Tag Archives: অভিযোগ

হাজীগঞ্জে সম্পত্তিগত বিরোধে গাছের চারা কর্তন ও বৃদ্ধা নারীকে মারধরের অভিযোগ

হাজীগঞ্জে সম্পত্তিগত বিরোধে গাছের চারা কর্তন ও বৃদ্ধা নারীকে মারধরের অভিযোগ

মাসুদ হোসেন, চাঁদপুরঃ

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার রাজারগাঁও ইউনিয়নের মেনাপুরে ইউসুফ বকাউল সহ আরো ৪-৫ জন ব্যক্তির বিরুদ্ধে একই বাড়ির মোহাম্মদ আলী বকাউলের লাগানো গাছ কর্তন ও প্রাণনাশের হুমকির ঘটনায় একজন আহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় হাজীগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন ভুক্তভোগী মোহাম্মদ আলী বকাউল।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ইউনিয়নের মেনাপুর গ্রামের বকাউল বাড়ির মোহাম্মদ আলীর সম্পত্তিতে তার ছেলে নেছার আহমেদ কয়েক বছর আগে কিছু ফলজ গাছ লাগান। কিন্তু পরবর্তীতে পার্শ্ববর্তী অংশীদার একই বাড়ির বাসিন্দা মৃত জুনাব আলীর অংশ দাবী করে বাঁধা দেন তার ছেলেরা। এক পর্যায়ে গত শনিবার (১৪ অক্টোবর) সকালে মোহাম্মদ আলীর ছেলে নেছার আহমেদের লাগানো জীবন্ত গাছগুলো কেটে সাবার করে দেন মৃত জুনাব আলীর ছেলে ইউসুফ বকাউল, কামাল বকাউল, আব্দুস সাত্তার বকাউলের ছেলে আলম বকাউল, কামাল বকাউলের ছেলে রাহুল বকাউল ও রাতুল বকাউল। এ নিয়ে সামাজিক মহলে নিন্দা প্রকাশ করেন অনেকেই। তারা বলেন, মানুষ মানুষের সাথে সম্পত্তি নিয়ে ঝামেলা থাকতেই পারে। কিন্তু জীবন্ত গাছগুলো কি অন্যায় করেছে। গাছগুলো কেটে ফেলা মোটেও ঠিক হয়নি।

ঘটনার দিন বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মোহাম্মদ আলী বকাউল এক পা হারিয়ে বৃদ্ধ জীবন নিয়ে চলাচল করতে কস্ট হচ্ছে খুবই। তার ছেলে নেছার আহমেদও ব্যবসার সুবাদে রাজারগাঁও বাজারেই থাকা হয় দিনের বেশিরভাগ সময়। মৃত জুনাব আলীর ছেলেরা সংখ্যাঘনিষ্ট হওয়ায় তাদের সাথে কুলিয়ে উঠতে পারেন না এই ভুক্তভোগী পরিবারটি। তার প্রমাণ হিসেবে সংবাদকর্মীরা যখন ঘটনাস্থলে যায়, তখন সাংবাদিকদের সামনেই বেশী বাড়াবাড়ি করলে মৃত জুনাব আলীর ছেলেরা ক্ষিপ্ত হয়ে ঐ অসহায় পরিবারটিকে দেখে নেয়ার হুমকি প্রদান করেন।

ভুক্তভোগী মোহাম্মদ আলী বকাউলের ছেলে নেছার আহমেদ বলেন, আমাদের সম্পত্তিতে আমরা কিছু গাছ লাগাই। পরে তারা আমাদেরকে গাছগুলো উঠিয়ে নিতে বললে আমরা এলাকার কয়েকজনকে জানালে এবছর তারা পানি কমলে জায়গা মাপ দিয়ে যে পাবে তাকে সীমানা নির্ধারণ করে দেয়ার সিদ্ধান্তে মেনে নেয়ার পর শনিবার জুনাব আলীর ছেলেরা গাছগুলো কেটে ফেলে। আমার মা বাঁধা দিতে গেলে তাকে মারধর করেন এবং তিনি বর্তমানে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
এদিকে মৃত জুনাব আলীর এক ছেলে বলেন, সম্পত্তি নির্ধারণ না করে নেছার আহমেদ আমাদের সম্পত্তিতে গাছ লাগিয়েছে। তাদেরকে কয়েকবার বলেছি তারা কোন কর্ণপাত করেন নি। তাই আমরা গাছগুলো কেটে ফেলেছি। তবে গাছগুলো কাটা আমাদের মোটেও ঠিক হয়নি।

