All posts by jitu

বিএনপি নেতারা কি সহিংসতার দায় এড়াতে পারবেন কি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট:

বিএনপি নেতারা ২৮ অক্টোবরের সহিংসতার দায় এড়াতে পারবেন কি, প্রশ্ন তুলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

রোববার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রীর দপ্তরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।

তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতির বাড়িতে যারা ঢুকেছে তাদের চিহ্নিত করে মামলা হবে। পুলিশকে পিটিয়ে হত্যার জন্য মামলা হবে। হাসপাতালে হামলার ঘটনায় মামলা হবে। গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায়ও মামলা হবে। আমার জানা মতে শ’খানেক পুলিশ আহত হয়েছে। আওয়ামী লীগের মহিলা নেত্রীদের ওপরও হামলা হয়েছে।

সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা করতে চাইলে মামলাগুলো নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

বিএনপি নেতাদের গ্রেফতার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ সহিংসতা যখন হচ্ছিল তখন সিনিয়র নেতারা মিটিং করছিলেন। তাদের ডিএমপি কমিশনার বার বার জিজ্ঞেস করছিলেন তাদের মহাসমাবেশের সীমানা কতো দূর হবে, তারা জানিয়েছিল নাইটেঙ্গেল মোড় পর্যন্ত। কিন্তু তারপরও যে সহিংসতা হয়েছে সেটির দায় কি বিএনপি নেতারা এড়াতে পারবেন?

বিএনপির উগ্রকর্মীদের আক্রমণ থেকে হাসপাতালও রেহাই পায়নি বলে তিনি মন্তব্য করেন। আসাদুজ্জামান খান বলেন, বিএনপি প্রচার চালিয়েছিল তাদের সমাবেশে দশ লাখ লোক নিয়ে আসবেন। আমাদের পুলিশ কমিশনার তখন বলেছিলেন, এমনিতেই ঢাকা শহরে যানজট, তারপর দশ লাখ লোক নিয়ে আসবেন। আপনারা কোথায় কী করতে চান, মাঠে যান। তারা মাঠে না গিয়ে নিজেদের দলীয় অফিসের সামনে সমাবেশ করেছেন।

আমাদের পুলিশ কমিশনার তাদের কাছে কয়েকটি প্রশ্ন রেখেছিলেন, কেবল তাদেরই না, আমাদের আওয়ামী লীগের সমাবেশ নিয়েও প্রশ্ন করেছিলেন। সেগুলো হচ্ছে, আপনারা কতক্ষণ সমাবেশ করবেন, কোন জায়গা থেকে কোন জায়গা পর্যন্ত আপনাদের সমর্থকরা অবস্থান করবেন? আপনারা কোনো ধরনের উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারবেন না। পুলিশ কমিশনার এমন অনেকগুলো নির্দেশনা দিয়েছিলেন, যোগ করেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, তারা জানিয়ছিলেন, একদিকে নাইটিঙ্গেল মোড়, অন্যদিকে, ফকিরাপুলের মোড় পর্যন্ত তারা থাকবেন। কোনো সহিংসতা না করারও অঙ্গীকার করেছিলেন তারা। আমরা অনেক দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি, পাশাপাশি আমাদের আওয়ামী লীগও একটা শান্তি সমাবেশ ডেকেছিল। সেটাও এতো মানুষ সেখানে এসেছিল, সঙ্গত কারণে প্রধান বিচারপতির বাসভবনের সামনে দিয়েও দুয়েকটা ছোটো ছোটো দল যাচ্ছিল। বিশেষ করে টেম্পু ও লেগুনা নিয়ে নারীদের একটি গ্রুপ যাচ্ছিলেন। তখন হঠাৎ করে লেগুনায় আক্রমণ করে নারীদের মারধর করা হয়েছে। পুলিশ তখন তাদের বাধা দেয়।

