All posts by jitu

বিএনপি আগুন সন্ত্রাসের হুমকি দিচ্ছে: ওবায়দুল কাদের

বিএনপি আগুন সন্ত্রাসের হুমকি দিচ্ছে: ওবায়দুল কাদের

ডেস্ক রিপোর্ট:

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে ঢাকা শহর দখলের নামে আগুন সন্ত্রাসের হুমকি দিচ্ছে বিএনপি। এসব করে লাভ হবে না। তাদের (বিএনপি) খায়েশ পূরণ হবে না।

রোববার (২২ অক্টোবর) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষ্যে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচনের সিডিউল হবে নভেম্বরের মাঝামাঝি। সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে জানুয়ারিতে। নভেম্বরে নির্বাচনের ট্রেন ছেড়ে দেবে, মিস করলে পিছিয়ে পড়বেন। কারও জন্য অপেক্ষা করবে না। যথাসময়ে সংবিধান অনুযায়ী আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

তিনি বলেন, সংবিধানকে যারা কচুকাটা করেছে, তারাই এখন সংবিধান মানে না। অস্বাভাবিক তত্ত্বাবধায়ক সরকার উচ্চ আদালত বাদ দিয়েছে। আওয়ামী লীগ বাদ দেয়নি। যে জিনিস নাই, সেটা দাবি করছে বিএনপি। এদেশে আর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা আসবে না। এই সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে। কারও জন্য নির্বাচন আটকে থাকবে না। কেউ আসুক আর না আসুক, তার জন্য অপেক্ষা করা হবে না।

ওবায়দুল কাদের বলেন, যারা মনে মনে স্বপ্ন দেখছেন রাস্তা অবরোধ, দখল করে আগের মতো বাস পুড়িয়ে, মানুষ পুড়িয়ে আপনারা আপনাদের ইচ্ছামতো সংবিধানকে কচুকাটা করবেন; সেই স্বপ্ন কোনদিনও পূরণ হবে না। সেটা আমরা হতে দেব না। এই সংবিধান ব্যবস্থা বহাল রেখে নির্বাচন হবে। কারও জন্য নির্বাচন আটকে থাকবে না।

তিনি আরও বলেন, আমরা জাতিকে বিভক্ত করছি না। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় এই দেশকে গড়তে চাই। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধ, আদর্শ-চেতনাকে আপনারা ধ্বংস করেছেন। ভোট চুরি করেছেন। ২০০৬ সালে নির্বাচন করতে গিয়ে দেখা গেছে আপনারা ভুয়া ভোটার তৈরি করেছেন। কাজে আমাদের সঠিক জায়গায় আসতে হবে। এ দেশকে সংবিধান অনুযায়ী চালাতে হবে। নির্বাচন ব্যবস্থা সংবিধান অনুযায়ী চালাতে হবে। এর বাইরে যারা যাবেন এবং অবরোধ দখলের হুমকি দিয়ে সেই খায়েশ পূর্ণ হবে না।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এ বি এম আমিন উল্লাহ নুরীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি বেগম রওশন আরা মান্নান, বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ মজুমদার, হাইওয়ে পুলিশ প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি এ কে এম শাহাবুদ্দিন খান, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি মশিউর রহমান রাঙ্গা, মহাসচিব এনায়েত উল্যাহ খন্দকার, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শাজাহান খান, সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী, নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)- এর চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন প্রমুখ।

দাউদকান্দিতে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত

দাউদকান্দিতে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত

জাকির হোসেন হাজারী, দাউদকান্দি প্রতিনিধি:

“আইন মেনে সড়কে চলি, স্নার্ট বাংলাদেশ গড়ে তুলি” এ প্রতিপাদ্যে দাউদকান্দিতে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত হয়েছে।

রবিবার বেলা সাড়ে ১১ টায় ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের দাউদকান্দির গৌরীপুর বাসস্ট্যান্ডে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) এবং দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার যৌথ উদ্যোগে সমাবেশ ও বর্ণাঢ্য র‍্যালী অনুষ্ঠিত হয়।

নিরাপদ সড়ক চাই দাউদকান্দি উপজেলা শাখার আহ্বায়ক লিটন সরকার বাদল ও সদস্য সচিব আলমগীর হোসেনের যৌথ সঞ্চলনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, দাউদকান্দি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মেজর (অব.) মোহাম্মদ আলী সুমন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: মহিনুল হাসান, হাইওয়ে পুলিশ কুমিল্লা রিজিয়ন এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আহমেদ রাজিউর রহমান, সহকারী পুলিশ সুপার (দাউদকান্দি সার্কেল) এনায়েত কবীর সোয়েব, দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মো: তৌহিদ আল হাসান, গৌরীপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মো: আসাদুজ্জামান, দাউদকান্দি ফায়ার সার্ভিসের এসও মোহাম্মদ রাসেল, দাউদকান্দি প্রেস ক্লাব সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন হাজারী, কুমিল্লা উত্তর জেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি মো: রকিব উদ্দিন, নিসচার পৃষ্টপোষক মো: কামাল উদ্দিন, গৌরীপুর মাইক্রোবাস মালিক সমিতির সভাপতি মো: মহিউদ্দিনসহ র‍্যালী ও সমাবেশে নিসচা’র সদস্য, উপজেলা প্রশাসন, হাইওয়ে ও জেলা পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, স্বাস্থ্য বিভাগ, সড়ক ও জনপদ বিভাগ, পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠন, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, সাংবাদিক সহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ অংশ গ্রহণ করেন।

মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় একাধিক কর্মকর্তা জড়িত, বিপুল অর্থের লেনদেন

ডেস্ক রিপোর্ট:

মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির জনবল নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে ফাঁসের সঙ্গে অধিদপ্তরের একাধিক পদস্থ কর্মকর্তা জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনার আগে ও পরের সিসি ক্যামেরা (ক্লোজ সার্কিট) ফুটেজ থেকে তাদের প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

তাদের অভিযোগ-পরীক্ষার আগে জেলায় জেলায় প্রশ্নপত্র পাঠিয়েছে নিয়োগ কমিটির সদস্য সচিব উপপরিচালক আবুল কাশেমের কম্পিউটার অপারেটর মো. শাহজাদা। আবুল কাশেম পশ্নপত্র ফাঁসের মূল পরিকল্পনাকারী।

এছাড়া জেলা পর্যায়ের একাধিক উপরিচালক, সংস্থার প্রধান কার্যালয়ের দুজন সহকারী পরিচালক এবং একজন অফিস সহায়কের নাম উঠে এসেছে। এক্ষেত্রে মোটা অঙ্কের টাকার লেনদেন হয়েছে। এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

এ বিষয়ে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) মুহাম্মদ ওয়াহেদুজ্জামান  বলেন, তদন্ত কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলমান।

অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা ও চাকরি প্রত্যাশীদের অভিযোগ-মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় পাশ করিয়ে চূড়ান্তভাবে নিয়োগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় নিয়োগ বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত সংশ্লিষ্টরা। কিন্তু প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার ঘটনা জানাজানি হয়ে গেলে ওই পরীক্ষা বাতিল করা হয়।

২০২১ সালের ১৯ ডিসেম্বর ৫০৪টি পদে জনবল নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে সংস্থাটি। ২৭ জন ডে-কেয়ার ইনচার্জ, ৬০ জন অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক এবং ৪১৭ জন অফিস সহায়ক নিয়োগ দেওয়ার কথা।

১৩ অক্টোবর রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মোট ২০টি কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীরা প্রবেশ করার পর হঠাৎ জানানো হয় পরীক্ষা নেওয়া হবে না। কোনো কারণ উল্লেখ না করে এবং পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই এমন ঘোষণায় দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পরীক্ষায় অংশ নিতে আসা শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের প্রধান ফটকে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। অনেকে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ফরিদা পারভীন  বলেন, পরীক্ষাটি সম্ভবত পিএসসি এবং মন্ত্রণালয় নিতে পারে। আমি সবটুকু জানি না। আমার গলা ব্যথা এখন কথা বলতে পারছি না।

তিনি সংস্থাটির পরিচালক মনোয়ারা ইশরাতের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। এরপর মনোয়ারা ইশরাত যুগান্তরকে বলেন, যা ঘটেছে তা নিয়ে তদন্ত হচ্ছে। যেহেতু বিষয়টি তদন্তাধীন সেহেতু এ বিষয়ে এখন কোনো কথা বলতে চাই না।

১৩ অক্টোবর প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে নিয়োগ কমিটির সদস্য সচিব আবুল কাশেম এবং তার কম্পিউটার অপারেটর মো. শাহজাদা প্রত্যক্ষভাবে জড়িত বলে অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা  জানান। শাহজাদার মূল পদ হচ্ছে হিসাবরক্ষক কাম ক্রেডিট সুপারভাইজার। তবে সে আবুল কাশেমের একান্ত অনুগত এবং কম্পিউটার অপারেটর হিসাবে কাজ করেন।

শাহজাদা নিজেই প্রশ্নপত্র তৈরির সময় ছিলেন এবং বগুড়া জেলার উপপরিচাক মো. শহিদুল ইসলামকে হোয়াটঅ্যাপে পাঠান।

এ বিষয়ে জানাতে চাইলে বগুড়ার উপপরিচালক মো. শহিদুল ইসলাম শনিবার মোবাইল ফোনে  বলেন, ‘পরীক্ষার দিন সকাল ৬টার দিকে আমার হোয়াটসঅ্যাপে একটি মেসেজ আসে। প্রথমে মনে করেছি আমার মেয়ের প্রশ্ন। পরে পড়ে দেখি অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদে জনবল নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র। পাঠিয়েছে প্রধান কার্যালয় থেকে শাহজাদা। কারণ তার নম্বর আমার মোবাইল ফোনে আগে থেকেই সেভ করা ছিল। আমি প্রথমে স্ক্রিনশট নিতে গিয়ে ভুলে তা ফেসবুকে শেয়ার হয়ে যায়। ফেসবুকে শেয়ার হওয়ার বিষয়টি আমার জানা ছিল না। কারণ আমি মোবাইলের ব্যবহার ভালোভাবে জানি না। পরে আমাকে সংস্থার প্রধান কার্যালয় থেকে ফোন করে ঢাকায় এনে লিখিত ও মৌখিক সাক্ষ্য নেওয়া হয়।

