Tag Archives: গ্রেফতার

দাউদকান্দিতে বিদেশি পিস্তলসহ ওয়ারেন্টভূক্ত আসামী গ্রেফতার

জাকির হোসেন হাজারী, দাউদকান্দি:

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে বিদেশি পিস্তল ও ছয় রাউন্ড গুলিসহ রায়হান (৩৮) নামে ওয়ারেন্টভূক্ত এক আসামীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার ভোর ৫টায় পৌরসভার পশ্চিম মাইজপাড়া এলাকার একটি গলি থেকে তাকে আটক করা হয়। রায়হান পৌরসভার উত্তর নসরুদ্দি গ্রামের সাবেক কাউন্সিলর মুজিবুর রহমানের পুত্র।

দাউদকান্দি মডেল থানার ওসি মো মোজাম্মেল হক আজকের কুমিল্লাকে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে রায়হানকে বিদেশি পিস্তল ও ৬ রাউন্ড গুলিসহ আটক করা হয়। রায়হানের নামে দাউদকান্দি থানায় চুরি, ছিনতাই, ডাকাতিসহ একাধিক মামলা ও ওয়ারেন্ট রয়েছে। অস্ত্র আইনে আরো একটি মামলা দিয়ে তাকে আজ (৭ নভেম্বর) মঙ্গলবার দুপুরে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে ।

বিরোধীদের গ্রেফতার ও সহিংসতা নিয়ে যা বলছে যুক্তরাষ্ট্র

ডেস্ক রিপোর্ট:

বাংলাদেশে আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিরোধী নেতাকর্মীদের গ্রেফতার ও সহিংসতা বিষয়ে পরিবেশ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে যুক্তরাষ্ট্র।

সোমবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে দপ্তরের প্রিন্সিপাল ডেপুটি স্পোকসপারসন বেদান্ত প্যাটেল এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে সহিংসতার যে কোনো ঘটনাকে ব্যাপক গুরুত্ব দিয়ে দেখছে যুক্তরাষ্ট্র।

এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে কোনো রাজনৈতিক দলকে সমর্থন করে না বলেও জানিয়েছেন তিনি।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন প্যাটেল। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইটে ওই ব্রিফিংয়ের বিস্তারিত বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে।

এদিনের সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিক বেদান্ত প্যাটেলের কাছে সরকারবিরোধী আন্দোলন এবং বিএনপিসহ বিরোধী নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের বিষয়ে জানতে চান। তিনি বলেন, সারা বাংলাদেশে বিক্ষোভ চলছে। তারা ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করছেন এবং সরকার এক অর্থে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি ও বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করছে। আটক করা হয়েছে বিএনপি মহাসচিবসহ সব পদমর্যাদার নেতাকর্মীসহ ৮ হাজারের বেশি লোককে। গত ২৮ অক্টোবর বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, বিরোধী দলের সদস্যদের আগুনে নিক্ষেপ করতে বা তাদের হাত পোড়াতে ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী হাসিনা তার দলের সদস্যদের নির্দেশ দিয়েছেন। যেহেতু যুক্তরাষ্ট্র এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বাংলাদেশে আসন্ন নির্বাচনের জন্য শান্তিপূর্ণ ও বিশ্বাসযোগ্য পরিবেশ তৈরি করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, সেই পরিবেশ তৈরির জন্য আপনি কি বাংলাদেশের জনগণের পাশে থাকবেন এবং নতুন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের বিষয়ে তাদের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাবেন?

জবাবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান উপমুখপাত্র বেদান্ত প্যাটেল বলেন, এটা মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ – এবং আপনি আমাকে অনেকবারই এটা বলতে শুনেছেন। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের কোনও রাজনৈতিক দলকে সমর্থন করে না। একটি দলের বিপরীতে আমরা আলাদা করে কোনও রাজনৈতিক দলকে সমর্থন করি না।

এই মুহূর্তে আমাদের মনোযোগ হচ্ছে– আগামী জানুয়ারির নির্বাচনের আগে বাংলাদেশে নির্বাচনি পরিবেশ ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করা। এছাড়া বাংলাদেশি জনগণের সুবিধার জন্য একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানাতে বাংলাদেশের সরকারের পাশাপাশি বিরোধী দলের নেতাদের সঙ্গে, সুশীল সমাজ এবং অন্যান্য অংশীদারদের সঙ্গেও যথাযথভাবে সম্পৃক্ত থাকার কাজ অব্যাহত রয়েছে।