এ বিষয়ে রাজারগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ আলমগীর কাজী এ প্রতিবেদককে বলেন, ঘটনারদিন আমি ঢাকায় ছিলাম। ভুক্তভোগীরা আমাকে ফোনে বিষয়টি জানিয়েছে।

মুরাদনগরে ৪ বছর কর্মস্থলে না এসেও বেতন তুলেছেন সাড়ে ১১ লক্ষ টাকা!

মুরাদনগরে ৪ বছর কর্মস্থলে না এসেও বেতন তুলেছেন সাড়ে ১১ লক্ষ টাকা

 

মাহবুব আলম আরিফ, মুরাদনগরঃ

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪ বছর কর্মস্থলে না এসেও নিয়মিত বেতন ভাতার প্রায় সাড়ে ১১ লক্ষ টাকা তুলার অভিযোগ মোসা: রহিমা বেগম নামের এক আয়ার বিরুদ্ধে। সে ১৯৯৫ সালের দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আয়ার চাকুরিতে নিযুুক্ত হয়। ২০১৯ সালের মাঝা মাঝি সময় চাকুরিরত অবস্থায় রহিমা বেগম শারীরিক অসুস্থতার কথা বলে ছুটিতে যান। ছুটির মেয়াদ শেষ হলেও বিগত চার বছর ধরে শুধুমাত্র বেতন ও ভাতার টাকা উত্তোলনের সময় ছাড়া নিজ কর্মস্থলে দেখা যায় না তাকে।

নাম প্রকাশে অনচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের ডিজিটাল হাজিরা (ফিঙ্গার প্রিন্ট) হাজিরার আওতায় আনা হলে রহিমা বেগমের ফিঙ্গার প্রিন্ট না নিয়ে স্বামী জামাল হোসেনের ফিঙ্গার প্রিন্ট নেওয়া হয়। এর পর থেকে প্রতিদিন স্বামী জামাল হোসেন হাজিরা মেশিনে নিজের ফিঙ্গার প্রিন্টের মাধ্যমে হাজিরার উপস্থিতি দেখিয়ে আসছে। মূলত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কিছু অসাধু কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় বিগত ৪ বছর ধরে কোন রকম ছুটি ছাড়াই বছরের পর বছর কর্মস্থলে না এসেও প্রতি মাসে বেতনের ২৪ হাজার টাকা ও সরকারি সকল প্রকার সুযোগ-সুবিধা তুলে নিচ্ছেন রহিমা বেগম।

আয়া রহিমা বেগমের স্বামীর বাড়ি পরমতলা গ্রামের আব্দুল জলিল জানান, রহিমা বেগম তেমন কোন অসুস্থ না। তিনি বাড়িতে থেকে বিভিন্ন কৃষিকাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখেন সব সময। মূলত তার স্বামী জামাল হোসেন একটু অলস প্রকৃতির মানুষ শুনেছি সেজন্য হাসপাতালের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে দীর্ঘদিন যাবত স্বামীকে দিয়ে তার ডিউটি করাচ্ছে।

সকল অভিযোগ অস্বীকার করে আয়া রহিমা বেগম বলেন, একটি সড়ক দুর্ঘটনায় আমি পায়ে ব্যথা পেয়ে প্রায় পঙ্গু হয়ে গিয়েছিলাম। কয়েক বছর আমার চলাফেরা করতে খুবই কষ্ট হয়েছিল। তারপর থেকে নিয়মিত চিকিৎসার ফলে বর্তমানে আমি কিছুটা ভালো। আমি প্রতিদিনই হাসপাতালের ডিউটিতে যাই, অসুস্থতার কারণে আমি কাজ করতে পারি না বিধায় আমার স্বামী আমার উপস্থিতিতে কাজে সহযোগিতা করেন।

