Tag Archives: ঢাকা-চট্টগ্রাম

শিক্ষার্থীদের যুবদল নেতার হুমকি

শিক্ষার্থীদের যুবদল নেতার হুমকি, প্রতিবাদে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ

শিক্ষার্থীদের যুবদল নেতার হুমকি, প্রতিবাদে ঢাকা—চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ

জাকির হোসেন হাজারী, দাউদকান্দি:

দাউদকান্দির বরকোটা স্কুল এন্ড কলেজকে সন্ত্রাস, অনিয়ম, দুর্নীতি ও দালালমুক্ত করার দাবীতে মহাসড়ক অবরোধ করেছে শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় ঢাকা—চট্টগ্রাম মহাসড়কের আমিরাবাদ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় কয়েক শতাধিক শিক্ষার্থী ব্যানার হাতে সড়কে বসে এ আন্দোলন করেন। শিক্ষার্থীরা স্থানীয় যুবদল নেতা রুহুল আমিনকে উদ্দেশ্য করে “ রুহুল আমিন তুই বাটপার, এই মুহুর্তে ক্যাম্পাস ছাড়” স্লোগান দেন।

এসময় মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনের প্রায় তিন কিলোমিটার এবং কচুয়া সড়কের প্রায় এককিলোমিটার এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে যৌথবাহিনীর বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রশাসন ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে তাদের দাবিদাবা শোনেন। পরে শিক্ষার্থীদের আশ্বস্থ করা হলে ১ ঘন্টা পর শিক্ষার্থীরা সড়ক থেকে অবরোধ তুলে নেয়।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানান, গত ৫আগষ্ট আওয়ামীলীগ সরকারের পতনের পর স্থানীয় যুবদল নেতা রুহুল আমিন কলেজের অফিস সহকারী মো. আদিলকে পিটিয়ে আহত করেন। এ ছাড়া কলেজে নির্মিত পাঠাগারটি ভেঙে ফেলেন। কলেজের অফিস কক্ষে লুটপাট করে এবংপাঠাগারে থাকা কয়েক হাজার বই লুট করে নিয়ে যান। এখন ওই নেতা কলেজের সভাপতি হতে চান। এনিয়ে কলেজের বিভিন্ন শিক্ষার্থীদের হুমকি ধামকি দিচ্ছেন যুবদল নেতা রুহুল আমিন। কলেজ ক্যাম্পাসকে সন্ত্রাস, অনিয়ম, দুর্নীতি ও দালাল মুক্ত করার দাবীতে আমরা সড়কে নেমেছি।

বিক্ষোভকারীদের মধ্যে কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থী সাব্বির আহাম্মেদন শুভ ও জুবায়ের বলেন, যুবদল নেতা রুহুল আমিন কলেজে গিয়ে শিক্ষার্থীদের হুমকি দেয়। বিভিন্ন অনিয়ম করে। তাকে আইনের আওতায় আনার দাবী জানাচ্ছি।

কলেজের একাদশ শ্রেনীর শিক্ষার্থী জিহাদ ভূঁইয়া, ফয়সাল ও মিনহাজ বলেন, আমরা সন্ত্রাস মুক্ত শিক্ষাঙ্গন চাই। আমরা লেখাপড়ার সুন্দর পরিবেশ চাই।

কলেজের অধ্যক্ষ(ভারপ্রাপ্ত) মোঃ আমিনুল ইসলাম বলেন, কলেজের দোকান নিয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতা রুহুল আমিনের সাথে দীর্ঘদিন দ্বন্দ্ব চলছে। আগের অধ্যক্ষ২০২১ সালে দোকান ভেঙ্গে পাঠাগার নির্মাণ করেছিলেন। ৫আগষ্ট আওয়ামীলীগ সরকার পতনের পর পাঠাগার ভেঙ্গে ফেলেন। তবে কে বা কারা ভেঙ্গেছে আমি বলতে পারবো না। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের বিষয়ে আমি জানতাম না, শুনে আন্দোলনস্থলে এসেছি। পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে নিয়ে গেছি।

দাউদকান্দি মডেল থানার ওসি মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, আমরা শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলেছি। আমরা তাদেরকে আস্বস্থ করেছি। কলেজে কোন ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চলতে দেয়া হবেনা। পরে তারা সড়ক থেকে অবরোধ তুলে নেন।