উপপরিচালক শহিদুল ইসলাম আরও জানান, অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলে তো অস্বীকার করতাম। মিথ্যার আশ্রয় নিতাম। আমি ঘটনা স্বীকার করে কর্তৃপক্ষের কাছে জবানবন্দি দেওয়ার পর কাশেম সাহেবের কম্পিউটার অপারেটর আমাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়েছে। সে বলেছে তার কিছু হলে সে আমাকে ছাড়বে না। সংস্থার পরিচালকের উপস্থিতিতেই সে আমাকে হুমকি দিয়েছে। তখন আমি বলেছি, ম্যাডাম নিরাপত্তার জন্য আমি জিডি করতে চাই।

সংস্থাটির একাধিক পদস্থ কর্মকর্তা জানান, নিয়োগ কমিটির সদস্য সচিব আবুল কাশেম জেলায় জেলায় ডিডিদের মাধ্যমে চাকরিপ্রার্থী সংগ্রহ করে তাদের লিখিত পরীক্ষার প্রশ্ন সরবরাহ করেন। তার সহযোগী হিসাবে ছিলেন কম্পিউটার অপারেটর শাহজাদা। বিপত্তি ঘটে বগুড়ার ডিডি ভুলে প্রশ্নপত্র ফেসবুকে শেয়ার করায়। ঘটনার পরপরই সংস্থাটির পরিচালক মনোয়ারা ইশরাতের জিজ্ঞাসাবাদে শাহজাদা বলেন, তার স্ত্রী মোবাইল ফোন থেকে সব তথ্য মুছে ফেলেছেন।

কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যেই শাহজাদা এবং আবুল কাশেমের বক্তব্য রেকর্ড করেছে। তাদের বক্তব্য রেকর্ড করার সময় আবুল কাশেম ও শাহজাদা নিজেদের নির্দোষ দাবি করলে সংস্থাটির পরিচালক মনোয়ারা ইশরাত বলেছেন, কাশেম সাহেব আপনি ক্যাঙ্গারু হলে শাহজাদা ক্যাঙ্গারুর বাচ্চা। শাহজাদা আপনার কম্পিউটার অপারেটর। সে আপনার সঙ্গে ডিউটি করে। আপনারা কিভাবে নির্দোষ দাবি করছেন।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ-প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে উপপরিচালক মো. আবুল কাশেম ও তার কম্পিউটার অপারেটর মো. শাহজাদা ছাড়াও বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী জড়িত আছেন।

নিয়োগ কমিটিতে সচিবের প্রতিনিধি হিসাবে থাকা যুগ্মসচিব নাহিদ মঞ্জুরা আফরোজ  বলেন, আমি এ বিষয়ে কথা বলতে চাই না। আমার কোনো সম্পৃক্ততাও নেই।

উপপরিচালক মো. আবুল কাশেমের মন্তব্য নিতে সোম ও বৃহস্পতিবার মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরে গিয়ে জানা গেছে, তিনি অফিসের বাহিরে আছেন। এরপর ওই ২ দিন তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলে তিনি রিসিভ করেননি। পাশাপাশি এই প্রতিবেদক পরিচয় দিয়ে একই নাম্বারে এসএমএস পাঠিয়ে তার বক্তব্য জানতে চাওয়া হয়। কিন্তু শনিবার রাত ৮টা পর্যন্ত এসএমএসের উত্তর আসেনি।

মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (এডি) মো. আব্দুল অদুদ  বলেন, আমি নিয়োগ কমিটিতে নেই। সুতরাং কিছুই জানি না। প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার পর ১৩ ও ১৪ তারিখ উপরিচালক মো. আবুল কাশেমের রুম তালা দিয়ে রাখে কর্তৃপক্ষ। পরে সেই রুম খুলে দেওয়া হয়।

সোম ও বৃহস্পতিবার অধিদপ্তরে গিয়ে উপপরিচালক আবুল কাশেমের কম্পিউটার অপারেটর মো. শাহজাদাকেও পাওয়া যায়নি। তবে একজন তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী এই প্রতিবেদককে জানান, ‘আপনার সাংবাদিক পরিচয় জেনে সে গা-ঢাকা দিয়েছে। অফিসেই আছেন।’

সূত্র: যুগান্তর।

কুমিল্লা নগরীতে চেম্বারে ঢুকে চিকিৎসক ও তার স্ত্রীকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত

কুমিল্লা নগরীতে চেম্বারে ঢুকে চিকিৎসক ও তার স্ত্রীকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লা নগরীর রেইসকোর্স এলাকায় শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. জহিরুল হক ও তার স্ত্রী ফারহানা আফরিন হিমিকে চেম্বারে ঢুকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করার অভিযোগ ওঠেছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আহমেদ সনজুর মোর্শেদ। তিনি জানায়, এ ঘটনায় অভিযুক্ত সালাউদ্দিন মোর্শেদ পাপ্পু নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। বাকি অভিযুক্তদেরও আটকের জন্য অভিযান চালানো হচ্ছে।