এরপর বিএনপির নেতাকর্মীরা মারমুখী হয়ে যান। তারা পুলিশের ওপর চড়াও হয়। এখানেই শেষ না, প্রধান বিচারপতির বাসভবনের ফটক ভেঙে ঢুকে যেতে কোনোদিন কোনো দেশে দেখিনি। সে ঘটনাও তারা ঘটিয়েছে। তারা ফটক ভেঙে ভিতরে ঢুকে যায়, তখন বাধ্য হয়ে ধৈর্যের সঙ্গে এগুলো মোকাবিলা করে পুলিশ। তখন তারা বাধ্য হয়ে তাদের হটিয়ে নাইটিঙ্গেল মোড় পর্যন্ত নিয়ে যায়। এরপর বিএনপি নেতাকর্মীরা যেসব ধ্বংসাত্মক কাজ তারা করেছে, আমরা দেখেছি। ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের ভেতরে ঢুকেও তারা ভাঙচুর করে। ভেতরে গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে।

তারা যেখান দিয়ে গেছে, সেখানেই ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে। নাইটিঙ্গেলের পরে কিন্তু পুলিশ আর ঢোকেনি। পরবর্তীতে আমরা দেখলাম, বিএনপি নেতাকর্মীরা পকেটে করে নিয়ে আসা ইটপাটকেল ও গুলতি দিয়ে মারবেল ছুড়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। যা আমাদের কাছে ভিডিও করা আছে।

দাউদকান্দিতে হরতালের প্রভাব নেই, আওয়ামী লীগের শান্তি সমাবেশ ও হরতাল বিরোধী মিছিল

জাকির হোসেন হাজারী, দাউদকান্দি:

সারাদেশে বিএনপির ডাকা হরতালে কুমিল্লার দাউদকান্দিতে তেমন কোন প্রভাব পরেনি। সকাল থেকে ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কসহ অভ্যন্তরীন রুটে চলাচল করছে গনপরিবহন সহ সকল ধরনের যানবাহন। সাধারন মানুষের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক রয়েছে। তবে মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ন স্থানে পুলিশের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। যে কোন ধরনের অপৃতিকর ঘটনা এড়াতে তৎপর রয়েছে থানা পুলিশ ।
সকাল থেকেই মহাসড়কের দাউদকান্দি এলাকায় দেখা গেছে, ভোর থেকেই গণপরিবহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। দুপুর পর্যন্ত এই এলাকায় হরতালের কোনও প্রভাব পড়েনি। তুলনামূলক বাস চলাচল কিছুটা কম, তবে চালকরা বলেছেন ধীরে ধীরে বাড়বে। এদিকে সবধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়াতে আগেই প্রস্তুতি নিয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে রবিবার সকালে শান্তিসমাবেশ ও হরতাল বিরোধী মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মহাসড়কের দাউদকান্দি টোলপ্লাজা, শহিদনগর, গৌরীপুর বাসস্ট্যান্ডে, রায়পুর এবং ইলিয়টগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে পৃথকভাবে হরতাল বিরোধী মিছিল ও শান্তি সমাবেশ করেছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগসহ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

গৌরপুরে কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপি নেতা ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসেম চেয়ারম্যানের বাসভবনের সামনে শান্তি সমাবেশ থেকে দাউদকান্দিকে হরতালমুক্ত ঘোষনা করে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মেজর অবঃ মোহাম্মদ আলী বলেন, দাউদকান্দির সকল বাজারের ব্যবসা প্রতিষ্টান, শিক্ষা প্রতিষ্টানসহ সব সবকিছু খোলা রয়েছে, বিএনপি জামাতের নাশকতা প্রতিহত করতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মাঠে রয়েছে এবং থাকবে। শান্তি সমাবেশে অংশগ্রহণ করেন, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি তারিকুল ইসলাম নয়ন, উপজেলা যুবলীগ নেতা মমিনুল হক, ইসমাঈল হোসেন, যায়েদ আহমেদ জুলহাস, গৌরীপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নোমান মিয়া, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি ছমির আলম সরকার, সাধারণ সম্পাদক ওয়াদুদ সরকার প্রমূখ।

বাবার পক্ষে মরণোত্তর ডিগ্রি গ্রহণ করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

বাবার পক্ষে মরণোত্তর ডিগ্রি গ্রহণ করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

ডেস্ক রিপোর্ট:

বিশেষ সমাবর্তনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ডক্টর অব লজ (মরণোত্তর) ডিগ্রি দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। বঙ্গবন্ধুর পক্ষে এ ডিগ্রি গ্রহণ করেন তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় বঙ্গবন্ধুর পক্ষে এ সনদ বুঝে পাওয়ার জন্য সই করেন তিনি।