তবে স্বামী জামাল হোসেন স্ত্রীর অসুস্থতা নিয়ে বলছেন ভিন্ন কথা তিনি বলেন, আমার স্ত্রী দীর্ঘদিন যাবত পিঠের ব্যথা নিয়ে খুবই অসুস্থ। পরে আমি বড় স্যারদের হাতে পায়ে ধরে তার উপস্থিতিতে সকল কাজ করার অনুমতি নিয়ে আমি সব কাজ করি।

মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ এনামুল হক বলেন, আমি এখানে দায়িত্ব নেয়ার পর রহিমা বেগমের বিষয়টি জানতে পারি। আসলে আমার আগে যে কর্মকর্তারা ছিলেন তারা নাকি রহিমা বেগমের অসুস্থতার কথা জেনে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে রহিমা বেগমের উপস্থিতিতে স্বামীকে দিয়ে ডিউটি করার অনুমতি দিয়েছিলেন। তার পরেও বিষয়টিকে আমি যাচাই-বাছাই করে গুরুত্ব সহকারে দেখছি।

 

নাসির হোসেনের বিরুদ্ধে আইসিসির দুর্নীতির অভিযোগ

নাসির হোসেনের বিরুদ্ধে আইসিসির দুর্নীতির অভিযোগ

ডেস্ক রিপোর্ট:

২০২১ সালে আবুধাবি টি-টেন লিগে পুনে ডেভিলসের অধিনায়ক ছিলেন বাংলাদেশের অলরাউন্ডার নাসির হোসেন। তবে, টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বাজে খেলেছিলো নাসিরের নেতৃত্বাধীন দলটিই। গ্রুপ পর্বের ৬ ম্যাচে ২ জয়ে ৮ দলের মধ্যে তারা হয়েছিলো ৮ম।

টুর্নামেন্ট শেষ হওয়ার পর থেকেই সম্ভাব্য বেশ কয়েকজন ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে আইসিসির অ্যান্টি করাপশন ইউনিট। শেষ পর্যন্ত ক্রিকেটার ও কর্মকর্তাসহ মোট ৮ জনের বিরুদ্ধে তারা কিছু দুর্নীতির অভিযোগ গঠন করতে পেরেছে। যে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত বাংলাদেশের একমাত্র ক্রিকেটার নাসির হোসেন।

আজ বিকেলে আইসিসি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়েছে এসব তথ্য। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিটিতে আইসিসি লিখেছে, আমিরাত ক্রিকেট বোর্ডের (ইসিবি) পক্ষ থেকে এ অভিযোগ গঠন করেছে তারা। নাসিরের বিরুদ্ধে দুর্নীতিবিরোধী কোডের মোট তিনটি ধারা ভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়েছে।

যে আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, তারা হলেন- কৃষাণ কুমার চৌধুরী (অন্যতম মালিক), পরাগ সাংভি (অন্যতম মালিক), আজহার জাইদি (ব্যাটিং কোচ), সানি দিলন (সহকারী কোচ), শাদাব আহমেদ (টিম ম্যানেজার), আরব আমিরাতের স্থানী ক্রিকেটার রিজওয়ান জাভেদ, সালিয়া সামান এবং নাসির হোসেন (বাংলাদেশের ক্রিকেটার)।

তবে এই আট অভিযুক্তের মধ্যে ৬ জনকে (কৃষাণ কুমার চৌধুরী, পরাগ সাংভি, আজহার জাইদি, রিজওয়ান জাভেদ, সালিয়া সামান এবং সানি দিলনকে প্রাথমিকভাবে বহিস্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযুক্ত সবাইকে ১৯ সেপ্টেম্বরের পর ১৪ দিনের মধ্যে অভিযোগের জবাব দিতে বলা হয়েছে আইসিসির পক্ষ থেকে।