ডা. জহিরের স্ত্রী হিমির বড় ভাই কাজী শরিফ জানায়, রেইসকোর্সে শাপলা টাওয়ারের পরিচালানা কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্ব থেকে একদল লোক এসে ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা করে। এ সময় ডা। জহির মারাত্মক আহত হয়। তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে রাখা হয়েছে। আমার বোন হিমিকেও ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। তিনিও চিকিৎসাধীন আছে।

কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আহমেদ সনজুর মোর্শেদ জানান, অভিযুক্ত একজনকে গ্রেফতার করেছি। বাকিদের আটকের জন্য অভিযান চলছে।

এদিকে দোষীদের বিচার দাবি করেছেন চিকিৎসকদের সংগঠন বিএমএ কুমিল্লার সভাপতি ডা.আবদুল বাকী আনিস,সাধারণ সম্পাদক ডা. আতাউর রহমান জসীম, স্বাচিপ কুমিল্লার সাধারণ সম্পাদক ডা.মোরশেদ আলম, বিএমপিএ’র সভাপতি ডা. একেএম আবদুস সেলিম, সাধারণ সম্পাদক ডা. তৌফিকুন্নবী খান লিটন।

ইউক্রেনে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিহত ৬

ইউক্রেনে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিহত ৬

ডেস্ক রিপোর্ট:

ইউক্রেনের খারকিভ অঞ্চলে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন আরও ১৪ জন।

শনিবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। খবর আলজাজিরার।

জেলেনস্কির সামাজিকমাধ্যম টেলিগ্রামে শেয়ার করা ওই ভিডিওতে দেখা গেছে, এ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বেশ কয়েকটি আবাসিক ভবন ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে ইউক্রেনীয় পোস্টাল অপারেটর নোভা পোশতার লোগোসহ একটি পাত্র দেখা গেছে।

এ সময় তিনি ভিডিওবার্তায়, ইউক্রেনের মিত্রদের সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান জেলেনস্কি।

খারকিভ অঞ্চলের গভর্নর ওলেহ সিনহুবভ বলেন, সন্ত্রাসীদের হামলায় ছয়জন নিহত এবং ১৪ জন আহত হয়েছেন। তারা সবাই নোভা পোশতা টার্মিনালের ভেতরে থাকা কর্মচারী।

তিনি বলেন, রুশ বাহিনী খারকিভের শান্তিপূর্ণ জনগণের ওপর সন্ত্রাসী আক্রমণ চালিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, নিহতদের বয়স ১৯ থেকে ৪২ বছরের মধ্যে। এ ছাড়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১৪ জনের মধ্যে সাতজনের অবস্থা গুরুতর।

আঞ্চলিক প্রসিকিউটর অফিসের মতে, খারকিভের উত্তরে বেলগোরোড অঞ্চলে রুশ বাহিনী এস-৩০০ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। হামলায় দুটি গুদাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

প্রিয় শিক্ষকের বিদায়ের প্রাক্কালে

দীপ্য প্রাপ্তি:

কয়েকদিন ধরে বিদায়েল করুণ সুর বাজছিলো। এ উপলক্ষে আমাদেরও একটা প্রস্তুতি ছিল। আমাদের প্রাণপ্রিয় রহিম স্যারের চাকুরিজীবন থেকে অবসর গ্রহণের প্রাক্কালে এক বিশাল ডায়েরি পরিপূর্ণ হয়েছে আমার সহপাঠিনীদের লেখায়। আমিও একটু স্থান করে নিলাম।

আদ্যোপান্ত না ভেবেই লিখতে শুরু করলাম। প্রাইমারি স্কুলের গণ্ডি পার হয়ে সাবেরা সোবহান সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে পা ফেলে অচেনা মুখের ঢেউয়ে আলো আঁধারের মাঝামাঝি যখন ডুবতে বসেছি, ঠিক তখনই হাতে দ্যুতিময় দীপশিখা, কৌতূহলী চোখে প্রতিভার অন্বেষণ আর মুখে একরাশ হাসি নিয়ে আশার হাত বাড়িয়ে আমাকে পাড়ে টেনে তুললেন একজন। হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালার বাঁশির মত তাঁর কথায়, মমতায় আর ভালবাসায় বাঁধা পড়ে গেলাম। সেই থেকে তাঁর পিছু পিছু ছুটে চলা শুরু। আজও থামাতে পারিনি নিজেকে; হয়তো আর পারবোও না।

কিন্তু তখন কেমন হবে যখন এই যাদুকর তাঁর বাঁশি হঠাৎ থামিয়ে মন্ত্রমুক্ত করা সকলকে দিশেহারা করে বিদায় নিবেন? সত্যি বলছি স্যার, কান্নায় ভেঙ্গে পড়ি যখন ভাবি আপনি চলে যাচ্ছেন আমাদের ছেড়ে। আপনার এই হাসিমাখা মুখটা স্কুলে এসে আর কখনই দেখতে পাবো না ভাবলেই গা-টা শিউরে ওঠে কেন জানি! আপনিতো আমার শান্তির উৎস ছিলেন স্যার। পড়ালেখা, নাচগান, পারিবারিক চাপ কিংবা আসন্ন পরীক্ষার চাপে যখন দম আটকে যেতো তখন আপনার ঐ চির সবুজ হাসিমাখা মুখ আর মমতাপূর্ণ সম্বোধন আমাকে জানিনা কেন দারুন স্বস্তি দিতো। আপনার মধ্যে কী যাদু আছে আমি জানিনা, তবে দূর থেকে আপনাকে দেখলে আমার ভেতরটা শান্তিতে শীতল হয়ে যেতো।

