All posts by jitu

দাউদকান্দির গৌরীপুর বাজারে নিত্য যানজট, দুর্ভোগে পথচারী, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা

 

জাকির হোসেন হাজারী, দাউদকান্দি:

কুমিল্লা দাউদকান্দির গৌরীপুর- হোমনা সড়কের গৌরীপুর অংশে প্রতিদিনই যানজট লেগে থাকে। এতে এই সড়কে চলাচলকারী হোমনা, তিতাস, মেঘনা ও বাঞ্ছারামপুর উপজেলার মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

যানজটে বাজারের ক্রেতা ও বিক্রেতা ছাড়াও স্কুল কলেজের শিক্ষার্থী এবং আশপাশের বাসিন্দারা চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন।

জানা গেছে, সড়কটির বাজারের অংশে সড়ক ও জনপথের জায়গা দখল করে ভবন নির্মাণ, ফুটপাত দখল করে দোকান বসায়, অবৈধ অটোরিকশা ও ইজিবাই যেখানে সেখানে পার্কিং করায় প্রতিদিনই বাজারে যানজট লেগে রয়েছে।

বাজারের যমুনা ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী সোহেল প্রধান বলেন, যানজটের কারনে দিন দিন আমাদের বাজারে ক্রেতার সংখ্যা কমছে। বাজারের সকল ব্যবসায়ীদের অবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছে। স্থায়ীভাবে যানজট নিরসনে পদক্ষেপ না নিলে আমরা ব্যবসায়ীরা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবো।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরেক ব্যবসায়ী জানান, সামনে ঈদ, ঈদের আগে এমন বড় ধরনের যানজট হলে এখানকার চেয়ারম্যান বাজার কমিটি ও স্বেচ্ছাসেবীদের নিয়ে যানজট নিরসনে কাজ করতে দেখেছি , এখন কাউকে দেখছি না। মনে হচ্ছে বাজারটি এখন অভিভাবক হীন!

সমাজকর্মী এখলাস মুন্সি জানান, বাজারের যানজট নিত্যদিনের ঘটনা। যানজট নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।

গৌরীপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ আমিনুল ইসলাম বলেন, একদিকে আমাদের লোকবল কম, আবার বাজার কমিটিরও কোন তৎপরতা নেই। যদিও অন্যান্য দিন কম হয় আজ সাপ্তাহিক হাটের দিন হওয়ায় এ যানজট হয়েছে। যানজট নিরসনে পুলিশ কাজ করছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাঈমা ইসলাম জানান, বাজারসহ সড়ক মহাসড়কে যানজট নিরসনের ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় আলোচনা হয়েছে। গৌরীপুরের কাঠ বাজারটির লোড আনলোড করতে গিয়ে মূলত যানজটের সৃষ্টি হয়। আর যেহেতু বাজার কমিটি সচল নেই, তাই ইজারদার এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে অচীরেই গৌরীপুর বাজারের যানজট নিরসনে পদক্ষেপ নেয়া হবে।

কুমিল্লায় ঘূর্ণিঝড়ে ৬২ ট্রান্সফার্মার বিকল, ভেঙেছে ৮৪ খুঁটি

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লায় ঘূর্ণিঝড়ের তীব্র বৃষ্টি ও ঝড়ো বাতাসে ৬২টি ট্রান্সফরমার বিকল এবং ৮৪ খুঁটি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে গেছে বলে জানিয়েছেন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি মহাব্যবস্থাপকরা।

গত বৃহস্পতিবার (২৯ মে) রাত থেকে জেলা জুড়ে বিদ্যুৎ বিপর্যয় আজও শতভাগ সংস্কার করা সম্ভব হয়নি।

কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১, ২, ৩ ও ৪-এর তথ্য অনুযায়ী, ঘুর্ণিঝড়ে ৮৪টি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙ্গে যায়। ট্রান্সফরমার বিকল হয়েছে ৬২টি এবং প্রায় সাড়ে ৪০০ স্থানে বিদ্যুতের তাঁর ছিঁড়ে গেছে। এছাড়াও দুইশতাধিক স্থানে পোল হেলে যাওয়া, শতাধিক স্থানে ক্রস আর্ম ভেঙ্গে, দেড়শতাধিক স্থানে ইনসুলেটর ও ৩ শতাধিক স্থানে মিটার ভেঙ্গে বিদ্যুৎ বিপর্যয় ঘটে। এর মধ্যে প্রতিটি সমিতির ৩০ শতাংশ লাইনম্যান আন্দোলনে অংশ নিতে ঢাকায় যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত সংযোগ মেরামতে হিমশিম খাচ্ছে সমিতিগুলো।।

কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার শ্রীমন্তপুর গ্রামের এক বাসিন্দা জানায়, বৃহস্পতিবার রাত ১১টায় ঘুর্ণিঝড়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর শনিবার রাত সাড়ে ৭টা পর্যন্ত আমাদের এলাকায় বিদ্যুৎ আসেনি। মোবাইল ফোন বন্ধ হয়ে গেছে আগেরদিন। ফ্রিজ থেকে পানি বের হয়ে সব মালামাল নষ্ট হয়ে গেছে।

জানা যায়, কুমিল্লা মহানগরীসহ ১৭টি উপজেলা এবং পাশের দুটি জেলার আরও দুই উপজেলায় বিদ্যুৎ বিতরণ করে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড এবং পল্লী বিদ্যুতের চারটি সমিতি। তবে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন কুমিল্লা মহানগরী এলাকায় বিদ্যুৎ বিতরণ স্বাভাবিক আছে। ঘূর্ণিঝড়ে এ এলাকায় বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতির কথা জানা যায়নি।

কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিটি সমিতিতে ১-২শ লাইনম্যান নিয়োজিত। কিন্তু আন্দোলন করতে তারা ঢাকায় আছে ৩০ শতাংশ। তাই এই বিপর্যয়ের সময় লাইনম্যানের সংকটে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। ঘুর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্থ লাইন সংস্কারে বহিরাগত লোকজন দিয়ে কাজ করতে হচ্ছে।

কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর মহাব্যবস্থাপক মো. আবু রায়হান জানান, ঘূর্ণিঝড়ে বৈদ্যুতিক লাইন অনেক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে, তবে ঝড়ের রাত থেকেই আমাদের লোকজন কাজ করছে। বর্তমানে আমাদের সবগুলো লাইনই চালু আছে, তবে বিভিন্ন সেকশন বন্ধ থাকায় কিছু কিছু এলাকায় গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুৎ সংযোগ নেই। দ্রুতই সেসব এলাকায় সমস্যার সমাধান করা হবে।

মৌলিক সংস্কার শেষে ডিসেম্বরে নির্বাচন হলে জামায়াতের কোন আপত্তি নেই- চৌদ্দগ্রামে নায়েবে আমীর ডাঃ তাহের

 

স্টাফ রিপোর্টার: 

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর ও সাবেক সংসদ সদস্য ডাঃ সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেছেন, যে জাতি ৪৭-এ স্বাধীনতা এনেছে, ৫২-এর ভাষার অধিকার সংরক্ষণ, ৭১ সালে এক হয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে জীবন, রক্ত ইজ্জত বিলিয়ে দিয়ে স্বাধীনতা অর্জন এবং ২৪’র জুলাই-আগস্টে সকলের অংশগ্রহণে এক মহাগণঅভ্যুথানের মাধ্যমে স্বৈরাচার ফ্যাসিবাদকে বিতাড়িত করেছে। তারা আবার একাত্ম হয়ে জাগ্রত জনতার ব্যানারে সকল ষড়ন্ত্রকে ব্যর্থ করে দিবে এবং আরেকটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলবে।

রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহবান জানিয়ে ডাঃ তাহের বলেন, আমাদের ভুমিকা এমন হওয়া উচিত হবে না, যেদিন থেকে এদেশের মানুষ আবার হতাশ হয়ে যায়। আবার শহীদদের আত্মত্যাগ বৃথা হয়। সেই নারী, সেই শিশু, সর্বসাধারণ, রিকশাওয়ালা, ঠেলাগাড়িওয়ালা নিঃস্ব মানুষেরা যে আত্মত্যাগ করেই মহান বিজয় অর্জন করেছিল, তাদের সেই ত্যাগ এবং রক্ত যেন বৃথা না হয়। এ জাতি বার বার সংগ্রাম করলেও কতিপয় নেতৃত্ব এবং লোভী মানুষের কারণে বঞ্চিত হয়েছিল, প্রতারিত হয়েছিল। মানুষ আশা করে, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পর এদেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভিতরে এ চেতনাবোধ হবে, এ ভুমিকায় তারা উত্তীর্ণ হবে, দেশের স্বাধীনতা রক্ষা করবে। একটি স্বাধীন জাতি হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াব। আমরা কোন বৈশক্তির কাছে মাথা নত করব না। একটি সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গঠন করব। এখানে আমাদের ধৈর্যের প্রযোজন, ত্যাগী মনোভাবের প্রয়োজন। এখানে ব্যক্তির চেয়ে দল, দলের চেয়ে দেশ এবং জনগণের স্বার্থ বড় হউক। এটাই রাজনীতি এবং রাজনীতিবীদদের প্রধান স্লোগান হতে হবে, আজকের এই বাংলাদেশে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ অত্যন্ত সম্ভাবনাময় দেশ। কারণ, অতীতে বার বার ষড়যন্ত্র হয়েছিল, মাথা নত করার চেষ্টা করা হয়েছিল, মানুষের সংগ্রামে সে ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হয়েছে। আগামী দিনেও কেউ বা কারা যদি মনে করেন, জোর-জবরদস্তিমূলকভাবে ক্ষমতায় গেলেই তারা সফলকাম হবে-আমি এটা বিশ^াস করি না। আমি দৃঢ়ভাবে মনে করি, স্বাভাবিক ধারায়, গণতান্ত্রিক ধারায়, নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে একটি দুর্নীতিমুক্ত সমাজ বিনির্মাণের লক্ষ্যে স্বাভাবিকভাবে যে পরিবর্তন আসবে, নির্বাচন আসবে, সে নির্বাচনে যারা বিজয়ী হয়ে সরকার পরিচালনা করবে, এ মানসিকতার যে রাজনীতি, সে রাজনীতি টিকে থাকবে। আর শর্টকার্ট কোন রাস্তায় যদি কেউ ক্ষমতায় যেতে চায়, ইতিহাস এ কথা বলে-তারা বেশি দিন ক্ষমতায় থাকতে পারেন নাই, ভবিষ্যতেও পারবে না। সুতরাং এ দেশের মানুষের আরও রক্ত দেয়ার প্রয়োজন, এটা যেন না হয়। সকল রাজনৈতিক দল ও নেতাদের প্রতি আরেকুট সহনশীল হয়ে অগ্রসর হওয়ার জন্য আমি আহবান জানাব।

অন্তবর্তী সরকারকে উদ্দেশ্য করে ডাঃ তাহের বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা পরিবর্তন-এটি ইন্টিরিয়র গর্ভমেন্টের অন্যতম প্রধান কাজ। আমরা প্রধান উপদেষ্টাকে বলেছিলাম, আপনাকে নির্বাচন দিতে হবে। যদি নির্বাচন ডিসেম্বরে হয় জামায়াতের কোন আপত্তি নেই। তার আগে যদি মৌলিক সংস্কার শেষ হয়। যদি মৌলিক সংস্কার হওয়ার জন্য আরও দুই মাস বেশি লাগে, তাহলে ডিসেম্বরের উপর জিদ করে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার মানে হয় না। সুতরাং, নির্বাচন ডিসেম্বর, ফেব্রুয়ারী বা এপ্রিলে হউক জামায়াতের আপত্তি থাকবে না। এ লক্ষ্যে নির্বাচনের রোডম্যাপ আপনি ঘোষণা করুন। আমরা দুইটি বিষয়ে রোডম্যাপ চেয়েছি-একটি নির্বাচনের আরেকটি সংস্কারের। এটা আপনার মতো করেই আপনি ঘোষণা করুন। তাতেই আমি মনে করি-পরিস্থিতি প্রশমিত হবে। এক মাস বা দুই মাসের পার্থক্য এদেশের জনগণ মেনে নেবে। তবে ডিক্লারেশনটা অত্যন্ত প্রয়োজন, কারণ আস্থার সংকট দেখা দিয়েছে। রোডম্যাপের ডেট বা মাস ডিক্লার করলে এ আস্থার সংকট কমে যাবে।

শনিবার চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের উদ্যোগে নোয়াবাজারস্থ খাদিজা হোটেল মিলনায়তনে নির্বাচনী দায়িত্বশীল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

