,

চবির শিক্ষার্থীদের জন্য চাকসুর উদ্যোগে আধুনিক অ্যাম্বুলেন্স হস্তান্তর

আজকের কুমিল্লা ডট কম :
October 13, 2026
news-image

চবি প্রতিনিধি:

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসেবা ও জরুরি চিকিৎসা পরিবহন সহজলভ্য করার লক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের জন্য একটি আধুনিক অ্যাম্বুলেন্স হস্তান্তর করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু)।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকসু প্রাঙ্গণে এ উপলক্ষে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান, উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমীন, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, চাকসুর সভাপতি ইব্রাহিম হোসেন রনিসহ চাকসু ও হল সংসদের প্রতিনিধিরা।

অনুষ্ঠানে চাকসুর স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক আফনান হাসান বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে চাকসুকে কখনো প্রতিপক্ষ হিসেবে না দেখে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শিক্ষার্থীদের সহযোগী হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। প্রশাসনের আর্থিক ও সার্বিক সহযোগিতায় শিক্ষার্থীদের যাতায়াতব্যবস্থা সহজ করা, মাদক ও যৌন নিপীড়ন নিয়ন্ত্রণ, খাবারের মান উন্নয়ন এবং যাতায়াত সমস্যার সমাধানসহ বিভিন্ন স্বল্পমেয়াদি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসেবা সহজ করতে নতুন অ্যাম্বুলেন্স সংযোজনও চাকসুর উদ্যোগের অংশ।

চাকসুর সভাপতি ইব্রাহিম হোসেন রনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন খাতে স্থায়ী পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে তাঁরা কাজ করে যাচ্ছেন। বিশেষ করে যাতায়াত ও আবাসন খাতে দীর্ঘদিনের সমস্যা রয়েছে। ৬০ বছরের জমে থাকা এসব সমস্যা এক দিনে সমাধান করা সম্ভব নয়। তাই নির্বাচনী ইশতেহারে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সেগুলো সমাধানের লক্ষ্যে কাজ করার চেষ্টা করেছেন তাঁরা।

তিনি বলেন, ‘আজকের এই আয়োজনের উদ্দেশ্য শুধু একটি অ্যাম্বুলেন্স হস্তান্তর নয়। শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে আমরা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, এটি তারই একটি বাস্তবায়ন।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) পাস হলে বড় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে উল্লেখ করে রনি বলেন, ওই প্রকল্পের আওতায় পাঁচটি ছেলেদের হল, পাঁচটি মেয়েদের হল এবং একটি পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল সেন্টার নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে বলে উপাচার্য তাঁদের জানিয়েছেন।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চাকসুকে প্রতিপক্ষ নয়, বরং সহযোগী হিসেবে বিবেচনা করে। প্রশাসন ও সাংবাদিকদের সহযোগিতায় যাতায়াতব্যবস্থার উন্নয়ন, আবাসন সংকট নিরসন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং ক্যাম্পাসে স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, মাদক ও ইভ টিজিং নিয়ন্ত্রণ, খাবারের মান উন্নয়ন এবং মেডিকেল সেবার পরিধি বাড়ানোর বিষয়েও কাজ চলছে। শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে সফট স্কিল প্রশিক্ষণ, তৃতীয় ভাষা শিক্ষার কার্যক্রম এবং ইন্টার্নশিপের সুযোগ সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

এ সময় ২৭ হাজার শিক্ষার্থীর স্বার্থে দ্রুত তফসিল ঘোষণা করে চাকসুর পরবর্তী নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানানো হয়।