আপনাকে এসব বলে আর লাভ কী! আপনিতো ঠিকই আমাদের সবার চোখ ভিজিয়ে বিদায় নিবেন। আমাদের জন্য জগতের নিয়ম পাল্টে কি আপনি থেকে যাবেন? প্রখর রৌদ্রে তৃণগুলোকে যেমন বিশাল বটবৃক্ষ তার স্নিগ্ধ ছায়ায় ঢেকে রাখে; বিপদে-আপদে পরিবারের পিতা যেমন গোটা পরিবারের মাথার ছাদ হয়ে সবাইকে সামলায়, আপনিও তেমনি আপনার মায়া-মমতা, ভালবাসা সবকিছু উজাড় করে সুবিশাল ছাতার মত আমাদেরকে আগলে রেখেছেন। আজ থেকে আপনার এই ছায়া, মায়া আর পাব না। এটা ভাবলেই কেন জানি মনের ভেতরটা মুচড়ে ওঠে। আপনার এই চলে যাওয়াটা কি খুব জরুরি? হয়তো জরুরি। তবে আমি যদি পারতাম আপনাকে আজীবন আমাদের এই প্রিয় বিদ্যাপীঠে রেখে দিতাম আর চিৎকার করে বলতাম, কী স্যার, আমাদের ছেড়ে চলে যাওয়ার ফন্দি? আপনার মেয়েরা আপনাকে এত তাড়াতাড়ি তাদের মিষ্টি যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দেবে-ভেবেছেন কী?

আপনি বিশ্বাস করবেন কিনা জানিনা, তবে ‘শিক্ষক’ শব্দটা বলা মাত্র যে তিনজনের প্রতিচ্ছবি আমার চোখে ভেসে উঠে তাঁদের মধ্যে আপনি একজন। আপনি শিখিয়েছেন পড়ালেখা কত মজাদার হতে পারে, শিখিয়েছেন জীবনটা কত রঙিনভাবে সাজানো যেতে পারে। পরিশেষে শিখিয়েছেন একজন শিক্ষক কতটা সম্মানীয় হতে পারেন। আপনি সবসময় শিখিয়েছেন যেন কারো প্রতি হিংসা-বিদ্বেষ পোষণ না করি। তবু আজ নির্লজ্জের মতো বলছি-আমি বাদে আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করা ও স্নেহ পাওয়া প্রত্যেকটা মানুষকে আমি ভীষণ হিংসা করি। আমাদের ক্লাসের নুদরাত, মাইশা, মহিমা, নীচের ক্লাসের দিহান, সামিহা আর পরীক্ষার্থী খুশবু আপু ও সনি আপু যখন আপনার ভালবাসার ভাগ নিতে ছুটে আসতো আর আপনি তাদের মাথায় আশীর্বাদের হাত রেখে “মা, মা” বলে সম্বোধন করতেন তখন কেন যে আমার এতো জ¦লতো আমি জানি না। আপনি সেদিন আমার মাকে একটা ভীষণ সত্য কথা বলেছেন। আপনার মতো সত্যিই আর কেউ আমাকে বুঝেনি কিংবা বোঝার চেষ্টাও করেনি।
আপনি আমাকে এই কয়েক বছর জ্ঞান, ভালবাসা ও কোমলতার যে মহাসমুদ্রের সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন সেই মহাসমুদ্রে আমি আমার ছোট্ট তরি নিয়ে এগিয়ে চললাম। আশির্বাদ করবেন স্যার যেন আপনার দেখানো পথ ধরে জীবনের এই ছোট্ট তরি নিয়ে অনেক দূর যেতে পারি।

স্কুল থেকে বিদায় নেবার পর আপনার দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের স্মৃতি ও প্রিয় শিক্ষার্থীদের নিয়ে তৈরি তালিকার স্মৃতিচারণে ডুব দিয়ে হয়তো আমার কথা ভুলেই যাবেন। তবুও স্যার, সুযোগ পেলে আপনার স্মৃতির এক কোণায় লিখে রাইখেন “প্রাপ্তি নামে সাবেরা সোবহান সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে আমার একটা দুষ্টু মেয়ে ছিল।” তারপরও যদি আমার কথা ভুলে যান, আমার কোন আক্ষেপ থাকবে না, কারণ আপনার শিক্ষকতা জীবনে “দীপ্য প্রাপ্তির” মতো শিক্ষার্থী অনেক আছে। কিন্তু আমার গোটা জীবনে “রহিম স্যার”তো একজনই। সময় কাটানোর জন্য আপনি যখন পরিবার পরিজন ও লেখালেখি নিয়ে শেষ বিকেলে ব্যস্ত হয়ে বসবেন-

তখন স্কুলের শেষ পিরিয়ডে ক্লাসের এক কোণায় দাঁড়িয়ে আপনার শূণ্যতা অনুভব করে অঝোরে কাঁদবো।