উপজেলা জামায়াতের আমীর মু. মাহফুজর রহমানের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি মু. বেলাল হোসাইনের পরিচালনায় দায়িত্বশীল সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আমীর এডভোকেট মোহাম্মদ শাহজাহান, সাবেক উপজেলা আমীর ভিপি সাহাব উদ্দিন, বিশিষ্ট চিকিৎসক ডাঃ ফজলুর রহমান মজুমদার, চৌদ্দগ্রাম পৌরসভা আমীর মাওলানা মুহাম্মদ ইব্রাহীম, উপজেলা সহকারী সেক্রেটারী আব্দুর রহিম, জামায়াত নেতা আইয়ুব আলী ফরায়েজী, মাওলানা আব্দুল কাইউম, ডাঃ মফিজুর রহমান, মাওলানা আব্দুল হাকিম, আলহাজ্ব শেখ আহমেদ, মাওলানা আবুল হাশেম, কাজী আব্দুল কাদের, উজিরপুর ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি আবুল হাসেম, ডাঃ মোশাররফ হোসেন বাহার, এ এন এম আবু তাহের, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তফা নুরুজ্জামান খোকন, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রুহুল আমিন, কালিকাপুর ইউপি’র প্যানেল চেয়ারম্যান জাকির মাহমুদ প্রমুখ। এ সময় শ্রীপুর, শুভপুর, কালিকাপুর ও উজিরপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ড, কেন্দ্র ও গ্রাম কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ গুরুত্বপূর্ণ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় খালের পানিতে ডুবে দুই বোনের মৃত্যু

ডেস্ক রিপোর্ট:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলায় খালের পানিতে ডুবে দুই বোনের মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার সকালে উপজেলার গোকর্ণ ইউনিয়নের গোকর্ণ গ্রামের সংস্তার খাল থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

ওই দুই শিশুর নাম মারিয়া (১১) ও সামিয়া (৯)। তারা একই গ্রামের মিনার আলীর মেয়ে।

নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খাইরুল আলম স্বজনদের বরাতে জানায়, শুক্রবার বিকেলে সংস্তার খাল পার হয়ে গরু আনতে গিয়েছিল মারিয়া ও সামিয়া। টানা দুইদিনের বৃষ্টিতে খালের পানি বেড়ে যায়। এ সময় খাল পার হতে গিয়ে দুই বোন স্রোতের তোড়ে ভেসে যায়। এরপর থেকে তারা নিখোঁজ ছিল। পরে শনিবার সকালে খালে ভেসে ওঠে দুই বোনের মরদেহ। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

ঈদ-উল আযহা উপলক্ষ্যে পশুরহাটের ইজারাদারদের সাথে আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে জেলা পুলিশের মতবিনিময় সভা

 

স্টাফ রিপোর্টার:

আসন্ন ঈদ-উল আযহা ২০২৫ উপলক্ষ্যে পশুরহাটের ইজারাদারদের সাথে আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে জেলা পুলিশের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত।

শনিবার (৩১ মে ) বেলা ১১ টায় কুমিল্লার পুলিশ লাইন্স ড্রিলসেট শহীদ আরআই এ.বি.এম আবদুল হালিম মিলানায়তনে আসন্ন ঈদ-উল আযহা ২০২৫ উদযাপন উপলক্ষ্যে পশু হাটের ইজারাদারদের সাথে আইন শৃঙ্খলা বিষয়ক ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ নাজির আহমেদ খাঁন ।

উক্ত মতবিনিময় সভায় কুমিল্লা জেলার ১৮টি থানার পশুর হাটের ইজারাদারগণ উপস্থিত ছিলেন।

উক্ত আলোচনা সভায় পশু হাটের ইজারাদারগণ তাদের বিভিন্ন সুবিধা-অসুবিধা ও পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে মতামত ব্যক্ত করেন। পরবর্তীতে পুলিশ সুপার পশুর হাট সংক্রান্তে আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি ও হয়রানি রোধ, জালটাকা সনাক্তের জন্য মেশিন স্থাপন ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয়সহ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্তে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

উল্লেখ্য, কুমিল্লার ১৮টি থানা এলাকায় এই বছর স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে সর্বমোট ৪০৯টি পশুর হাট বসবে।

উক্ত মতবিনিময় সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) রাশেদুল হক চৌধুরী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) শামীম কুদ্দুস ভূঁইয়া, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোঃ সাইফুল মালিকসহ কুমিল্লা জেলার সকল সার্কেল অফিসার এবং সকল থানার অফিসার ইনচার্জগণ।

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজে পানিতে বসে ভর্তি পরীক্ষা দিলেন শিক্ষার্থীরা

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ধর্মপুর ডিগ্রি শাখার কলাভবনে পানিতে বসেই পরীক্ষা দিলেন শিক্ষার্থীরা।

শনিবার (৩১ মে) সকালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন স্নাতক ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃষ্টিতে পানি জমেছে ভিক্টোরিয়া কলেজে। এদিন সকালে স্নাতক (অনার্স) প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার শুরুতে বৃষ্টি না থাকলেও শেষে বৃষ্টির মধ্যে বাড়ি ফিরছেন শিক্ষার্থীরা।