দাউদকান্দি উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. রুহুর আমিন বলেন, আমার সম্মান নষ্টœ করার লক্ষ্যে চক্রান্ত করা হয়েছে। আমি স্কুলের সভাপতি প্রার্থী হয়েছি এটাই আমার অপরাধ। আমি আমি যাতে সভাপতি না হতে পারি এজন্য আমার বিরুদ্ধে চক্রান্ত চলছে।

উপজেলা যুবদলের আহবায়ক মোঃ শাহ আলম বলেন, রুহুল আমিনের বিষয়ে আন্দোলন করেছে শিক্ষার্থীরা, বিষয়টি আমি শুনেছি। দলীয় ফোরামে আলোচনা এবং সাংগঠনিকভাবে তদন্ত করা হবে। রুহুল আমি দোষী প্রমানিত হলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাঈমা ইসলাম বলেন, বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ এনে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করেছে। আমরা তাদেরকে আশ্বস্থ করেছি আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। রুহুল আমিন নামের এক বিএনপি নেতার নাম এসেছে। আমরা এ ব্যাপারে বিএনপির স্থানীয় সিনিয়র নেতাদের অবহিত করবো। ওই ব্যক্তির নামে উঠা অভিযোগ তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

রাতের আধাঁরে কাটা হচ্ছে

রাতের আধাঁরে কাটা হচ্ছে ঢাকা—চট্টগ্রাম মহাসড়কের ডিভাইডার

রাতের আধাঁরে কাটা হচ্ছে ঢাকা—চট্টগ্রাম মহাসড়কের ডিভাইডার

জাকির হোসেন হাজারী, দাউদকান্দি:

ঢাকা—চট্টগ্রাম চার লেন মহাসড়ক। প্রতিনিয়তই মহাসড়কটির দাউদকান্দি অংশে ঘটে ছোট—বড় দুর্ঘটনা। প্রাণহানির ঘটনাও নেহাত কম নয়। এরই মধ্যে রাতের আঁধারে সড়কের মাঝখানে অবৈধভাবে কেটে দেয়া হচ্ছে ডিভাইডার। কাটা ডিভাইডারে পার হচ্ছে অটোরিকশা, মোটরসাইকেল, সিএনজিসহ ছোট যানবাহনসহ পথচারী। এতে মহাসড়কে বাড়ছে দুর্ঘটনা। সঙ্গে বেড়ে চলেছে প্রাণের ঝুঁকি।

মহাসড়কটির দাউদকান্দি অংশে প্রতিনিয়তই ঘটে থাকে দুর্ঘটনা। গত এক বছরে এই মহাসড়কে দুর্ঘটনায় ঝরে গেছে প্রায় অর্ধশতাধিক প্রাণ। বিগত সরকারের সময় মহাসড়কে অবৈধ থ্রি হুইলার বন্ধ থাকলেও আগষ্টের পর থেকে অবাধে চলছে।

চার লেন সড়কের বেশিরভাগ কাটা ডিভাইডার ঢালাই ব্লক এবং আরসিসি দেয়াল তুলে বন্ধ করে দেয় সড়ক বিভাগ। বন্ধ করার পরও কে বা কারা রাতের অন্ধকারে অবৈধভাবে সেই ডিভাইডারগুলো আবার ভেঙ্গে ফেলছেন। এতে সড়ক পারাপার হতে গিয়ে বিভিন্ন সময় ঘটছে দুর্ঘটনা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মহাসড়কের গৌরীপুর অংশে ঢাকামুখী লেনে দ্রুত গতির এবং লোকালের জন্য ডিভাইডারের মাধ্যমে ভাগ করা হয়। মাঝখানের ডিভাইডার কেটে তৈরি করা হয়েছে সড়ক পারাপারের ব্যবস্থা। সড়ক বিভাগ এসব কাটা ডিভাইডার মেরামতের মাধ্যমে বন্ধ করে দিলেও কয়েক দিনের মধ্যেই রাতের আঁধারে আবারও সেগুলো কোথাও কেটে ফেলছে, আবার কোথাও সরিয়ে ফেলেছে অজ্ঞাত একটি চক্র। সড়কটির বারপাড়া এবং হাসানপুর কলেজের সামনের অটোরিক্সা ও সিএনজি পারাপারের জন্য ডিভাইডারের ব্লকগুলো খুলে ফেলেছে। এসব অংশ দিয়ে ঝুঁকি নিয়েই সড়ক পারাপার হচ্ছে পথচারীরা । এতে প্রায়ই ঘটছে ছোট—বড় দুর্ঘটনা। সড়কে ঝরে পড়ে তাজা প্রাণ।

