মেঘনায় ট্রলারডুবি: তিন সন্তানের পর মিলল বাবার মরদেহ
আজকের কুমিল্লা ডেস্ক:
কুমিল্লা থেকে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে আত্মীয়ের বিয়েতে যাওয়ার পথে মেঘনা নদীতে ট্রলারডুবির ঘটনায় নিখোঁজ হেলাল উদ্দিনের (৫৪) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে পাঁচজনে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মেঘনা নদীর শাখা মারিখালী নদীর রতনপুর ব্রিজ এলাকা থেকে ভাসমান অবস্থায় হেলালউদ্দিনের মরদেহ উদ্ধার করে সোনারগাঁ ফায়ার সার্ভিস ও বৈদ্যেরবাজার নৌ-ফাঁড়ি পুলিশ।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বৈদ্যেরবাজার নৌ পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক শাহ কামাল বলেন, ‘নিখোঁজ হেলাল উদ্দিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় আর কেউ নিখোঁজ নেই। ট্রলারডুবির ঘটনায় দুর্ঘটনাজনিত একটি মামলা হয়েছে।’
এর আগে শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাতে ও শনিবার সকালে সোনারগাঁয়ের মেঘনা নদী থেকে একই পরিবারের নিখোঁজ তিন ভাই-বোনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তারা হলেন হেলাল উদ্দিনের মেয়ে সামিয়া আক্তার (১৭) এবং দুই ছেলে সজীব হোসেন (২৪) ও সামিন হোসেন (৫)। এ ছাড়া ঘটনার দিন রাশিদা বেগম (৪০) নামের এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তারা কুমিল্লার হোমনা উপজেলার শ্রীমদ্দি গ্রামের বাসিন্দা।
নৌ পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকালে কুমিল্লার হোমনার শ্রীমদ্দি গ্রাম থেকে সোনারগাঁয়ের হাড়িয়া বৈদ্যেপাড়া গ্রামের শাহ পরানের মেয়ে সাজিয়া আক্তারের বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ট্রলারে করে আসছিলেন ১৩ আত্মীয়স্বজন। ট্রলারটিতে দুটি গরু ও একটি খাসি ছিল।
সোনাময়ী এলাকায় আমান সিমেন্ট কম্পানির কারখানার কাছে পৌঁছালে নদীতে ঝোড়ো বাতাস শুরু হয়। এতে নদীতে বড় ঢেউ সৃষ্টি হলে ট্রলারে পানি উঠতে শুরু করে। একপর্যায়ে ট্রলারটি ডুবে যায়।
এ সময় কাছাকাছি থাকা আমান সিমেন্ট কারখানার একটি ট্রলার দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করে। তারা আটজনকে জীবিত উদ্ধার করে। প্রায় আধাঘণ্টা পর নদী থেকে রাশিদা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তখন চারজন নিখোঁজ ছিলেন। পরে আরো তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হলে একজন নিখোঁজ ছিলেন। পরে সোমবার নিখোঁজ হেলাল উদ্দিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।