২০২১ টি-টেন লিগের ম্যাচে দুর্নীতির চেষ্টা করা হয়েছিলো বলে অভিযোগ আইসিসির। যদিও সেই চেষ্টা নস্যাৎ করা হয়েছে। দুর্নীতি সফল করার সুযোগ পায়নি।

এমিরেটস ক্রিকেট বোর্ডের (ইসিবি) মাধ্যমে আইসিসি ডেজিগনেটেড অ্যান্টি করাপশন অফিসিয়াল (ডাকো) নিয়োগ দিয়েছিলো টুর্নামেন্টটিতে ইসিবির অ্যান্টি করাপশন কোডের বাস্তবায়ন করার জন্য। সেই কর্মকর্তাই উপরোক্ত আটজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আনয়ন করেন।

নাসির হোসেনের বিরুদ্ধে যে তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে, তার মধ্যে প্রথমটি হলো- আর্টিকেল ২.৪.৩-এ বলা হয়েছে, ৭৫০ ডলার মূল্যের উপহার সম্পর্কে আইসিসির অফিসিয়ালের (ডাকো) কাছে তথ্য দিতে না পারার ব্যর্থতা।

দ্বিতীয় অভিযোগ হচ্ছে- নিয়ম অনুযায়ী ডাকো’র কাছে যে কোনো ধরনের দুর্নীতির প্রস্তাব, এ সম্পর্কে কারও চেষ্টা সম্পর্কিত তথ্য না দিতে পারার ব্যর্থতা। তৃতীয় অভিযোগ হচ্ছে- অভিযোগ অস্বীকার, আইসিসি কর্তৃক পরিচালিত তদন্তে কোনো সহযোগিতা না করা।

বাকি সবার মধ্যে যে ৬জনকে প্রাথমিকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে- তাদের সবার বিরুদ্ধে ম্যাচ পাতানোর চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে। মালিক এবং কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত অভিযোগ হলো, তারা কিছু কিছু ক্রিকেটারকেও ম্যাচ পাতানোর প্রস্তাব দিয়েছিলো।

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে স্বামী পরিত্যক্তা নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে স্বামী পরিত্যক্তা নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ

 

স্টাফ রিপোর্টারঃ

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে স্বামী পরিত্যক্তা চল্লিশর্ধো এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ওই নারী বাদী হয়ে কুমিল্লা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে অভিযোগ দায়ের করেছেন। আদালত অভিযোগটি দাউদকান্দি মডেল থানার ওসিকে তদন্তের দায়িত্ব প্রদান করেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের সুরেরবাগ গ্রামের মৃত. তারু মিয়ার ছেলে নাছির উদ্দিন ওরফে ড্রেজার নাছির গত ছয় মাস যাবৎ বিভিন্ন সময়ে বাড়ির আশপাশে ঘুরাঘুরি করে অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে কুপ্রস্তাব দিত। তার প্রস্তাবে সাড়া না দেয়ায় পরে সে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। এত রাজি না হওয়ায় গত ৬ সেপ্টেম্বর রাতে প্রকৃতির ডাকে ওই নারী ঘরের বাইরে গেলে পূর্ব থেকে ওৎ পেতে থাকা নাছির উদ্দিন মুখ চেপে ধরে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। পরদিন সকালে এলাকায় জানাজানি হলে স্থানীয়ভাবে মীমাংসার কথা বলে এলাকার গণ্যমান্য লোকজন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মোঃ সেলিম মিয়া বলেন, কয়েকদিন আগে সুরেরবাগ গ্রামের নাছির উদ্দিন এক মহিলাকে জোড়পূর্বক ধর্ষণ করেছে বলে শুনেছি। ওই মহিলাকে সে বিয়ে করবে বলে এলাকার লোকজন বলাবলি করতো। বিষয়টি স্থানীয় লোকজন সমাধান করার জন্য চেষ্টা করেছে। এ নিয়ে গ্রামের মসজিদের সামনে বৈঠক বসলেও নাছির উদ্দিন উপস্থিত না হওয়ায় কোন সমাধান হয়নি। গ্রামবাসী পরে ওই মহিলাকে আইনের আশ্রয় নেয়ার জন্য বলে দিয়েছে।

