,

অপ্রতিমকে হত্যা—ছিনতাই নাকি মায়ের ওপর প্রতিশোধ? উঠছে নানা প্রশ্ন

আজকের কুমিল্লা ডট কম :
September 21, 2026
news-image

হাবিবুর রহমান মুন্না:

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আইফোন ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যের বাইরে অন্য কোনো কারণ ছিল কি না এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বিশেষ করে ২০২৫ সালে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টরের দায়িত্ব পালনকালে ড. নাহিদা বেগমের নেতৃত্বে কয়েকজন কিশোরকে মাদকসেবনের অভিযোগে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করার ঘটনার সঙ্গে অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তার সহকর্মীরা।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ আব্দুল কাইয়ুম চত্বরে শিক্ষক সমিতির আয়োজিত মানববন্ধনে এ দাবি জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. কামরুন নাহার (শীলা)।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ক্যাম্পাসে মাদকবিরোধী অভিযানে তৎকালীন প্রক্টরিয়াল বডি সাতজন কিশোরকে আটক করে। পরে তাদের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের জিম্মায় দেওয়া হয়। ওই সময় ভারপ্রাপ্ত প্রক্টরের দায়িত্বে ছিলেন ড. নাহিদা বেগম। ক্যাম্পাসে মাদকবিরোধী কার্যক্রমে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন বলে বিশ্ববিদ্যালয়-সংশ্লিষ্টরা জানান।

বিশ্ববিদ্যালয়-সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, সন্ধ্যার পর ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের আড্ডা ও মাদকসেবনের ঘটনায় বিভিন্ন সময়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। একই সঙ্গে নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশ এবং মাদকসংক্রান্ত তৎপরতা নিয়ন্ত্রণে ড. নাহিদা বেগম সক্রিয় ছিলেন বলেও জানা গেছে।

এদিকে অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের তদন্তে কয়েকটি বিষয় সামনে এসেছে। অপ্রতিমের সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের পূর্বপরিচয় বা কোনো ধরনের সম্পর্ক ছিল কি না, ২০২৫ সালের মাদকবিরোধী অভিযানে আটক কিশোরদের সঙ্গে গ্রেপ্তারদের কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না এবং আইফোন ছিনিয়ে নেওয়াই হত্যাকাণ্ডের একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।

মানববন্ধনে ড. কামরুন নাহার (শীলা) বলেন, তিনি ড. নাহিদা বেগমের সঙ্গে কথা বলেছেন। নাহিদা বেগম চান, তার সন্তানের হত্যার প্রকৃত রহস্য উদ্‌ঘাটন করে সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা হোক।

ড. কামরুন নাহার বলেন, ২০২৫ সালে ভারপ্রাপ্ত প্রক্টরের দায়িত্ব পালনকালে ড. নাহিদা বেগম কয়েকজন কিশোরকে মাদকসেবনের অভিযোগে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছিলেন। অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ওই ঘটনার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে আইন সংস্কারের মাধ্যমে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

তবে ২০২৫ সালের ওই মাদকবিরোধী অভিযানের সঙ্গে অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের সরাসরি কোনো সম্পর্ক রয়েছে এমন কোনো প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি আপাতত সম্ভাব্য যোগসূত্র হিসেবে তদন্তের দাবি হিসেবেই রয়েছে।

এর আগে গত শুক্রবার বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় ১৩ বছর বয়সী অপ্রতিম। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।

নিখোঁজের প্রায় ২০ ঘণ্টা পর শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ গেটসংলগ্ন ম্যাজিক প্যারাডাইসের পাশে দক্ষিণ সানন্দা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাস্থলটি অপ্রতিমের বাসা থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে।

অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত সামনে আসা তথ্যের পাশাপাশি তার নিখোঁজ হওয়ার সময়কার গতিবিধি, কার সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল এবং হত্যার প্রকৃত উদ্দেশ্য কী এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।