এর আগে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, বাংলাদেশের জনগণ অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন চায়। যুক্তরাষ্ট্র সি-৩ ভিসা নীতি ঘোষণা করেছে এবং এখন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের কর্মীরা গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের অজুহাতে ভাংচুর এবং সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস করে নির্বাচনের আগে শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশকে ব্যাহত করছে। আপনি কি জাতীয়তাবাদী দলকে সহিংসতা বন্ধ করে আসন্ন সাধারণ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে বলবেন?

জবাবে বেদান্ত প্যাটেল বলেন, আমরা এই জানুয়ারির নির্বাচনের জন্য বাংলাদেশে নির্বাচনি পরিবেশ ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছি এবং সহিংসতার যে কোনো ঘটনাকে আমরা অবিশ্বাস্যভাবে গুরুত্ব সহকারে নিয়ে থাকি। আমরা সরকারের সঙ্গে, বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে, সুশীল সমাজের সঙ্গে এবং অন্যান্য অংশীদারদের সঙ্গে বাংলাদেশি জনগণের স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানাতে যুক্ত আছি এবং সেটি অব্যাহত রাখব।

পরে ওই সাংবাদিক বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসকে নিয়ে প্রশ্ন করেন। তিনি বলেন, গত সপ্তাহে জাতীয়তাবাদী দলের নেতারা একজন মার্কিন নাগরিককে তাদের প্রধান কার্যালয়ে নিয়ে এসে ক্যামেরার সামনে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের উপদেষ্টা বলে পরিচয় করিয়ে দেয় এবং জানায়, বাইডেনের সঙ্গে তার প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ বার যোগাযোগ হয়। আর তখনই– আরেক বিএনপি নেতা জাতীয়তাবাদী দলের উদ্ধারকারী হিসেবে পিটার হাসকে অবতার হিসেবে আখ্যায়িত করেন। আপনি কি স্পষ্টভাবে জাতীয়তাবাদী দলের এই দাবি অস্বীকার করবেন?

জবাবে প্যাটেল বলেন, আমি সেই রিপোর্ট দেখিনি। সত্যি বললে আপনি ঠিক কি সম্পর্কে কথা বলছেন তা নিয়ে আমার সত্যিই কোনো ধারণা নেই।

তিনি আরও বলেন, আমাকে কথা বলতে বাধা দেবেন না। ঢাকায় আমাদের দূতাবাসে যুক্তরাষ্ট্রের অবিশ্বাস্য প্রতিভাবান দল রয়েছে, যার নেতৃত্বে এমন একজন অভিজ্ঞ রাষ্ট্রদূত রয়েছেন যিনি শুধু বাংলাদেশেই নয়, বৃহত্তর অঞ্চলেও কাজ করতে পারদর্শী। এবং আমি যেমন বলেছি, আমরা জানুয়ারির নির্বাচনের আগে বাংলাদেশে নির্বাচনী পরিবেশ ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছি।

বিএনপি নেতাকর্মীদের সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হচ্ছে: রিজভী

ডেস্ক রিপোর্ট:

বিএনপি নেতাকর্মীদের সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হচ্ছে। এমন অভিযোগ করে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

রোববার ৪৮ ঘণ্টার টানা অবরোধ শুরুর সকালে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।

গতকাল গভীর রাতে ঢাকা থেকে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর (বীর উত্তম), আজ ভোরে রাজধানীর উত্তরা থেকে ভাইস চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী এবং গতকাল ঢাকা থেকে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক (ময়মনসিংহ বিভাগ) সৈয়দ ইমরান সালেহ প্রিন্সকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গ্রেফতার করেছে বলে জানিয়েছেন রিজভী।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সমগ্র দেশটাকে এখন বৃহৎ কারাগার বানিয়ে ফেলেছেন। একদিকে সরকারের আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশন বিএনপিকে আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য আহ্বান জানাচ্ছে। অন্যদিকে সিনিয়র নেতৃবৃন্দসহ সর্বস্তরের নেতাকর্মীকে গ্রেফতারে ক্র্যাকডাউন শুরু হয়েছে। এটি যেন এক মহা তামাশা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক বিএনপির বন্ধ কার্যালয়ে ইসির চিঠি প্রেরণও ছিল আরেকটি তামাশা। আসলে সরকার নিজেদের অতি চালাক ভাবছে এবং সবকিছুতেই ধরাকে সরা জ্ঞান করছে।