স্থানীয় অনেকেই জানান, মহাসড়কে চলাচলকারী ছোট পরিবহনগুলো ইউটার্ন করতে গেলে অনেক পথ যেতে হয়। অনেকেই নিজেদের প্রয়োজনে রাতের আঁধারে ডিভাইডার কাটছেন। অনেকবারই সেসব বন্ধ করেছে সড়ক বিভাগ। কিন্তু বন্ধ করার কয়েক দিন পর দেখা যায় ডিভাইডারগুলো আবারও উধাও। হয় কয়েক দিন পর গাড়ি দিয়ে ভেঙে ফেলেছেন, না—হয় রাতে ঢালাই ভেঙ্গে ফেলছে, আবার কোথাও খুলে নিয়ে গেছেন। প্রথমে ছোট গাড়ি পারাপারের রাস্তা করা হলেও তা আস্তে আস্তে ভেঙে ভেঙে বড় হয়। এসব ভাঙা ডিভাইডারে পারাপারের সময় বড় গাড়িও না দেখে ধাক্কা দিয়ে চলে যায়। এতে দুর্ঘটনাও বেশি ঘটে। মাঝে মাঝে বন্ধ করে বেশিদিন রক্ষা করা যাচ্ছে না ডিভাইডারগুলো। তাই ডিভাইডারের কাটা অংশগুলো ঢালাইয়ের মাধ্যমে স্থায়ীভাবে বন্ধ করা গেলে আর কাটতে পারবে না কেউ। এতে কমে আসবে দুর্ঘটনাও।

নিরাপদ সড়ক চাই(নিসচা) দাউদকান্দি শাখার সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন বলেন, মহাসড়কটির ব্যস্ততম স্থান হলো গৌরীপুর বাসস্ট্যান্ড। ঢাকামুখী সরাসরি লেনে গাড়ি থামিয়ে যাত্রী উঠানামা করাতে ডিভাইডার ভাঙ্গা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে পথচারী ও যাত্রী পারাপারে বড় ধরনের দূর্ঘটনার সম্ভবনা রয়েছে। দুর্ঘটনা রোধে দ্রুত ভাঙ্গা অংশ মেরামত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করছি।

দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ওসি মোঃ আবু ওবায়েদ বলেন, কয়েকদিন আগে আমি খোনে যোগদান করেছি মাত্র। খোজ খবর নিয়ে সড়ক ও জনপথের কর্মকর্তাদের সাথে সমন্বয় করে দুর্ঘটনারোধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী আবু সালেহ বলেন, ‘মহাসড়কটির দাউদকান্দি অংশে দুর্ঘটনা রোধে ডিভাইডারের কাটা অংশগুলো অনেকবারই বন্ধ করা হয়েছে। আর দুর্ঘটনা হ্রাস করতে ডিভাইডার ও ফুটওভার ব্রীজ করা হয়েছে। কিন্তু জনসাধারণ সেটা ব্যবহার করতেছেনা, উল্টো ভেঙ্গে ফেলছে বা নষ্ট করছে। এখানে যারা ব্যাবহারকারী, জনপ্রতিনিধি, হাইওয়ে পুলিশ ও সাংবাদিকদের প্রতি আহবান রাখছি যাতে রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষার জন্য সবার মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে।

চান্দিনায় কাভার্ড ভ্যানের চাপায় পথচারী ভিক্ষুক নিহত

চান্দিনা প্রতিনিধি:

কুমিল্লার চান্দিনায় সড়ক পারাপারের সময় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কাভার্ড ভ্যানের চাপায় পিষ্ট হয়ে পরী বেগম (৬০) নামে এক পথচারী ভিক্ষুক নিহত হয়েছে।

বুধবার (২০ মার্চ) সকাল ১০টায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মাধাইয়া বাস স্টেশন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