রোববার বেলা ১১টায় শুরু হওয়া বিশেষ সমাবর্তনে বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশ অনুযায়ী বঙ্গবন্ধুকে এ ডিগ্রি দেওয়া হয়। ডিগ্রি প্রদানের ঘোষণা দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান।

এর আগে বেলা ১০টা ৫৮ মিনিটে তিনি সমাবর্তনস্থলে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। এ সময় উপস্থিত অতিথিরা প্রধানমন্ত্রীকে করতালির মাধ্যমে বরণ করে নেন।

বেলা ১১টার দিকে জাতীয় সংগীত পাঠের পর সমাবর্তনের সভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান সমাবর্তনের উদ্বোধনের ঘোষণা দেন।

শেষ ৩ ম্যাচে সমর্থকদের কিছু দিতে চান অধিনায়ক সাকিব

ডেস্ক রিপোর্ট:

নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে হারের আগে নানা সমীকরণে হয়তো সেমিফাইনালে যাওয়ার দৌড়ে টিকে ছিল বাংলাদেশ। তবে গতকাল (শনিবার) ডাচদের কাছে ৮৭ রানের পরাজয়ের পর আর কোনো সমীকরণ-ই টিকে নেই। টুর্নামেন্টে আরও তিন ম্যাচ বাকি রয়েছে টাইগারদের। যেখানে ভালো করে সমর্থকদের কিছু দেওয়ার প্রত্যাশা করছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক সাকিব আল হাসান।

আগামী ৩১ অক্টোবর একই ভেন্যু বলকাতার ইডেন গার্ডেনে পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। সে ম্যাচ নিয়ে টানা হারের বৃত্তে থাকা অধিনায়ক সাকিবের ভাবনা জানতে চাওয়া হয়। জবাবে তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমাদের প্রতিপক্ষ নিয়ে ভাবার সুযোগ নেই। আমাদের শুধু নিজেদের খেলাটা খেলতে হবে। নিজেদের চাঙা রাখতে হবে। আর কোনো উপায় নেই।’

পরবর্তী তিন ম্যাচ থেকে সমর্থকদের কিছু ফিরিয়ে দিতে চান সাকিব নিজেও, ‘আমাদের তিন ম্যাচ খেলতেই হবে। যদি আমরা বাংলাদেশের মানুষকে কিছু ফিরিয়ে দিতে পারি, সেটা দারুণ হবে।’

তবে এমন পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে ভালো কিছু করা কঠিন– সেটিও স্বীকার করলেন সাকিব, ‘সত্যি কথা বলতে খুবই কঠিন এখান থেকে ঘুরে দাঁড়ানো। তিন ম্যাচ আছে। অন্তত ভালো কিছু করার সুযোগ এখনও আছে আমাদের। তবে খুবই কঠিন। চেষ্টা ছাড়া আমাদের কিছুই করার নেই। আজকের দিনটা যদি ভুলে গিয়ে সামনের ম্যাচটায় মনোযোগ দিতে পারি, তাহলে ভালো হবে। আমরা যেখানে আছি সেখান থেকে এটা করা খুবই কঠিন।’

পাকিস্তানের পর বাংলাদেশের বাকি দুই ম্যাচের প্রতিপক্ষ যথাক্রমে শ্রীলঙ্কা ও অস্ট্রেলিয়া। প্রথমটি দিল্লি এবং পুনের ম্যাচ দিয়ে বাংলাদেশের হতাশার এক বিশ্বকাপ শেষ হবে। এখন পর্যন্ত ৬ ম্যাচের কেবল একটিতে জিতেছে সাকিবের দল। বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে তারা আফগানিস্তানকে হারায়, এরপর তারা আর কোনো ম্যাচেই ন্যূনতম লড়াইয়ের মানসিকতাও দেখাতে পারেনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

ডেস্ক রিপোর্ট:

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে মরণোত্তর ডিগ্রি প্রদানের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষ সমাবর্তন অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রোববার  বেলা ১০টা ৫৮ মিনিটে তিনি সমাবর্তনস্থলে পৌঁছান। এসময় উপস্থিত অতিথিরা প্রধানমন্ত্রীকে করতালির মাধ্যমে বরণ করে নেন।