ধর্ষণের শিকার ওই নারী বলেন, আমার স্বামী অনেক বছর খোজ খবর নেয়না।এক ছেলে এক মেয়ে চট্টগ্রামে থাকে। বাড়িতে আমি একা থাকি, প্রায় সময়ই নাছির আমাকে বিয়ে করার কথা বলে সুযোগ নেয়ার চেষ্টা করতো। গত ৬ সেপ্টেম্বর প্রকৃতির ডাকে ঘর থেকে বের হলে সে কখন ঘরে ঢুকে যায় দেখিনি। আমি ঘরে যাওয়ার সাথে সাথে আমার মুখ চেপে ধরে নির্যাতন করে। আমার চিৎকার শুণে প্রতিবেশিরা আসলে নাসির পালিয়ে যায়।

মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ দুলাল মিয়া বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি, লিখিত বা মৌখিকভাবে কেউ জানায়নি।

দাউদকান্দি মডেল থানার ওসি মোঃ মোজাম্মেল হক বলেন, যেহেতু ধর্ষণের বিষয় আদলতে মামলা হয়েছে, তাই মামলার কপি না পাওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে কিছু বলতে পারবো না।

কুমিল্লার হোমনায় হত্যার দায়ে একজনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ

কুমিল্লার হোমনায় হত্যার দায়ে একজনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ

 

স্টাফ রিপোর্টারঃ

কুমিল্লার হোমনায় জজ মিয়া হত্যা মামলায় আজাদ মিয়া (৩৫) নামে একজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

সোমবার বিচারক আসামি আজাদ মিয়ার মৃত্যুদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেন। অপর দুই আসামি সালাউদ্দিন ও নাসির উদ্দিনের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদেরকে খালাস প্রদান করা হয়।

কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ৩য় আদালতের বিচারক রোজিনা খান এ রায় দেন।

আজাদ মিয়া হোমনা উপজেলার হোমনা সদরের সরদার বাড়ির বাহাদুর মিয়ার ছেলে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৫ সালের ২২ মে সন্ধ্যায় জজ মিয়া বিদ্যুৎ না থাকায় গরমের কারণে বাড়ির পাশে পৌর নতুন বাস স্ট্যান্ড খোলা মাঠে বসে মোবারক মিয়াসহ গল্প করছিলেন, এ সময়ে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে আসামিরা জজ মিয়াকে কিল ঘুষি লাথি এবং একপর্যায়ে ছুরি দিয়ে বুকের বাম পাশে আঘাত করে। এ ঘটনায় আহত জজ মিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান তিনি।

এ ব্যাপারে ২৩ মে মৃতের বড়ভাই হোমনা দক্ষিণ পাড়া গ্রামের আনোয়ার আলীর ছেলে মো. জুলহাস বাদী হয়ে হোমনা সরদার বাড়ির বাহাদুর মিয়ার ছেলে আসামি আজাদ মিয়া (৩৫), সালাউদ্দিন (২৮) ও নাসির উদ্দিনসহ (২২) চার জনের বিরুদ্ধে হত্যা মমালা দায়ের করেন। পুলিশ ২৮ মে আসামি আজাদ মিয়াকে গ্রেফতার করেন। অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ২০১৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

এ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের কৌশলী অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট মো. নরুল ইসলাম বলেন, আশা করছি মহামান্য হাইকোর্ট এ রায় বহাল রেখে দ্রুত রায় বাস্তবায়ন করবেন।

আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এইচ এম আবাদ বলেন, রায়ের কপি হাতে পেলে উচ্চ আদালতে আপিল করবো।

চান্দিনায় ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে কর কর্মচারীকে লাঞ্ছিতের অভিযোগ

চান্দিনায় ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে কর কর্মচারীকে লাঞ্ছিতের অভিযোগ

 

