর থেকেই হদিস পাওয়া যাচ্ছে না বিসিবিপ্রধান নাজমুল হাসান পাপনের। বাকি কর্মকর্তাদেরও একটি বড় অংশ আসছেন না বিসিবি কার্যালয়ে। স্বাভাবিকভাবেই তাই প্রশ্ন— নেতৃত্বশূণ্যতায় কী হবে দেশের ক্রিকেটের?

বিসিবির শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের একটি বড় অংশই ছিল আওয়ামী লীগের। বোর্ডপ্রধান নাজমুল হাসান পাপন ছিলেন আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়াবিষয়ক মন্ত্রী। এর বাইরে পরিচালকদের মধ্যে শফিউর রহমান নাদেল ছিলেন আওয়ামী লীগের একজন সংসদ সদস্য। নাইমুর রহমান দুর্জয় ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য। আ জ ম নাসির উদ্দীন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র। প্রধানমন্ত্রীর দেশত্যাগের পর তারা সবাই এখন গা ঢাকা দিয়েছেন।

আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মীর বাসায় আগুন দেওয়া হয়েছে। সাবেক দুই অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা ও সাকিব আল হাসান আওয়ামী লীগের সংসদ হওয়ায় পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে তাদের দলীয় কার্যালয়। পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে মাশরাফির বাড়ি। আগুন দেওয়া হয়েছে পাপনের নির্বাচনি এলাকায় তার ভৈরবের বাড়িতেও। যদিও নাজমুল হাসান পাপন সেই সময় ভৈরবে ছিলেন না। বোর্ডে থাকা আওয়ামী লীগের বাকি নেতারাও গা ঢাকা দিয়েছেন।

জনমনে প্রশ্ন— কোথায় আছেন পাপন? এই প্রশ্নের অবশ্য পরিষ্কার কোনো উত্তর নেই। বিসিবির কেউ কেউ বলছেন— পাপন দেশ ছেড়েছেন। আবার কারও কারও দাবি— তিনি দেশেই আছেন। তবে নিরাপত্তার জন্য আপাতত গা ঢাকা দিয়েছেন পাপন। বিসিবিতে আবারও তিনি আসবেন কিনা, সেই প্রশ্নের উত্তরও নেই তাদের কাছে। তাদের মতে, বিসিবিপ্রধান ধরে নিয়েছেন তার সময় শেষ।

তবে সমস্যা হলো চাইলেও আপাতত জোর করে সরানো যাচ্ছে না পাপনকে। কেননা বিসিবিতে পাপনের মেয়াদ শেষ হবে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে। তার আগে জোরপূর্বক তাকে সরিয়ে দেওয়া কোনো সুযোগ নেই। আর সেটি হলে আইসিসির পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে বাংলাদেশ ক্রিকেটের ওপর। কেননা বোর্ডের ওপর সরকার বা অন্য কোনো শক্তির হস্তক্ষেপ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ।

দাউদকান্দিতে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকারী গণপিটুনিতে নিহত

উপজেলা প্রতিনিধি:

দাউদকান্দিতে যানজট নিয়ন্ত্রণকারী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকারী যুবক মাহবুব আলম (২৫) গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন। বুধবার (৭ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার গৌরীপুর বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. শাহ আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নিহত মাহবুব জেলার তিতাস উপজেলার লালপুর গ্রামের মনু মিয়ার ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার সকাল থেকে দাউদকান্দির গৌরীপুর বাজার এবং বাসস্ট্যান্ড এলাকায় যানজট নিয়ন্ত্রণে কাজ করে ছাত্ররা। দুপুর ২টার দিকে সিএনজিচালিত একটি অটোরিকশা থেকে চাপাতি দিয়ে ছাত্রদের এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করেন মাহবুব আলম।

এ সময় শিক্ষার্থী শামীম, কারীম, আবদুল্লাহ, সাইফ, নেওয়াজ শরীফ ও সিমু ইসলামসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। আহতদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে গৌরিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে হামলাকারী যুবক মাহবুবকে সিএনজিসহ গৌরীপুর পশ্চিম বাজারে আটক করে স্থানীয় জনতা। এসময় গণপিটুনিতে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান।

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র

ডেস্ক রিপোর্ট:

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র। নতুন এই সরকার বাংলাদেশে গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছে মার্কিন প্রশাসন। বার্তা সংস্থা প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়াকে (পিটিআই) দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ কথা জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন মুখপাত্র।

তিনি বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার সংক্রান্ত সব সিদ্ধান্তে গণতান্ত্রিক নীতি, আইনের শাসন এবং বাংলাদেশের জনগণের ইচ্ছাকে সম্মান করা উচিত। আমরা বুঝতে পারছি, নোবেল বিজয়ী মুহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্ব দিতে সম্মত হয়েছেন। আমরা অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে কাজ করার জন্য প্রস্তুত। কারণ, এটি বাংলাদেশের জনগণের জন্য গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।

অন্যদিকে, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার বুধবার (৭ আগস্ট) তার দৈনিক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেছেন, আমরা বাংলাদেশের ঘটনাবলীর ওপর নজর রাখছি এবং স্পষ্টতই, অন্তর্বর্তী সরকারের নেতা হিসেবে মুহাম্মদ ইউনূসের নিয়োগের খবর দেখেছি।