লেখক: দীপ্য প্রাপ্তি
শিক্ষার্থী: দশম শ্রেণি
সাবেরা সোবহান সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া।

বিকেলে বসছে জাতীয় সংসদের ২৫তম অধিবেশন

বিকেলে বসছে চলতি একাদশ সংসদের শেষ অধিবেশন

ডেস্ক রিপোর্ট:

চলতি সংসদের শেষ অধিবেশন বসছে আজ রোববার (২২ অক্টোবর)। বিকেল ৪টায় শুরু হবে সংসদের এ অধিবেশন।

গত ৫ অক্টোবর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তার সাংবিধানিক ক্ষমতা বলে এ অধিবেশন আহ্বান করেন। এটি হবে চলতি একাদশ জাতীয় সংসদের ২৫তম এবং চলতি বছরে পঞ্চম অধিবেশন। চলতি একাদশ সংসদের শেষ অধিবেশন।

একাদশ সংসদ শুরু হয়েছিল ২০১৯ সালের ৩০ জানুয়ারি। সংবিধানের বিধান মতে সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়া সাপেক্ষে মেয়াদ শেষের পূর্ববর্তী ৯০ দিনের মধ্যে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

এদিকে, সংসদ অধিবেশনের ক্ষেত্রে সংবিধানের বিধান হচ্ছে একটি অধিবেশন থেকে পরবর্তী অধিবেশনের মধ্যবর্তী বিরতি ৬০ দিনের বেশি হবে না। তবে নির্বাচন অনুষ্ঠানের শেষ ৯০ দিনের মধ্যে সংসদের বৈঠক বসার বাধ্যবাধকতা থাকবে না। অর্থাৎ নির্বাচনকালের ৯০ দিনের মধ্যে সংসদ অধিবেশনে প্রয়োজন পড়বে না।

আগামী দুই নভেম্বর সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের কাউন্ট ডাউন শুরু হবে। ফলে আসন্ন অধিবেশনটি হচ্ছে সংসদের শেষ অধিবেশন। অবশ্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত অধিবেশনে জানিয়ে দিয়েছেন, পরের অধিবেশনটি হবে শেষ অধিবেশন।

মিয়ামির হয়ে মৌসুমের শেষ ম্যাচে হার মেসির

মিয়ামির হয়ে মৌসুমের শেষ ম্যাচে হার মেসির

ডেস্ক রিপোর্ট:

আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে দুর্দান্ত ছিলেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। পেরুর বিপক্ষে ম্যাচে করেছিলেন জোড়া গোল। অনেকেই মনে করেছিলেন ইন্টার মায়ামিতে ফিরলে হয়তো তাদের ভাগ্য বদলাতে পারবেন সাতবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী।

আন্তর্জাতিক বিরতি শেষে দলের সঙ্গে যোগ দিয়েও মায়ামির ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারলেন না মেসি। পুরো ৯০ মিনিট মাঠে থাকলেও তার সঙ্গে গোল করতে ব্যর্থ পুরো দল। অথচ আগের ম্যাচেই মেসিকে ছাড়া একই দলের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তের গোলে ড্র নিয়ে মাঠ ছেড়েছিল মায়ামি।

রোববার (২২ অক্টোবর) ভোরে ব্যাংক অব আমেরিকা স্টেডিয়ামে শার্লট এফসির মুখোমুখি হয় মায়ামি। ম্যাচটিতে ১-০ গোলে হারের লজ্জা নিয়ে মাঠ ছাড়েন মেসি-আলবারা।

দলের হয়ে একমাত্র গোলটি করেন কারউইন ভার্গাস। এ হারের মধ্য দিয়ে এমএলএসের চলতি মৌসুমের ইতি ঘটল। সেই সঙ্গে পয়েন্ট টেবিলের ১৪তম স্থানে থেকে মৌসুম শেষ করতে হলো মায়ামিকে। অথচ ২০২২ মৌসুমে মায়ামি তাদের মৌসুম শেষ করেছিল টেবিলের ষষ্ঠ স্থানে থেকে।

গত সেপ্টেম্বরের সবশেষ জয়ের মুখ দেখেছিল মায়ামি। এর পর শুধু ড্র আর হার সঙ্গী মেসির দলের। অথচ এদিন পুরো ম্যাচজুড়ে আধিপত্য করেছে মায়ামি। ৬১ ভাগ বল পজিশনে রেখে প্রতিপক্ষের ওপর আক্রমণের বন্যা বইয়ে দিয়েছে। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পাননি মেসিরা।

সমানে সমানে লড়াই হওয়া ম্যাচের ১৩ মিনিটেই ভাগ্য গড়ে দেন কলম্বিয়ান উইঙ্গার কারউইন ভার্গাস। পোল্যান্ডের রাইট উইঙ্গার কামিল জোজুইকের পাস থেকে গোল করেন এই কলম্বিয়ান। চলতি মৌসুমে লিগে ২৯ ম্যাচ খেলে ৪ গোল ও ৩ অ্যাসিস্ট করেছেন এই উইঙ্গার।

মায়ামির হার ঠেকাতে মেসি জোর চেষ্টা চালিয়েছেন, কিন্তু তা খুব একটা কাজে লাগেনি। তিনি ফ্রি-কিক থেকে ‘ট্রেডমার্ক’ গোল পেয়েই যাচ্ছিলেন কিন্তু শার্লটের গোলরক্ষকের হাতে লেগে পোস্টে বাধা পেলে হতাশ হতে হয় দলকে।

