All posts by jitu

হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার থেকে নবজাতক গায়েব, মালিক-চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় খ্রিস্টিয়ান মেমোরিয়াল হাসপাতালে অপারেশন থিয়েটার থেকে এক প্রসূতির নবজাতক গায়েব করে দেওয়ার অভিযোগের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ এপ্রিল) ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানায় মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে।

প্রসূতির স্বামী নবীনগর উপজেলার আলেয়াবাদ গ্রামের ফয়হাদ আহমেদ বাদী হয়ে হাসপাতালের মালিক, চিকিৎসক, নার্সসহ ৬ জনকে আসামি করে মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার আসামিরা হলেন, খ্রিস্টিয়ান মেমোরিয়াল হাসপাতালের মালিক ডা. ডিউক চৌধুরী, গাইনি ও সার্জন ডা. নওরিন পারভেজ, ডা. ইসরাত আহমেদ, হাসপাতালের কো. অর্ডিনেটর মার্শাল চৌধুরী, নার্স স্নেহলতা ও অপারেশন টিম সদস্য অথৈ মন্ডল।

মামলার বাদী ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, নবীনগরের আলেয়াবাদের ফরহাদ আহমেদের স্ত্রী মোছা. লিজা প্রথমবারের মতো গর্ভবতী হলে উপজেলার স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক মেহেরুন্নেছার তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সে সময় আল্ট্রাসনোগ্রাফিতে তার স্ত্রীর গর্ভে ২টি সন্তান দেখা যায় বলে জানান চিকিৎসকরা। সর্বশেষ ১৮ এপ্রিল করা আল্ট্রাসনোগ্রাফি রিপোর্টেও গর্ভে দুটি সন্তান আসে। গত শুক্রবার লিজার প্রসব ব্যথা ওঠে। যমজ শিশু গর্ভে থাকায় স্থানীয় চিকিৎসকরা ঝুঁকি না নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে এনে সিজারিয়ান করতে পরামর্শ দেন।

সেদিন দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাকে শহরের খ্রিস্টিয়ান মেমোরিয়াল হাসপাতালে ভর্তি করা হলে ডা. নওরিন পারভেজ আল্ট্রাসনোগ্রাফি করেন। তার রিপোর্টেও দুটি সন্তান দেখা যায়। পরে একই দিন তিনি নিজেই লিজাকে অপারেশন থিয়েটারে সিজারিয়ান করেন। এর কিছুক্ষণ পর হাসপাতালের লোকজন এসে জানান লিজা একটি কন্যা সন্তান জন্ম দিয়েছে। আর কোনো সন্তানের কথা তারা জানাতে পারেনি। বিষয়টি নিয়ে আলোচনার ঝড় ওঠে।

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমরানুল ইসলাম জানান, খ্রিস্টিয়ান মেমোরিয়াল হাসপাতালে গর্ভে থাকা শিশু নিখোঁজের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত চলছে। পাশাপাশি আইনানুগ প্রক্রিয়া চলমান আছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কিশোরকে নৃশংসভাবে ছুরিকাঘাতে হত্যা

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলায় জাহিদুল ইসলাম (১৬) নামে এক কিশোরকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৫ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সদর উপজেলার সুলতানপুর পূর্ব পাড়ায় একটি পুকুর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত জাহিদুল একই উপজেলার মাছিহাতা ইউনিয়নের দক্ষিণ জগৎসার গ্রামের এলাছ মিয়ার ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জাহিদুলের বাবা এলাছ মিয়া পেশায় অটোরিকশা চালক। তার চার ছেলে আছে। জীবিকার তাগিদে এরমধ্যে জাহিদুলসহ তিন ছেলে চট্টগ্রামে বেকারিতে কাজ করেন। ১৭ রমজান ছুটিতে বাড়িতে আসে জাহিদুল। সোমবার সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে বের হয়ে গেলে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। সকালে সুলতানপুরে একটি পুকুরে জাহিদুলের মরদেহ পাওয়া যায়৷

সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমরানুল ইসলাম বলেন, জাহিদুলকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। ছুরিকাঘাতে বুক ও পেটের ভূরি বের হয়ে গেছে। দুই হাতের কবজির রগ কেটে দেওয়া হয়েছে। দুই কানের লতি কেটে ফেলা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হচ্ছে।

মনোহরগঞ্জ উপজেলায় মানবপাচার চক্রের একজন আটক

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার মানবপাচার চক্রের এক পাচারকারীকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ।

গ্রেফতার হওয়া মো: আলমগীর হোসেন কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার মান্দুয়ারা গ্রামের মৃত. মোহাম্মদ হোসেনের ছেলে।

গত ২৩ এপ্রিল  ভোর সাড়ে ৬ টার সময় মনোহরগঞ্জ উপজেলার মড়হ গ্রামের মোঃ মঈন উদ্দিনের  মেয়ে মোসাঃ মারজানা আক্তার মিলি (১২) ও মোঃ শাহ আলমের মেয়ে মোসাঃ সুইটি আক্তার (১১) নিখোঁজ হয়। পরবর্তীতে নিখোঁজ মেয়েদের অভিভাবকেরা মনোহরগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করে। মনোহরগঞ্জ থানার একটি চৌকস দল অনুসন্ধান শুরু করে জানতে পারে যে, গত ২৪ এপ্রিল মনোহরগঞ্জ এর লক্ষনপুর সিএনজি স্ট্যান্ড হতে এক ব্যক্তি নিখোঁজ মেয়েদের অন্যত্র নিয়ে গেছে। থানা পুলিশের দলটি  মো: আলমগীর হোসেন নামের সে ব্যক্তিকে আটক করে।

পুলিশের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে আলমগীর জানায় যে, পাচারের উদ্দেশ্যে  মারজানা আক্তার মিলি  ও সুইটি আক্তারকে  নারায়নগঞ্জ নিয়ে গেছে। পরবর্তীতে মনোহরগঞ্জ থানা পুলিশ নারায়নগঞ্জ জেলার শিমরাইল এলাকা হতে ভিকটিম মোসাঃ মারজানা আক্তার মিলি  ও মোসাঃ সুইটি আক্তারকে উদ্ধার করে। গ্রেফতারকৃত আসামী একজন সংঘবদ্ধ মানবপাচার চক্রের সক্রিয় সদস্য বলে জানা যায়।

এ ঘটনায় মনোহরগঞ্জ থানায়  মামলা দায়ের করা হয়েছে।

নোয়াখালীতে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি ২৬ বছর পর গ্রেফতার

নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ

নোয়াখালীতে হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি জামাল উদ্দিনকে (৫৫) ২৬ বছর পর রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-১১।

মঙ্গলবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে গ্রেফতার আসামিকে বেগমগঞ্জ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এর আগে সোমবার রাত দেড়টার সময় তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় রাজধানীর মোহাম্মপুরের আকনগলি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেফতার জামাল উদ্দিন নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের শরীফপুর ইউনিয়নের মৃত ছাদু মিয়ার ছেলে এবং জেলার বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী বাজারের ব্যবসায়ী ও হক লাইব্রেরীর মালিক ফজুলল হক হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি।

এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন র‌্যাব-১১ নোয়াখালী ক্যাম্পের কোম্পানী কমান্ডারপরিচালক উপ লে: কমান্ডার মাহমুদুল হাসান।

জানা যায়, ১৯৯৭ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত জামাল উদ্দিন ও আবুল হাসেমসহ কয়েকজন মিলে চৌমুহনী রেল স্টেশন রোডের হক লাইব্রেরীর মালিক মুক্তিযোদ্ধা সামছুল হকের বড় ছেলে ফজুলল হককে মাইক্রোবাসযোগে অপহরণ করে। পরিবারের লোকজন অনেক খোঁজাখুজি করে কোনো সন্ধান পায়নি। পরে একই বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি ফজলুল হকের বাবা সামছুলক বাদি হয়ে সহোদর আবুল হাসেম ও জামাল উদ্দিনকে আসামি করে বেগমগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত শেষে ডিবি পুলিশ অভিযোগপত্র দাখিল করে জানায়, হত্যাকারীররা নিহতের মরদেহ গুম করেছে।