রিজভী বলেন, নেতাকর্মীদের যেভাবে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হচ্ছে তাতে এটি সুস্পষ্ট যে, আগামী নির্বাচন যে কোনো প্রকারে অনুষ্ঠিত করে আবারও রাষ্ট্রক্ষমতা দখলে নিতে বদ্ধপরিকর অবৈধ শাসকগোষ্ঠী। কিন্তু এবার আওয়ামী অবৈধ সরকারের এ স্বপ্ন বাস্তবায়িত হতে দেবে না জনগণ।

বর্তমান সরকারের পদত্যাগসহ নির্বাচনকালীন নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার ব্যবস্থা বাস্তবায়ন ছাড়া জনগণ রাজপথ ছেড়ে ঘরে ফিরে যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর, আলতাফ হোসেন চৌধুরী এবং সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্সের নিঃশর্ত মুক্তির জোর আহ্বান জানান রিজভী।

পুলিশ সদস্য হত্যায় জড়িত দুজন গ্রেফতার

ডেস্ক রিপোর্ট:

বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে পুলিশ সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। রোববার এই মামলায় দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

পলাশবাড়ী পৌর যুবদলের আহ্বায়ক শামীম রেজাকে গাইবান্ধা থেকে গ্রেফতার করা হয়। অন্যজন মো. সুলতানকে ডেমরা এলাকা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় রোববার সকালে পুলিশবাদী হয়ে ডিএমপির পল্টন থানায় এ মামলা দায়ের করে।

এর আগে শনিবার বিএনপি, আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের মহাসমাবেশ ঘিরে সংঘর্ষে এক পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। শনিবার বিকাল ৪টার দিকে অচেতন অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সোয়া ৪টায় তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।

নিহত পুলিশ সদস্যের নাম মো. আমিরুল ইসলাম পারভেজ। তার বাবার নাম মো. সেকান্দার আলী মোল্লা। তার বাড়ি মানিকগঞ্জ জেলার দৌলতপুর উপজেলার চরকাটারী গ্রামে।
তিনি কনস্টেবল হিসেবে ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম ইনভেস্টিগেশন বিভাগে কর্মরত ছিলেন। তিনি ১৩-০৮-২০১১ তারিখে চাকরিতে যোগদান করেছিলেন।

নোয়াখালীতে রোহিঙ্গার পেটে মিলল ইয়াবা, গ্রেফতার ৪

নোয়াখালী প্রতিনিধি:

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে দুই রোহিঙ্গা যুবক ও দুই নারী মাদক কারবারিকে ৪ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত ১টি মোটরসাইকেল, ১টি সিএনজি চালিত অটোরিকশা, ১টি বাটন মোবাইল, ১টি এন্ড্রয়েট মোবাইল জব্দ করা হয়।

বৃহস্পতিবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরের দিকে আসামিদের নোয়াখালী চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোর্পদ করা হবে। এর আগে, গতকাল বুধবার দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের ১নম্বর ওয়ার্ডের রসুলপুর গ্রামের আক্কাস মিয়ার নতুন বাড়ি থেকে তাদের আটক করে পুলিশ।

গ্রেফতাররা হলো, রোহিঙ্গা মাদককারবারি মো. জাহিদুল ইসলাম (২৯) ও মো.রফিক ওরফে বাইলা (৪০) কামরুন নাহার (২৫) বিবি আয়েশা (২৩)।

পুলিশ জানায়,গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের আক্কাস মিয়ার নতুন বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ৪ মাদককারবারিকে আটক করে পুলিশ। পরে তল্লাশি চালিয়ে ৩হাজার ৩০০পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে ওষুধ সেবন করিয়ে রোহিঙ্গা যুবকের পেট থেকে আরো ১২০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.আনোয়ারুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, নোয়াখালীসহ বিভিন্ন জায়গায় গ্রেফতার মাদককারবারিরা ইয়াবা প্রেরণ করে আসছে। আটক আসামিদের বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। আসামিরা সকলেই পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আরো একটি মামলা নেওয়া হয়েছে।