এই হারে ৩৪ ম্যাচ শেষে ৩৪ পয়েন্ট নিয়ে ইস্টার্ন কনফারেন্সে ১৫ দলের মধ্যে মেসিদের অবস্থান ১৪ নম্বরে। আশা ছিল মেসিকে ফিরিয়ে হয়ত প্লেঅফ খেলার সুযোগ তৈরি করতে পারবে তারা। কিন্তু বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়কে দলে নিয়েও ভাগ্যের চাকা ঘুরাতে পারল না এমএলএসের দলটি। সব মিলিয়ে লিগে মাত্র ৯ ম্যাচে জয় পেয়েছে তারা। ড্র করেছে ৭ ম্যাচে। আর বাকি ১৮ ম্যাচেই হেরেছে লিওনেল মেসির দল।

যুক্তরাজ্যজুড়ে ফিলিস্তিনিদের পক্ষে লাখো মানুষের বিক্ষোভ

যুক্তরাজ্যজুড়ে ফিলিস্তিনিদের পক্ষে লাখো মানুষের বিক্ষোভ

ডেস্ক রিপোর্ট:

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে অবিরাম হামলা চালাচ্ছে ইসরাইল। টানা দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চালানো এই হামলায় নারী ও শিশুসহ এখন পর্যন্ত নিহত হয়েছেন চার হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি।

ইসরাইলি এ হামলার বিরুদ্ধে এবং ফিলিস্তিনিদের পক্ষে রাজধানী লন্ডনসহ যুক্তরাজ্যজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। এদিন লন্ডনের পাশাপাশি বিক্ষোভ হয়েছে বার্মিংহাম, কার্ডিফ, বেলফাস্ট ও সালফোর্ডেও। কেবল লন্ডনের বিক্ষোভেই অংশ নিয়েছেন এক লাখ মানুষ। খবর বিবিসির।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টানা দ্বিতীয় সপ্তাহের মতো লন্ডনে ফিলিস্তিনিপন্থি বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন লাখও মানুষ। লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশের অনুমান, শনিবারে এ বিক্ষোভ ও পদযাত্রায় এক লাখ মানুষ অংশ নেন। পরে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর ১০নং ডাউনিং স্ট্রিটের কাছে সমাবেশের মাধ্যমে বিক্ষোভটি শেষ হয়।

বিবিসি বলছে, শনিবার লন্ডনের পাশাপাশি বার্মিংহাম, বেলফাস্ট, কার্ডিফ ও সালফোর্ডেও তুলনামূলক ছোট বিক্ষোভ হয়েছে। ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা বলছেন, ইসরাইলি বোমা হামলায় এখন পর্যন্ত চার হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, লন্ডনে শনিবার আয়োজিত বিক্ষোভে এক হাজারেরও বেশি কর্মকর্তা মোতায়েন ছিলেন। পরে আতশবাজি ব্যবহার, জন শৃঙ্খলায় বিঘ্ন ঘটানো এবং জরুরি পরিষেবা কর্মীকে লাঞ্ছনার সঙ্গে জড়িত অপরাধের জন্য লন্ডনে বিক্ষোভ থেকে মোট ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানানো হয়।

অন্যদিকে কার্ডিফে প্রায় এক হাজার বিক্ষোভকারী ফিলিস্তিনি পতাকা ও সমর্থনমূলক নানা প্ল্যাকার্ড নিয়ে ওয়েলস পার্লামেন্টের দিকে বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেন।

বিবিসি বলছে, বেশ কয়েকটি গ্রুপের আয়োজিত এই বিক্ষোভ থেকে ব্রিটিশ ও ওয়েলস সরকারকে গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির জন্য প্রচেষ্টা চালানো এবং পূর্ণ মানবিক সহায়তা পাঠানোর জন্য জোর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

ফিলিস্তিনি সলিডারিটি ক্যাম্পেইন কার্ডিফের ম্যাগি মরগান বলেছেন, ‘আমরা গাজার জনগণের প্রতি সংহতি প্রদর্শনের অংশ হিসাবে রাস্তায় নামছি, তাদের প্রতি আমরা আমাদের সমর্থন জানাতে চাই।’

গত ৭ অক্টোবর ইসরাইলের অবৈধ বসতি লক্ষ্য করে হামলা চালায় গাজাভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস। এর পর থেকেই গাজায় বিমান হামলা চালানো শুরু করে ইসরাইলি বিমানবাহিনী। তাদের এ নির্বিচার হামলায় এখন পর্যন্ত চার হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। যার মধ্যে শিশুর সংখ্যাই এক হাজার ৫০০ জনের বেশি।

অন্যদিকে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেমস ক্লেভারলি সতর্ক করে দিয়েছেন, চলমান এই সংঘাত পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে গ্রাস করার হুমকি দিচ্ছে। ক্লিভারলি অবশ্য ইসরাইল এবং অধিকৃত অঞ্চলের ক্রমবর্ধমান সংকটকে ঘিরে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসাবে ইসরাইল, তুরস্ক এবং কাতার সফর করেছেন।