সাগরে গভীর নিম্নচাপের কারণে ভারী বর্ষণে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানিতে ডুবে যায় কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ ক্যাম্পাস। বর্ষাকালে কলেজ ক্যাম্পাসের পরিবেশ একেবারেই অনুকূলে থাকে না। বিশেষ করে, ছাত্রাবাসগুলোর অবস্থা নাজুক হয়ে ওঠে। টানা বৃষ্টিতে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন ভবনের নিচতলায় পানি উঠে যায়। এ কারণে শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয়ে হল ছেড়ে বন্ধুদের মেস বা নিজ বাড়িতে চলে যান।

আগের দুই দিনের টানা বৃষ্টিতে এ সমস্যা ফের দেখা দিয়েছে। রসায়ন ভবন থেকে মিলেনিয়াম ভবন, বিজ্ঞান ভবন-২, লাইব্রেরি ভবন এবং কলাভবনের নিচতলায় পানি জমেছে। ২ নম্বর গেট থেকে কলা ভবন পর্যন্ত রাস্তাজুড়েও পানি। শিক্ষার্থীদের চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে। ময়লা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি রোগ-ব্যাধির আশঙ্কা তৈরি করেছে।

কলেজের অধ্যক্ষ আবুল বাশার ভূঁইয়া জানান, জলাবদ্ধতার সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে চলছে। মেঝে উঁচু করলেও কোনো সুফল পাওয়া যায়নি। আশপাশের হাউজিং এলাকা ও বিসিকের পানির কারণে কলেজের পুকুরে পানি ঢুকে যায়। আমাদের কলেজ নিচু জায়গায় হওয়ায় এ সমস্যা লেগেই থাকে। আমরা চারদিক থেকে বাউন্ডারি নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি, যা হলে আশপাশের পানি প্রবেশ বন্ধ হবে। আশা করছি, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সমস্যার দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হবে।

ডিসেম্বরের আগেই নির্বাচন দিতে হবে : সালাহউদ্দিন

ডেস্ক রিপোর্ট:

ডিসেম্বরের আগেই নির্বাচন দিতে হবে। এটা বাংলাদেশের মানুষের দাবি। একটিও কারণ নেই ডিসেম্বরের বাইরে নির্বাচন যাওয়ার। সংস্কার ও নির্বাচন চলমান প্রক্রিয়া বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।

শনিবার (৩১ মে) রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সংস্কার হবে। সংস্কার আমাদের প্রধানতম এজেন্ডা। তার থেকে বেশি জরুরি ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে বিচার, যারা মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত ছিল। সবাইকে কাঠগড়ায় নিয়ে আসা হবে, এটা আমাদের সর্বোচ্চ এজেন্ডা। কিন্তু নির্বাচন বাংলাদেশের মানুষকে এই ডিসেম্বরের মধ্যে দেবেন বলে যে আশ্বস্ত করেছিলেন আমাদের সামনে, পরবর্তীতে সরে গেলেন। সেটা ঠিক করেননি।

তিনি আরো বলেন, নির্বাচন বিলম্বিত হওয়ার একটিও কারণ নেই আপনার সামনে, যুক্তি নেই, কেন আপনি ডিসেম্বরের বাইরে গিয়ে নির্বাচন দেবেন। সেটার পক্ষে একটিও যুক্তি নেই। কিন্তু শুধু বলেন ডিসেম্বর থেকে জুন। কেন! আছর পড়েছে আপনার? যে ডিসেম্বর থেকে জুনের মধ্যে থাকতে হবে!

চৌদ্দগ্রামে ভাঙ্গারি দোকানের ময়লায় অস্তিত্ব সংকটে নদী-খাল, পরিষ্কারে ইউএনও’র অভিযান

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে মহাসড়ক সংলগ্ন বিভিন্ন ভাঙ্গাটি দোকানের (স্কেরাপ) ময়লার ভাগাড়ের নিরাপদ স্থানে পরিণত হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ছোট-বড় নদী-খাল। দোকানের ময়লায় অস্তিত সংকটে রয়েছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ খাল। নদী-খাল এবং নালার পানি প্রবাহের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ময়লার ভাগার থাকায় অনেকাংশে পানি প্রবাহ একেবারেই বন্ধ করে দিয়েছে ভাঙ্গারী দোকানের এসব ময়লা। ফলে চলমান বর্ষা মৌসুমে এবং গত কয়েকদিনের অতিবৃষ্টিতে পৌর এলাকায় বন্যার আশংকা দেখা দিয়েছিল।