বেলা ১১টার দিকে জাতীয় সংগীত পাঠের পর সমাবর্তনের সভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান সমাবর্তনের উদ্ধোধনের ঘোষণা দেন।

এসময় সমাবর্তনমঞ্চে উপস্থিত ছিলেন সমাবর্তনবক্তা বঙ্গবন্ধুকন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পবিত্র ধর্মগ্রন্থসমূহ পাঠের মাধ্যমে এ সমাবর্তনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।

সমাবর্তনে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে বিশেষ ডিগ্রি নেবেন তার পরিবারের সদস্যরা।

খোলা ক্যম্পাসে বন্ধ পরিবহন সেবা, ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা

খোলা ক্যাম্পাসে বন্ধ পরিবহন সেবা, ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা

চাঁদনী আক্তার, কুবি প্রতিনিধি:

শারদীয় দুর্গোৎসবের ৯ দিনের ছুটি শেষে আজ (রবিবার) খুলেছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়। তবে অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম চালু হলেও বন্ধ রয়েছে পরিবহন সেবা। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন পুল সূত্রে জানা যায়, রবিবার কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) পরিবহন সেবা বন্ধ থাকবে। তবে ক্লাস পরীক্ষা চলমান থাকবে। যদিও এ বিষয়ে কোন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেনি প্রশাসন।

এদিকে পরিবহন সেবা বন্ধ রাখে একাডেমিক কার্যক্রম চালু রাখার সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীরা মনে করেন, এতে তাদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি ভোগান্তি বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী ওয়াসিম আকরাম জানান, ক্লাস-পরীক্ষা চালু রেখে বাস বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত আমি মোটেও সমর্থন করি না। আমার মনে হয় আমাদের অভিভাবক হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্ত আমাদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলছে। এককভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়া অপেক্ষা একত্রে বাসে যাওয়াটাকে আমি নিরাপদ মনে করি। আশা করি ভবিষ্যতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে কুবি প্রশাসন আরো সর্তক হবেন।

গনিত বিভাগের শিক্ষার্থী নুসরাত রশীদ জানান, পরিবহন সেবা বন্ধ রেখে ক্লাস পরীক্ষা চালু রাখাটা আসলে মেনে নেয়ার মতো না। এতে শিক্ষার্থীদের অনেক ভোগান্তির শিকার হতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে কিন্তু অল্প কয়েকজন স্টুডেন্ট না।অনেক স্টুডেন্ট এখানে। এতজন স্টুডেন্ট বাস ছাড়া ক্যাম্পাসে গিয়ে ক্লাস, পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করাটা অনেক দুর্বিষহ একটা ব্যাপার এবং এটা নিরাপদও নয় শিক্ষার্থীদের জন্য। আবার অনেক স্টুডেন্ট এর আর্থিক সমস্যা আছে। তাদের পক্ষে গাড়িভাড়া দিয়ে গিয়ে ক্লাস, পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করাটা কষ্টকর হয়ে যায়।

তিনি আরো বলেন, এতজন স্টুডেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার জন্য ঠিক সময়ে অন্য গাড়ি পাবে কিনা, এটাও একটা ভোগান্তির ব্যাপার। এতে দেখা যাবে ক্লাস,পরীক্ষায় সঠিক সময়ে গিয়ে পৌঁছাতে পারবে না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচিত শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও ভোগান্তির কথা বিবেচনা করে বাস সেবা চালু রাখা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পরিবহন সেবার প্রধান ড. স্বপন চন্দ্র মজুমদার জানান, এটা প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত। এ বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে পারব না। রেজিস্ট্রার আমাদের যেভাবে নির্দেশনা দিয়েছেন আমরা সেটি বাস্তবায়ন করছি।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার আমিরুল হক চৌধুরীর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে হলে তিনি কোন সাড়া দেননি।

রংপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবসহ ১৭ জন আটক

রংপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবসহ ১৭ জন আটক

ডেস্ক রিপোর্ট:

রংপুরে বিএনপির দলীয় কার্যালয় থেকে মহানগরের আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার (২৯ অক্টোবর) সকাল পৌনে ১০টার দিকে নগরীর গ্র্যান্ড হোটেল মোড়স্থ দলীয় কার্যালয় থেকে তাদের আটক করা হয়।