নোয়াখালীতে ৮৪ বছরের সাজাপ্রাপ্ত জলদস্যু গ্রেফতার

 

নোয়াখালী প্রতিনিধি:

নোয়াখালীতে ডাকাতি,অপহরণ ও অস্ত্র মামলায় ৮৪ বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক আসামিকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব।

গ্রেফতার মো.মনির উদ্দিন (৪০) হাতিয়া উপজেলার পশ্চিম মাইজছড়া গ্রামের হাজী আব্দুল মোতালেবের ছেলে।

বুধবার (১৮ অক্টোবর) দুপুরের দিকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানিয়েছেন র‍্যাব-১১ (সিপিসি-৩) এর কোম্পানী কমান্ডার লেফটেন্যান্ট মাহমুদুল হাসান। এর আগে, গতকাল মঙ্গলবার তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় তাকে গ্রেফতার করা হয়।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আসামি মনির পেশায় একজন জলদস্যূ ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী। তার বাহিনীর সদস্যরা উপকূলবর্তী এলাকায় ডাকাতি, চাঁদাবাজী, অপহরণ, দাঙ্গা-হাঙ্গামা সহ বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িত।

উপকূলবর্তী এলাকার লোকজন তাদের সন্ত্রাসী কার্যকলাপে আতঙ্কগ্রস্থ থাকে। তার নেতৃত্বে নোয়াখালী জেলার হাতিয়া, চট্টগ্রাম জেলার সন্দ্বীপ ও ভোলা জেলার উপকূলবর্তী এলাকায় জেলেদের অপহরণ করে
মুক্তিপণ আদায় করে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে আসছিলো। তার বিরুদ্ধে ভোলা জেলার মনপুরা ও চরফ্যাসন থানায় ডাকাতি, অপহরণ ও অস্ত্র আইনে একাধিক মামলা রয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়েছে, ভোলার মনপুরা থানার ডাকাতি মামলায় ৩২ বছর, অপহরণ মামলায় ১০ বছর, অস্ত্র মামলায় ২৪ বছর এবং চরফ্যাসন থানার অপহরণ ও অস্ত্র মামলায় ১৮ বছরের সাজা সহ মোট ৮৪ বছরের সাজাপ্রাপ্ত ছাড়াও মনির উদ্দিন আরো ৩ মামলায় পরোয়ানাভূক্ত আসামি। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে হাতিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

কুমিল্লার শাসনগাছা থেকে হত্যা মামলার ২ আসামী গ্রেফতার

কুমিল্লার শাসনগাছা থেকে হত্যা মামলার ২ আসামী গ্রেফতার

 

স্টাফ রিপোর্টারঃ

কুমিল্লা নগরী থেতে ইব্রাহীম হাসান উরফে ইবু (২৩) হত্যা মামলার ২ আসামীকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১১।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, কুমিল্লার চম্পকনগরের (সাতরা) রশিদ মিয়ার ছেলে রানা (২৩) এবং ফজলু মিয়ার ছেলে মোঃ রমজান (৩৫)।

মঙ্গলবার (২৬ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লা র‌্যাব-১১, সিপিসি-২ এর কোম্পানী অধিনায়ক স্কোয়াড্রন লীডার এ কে এম মুনিরুল আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

র‌্যাব জানায়, ২২ সেপ্টেম্বর বিকাল আনুমানিক ৫টার সময় আড়াইওড়া ভোলানগর এলাকা হতে পুলিশ একটি অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে। পরবর্তীতে ভিকটিমের পরিবার কর্তৃক ভিকটিমের লাশ শনাক্ত হয় এবং ভিকটিমের পরিচয় ইব্রাহীম হাসান উরফে ইবু (২৩)। সে চম্পকনগরের (সাতরা পশ্চিম পাড়া) মোঃ রুবেল মিয়ার ছেলে।