সরেজমিনে পরিদর্শনে দেখা যায়, পৌরসভার বাজার স্বর্পনোলা খাল, মিতল্লা খাল দখল, দুষণে অনেকাংশে বিলীত হওয়ার পথে। মিতল্লা খালের উপজেলা পরিষদ পাশ্ববর্তী অংশে, স্বর্পনোলা খালের চৌদ্দগ্রাম বালিকা বিদ্যালয়ের সামনের অংশে একাধিক ভাঙ্গারি দোকানের ময়লার স্তুপে পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে পড়েছে। স্বর্পনোলা খালের গুরুত্বপূর্ণ বালিকা বিদ্যালয় সংলগ্ন অংশে ময়লার স্তুপের কারণে গত বছরের ভয়াবহ বন্যায় চৌদ্দগ্রাম সরকারী হাসপাতাল, ভূমি অফিসসহ বাজারের বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়।

এমন পরিস্থিতিতে উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ স্বর্পনোলা খাল, মিতল্লা খাল, বোয়ালজুড়ি খাল, কানাই নদী, কাকড়ি নদীসহ চৌদ্দগ্রাম উপজেলার খালবিল শুক্রবার সকালে সরেজমিনে পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক মোহাম্মদ জামাল হোসেন। দীর্ঘদিনের জনদাবীর প্রেক্ষিতে গত প্রায় দুই মাস ধরে দখল-দুষনে ক্ষতিগ্রস্থ নদী-খাল পরিষ্কার অভিযান শুরু করেছেন চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক মোহাম্মদ জামাল হোসেন শনিবার (৩১শে মে) সকালে তিনি পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ মিতল্লা খাল, স্বর্পনোলা খাল পরিষ্কার কার্যক্রমে সরেজমিনে নেমে পড়েন। এসময় চৌদ্দগ্রাম প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ, সংবাদকর্মী, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবক, সচেতন পৌরবাসী সরেজমিনে উপস্থিত থেকে ইউএনওর কার্যক্রমে সার্বিক সহযোগীতা করেন।

পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক মোহাম্মদ জামাল হোসেন উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান, গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ নদী-খালে পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়েছে। এমন ১৩টি গুরুত্বপূর্ণ স্থান আমরা চিহ্নিত করে শুক্রবার সকাল থেকে পরিষ্কার অভিযান শুরু করি। অভিযানে আমরা দেখতে পাই, এসব বর্জগুলো মানুষ স্বেচ্ছায় ফেলছে। দেখা যাচ্ছে অনেকাংশে গৃহস্থালীর বর্জ্য, ফ্রিজের ককশিট এবং ভাঙ্গারি দোকানের ময়লা ফেলে স্তুপ করে রাখা হয়েছে। আমরা পৌরবাসীকে অনুরোধ করবো অভিযান পরবর্তী সময়ে তারা যাতে নাগরিক দায়িত্ব হিসেবে এ জায়গাগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখে।

এ সময় ভাঙ্গারি দোকানের ময়লার বিষয়ে তিনি বলেন, পৌরসভার খাল, নালা, ড্রেনের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে স্কেরাপের দোকানগুলো বসানো হয়েছে। পানি নিষ্কাষনের খালগুলোকে তারা (স্কেরাপের মালিক) ময়লার ভাগাড় হিসেবে রুপান্তর করেছে। আমরা ইতোপূর্বে তাদেরকে সতর্ক করেছি এবং এই মূহুত্বে তাদের ময়লাগুলো পরিষ্কার করছি। তারা যদি সতর্ক না হয় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবো।

কোটি টাকার বিনিময়ে আওয়ামী দোসরদের দিয়ে কুমিল্লা কেমিস্ট এন্ড ড্রাগিস্ট সমিতি কমিটি গঠন!

 

স্টাফ রিপোর্টার:

১ কোটি টাকা অর্থ বাণিজ্যের মাধ্যমে আওয়ামী দোসরদের নিয়ে কুমিল্লা কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতি কমিটি কেন্দ্র থেকে ঘোষণা করা হয়েছে।আওয়ামী লীগের অর্থ যোগানদাতা, মাদক ব্যবসায়ী, আওয়ামী রাজনীতিতে প্রত্যক্ষ পরোক্ষভাবে জড়িতরা কমিটিতে স্থান পেয়েছে।