২০১৫ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি দীর্ঘ শুনানি শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সহোদর আবুল হাসেম ও জামাল উদ্দিনকে বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিচারক শিরিন কবিতা আক্তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেন। মামলার রায় ঘোষনা হওয়ার পর থেকেই আসামি জামাল উদ্দিন নাম পরিচয় গোপন করে আত্নগোপনে চলে যান। র‌্যাবের সদস্যরা তথ্য-প্রযুক্তি সহায়তায় এবং ছায়া তদন্তের মাধ্যমে আসামির পরিচয় শনাক্ত করে এবং গোয়েন্দা দলের তথ্য সংগ্রহপুর্বক যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি জামাল উদ্দিনকে ২৬ বছর পর গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

নোয়াখালীতে ফেন্সিডিল-বিদেশী মদসহ মাদক কারবারি আটক

নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলা থেকে ১২৩ বোতল ফেন্সিডিল ও এক বোতল বিদেশী মদসহ এক মাদক কারবারিকে আটক করেছে র‌্যাব-১১।

মঙ্গলবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে গ্রেফতার মাদক কারবারিকে বেগমগঞ্জ মডেল থানা পুলিশে হস্তান্তর করা হয়েছে। এর আগে, গতকাল সোমবার রাতে তাকে উপজেলার চৌমুহনী পৌরসভার শরীফপুর এলাকা থেকে আটক করা হয়।

গ্রেফতার মাদক কারবারি এনামুল হক লালন (৩৫) কুমিল্লার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে বিভিন্ন ধরনের মাদক এনে চৌমুহনী এলাকায় বিক্রি করে আসছিলেন বলে জানায় র‍্যাব।

এ সব তথ্য নিশ্চিত করেন র‌্যাব-১১ নোয়াখালী ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার লে. কমান্ডার মাহমুদুল হাসান।

তিনি জানান, গোপন খবরের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে চৌমুহনী পৌরসভার শরীফপুর এলাকা থেকে মাদক কারবারি এনামুল হক লালনকে আটক করা হয়। এসময় তার নিকট থেকে ১২৩ বোতল ফেনসিডিল ও এক বোতল বিদেশী মদ উদ্ধার করা হয়। সে দীর্ঘদিন থেকে কুমিল্লার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে বিভিন্ন ধরনের মাদক এনে এলাকায় বিক্রি করে আসছিল বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন।

মোবাইল ব্যবহারের সময় মুখের সামনে বিস্ফোরণে প্রাণ গেল শিশুর

 

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

ভারতের কেরালায় ৮ বছর বয়সী এক কন্যা শিশুর মুখের সামনে মোবাইল ফোন বিস্ফোরিত হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে।

ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে প্রকাশ, ওই সময় মোবাইল ব্যবহার করছিলেন কেরালার তিরুভিলভামালার বাসিন্দা আদিত্যশ্রী।

পুলিশ জানিয়েছে, সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। আদিত্যশ্রী তখন মোবাইল ব্যবহার করছিল।

আদিত্যশ্রী স্থানীয় একটি স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী।

ব্রাহ্মণপাড়ায় মেম্বারের উদ্যোগে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা উপহার প্রদান

 

স্টাফ রিপোর্টারঃ

কুমিল্লা জেলার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার ৩নং চান্দলা ইউনিয়ন পরিষদের ০৯ নং ওয়ার্ড সদস্য জনাব মোঃ সাইফুল মেম্বারের উদ্যোগে এসএসসি পরীক্ষার্থী ২০২৩ শিক্ষার্থীদের মাঝে শুভেচ্ছা উপহার প্রদান করা হয়।

মঙ্গলবার (২৫ এপ্রিল) সকাল ১০টায় বড়ধুশিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী ২০২৩ শিক্ষার্থীদের মাঝে শুভেচ্ছা উপহার প্রদান করে।