আটককৃতরা হলেন- রংপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক শামসুজ্জামান শামু, সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মাহফুজ উন-নবী ডন ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ফজলে রাব্বী বাবু।

এর আগে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গ্র্যান্ড হোটেল মোড়ে বিএনপির কার্যালয়ের সামনে দলটির নেতাকর্মীদের মিছিল করার জন্য সমবেত হন। এ সময় পুলিশ তাদের সেখান থেকে চলে যেতে বললে কয়েকজন কর্মী তর্কে জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে পুলিশ তাদের সেখান থেকে ছত্রভঙ্গ করতে দলীয় কার্যালয়ের ফটকের ভেতরে ঢুকে প্রথমে ফজলে রাব্বী বাবুকে আটক করে নিয়ে যায়। পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ায় পরে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক শামসুজ্জামান শামু ও সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মাহফুজ উন-নবী ডনকে আটক করে।

আটকের সময় মহানগর আহ্বায়ক শামসুজ্জামান শামু গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, তাদের কারও বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নেই। হরতালের সমর্থনে মিছিল করার জন্য দলীয় কার্যালয়ের সামনে জড়ো হলে সেখান থেকে পুলিশ তাদের তিনজনকে আটক করেছে।

এদিকে রংপুর মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (অপরাধ) আবু মারুফ হোসেন গণমাধ্যমকে জানায়, রোববার সকালে বিএনপির ৩০-৪০ জন নেতাকর্মী দলীয় কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ এবং নাশকতার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। পুলিশ তাদের সরে যেতে বললে তারা মারমুখী হয়ে ওঠে এবং পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপের চেষ্টা করে। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে বিএনপির রংপুর মহানগরের আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবসহ তিনজনকে আটক করা হয়। এরপর দলীয় কার্যালয়ের ভেতরে তল্লাশি চালিয়ে কিছু ইটপাটকেল উদ্ধার করা হয়েছে।

এছাড়া শনিবার রাতে নগরীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে আরও ১৪ নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে। তাদের সকলের বিরুদ্ধে নাশকতাসহ সহিংসতা করার চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে গতকাল শনিবার বিএনপি-জামায়াতসহ গণতন্ত্র মঞ্চ হরতালের সমর্থনে মিছিল বের করার ঘোষণা দিয়েও শেষ পর্যন্ত মিছিল করেনি। তবে আজ রোববার মিছিল করবে বলে দলটির একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। অন্যদিকে সকাল সাড়ে ১০টায় হরতালবিরোধী শান্তি সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছে আওয়ামী লীগ।

উল্লেখ্য, বিএনপি গতকাল (২৮ অক্টোবর) ঢাকায় মহাসমাবেশের আয়োজন করেছিল। সেই সমাবেশে পুলিশ লাঠিচার্জ, সাউন্ড গ্রেনেড এবং টিয়ার শেল ছুড়ে পণ্ড করে দিয়েছে, এমন অভিযোগ এনে আজ রোববার সারা দেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ঘোষণা দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অন্যদিকে মহাসমাবেশে পুলিশের বাধা ও নেতাকর্মীদের অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে জামায়াতে ইসলামীও হরতালের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। একই দিনে গণতন্ত্র মঞ্চসহ সমমনা দলগুলোও হরতাল আহ্বান করেছে।

ইসরায়েলের সঙ্গে ‘তাৎক্ষণিক’ বন্দি বিনিময়ের প্রস্তুত হামাস

ইসরায়েলের সঙ্গে ‘তাৎক্ষণিক’ বন্দি বিনিময়ের প্রস্তুত হামাস

ডেস্ক রিপোর্ট:

ইসরায়েলের সঙ্গে ‘তাৎক্ষণিক’ বন্দি বিনিময়ের জন্য প্রস্তুত ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস। বিনিময়ে ইসরায়েলের কারাগারে আটক থাকা সকল ফিলিস্তিনি বন্দির মুক্তি চায় তারা। গাজা উপত্যকার এই প্রতিরোধ গোষ্ঠীটি এমন কথাই জানিয়েছে।