কেন্দ্রীয় কমিটিতে এখনো আওয়ামী দোসররা বসে আছে। তাই এ কমিটিও দোসরমুক্ত হয়নি।

শনিবার (৩১ মে) দুপুরে কুমিল্লা সদরের আলেখারচর বিশ্বরোড এলাকার মেডিসিন কমপ্লেক্স অডিটোরিয়ামে সাংবাদিক সম্মেলনে এ কথা বলেন সদ্য ঘোষিত কমিটির সহ-সভাপতি মোরশেদুল হক খোকন।

লিখিত বক্তব্যে খোকন আরো বলেন, সম্প্রতি আওয়ামী দোসরদের একটি অংশ তাদের অপকর্ম ঢাকার জন্য মিথ্যে তথ্য দিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে তারা বলেছেন- কুমিল্লায় দুই ব্যক্তির কাছে ঔষধ ব্যবসায়ীরা জিম্মি ।

প্রকৃতপক্ষে চিত্রটা ভিন্ন। সদ্য ঘোষিত কমিটির সভাপতির বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন নিহতের পরিবার। তারা যাচাই-বাছাই করে মামলা দায়ের করেছেন। এতে আমাদের কোন হাত নেই। কারণ এখানে বৈষম্য বিরোধী ছাত্ররা রয়েছে, রয়েছে প্রশাসন। তাই এখানে অন্য কেউ চাইলেও কাউকে আসামি করতে পারবে না। ফলে তাদের এই অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট। আওয়ামী দোসররা মেডিসিন ব্যবসায়ী শিল্পী ও রুবেলের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনেছে। প্রকৃতপক্ষে তারাই অবৈধ মেডিসিন ব্যবসার সাথে জড়িত। ব্যবসার আড়ালে মাদক ব্যবসাও করছেন। বিভিন্ন সময় অবৈধ মেডিসিন ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগে তাদের দোকানে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করেছে। মূলত সদ্য ঘোষিত কমিটিতে আটজন আওয়ামী লীগের দোসর রয়েছে, যারা প্রত্যক্ষ পরোক্ষভাবে আওয়ামী লীগে রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। তারা আওয়ামী লীগের অর্থ যোগানদাতা, সভা- সমাবেশে উপস্থিত থাকতেন। বিভিন্ন এমপি সাথে বিভিন্ন প্রোগ্রামে তাদের ছবি রয়েছে। সেই অপবাদ ঢাকার জন্য তারা এখন শিল্পী ও রুবেলের বিরুদ্ধে মিথ্যে অভিযোগ এনেছেন। যা নিন্দনীয়। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই।

সদ্য ঘোষিত কমিটিতে সভাপতি পদে থাকা মো: আব্দুল আলীম ভূইয়ার সাথে কুমিল্লা সদরের সাবেক সংসদ সদস্য হাজী বাহার ও চান্দিনা সংসদীয় আসনের সাবেক সংসদ সদস্য প্রাণ গোপালের জনসভা এবং স্থানীয় সাবেক কুসিক কাউন্সিলর সরকার মাহমুদ জাবেদের সুসম্পর্ক ছিল। তাদের সাথে মো: আব্দুল আলীম ভূইয়ার উপস্থিতির ছবি রয়েছে। ১৯৯৬ সালে রেইসকোর্সে অবস্থিত গ্লাক্সো ফার্মাসিটিক্যালস এর ২০ লক্ষ টাকা ছিনতাইয়ের মূল পরিকল্পনাকারী ও ১৭ বছর আওয়ামী লীগের অর্থ যোগানদাতা ও আওয়ামী লীগের পৃষ্ঠপোষকতাকারি আব্দুল আলীম।”

এই কমিটির সিনিয়র সভাপতি মো: নুরুল আলম চৌধুরীর ( নোমান) মা নাজমা আক্তার চান্দিনা উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান ছিলেন।


কমিটির সহ-সভাপতি মেসার্স লাবোনি মেডিকেল হলের মালিক এ.কে.এম মোস্তাফিজুর রহমান (শাহজাহান) আওয়ামী লীগের অর্থ যোগানদাতা ছিলেন। এছাড়া তিনি সদরের সাবেক সংসদ সদস্য হাজী বাহার ও চান্দিনার সাবেক সংসদ সদস্য প্রাণ গোপাল , সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ নিয়াজ পাভেলের কাছের মানুষ ছিলেন। এই কমিটির সদস্য মেসার্স নিউ গ্রিণ ফার্মেসীর মালিক এনায়েত উল্লাহ মহানগর আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাকালিন কমিটিতে সদস্য ছিলেন। সর্বশেষ মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটিতে উপদেষ্টা পদ পান তিনি। কমিটির সদস্য মেসার্স নাড়িখান মেডিকেল হলের মালিক মো: শামীম আওয়ামী লীগের অর্থ যোগানদাতা ছিলেন।