বিবিসি বলছে, শনিবার লন্ডনের বিক্ষোভ মিছিলে বিক্ষোভকারীদের ফিলিস্তিনপন্থি নানা স্লোগান দিতে শোনা যায়। তাদের মধ্যে কেউ কেউ ইসরাইলসহ জর্ডান নদী এবং ভূমধ্যসাগরের মধ্যবর্তী সব ভূমি ফিলিস্তিনিদের নিয়ন্ত্রণের দেওয়ার দাবি জানান।

ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুয়েলা ব্র্যাভারম্যান বলেছেন, ‘নদী থেকে সমুদ্র পর্যন্ত ফিলিস্তিন একটি স্বাধীন দেশ হবে’ স্লোগানটির মাধ্যমে কার্যত ইসরাইলকে ‘ধ্বংস করার’ আহ্বান জানানো হয়েছে।

এ ছাড়া বেলফাস্টে বিবিসি নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড সদর দপ্তরের বাইরে বিক্ষোভকারীরা বেশ বড় বিক্ষোভ করেছেন। পিপল বিফোর প্রফিট অ্যাসেম্বলির সদস্য গেরি ক্যারল বলেছেন, বিবিসি যেভাবে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান এই সংঘাতের খবর প্রকাশ করেছে, সেটিকে ‘চ্যালেঞ্জ’ করাই তাদের লক্ষ্য।

অন্যদিকে স্যালফোর্ডে আয়োজিত বিক্ষোভটিও মিডিয়া সিটি কমপ্লেক্সের বাইরে অনুষ্ঠিত হয়। মূলত সেখানেই বিবিসির অফিস রয়েছে এবং বিক্ষোভকারীরা এ সময় গাজা যুদ্ধ নিয়ে বিবিসির বিভিন্ন প্রতিবেদনের সমালোচনা করেন।

সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট:

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সড়ক দুর্ঘটনা বন্ধ তথা সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে সরকারের পাশাপাশি পরিবহন মালিক, শ্রমিক, যাত্রী, পথচারী ও সংশ্লিষ্ট সকলকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে একযোগে কাজ করতে হবে।

আগামীকাল ‘জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস’ উপলক্ষ্যে আজ দেওয়া এক বাণীতে এসব কথা বলেন তিনি। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘আইন মেনে সড়কে চলি, স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তুলি।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বদেশে প্রত্যাবর্তনের পর ক্ষতিগ্রস্ত সকল সড়ক ও সেতু মেরামত করে যোগাযোগ অবকাঠামো পুনঃস্থাপন করেন। তিনি ১৯৭৪ সালের মধ্যেই মুক্তিযুদ্ধে ধ্বংসপ্রাপ্ত সকল সেতু পুনর্নির্মাণ করে চলাচলের উপযোগী করেন, পাশাপাশি তিনি ৪৯০ কি.মি. নতুন সড়ক নির্মাণ করেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকারের প্রথম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় জাতির পিতা সড়ক পরিবহন খাতকে অগ্রাধিকার প্রদান করে আধুনিক সড়ক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার কার্যক্রম শুরু করেন। আওয়ামী লীগ সরকার জাতির পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে তিনটি পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা, টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট ২০৩০ এবং প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ২০৪১ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নিরাপদ সড়ক নেটওয়ার্ক উন্নয়নের মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন ও সময় সাশ্রয়ী যাতায়াত ও পণ্য পরিবহন সম্প্রসারণের নিমিত্তে কাজ করে যাচ্ছে। নিজস্ব অর্থায়নে করা স্বপ্নের বহুমুখী পদ্মা সেতুসহ সমগ্র দেশে বিস্তৃত যোগাযোগ ব্যবস্থা জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতেও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সড়ক পরিবহন ব্যবস্থায় অভূতপূর্ব উন্নয়নের পাশাপাশি নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থা জোরদার করার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করি। সড়ককে নিরাপদ করতে ডিভাইডার স্থাপন, বাঁক সরলীকরণ, সড়ক ৪ লেনে উন্নীতকরণ, মহাসড়কে চালকদের জন্য বিশ্রামাগার নির্মাণ ও গতি নিয়ন্ত্রক বসানোসহ নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।

তিনি বলেন, সড়ক পরিবহন সেক্টরে শৃঙ্খলা আনয়ন, দক্ষ চালক তৈরি এবং দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে টাস্কফোর্স গঠন করেছি। আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর এবং টেকসই ও নিরাপদ মহাসড়ক নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠা করাই আমাদের সরকারের লক্ষ্য।

সরকারপ্রধান বলেন, এবারই প্রথম সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণকারী ব্যক্তির পরিবারকে এককালীন অন্যূন ৫ (পাঁচ) লাখ টাকা এবং গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গহানিসহ আহত ব্যক্তিকে অন্যূন ৩ (তিন) লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে স্বয়ংক্রিয় মোটরযান ফিটনেস সেন্টার চালু করা হয়েছে।

ই-ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রবর্তনের মাধ্যমে বিআরটিএ’র প্রায় সকল সেবা ডিজিটালাইজড করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে ৬ দফা নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ‘বাংলাদেশ রোড সেফটি প্রজেক্ট’ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।