গজারিয়া একতা ক্লাবের সভাপতি মোঃ জসিম উদ্দিন ভূইয়া পরিচালনায় ও বড়ধুশিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ হুমায়ুন কবিরের সভাপতিত্বে উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বড়ধুশিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানিজিং কমিটির সভাপতি জনাব মোঃ দৌলত জামান ভুঁইয়া।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বড়ধুশিয়ার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিদুৎসাহী সদস্য রুহুল আমিন মোল্লা,ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা প্রেস ক্লাবের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ শরিফ খাঁন আকাশ, বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির অভিভাবক সদস্য লোকমান হোসেন, ৩নং চান্দলা ইউনিয়ন পরিষদের ০৯ নং ওয়ার্ডের সদস্য মোঃ সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া (মেম্বার)। আরও উপস্থিত ছিলেন এলাকার গণমান্য ব্যক্তিবর্গ।

এই সময় বড়ধুশিয়া মাধ্যমিক এসএসসি পরীক্ষার্থী ২০২৩ শিক্ষার্থীদের মধ্যে শুভেচ্ছা উপহার হিসাবে একটি ফাইল,কলম,স্কেল,রাবার ইত্যাদি শিক্ষা সামগ্রী উপকরণ প্রদান করেন অতিথি বৃন্দরা।
অতিথিবৃন্দরা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য বিভিন্ন দিক নির্দেশনা মূলক বক্তব্য ও পরামর্শ প্রদান করেন।

সাইফুল ইসলাম মেম্বার শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন পূর্বের ন্যায় ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য উনার এই কার্যক্রম ভবিষ্যতে অব্যাহত থাকবে।

দাউদকান্দিতে পুলিশ কনস্টেবল হত্যার ঘটনায় ৬৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা

 

জাকির হোসেন হাজারীঃ

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে পুলিশ কনস্টেবল রাহেজুল আমিন বাধঁন (৩০) হত্যার ঘটনায় ৬৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

রবিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার বাশরা গ্রামের ঘটনায় পরদিন সোমবার রাতে নিহতের মা রোকেয়া বেগম বাদী হয়ে দাউদকান্দি মডেল থানায় মামলাটি করেন।

মামলায় এজাহারভূক্ত ৬৯ জন ছাড়াও অজ্ঞাতনামা আরো ১৫/২০ জনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ ওই মামলার এজারভূক্ত ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- উপজেলার ইলিয়টগঞ্জ দক্ষিন ইউনিয়নের বাশরা গ্রামের জোহর আলীর ছেলে জসিম মির্জা, বাদশা মিয়ার ছেলে আব্দুল বাতেন ও মৃত আবুল কালামের ছেলে ইব্রাহিম ওরফে গেনা।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানাযায়, উপজেলার বাশরা গ্রামে দীর্ঘদিন যাবৎ আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বাধনের সাথে একই গ্রামের হাসেম খান, সাদ্দাম, মানিক ও ফরহাদ গংদের সাথে দ্বন্দ্ব চলছিল। উভয়ের মধ্যে একাধিক মামলাও রয়েছে। বাধন পুলিশের কনস্টেবল পদে নোয়াখালী জেলা পুলিশে কর্মরত ছিল। দুই বছর আগে তাকে বরখাস্থ করা হয়। এরপরই বাধন এলাকায় বেপরোয়া হয়ে যায় বলে স্থানীয়রা জানায়। ২০২১ সালে বাশরাসহ আশপাশের কয়েক গ্রামের লোকজন বাধনের অত্যাচার থেকে রক্ষা পেতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছিল। এর কিছুদিন পর এলাকার লোকজন বাধনের বাড়ী ঘেরাও করলে ওইসময় পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন।

গত রবিবার (২৩ এপ্রিল) সকালে বাশরা গ্রামের বাড্ডাবাড়ীতে হামলা করে বাধন ও তার লোকজন। হামলায় ওই বাড়ীর নুরু মিয়ার ছেলে হাছান আহত হয়। এই ঘটনার জের ধরে দুপুর ১২টায় এলাকার লোকজন বাধনের বাড়ীতে হামলা করে। হামলাকারীরা তার ঘরের দরজা জানালা ভেঙে তার ঘরে প্রবেশ করে বিক্ষুব্ধ লোকজন। রামদা লাঠিসোটা দেখে ভয়ে বাধন বাচার জন্য পাশের রফিকুল ইসলামের দালানের একটি রুমে আশ্রয় নিলেও সেখান থেকে টেনেহিঁচড়ে বের করে দালানের প্রধান ফটকের সামনে এলোপাতাড়িভাবে কুপিয়ে বাধন, তার মা এবং ভাইকে মারাত্মকভাবে জখম করে। পরে তাদেরকে হাসপাতালে নেয়ার পর বাধন মারা যায়।