সদস্য মেসার্স নিউ মেডিকেল হলের মালিক বাবু ধনঞ্জয় কুমার দত্ত আওয়ামী লীগের সমর্থক ছিলেন। স্থানীয় কাউন্সিলর সরকার মাহমুদ জাবেদের রাজনীতিতে অর্থ যোগান দিতেন বলে জানা গেছে। সদস্য মেসার্স যমুনা মেডিকেল হলের মালিক নিখীল চন্দ্র দত্ত আওয়ামী সমর্থক ছিলেন এবং সদস্য মেসার্স রিয়া মেডিকেল হলের মালিক প্রহল্লাদ চন্দ্র দত্তের বিরুদ্ধে মেডিসিন ব্যবসায় নানা অনিয়ম করেছে।

আওয়ামী দোসর, অর্থ যোগানদাতা ও মাদক ব্যবসায়ীদের নিয়ে এ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। যা নিন্দনীয়। এই ঘটনা ২৪ এর আন্দোলন কে কলঙ্কিত করেছে। আমরা চাই অতিসত্বর এই দোসরদের কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হোক।

সংবাদ সম্মেলনে এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন মেডিসিন ব্যবসায়ী আবু বকর সিদ্দিক শিল্পী ও রুবেল সহ আরো অনেকে।

সংবাদ সম্মেলন শেষে মেডিসিন কমপ্লেক্সের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

পুরনো বিএনপিকে খুঁজে পাচ্ছেন না সংগীতশিল্পী আসিফ আকবর

ডেস্ক রিপোর্ট:

বাংলা গানের যুবরাজ সংগীতশিল্পী আসিফ আকবর জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক মতাদর্শে বিশ্বাসী। তবে শহিদ জিয়ার যে বিএনপিকে ভালোবাসেন গায়ক, রাজনীতির বর্তমান দৃশ্যপটে সেই বিএনপি খুঁজে পাচ্ছেন না। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪৪ তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এমন কথা বলেন। সঙ্গে তুলে ধরেছেন বর্তমান বিএনপি নিয়ে নিজের মনের হতাশা, সংশয় এবং কিছু আশার কথা।

আসিফ আকবর লিখেন, স্বাধীনতার ঘোষক, মহান মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দেয়া জেড ফোর্স অধিনায়ক, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সাহেবের শাহাদাৎ বার্ষিকী ৩০শে মে। শহীদ জিয়া প্রকৃত অর্থে গত ৫৪ বছরে বাংলাদেশের একমাত্র স্টেটসম‍্যান।

আসিফ মনে করেন, স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ের রাজনৈতিক ও সামরিক চ্যালেঞ্জে জিয়াউর রহমানই জাতিকে পথ দেখিয়েছিলেন। মাত্র সাড়ে তিন বছরের শাসনামলেই তিনি বাংলাদেশকে ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ থেকে বের করে কৃষি, শিল্প ও মানবসম্পদে স্বনির্ভরতার পথে এগিয়ে নিয়ে যান।

জিয়াউর রহমানের বহুদলীয় গণতন্ত্র এবং বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের ধারণাকে আধুনিক বাংলাদেশের ভিত্তি বলে আখ্যা দিয়ে লিখেন, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে তিনি ছিলেন এক অজেয় ধুমকেতু। এই অবস্থান থেকেই বিএনপির উত্থান হয়েছিল সাধারণ মানুষের ‘আশা আকাঙ্ক্ষার মূর্ত প্রতীক’ হিসেবে।

তবে এখানেই থেমে থাকেননি এই শিল্পী। অতীতের গৌরবময় দলটির বর্তমান রূপ নিয়ে তার হতাশাও প্রকাশ পায় পোস্টে।

তিনি লিখেন, দুঃখজনক হলেও সত্যি যে বিএনপি’কে ভালোবাসি, সেই বিএনপি খুঁজে পাচ্ছিনা। তিনি আরও লিখেন, অত‍্যাচারের খড়্গে ছিল জিয়া পরিবার, সুফল ভোগ করেছে জাতীয়তাবাদের লেবাসধারী কিছু নেতা, অত‍্যাচারীর এজেন্টরা। সারাদেশে গুম, খুন, মামলা, হামলা, জেল-জুলুমে নির্যাতিত লক্ষ লক্ষ তৃণমূল কর্মীই আজ দলে অপাঙ্কতেয়।