চান্দিনা প্রতিনিধিঃ

কুমিল্লার চান্দিনায় এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে কর কর্মচারীকে শারীরিক লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। জনপ্রতিনিধির এমন দায়িত্বহীন কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন ভূক্তভোগী।

গত শুক্রবার (৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার মাইজখার ইউনিয়নের পানিপাড়া গ্রামে ওই ঘটনা ঘটে। হামলাকারী আবুল বাসার মাইজখার ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের বর্তমান সদস্য। আহত কর কর্মচারী মো. মহসিন একই ইউনিয়নের কামারখোলা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি চট্টগ্রাম আয়কর বিভাগে কর্মচারী পদে কর্মরত।

আহত আয়কর কর্মচারী মহসিন জানান, আমাদের নিজস্ব জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে গত ৫ সেপ্টেম্বর মোবাইল ফোনে ওই ইউপি সদস্যের সাথে আমার কথা কাটাকাটি হয়। ৮ সেপ্টেম্বর আমি চট্টগ্রাম থেকে বাড়ি আসার সময় রামমোহন নতুন বাজারের (পানিপাড়া বাজার) মাহী এন্টারপ্রাইজ দোকানে আসি। এসময় ওই দোকানে ইউপি সদস্য মো. বাসারও বসা ছিল। আমি সবার সাথে কুশল বিনিময় করে তার কাছে যেতেই সে ক্ষিপ্ত হয় আমার উপর অতর্কিত হামলা করে। এ ঘটনায় ওই ইউপি মেম্বারের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করি।

অভিযুক্ত মো. আবুল বাসার ঘটনা সত্যতা স্বীকার করে বলেন- জমি সংক্রান্ত বিরোধে সে আমাকে মোবাইল ফোনে হুমকি ধমকি দেয়। ওই ক্ষোভে প্রথমে আমি তাকে ধাক্কা দেই এবং পরে দুই পক্ষের মধ্যেই হাতাহাতি হয়।

মাইজখার ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শাহ্ সেলিম প্রধান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। মহসিনকে তার মেয়ের সামনেই লাঞ্ছিত করেছে বলে আমি জেনেছি। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবী জানাই।

এ ব্যাপারে চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) তাপস শীল জানান, ওই ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটির বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক স্যারের কাছে পাঠানো হচ্ছে। সেখান থেকে তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

মারধর করে মাথা ন্যাড়া: পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ গ্রহণ না করার অভিযোগ

নোয়াখালী প্রতিনিধি:

অনুমোদনহীন বিদ্যুতের লাইন নির্মাণে বাধা দেওয়ায় নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের বসুরহাটে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো) একজন উপ-সহকারীকে মারধর ও মাথা ন্যাড়া করে দেওয়ার ঘটনায় থানায় বাহক মারফত লিখিত অভিযোগ পাঠানো হলেও পুলিশ মামলা নেয়নি। পুলিশ বলেছে, অভিযোগকারী নিজে থানায় যেতে হবে এবং মারধরের ঘটনায় চিকিৎসকের সনদপত্র নিয়ে যেতে হবে।

বৃহস্পতিবার (১৩ জুলাই) বিকেলের দিকে হামলার শিকার প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম এমন অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, গতকাল বুধবার সন্ধ্যার পর বিউবোর কোম্পানীগঞ্জ কার্যালয়ের লাইনম্যান মো. মামুনকে লিখিত অভিযোগ নিয়ে থানায় পরিদর্শকের (তদন্ত) কাছে যান। তিনি তাকে বলেন, ডাক্তারি সনদসহ অভিযোগকারী থানায় আসতে হবে। তখন তাকে শারীরিক অবস্থার কথা জানালে বলেন তাহলে ডাক্তারি সনদ নিয়ে আসতে হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কোম্পানীগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিজানুর রহমান বলেন, তার কাছে অভিযোগ নিয়ে যাওয়ার কথা অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, অভিযোগ নিয়ে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কাছে যাবে, আমার কাছে কেন আসবে। আমি সাক্ষী দিয়ে বুধবার রাতে থানায় ফিরেছি।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাদেকুর রহমান বলেন, বুধবার সন্ধ্যা থেকে তিনি থানায় ছিলেন। তার কাছে কেউ কোন অভিযোগ নিয়ে আসেনি। এলাকার সবাই জানে, এ ঘটনায় অভিযোগ দিলে আমি নেব না, পাগল? আমার কাছে আসেনি। আমি তদন্তকে জিজ্ঞেস করব।
তবে থানায় যাওয়া বিউবোর লাইনম্যান মামুন প্রকৌশলী সাইফুল ইসলামের অভিযোগ নিয়ে থানায় যাওয়ার এবং গ্রহণ না করায় সেখান থেকে ফিরে আসার বিষয়টি সাংবাদিকদের কাছে স্বীকার করেছেন। এরপর তিনি বিষয়টি প্রকৌশলী সাইফুলকে জানিয়েছেন বলেও জানান।