তিনি উপজেলার মাধাইয়া ইউনিয়নের সোনাপুর গ্ৰামের শহীদ ভিক্ষুকের স্ত্রী।

স্থানীয় জানান, পরী বেগম ও তার স্বামী প্রতিদিন ভিক্ষা করে জীবিকা নির্বাহ করতো। সকাল ১০টার দিকে মহাসড়ক পারাপার হতে গিয়ে অজ্ঞাত একটি কাভার্ডভ্যানের চাপায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন তিনি। কাভার্ডভ্যানটি তাকে চাপা দিয়ে দ্রুত গতিতে স্থান ত্যাগ করায় গাড়িটিকে শনাক্ত করা যায়নি।

এবিষয়ে ইলিয়টগঞ্জ হাইওয়ে থানার ইন-চার্জ (ইন্সপেক্টর) মনজুরুল আলম মোল্লা জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তাৎক্ষনিক ভাবে আমাদের কেউ জানায়নি। সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছি।

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে মহাসড়কের পাশ থেকে লাশ উদ্ধার

ফখরুদ্দীন ইমন:

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গাংরা এলাকা থেকে মুখে স্কচটেপ মোড়ানো অবস্থায় মো: আব্দুল মমিন (৪৩) নামে এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

সে জামালপুর জেলার মেলান্দ থানার মো: ইয়াস আলী আখন্দ এর ছেলে।

বুধবার (২০ মার্চ) দুপুরে তথ্যটি নিশ্চিত করেন চৌদ্দগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ত্রিনাথ সাহা।

জানা গেছে, বুধবার সকাল অনুমান সাড়ে এগারটায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গাংরা এলাকায় মুখে স্কচটেপ বাধা অবস্থায় মহাসড়কের পশ্চিম পাশে একটি লাশ দেখতে পায় স্থানীয়রা। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এর মাধ্যমে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দিলে তাৎক্ষণিক চৌদ্দগ্রাম থানার উপ-পরিদর্শক মো: রুহুল আমিন সঙ্গীয় ফোর্স সহ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল শেষে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন। প্রযুক্তির সহায়তায় নিহতের পরিচয় সনাক্তের পর স্বজনদেরকে খবর দেয়া হয়েছে। নিহতের বাড়ী জামালপুর জেলার মেলান্দ থানায় বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশ ধারণা করছে, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যা। পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ত্রিনাথ সাহা বলেন, ‘উপজেলার জগন্নাথদীঘি ইউনিয়নের গাংরা এলাকায় মহাসড়কের ঢাকামুখি লেনে রাস্তার পশ্চিম পাশে লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল শেষে লাশ উদ্ধার ও পরিচয় সনাক্ত করে। নিহতের স্বজনদেরকে খবর দেয়া হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটিকে হত্যা বলেই ধারণা করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসলে বিস্তারিত বলা যাবে।’

কুমিল্লা চৌদ্দগ্রামে সড়ক দুর্ঘটনায় বৃদ্ধার মৃত্যু

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে রাস্তা পার হওয়ার সময় অজ্ঞাত গাড়ির ধাক্কায় আনোয়ার হোসেন(৫২) নামে এক পথচারি নিহত হয়েছেন।

তিনি উপজেলার উজিরপুর ইউনিয়নের উত্তর প্রতাপপুর গ্রামের মৃত আমির হোসেনের ছেলে।

বুধবার দুপুরে তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন মিয়াবাজার হাইওয়ে থানার সেকেন্ড অফিসার সাইদুল হক।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মিয়াবাজার ফুটওভার ব্রিজ থেকে নেমে সড়ক পার হওয়ার সময় অজ্ঞাতনামা দ্রুতগামী গাড়ি আনোয়ার হোসেনকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনা¯’লে তাঁর মৃত্যু হয়।

মিয়াবাজার হাইওয়ে থানা সেকেন্ড অফিসার সাইদুল হক বলেন, ‘দুর্ঘটনার খবর পেয়ে লাশটি উদ্ধার শেষে ফাঁড়িতে আনা হয়েছে। স্বজনদের আবেদনের প্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশটি হস্তান্তর করা হয়েছে’।

চৌদ্দগ্রামে ৫২ কেজি গাঁজাসহ ৩ মাদক কারবারি আটক

ফখরুদ্দীন ইমন:

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৫২ কেজি গাঁজাসহ তিন মাদক কারবারিকে আটক করেছে থানা পুলিশ।