দাউদকান্দি মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ আলমগীর ভূঞা বলেন, বাধন হত্যার ঘটনায় সোমবার রাতে মামলা নেয়া হয়েছে এবং তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আর বাধন পুলিশের কনস্টেবল পদে নোয়াখালী জেলা পুলিশে কর্মরত অবস্থায় বিভিন্ন অভিযোগে দুই বছর আগে বরখাস্ত হয়। এ হত্যাকান্ডে জড়িত অন্য আসামীদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনার পর থেকে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

ময়নামতি এলাকায় প্রাইভেটকারভর্তি ৫৪  কেজি গাঁজাসহ ২ মাদক ব্যবসায়ী আটক

স্টাফ  রিপোর্টার:
কুমিল্লার ময়নামতি সুপার মার্কেটের সামনের ফুটওভার ব্রিজের নিচে থেকে   ৫৪  কেজি গাঁজা ও একটি নিশান প্রাইভেটকারসহ ২ জন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ।

২৫ এপ্রিল  রাত্র  সোয়া ১ টার সময় সদরের ক্যান্টনমেন্ট এলাকার ময়নামতি সুপার মার্কেট এর সামনে ফুটওভার ব্রীজের নিচে  এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

ডিবি পুলিশ সূত্র জানায়,  অভিযানকারী ডিবি টীম গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানতে পারেন, চৌদ্দগ্রাম থেকে ঢাকা-মেট্রো-খ-১২-০৩৭৯ রেজিঃ নাম্বারের একটি কালো রংয়ের নিশান গাড়ি মাদক নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাবে। উক্ত তথ্যের ভিত্তিতে ডিবি টিম ময়নামতি সুপার মার্কেট এর সামনে মাদকবাহী গাড়িটির জন্য রাস্তার পাশে দাড়িয়ে অপেক্ষা করতে থাকে। মাদকবাহী গাড়িটি ময়নামতি সুপার মার্কেট এর কাছাকাছি আসলে গাড়িটিকে সিগন্যাল দেওয়া মাত্রই গাড়ীর চালক ডিবি পুলিশের উপস্থিতি বুঝতে পেরে বেপরোয়া গতিতে রাস্তার পাশে থাকা ডিবি টীমের গাড়ীটিকে ধাক্কা মেরে পালিয়ে যাবার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার মাঝখানের ডিভাইডার এ তুলে দেয়। এতে মাদকবাহী গাড়ী ও ডিবি টীমের গাড়ীর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরবর্তীতে ডিবির অফিসার ও ফোর্স উক্ত গাড়ী হতে ২ জনকে আটক করে নিজেদের হেফাজতে নেয় এবং উপস্থিত লোকজনদের সহযোগীতায় গাড়িটি তল্লাশি করে গাড়ীর ভিতরে পিছনের সিটের উপর দুইটি ট্রাভেল ব্যাগ থেকে ৫৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার করে।

গ্রেফতার হওয়া আসামিরা হলেন,  কুমিল্লার সদর দক্ষিণের দড়িবটগ্রামের  হারুন মিয়ার ছেলে মোঃ শাহরিয়ার কবির @ কবির (৩৩)  ও  একই গ্রামের  আব্দুর কাদেরের ছেলে মোঃ আবুল হোসেন @ হোসেন (২৮)।

গ্রেফতার হওয়া  আসামীদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, উল্লেখিত মাদকদ্রব্য গাঁজা ভারতীয় সীমান্তবর্তী এলাকা হতে স্বল্প মূল্যে ক্রয় করে অধিক মূল্যে বিক্রয়ের জন্য আসামীরা ঢাকায় নিয়ে যাচ্ছিল। গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা বিচারাধীন রয়েছে ।

এ ঘটনায় কোতয়ালী মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।