উপ-সহকারী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম অভিযোগ করেন, তাঁর উপর হামলা চালানো হলেও তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ভয়ে তার পাশে দাঁড়াচ্ছেন না। তিন সদস্যের যে তদন্ত কমিটি গঠণ করা হয়েছে, তাদের মধ্যে একজন রয়েছেন যিনি তাঁর ওপর হামলার ঘটনার নেপথ্যে থাকতে পারেন বলে তাার সন্দেহ। কারণ যে প্রকল্পের অধীন নতুন বিদ্যুৎ লাইনটি নির্মাণের জন্য বিউবোর ঠিকাদারের লোকজন এসেছিল, তিনি ওই প্রকল্পের অতিরিক্ত দায়িত্বে রয়েছেন।

সাইফুল ইসলামের অভিযোগ, অবৈধ লাইন নির্মাণের সঙ্গে জড়িত চক্রের সদস্যরা এখন উঠেপড়ে লেগেছেন তাকে ফাঁসানোর জন্য। তারা এখন হামলাকারীদের সঙ্গে সুর মিলিয়ে উল্টো তার বিরুদ্ধে নানা কল্পকাহিনী প্রচার করছেন। অথচ তিনি আবাসিক প্রকৌশলী সাইফুল ইসলামের (একই নামের নাম) নির্দেশে অনুমোদনহীন অবৈধ বিদ্যুৎ লাইন নির্মাণ বন্ধ করতে গিয়েছিলেন।

প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম জানান, তিনি ও তার পরিবার ভয় এবং আতংকের মধ্যে রয়েছেন। বর্তমানে তিনি নোয়াখালীর চৌমুহনীতে তার আত্মীয়ের বাসায় আশ্রয় নিয়েছেন। হাসপাতাল থেকে চিকিৎসার টোকেন নিয়ে আজ পুণরায় অভিযোগ নিয়ে থানায় পাঠাবেন। মামলা নেওয়া না হলে তিনি আদালতের আশ্রয় নিবেন।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার বিকেলে বসুরহাট পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বৈদ্যনিগো বাড়ির দরজায় অনুমোদনহীন একটি বিদ্যুৎলাইন নির্মাণ কাজে বিউবোর ঠিকাদারের লোকজনকে বাধা দেন বিউবোর কোম্পানীগঞ্জ কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলাম। এ সময় লাইন নির্মাণের সঙ্গে জড়িত স্থানীয় যুবলীগের মো. খোকন, স্বেচ্ছাসেবক লীগের শিপন ও টিপুসহ কয়েকজন তাঁকে মারধর করেন। যার এক পর্যায়ে তাকে পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের বাড়ির সামনের একটি দোকান সংলগ্ন ঘরে আটকে দ্বিতীয় দফায় মারধর করা হয়। সেখানে সেতুমন্ত্রীর ছোট ভাই শাহদাত হোসেনও তাকে মারধর করেন। এক পর্যায়ে তারা তার মাথার চুল কেটে ন্যাড়া করে আটকে রাখে। পরে রাত আটটার দিকে ফেনী থেকে বিউবোর লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করেন।