এরই প্রেক্ষিতে ভিকটিমের স্ত্রী মোসাঃ মরিয়ম আক্তার (২১) বাদী হয়ে ৪ জন আসামীসহ অজ্ঞাতনামা ৩/৪ জনের বিরুদ্ধে কুমিল্লা জেলার কোতয়ালী মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায় যে, ভিকটিম পেশায় একজন ইজিবাইক চালক এবং ভিকটিমের সাথে গ্রেফতারকৃত আসামীসহ অন্যান্য আসামীদের সাথে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মনোমানিল্য চলমান ছিল। গত ১৪ তারিখ রাতে ভিকটিম বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। এসময় ভিকটিমের স্ত্রী তাকে কোথায় যাচ্ছে জিজ্ঞাসা করলে ভিকটিম জানায় তার গ্রেফতারকৃত আসামী রমজান, রানাসহ অন্য দুই আসামীর সাথে কিছু কাজ আছে। ঐ রাতে ভিকটিম বাড়িতে ফিরে না আসলে ভিকটিমের স্ত্রী সকল আত্মীয় স্বজনদের বাড়িসহ সম্ভাব্য অন্যান্য স্থানে খোজাখুজি করে ভিকটিমকে খুজে পায় না। পরবর্তীতে ভিকটিমের স্ত্রী গ্রেফতারকৃত আসামী রমজান ও রানাসহ অন্য দুই আসামীকেও জিজ্ঞাসা করলে তারা ভিকটিমের কোন খোজ জানে না মর্মে ভিকটিমের স্ত্রীকে অবহিত করে। অতঃপর ২২ তারিখে লোক মারফত পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ভিকটিমের স্ত্রী উদ্ধারকৃত ভিকটিমের অর্ধগলিত লাশ শনাক্ত করে।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ২ টা ২০ মিনিটে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে শাসনগাছা এলাকা থেকে এজাহারনামীয় ২ আসামীকে গ্রেফতার করে র‌্যাব-১১, সিপিসি-২ এর সদস্যরা।

গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কুমিল্লা জেলার কোতয়ালী মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

মুরাদনগরে ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার

মুরাদনগরে ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার

 

মাহবুব আলম আরিফ, মুরাদনগরঃ

কুমিল্লার মুরাদনগরে রাসেল মিয়া (৩৪) নামের এক মাদক কারবারিকে নিজ দোকান থেকে ১৯৭ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার বিকেলে উপজেলার জাহাপুর ইউনিয়ন এর জাহাপুর বাজারের মা-বাবার দোয়া রাইছ মিল থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত মাদক কারবারি রাসেল জেলার তিতাস উপজেলার উত্তর মানিকনগর গ্রামের মৃত. আলী আহাম্মদের ছেলে।

জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে মুরাদনগর থানার এস আই মোরশেদ আলম ও তার সঙ্গীয় ফোর্স জাহাপুর বাজারের মা-বাবার দোয়া রাইস মিলে তল্লাশি চালিয়ে ১৯৭ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি রাসেলকে গ্রেফতার করেন।

মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিজুল বারী ইবনে জলিল জানান, গ্রেফতারকৃত রাসেলের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে শনিবার দুপুরে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে কুমিল্লা জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

কুমিল্লায় আইসক্রিমে নেশাদ্রব্য মিশিয়ে সিএনজি ছিনতাই, গ্রেফতার ৩

কুমিল্লায় আইসক্রিমে নেশাদ্রব্য মিশিয়ে সিএনজি ছিনতাই, গ্রেফতার ৩

 

স্টাফ রিপোর্টারঃ

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় আইসক্রিমে নেশাদ্রব্য মিশিয়ে সিএনজি চালিত অটোরিকশা ছিনতাইয়ের ঘটনায় আন্তঃজেলা চোরচক্রের ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

সোমবার বিকেলে তথ্যটি নিশ্চিত করেন চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ত্রিনাথ সাহা।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, কুমিল্লার কোতয়ালী থানার অশোকতলা গ্রামের বাবুল মিয়ার ছেলে আমির হোসেন প্রকাশ ইমন, নোয়াপাড়া গ্রামের রিয়াজ মিয়ার ছেলে রাব্বি ও আড়াইওড়া উত্তর পাড়ার হাবিব মিয়ার ছেলে ফারুক।

থানা সূত্রে আরও জানা যায়, গত ৫ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা শহরে যাওয়ার কথা বলে ঘোলপাশা ইউনিয়নের সালুকিয়া গ্রামের দুলাল মিয়ার সিএনজি চালিত অটোরিকশা ভাড়া নেয় পৌর এলাকার কমলপুর গ্রামের এরশাদ মিয়ার ছেলে মোঃ কাউছার ও সদর দক্ষিণের পিপুলিয়ার সেলিম মিয়ার ছেলে আশিকসহ সংঘবদ্ধ চক্র। তাদেরকে নিয়ে অটোরিকশাটি কুমিল্লা শহরে পৌঁছলে আইসক্রিমের মধ্যে নেশাজাতীয় দ্রব্য মিশিয়ে সংঘবদ্ধ চক্র অটোরিকশাটি ছিনতাই করে। এ ঘটনায় দুলাল মিয়ার লিখিত অভিযোগটি থানায় গত ১৩ সেপ্টেম্বর মামলায় রজু হয়। পুলিশ মামলার তদন্ত করে কমলপুর গ্রামের কাউছার ও পিপুলিয়ার আশিককে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করে।

তাদের দেয়া তথ্যমতে রোববার রাতে নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ি এলাকা থেকে চোরাইকৃত সিএনজি চালিত অটোরিকশাটি বিক্রি করার সময় আমির হোসেন প্রকাশ ইমন, রাব্বি ও ফারুককে আটক করা হয়। এসময় চোরাইকৃত অটোরিকশাটি উদ্ধার করে পুলিশ।

চৌদ্দগ্রাম থানার উপ-পরিদর্শক আলী আশরাফ জুয়েল বলেন, সিএনজি চালিত অটোরিকশা ছিনতাইয়ের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার দুই আসামীকে গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদ ও তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে চোরচক্রের আরও ৩ সদস্যকে গ্রেফতার ও অটোরিকশাটি উদ্ধার করা হয়েছে। অপরাধ দমনে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান।

ফেনীতে ভিক্ষুককে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলার মূলহোতাসহ গ্রেফতার ২

ফেনীতে ভিক্ষুককে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলার মূলহোতাসহ গ্রেফতার ২

ডেস্ক রিপোর্ট:

ফেনীতে এক ভিক্ষুককে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ মামলার মূলহোতা মেহরাজসহ এজাহারনামীয় ২ আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

শুক্রবার অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। গ্রেফতাররা হলেন- নোয়াখালীর হাতিয়ার ইউনুছপুর ফকিন্নিপাড়া গ্রামের মৃত রুহুল আমিনের ছেলে মো. মেহরাজ ও নোয়াখালী সদরের চরজুবলী গ্রামের মৃত আলী আহম্মদের ছেলে সালাউদ্দিন (৩৫)

র‌্যাব জানায়, ৪ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টার দিকে লেমুয়া বাজার এলাকায় ভিক্ষা করছিলেন এক নারী। তখন মেহেরাজ নামে এক যুবক তাকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা বলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন ছনুয়া ইউনিয়নের এবিএম ব্রিক ফিল্ডে নিয়ে যায়। সেখানে শ্রমিকদের থাকার কক্ষে মেহেরাজ তাকে ধর্ষণ করে। এরপর পালাক্রমে সমির, দেলোয়ার হোসেন, তারেক, রমজান আলী, বাবু, মেহরাজ, রিদনসহ কয়েকজন ওই নারীকে ধর্ষণ করে। একপর্যায়ে তাকে বাসে উঠিয়ে দেওয়ার জন্য মহাসড়কে নিয়ে গেলে ওই নারীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন জড়ো হয়। স্থানীয়দের সহায়তায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ওই নারীকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালে পাঠান।

ঘটনায় ভুক্তভোগী বাদী হয়ে আটজনকে এজাহারনামীয় ২-৩ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে ফেনী মডেল থানায় ধর্ষণ মামলা করেন।

মামলার পর থেকেই পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে গোয়েন্দা নজরদারি ও ছায়াতদন্ত অব্যাহত রাখে র‌্যাব। পরে র‌্যাবের একটি দল ১৫ সেপ্টেম্বর অভিযান চালিয়ে সালাউদ্দিনকে গ্রেফতার করে। সালাউদ্দিনের দেওয়া তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় র‌্যাব জানতে পারে গণধর্ষণের মূলহোতা পলাতক আসামি মেহরাজ ফেনীর দাগনভূঞার দিলপুর এলাকায় অবস্থান করছে। পরে ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে মেহরাজকে গ্রেফতার করা হয়।

র‌্যাবের কোম্পানি অধিনায়ক স্কোয়াড্রন লিডার মোহাম্মদ সাদেকুল ইসলাম জানায়, গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ফেনী মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।