আটককৃতরা হলো, কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া থানার বালিয়া গ্রামের আব্দুল মতিনের ছেলে মো: ছালা উদ্দিন (২৪), হবিগঞ্জ জেলার সদর থানার কাশিপুর গ্রামের মো: আব্দুল মজিদের ছেলে মো: সাদেক মিয়া (২০) এবং একই গ্রামের সালেক মিয়ার ছেলে বিজয় (১৮)। বৃহস্পতিবার বিকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন চৌদ্দগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ত্রিনাথ সাহা।

জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার দিবাগত রাত সাতটায় চৌদ্দগ্রাম থানার উপ-পরিদর্শক মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে সহকারী উপ-পরিদর্শক হারুন অর রশিদ ও এমরান ভূঁইয়া এবং সঙ্গীয় ফোর্স সহ উপজেলার ঘোলপাশা ইউনিয়নের আমানগন্ডা সাকিনে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের তাকিয়া আমগাছ এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৫২ কেজি গাঁজাসহ ছালা উদ্দিন, সাদেক মিয়া ও বিজয়কে আটক করে। এ সময় মাদক পরিবহনকাজে ব্যবহৃত একটি আরটিআর-৪ভি মোটরসাইকেল জব্দ করে পুলিশ। পরে আটককৃতদের বিরুদ্ধে থানায় মাদক আইনে মামলা দায়ের শেষে আদালতের মাধ্যমে তাদেরকে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ত্রিনাথ সাহা বলেন, ‘থানা পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৫২ কেজি গাঁজাসহ তিন মাদক কারবারিকে আটক করে৷ এ সময় একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।

আটককৃতদের বিরুদ্ধে থানায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে বৃহস্পতিবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাদেরকে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে থানা পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

চৌদ্দগ্রামে পৃথক অভিযানে ১১ কেজি গাঁজা সহ আটক ৩

ফখরুদ্দীন ইমন:

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে থানা পুলিশের পৃথক অভিযানে ১১ কেজি গাঁজা সহ তিন মাদক কারবারিকে আটক করা হয়েছে। আটককৃতরা হলো: উপজেলার ঘোলপাশা ইউনিয়নের ধনুসাড়া উত্তরপাড়ার কাজী সিরাজুল ইসলাম এর ছেলে জালাল উদ্দিন প্রকাশ স্বপন (৩৫), কাশিনগর ইউনিয়নের অলিপুর গ্রামের মো: ইউনুছ এর ছেলে রবিউল হোসেন রবিন (২৩) ও নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও থানার রামগোবিন্দগাঁও এর মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে মফিজ উদ্দিন (৫৬)। সোমবার বিকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন চৌদ্দগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ত্রিনাথ সাহা।

জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চৌদ্দগ্রাম থানার উপ-পরিদর্শক সুজন কুমার চক্রবর্তী এর নেতৃত্বে সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্স সহ সোমবার সকাল সাড়ে নয়টায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কোমাল্লা রাস্তার মাথা এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি সিমেন্টের বস্তায় সংরক্ষিত (৫ পোটলা) ১০ কেজি গাঁজা সহ মফিজ উদ্দিনকে আটক করা হয়। এ সময় উপজেলার ঘোলপাশা ইউনিয়নের শালুকিয়া গ্রামের মৃত নুরু মিয়ার ছেলে রমিজ মিয়া (৩৪) নামে তার অপর এক সহযোগী পালিয়ে গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এদিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে থানার সেকেন্ড অফিসার উপ-পরিদর্শক আলমগীর হোসেন সঙ্গীয় ফোর্স সহ রোববার দিবাগত গভীর রাত সাড়ে চারটায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চট্টগ্রামমুখী লেনে উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের ছুপুয়া এলাকায় হাইওয়ে ট্রাক হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্টে অভিযান চালিয়ে ৫০টি গাঁজার রোল (ওজন ১ কেজি) ও মাদক বিক্রয়ের নগদ ২ হাজার ৩০০ টাকা সহ চিহিৃত দুই মাদক ব্যবসায়ী জামাল উদ্দিন প্রকাশ স্বপন ও রবিউল হোসেন রবিনকে আটক করা হয়। আটককৃতদের বিরুদ্ধে থানায় মাদক আইনে মামলা দায়ের শেষে সোমবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাদেরকে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ত্রিনাথ সাহা বলেন, ‘থানা পুলিশের পৃথক অভিযানে ১১ কেজি গাঁজা সহ ৩ মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে থানায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে আদালতের মাধ্যমে তাদেরকে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।’