মূলত বন্দি সংকট মেটাতে পর্দার আড়ালে উভয়পক্ষের সঙ্গে কাতার কাজ করে চলেছে এবং দেশটির এই প্রচেষ্টার মধ্যেই হামাসের পক্ষ থেকে এই বক্তব্য সামনে এলো। রোববার (২৯ অক্টোবর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের সঙ্গে ‘তাৎক্ষণিক’ বন্দি বিনিময়ের জন্য হামাস প্রস্তুত বলে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী এই সশস্ত্র গোষ্ঠীর নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ার জানিয়েছেন।

সিনওয়ার এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘আমরা তাৎক্ষণিকভাবে একটি বন্দি বিনিময় চুক্তি করতে প্রস্তুত। যার মধ্যে ইসরায়েলি জেল থেকে সমস্ত ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তির বিনিময়ে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ বাহিনীর হাতে আটক থাকা সমস্ত বন্দির মুক্তি দেওয়ার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকবে।’

আল জাজিরা বলছে, কাতার তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে পর্দার অন্তরালে কূটনৈতিক নানা কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং বন্দিদের মুক্তি নিশ্চিত করতে হামাস কর্মকর্তা ও ইসরায়েলের সাথে দেশটি কথাও বলে চলেছে। এই মধ্যস্থতার অংশ হিসেবে গত সপ্তাহে দুই আমেরিকান বন্দি – যাদের একজন মা ও মেয়ে – এবং দুই বয়স্ক ইসরায়েলি নারীকে মুক্তি দেওয়া হয়।

সংবাদমাধ্যমটি বলছে, ইসরায়েলের মধ্যে ১৯টি কারাগার রয়েছে এবং অন্য একটি কারাগার রয়েছে অধিকৃত পশ্চিম তীরের ভেতরে। এসব কারাগারে হাজার হাজার ফিলিস্তিনিকে বন্দি করে রেখেছে ইসরায়েল।

এদিকে হামাসের সঙ্গে বন্দি বিনিময় চুক্তির বিষয়টি যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভায় আলোচনা হয়েছে, তবে এ বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। এছাড়া এ বিষয়ে আরও বিশদ কোনও বিবরণ দিতে অস্বীকার করেছেন তিনি।

নেতানিয়াহু বলেছেন, এ বিষয়ে কোনও বিবরণ প্রকাশ করা হলে তা বিপরীতমুখী ফলাফল সামনে আনতে পারে।

এছাড়া গাজায় স্থল আক্রমণের সময়ও বন্দিদের মুক্তির জন্য যোগাযোগ অব্যাহত থাকবে কিনা সংবাদ সম্মেলনে এমন প্রশ্ন করা হলে নেতানিয়াহু উত্তর দেন: ‘হ্যাঁ’।

এর আগে হামাসের মুখপাত্র আবু ওবাইদা বলেছিলেন: ‘শত্রু যদি আটকদের মুক্তির বিষয়টি একসঙ্গে সম্পন্ন করতে চায়, আমরা তার জন্য প্রস্তুত। তারা যদি (বন্দি মুক্তির বিষয়টি) ধাপে ধাপে করতে চায়, আমরা সেটির জন্যও প্রস্তুত।’

প্রসঙ্গত, মুসলিমদের তৃতীয় পবিত্র ধর্মীয় স্থান আল-আকসা মসজিদের পবিত্রতা লঙ্ঘন এবং অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের অত্যাচারের জবাব দিতে গত ৭ অক্টোবর ‘অপারেশন আল-আকসা ফ্লাড’ নামে একটি অভিযান চালায় ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস। হামাসের এই অভিযানে কার্যত হতবাক হয়ে পড়ে ইসরায়েল।

হামাসের এই হামলায় নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ১৪০০ ইসরায়েলি। নিহতদের মধ্যে ২৮৬ জন সেনাসদস্য রয়েছে বলে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে। হামাসের হামলায় আহত হয়েছেন আরও ৪ হাজার ৪০০ জনেরও বেশি ইসরায়েলি। এছাড়া আরও ২২৯ জনকে বন্দি করে গাজায় নিয়ে গেছে হামাস।

হামাসের হাতে আটক বিপুল এসব বন্দির মধ্যে ইসরায়েলি-আমেরিকান দ্বৈত নাগরিকও রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু নিজেও গাজায় আটক সব বন্দির নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেছেন।