,

ঢাকা মগবাজারে রাজনৈতিক উত্তেজনা : বিএনপিতে যোগদানের পর নিবরাজ উদ্দীনের বিরুদ্ধে প্রভাব বিস্তার ও হয়রানির অভিযোগ

আজকের কুমিল্লা ডট কম :
March 5, 2026
news-image

স্টাফ রিপোর্টার:

ঢাকার মগবাজার এলাকায় ৫২, ৫৩ নাম্বার ওয়ার্ডের সাবেক স্থানীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নিবরাজ উদ্দীনকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ উঠেছে বলে জানিয়েছেন এলাকার একাধিক বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী। তাঁদের দাবি, দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার পর দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে তিনি অনুসারীদের নিয়ে বিএনপিতে যোগ দেন, এবং তারপর থেকে এলাকায় তাঁর প্রভাব পুনঃপ্রতিষ্ঠার চেষ্টা নিয়ে স্থানীয়দের একাংশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয় সূত্রের দাবি অনুযায়ী, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীদের উপস্থিতিতে নিবরাজ উদ্দীন তাঁর অনুসারীদের নিয়ে বিএনপিতে যোগ দেন। স্থানীয়রা বলছেন, এরপর থেকে তাঁর পূর্বেকার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ এবং অতীতে তাঁর কর্মকাণ্ডের বিরোধিতাকারীদের মধ্যে নতুন করে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
একাধিক বাসিন্দার ভাষ্য, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে যাঁরা নিবরাজ উদ্দীনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করেছিলেন, রাজনৈতিক পরিস্থিতি পরিবর্তনের পর তাঁদের অনেকে নতুন করে হুমকি ও হয়রানির আশঙ্কায় থাকার কথা জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, মগবাজার এলাকার মেকানিক্যাল ও গাড়ির যন্ত্রাংশের দোকান ‘প্রভা এন্টারপ্রাইজ’-এর মালিক মোঃ শাহজাহান ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে হামলা, হুমকি ও হয়রানির অভিযোগ রয়েছে। সূত্রগুলোর দাবি, শাহজাহান অতীতে একাধিকবার হামলার শিকার হয়েছেন এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরাও হুমকি ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। শাহজাহানের স্ত্রী মাহমুদা বেগমও একটি ঘটনায় প্রকাশ্যে হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। স্থানীয়দের দাবি, এই ধরনের হুমকি ও প্রভাবের কারণে শাহজাহানসহ আরও কয়েকজন ব্যক্তি নিরাপত্তার স্বার্থে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র থাকতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানা গেছে।
কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, নিবরাজ উদ্দীনের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বললে হুমকি, হামলা কিংবা মামলার মুখোমুখি হতে পারে বলে আশঙ্কা করেন অনেকে, যে কারণে তাঁরা প্রকাশ্যে মুখ খুলতে ভয় পান। কিছু বাসিন্দার আরও দাবি, বিরোধীদের চাপে রাখতে বিভিন্ন সময়ে মামলা দায়ের করা হয়েছে, যার একাংশ মিথ্যা ও হয়রানিমূলক বলে তাঁরা মনে করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় দোকানদার বলেন, তাঁর ভাষায় নিবরাজ উদ্দীনের অনুসারীরা কখনো কখনো হঠাৎ বাড়িতে গিয়ে হুমকি দেন বলে এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে, এবং এ কারণে অনেকে নিরাপত্তার ভয়ে এলাকা ছেড়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছ থেকে সব সময় কার্যকর ও নিরপেক্ষ সহায়তা পাওয়া যায় না, এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে গেলে সাধারণ মানুষ ভয় ও অনিশ্চয়তায় ভোগেন বলে তাঁরা জানান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রাজনৈতিক চাপের মধ্যে মাঠপর্যায়ে সব সময় সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, দেশের রাজনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তনের পর বিভিন্ন এলাকায় পুরোনো রাজনৈতিক বিরোধ নতুন রূপে ফিরে আসতে পারে। কিছু স্থানীয় নেতা পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে নতুন রাজনৈতিক যোগাযোগ গড়ে নিজেদের প্রভাব ধরে রাখার চেষ্টা করতে পারেন বলে তাঁরা মনে করেন। কিছু বাসিন্দার দাবি, নিবরাজ উদ্দীনের ক্ষেত্রেও এমনটাই ঘটেছে এবং দল পরিবর্তনের পর এলাকায় তাঁর প্রভাব নতুন করে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে তাঁরা মনে করেন।

এলাকার এক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মানুষের মধ্যে ভয়ের পরিবেশ বিরাজ করছে এবং কেউ প্রকাশ্যে কথা বলতে চান না বলে তিনি মনে করেন; তাঁর মতে, সবাই চান আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হোক।

মানবাধিকার ও নাগরিক অধিকার নিয়ে কাজ করা ব্যক্তিদের অভিমত, হামলা, হুমকি, চাঁদাবাজি বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলার অভিযোগ যে পক্ষের বিরুদ্ধেই উঠুক না কেন, প্রতিটি অভিযোগের নিরপেক্ষ ও যথাযথ তদন্ত হওয়া জরুরি বলে তাঁরা মনে করেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা নিবরাজ উদ্দীনের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও তাঁদের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, এবং স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরপেক্ষ ভূমিকা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

হয়রানির বিষয়ে জানতে মাহমুদা বেগমের ব্যাক্তিগত মোবাইলে… ৩৮১০ যোগাযোগ করলে তিনি জানান নিবরাজ উদ্দিন ও তার বাহিনীর অত্যাচারে এলাকায় থাকতে না পেরে আমি ও আমার স্বামী শাহজাহান বর্তমানে অন্য জায়গায় বাস করছি। তিনি আমাদের দোকান যর করে দখলে নিয়েছেন, স্হানীয় থানা রমনায় একাধিকবার মামলা ও পরবর্তীতে জিডি করতে গেলেও থানা কতৃপক্ষ তার প্রভাবের কারনে তা নেন নাই।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে নিবরাজ উদ্দিনের গ্রামীন নাম্বার ……… ৫৭৪২ একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করে নাই।