All posts by jitu

দাউদকান্দিতে ভূমি সেবা মেলার উদ্বোধন

জাকির হোসেন হাজারী, দাউদকান্দি:

প্রযুক্তিনির্ভর সেবা জনগণের দোরগোড়ায় সহজ ও স্বচ্ছভাবে পৌঁছে দিতে সারাদেশের মতো দাউদকান্দিতে তিন দিনের ভূমিসেবা মেলার উদ্বোধন করা হয়েছে ।

আজ মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল সাড়ে ১০টায় দাউদকান্দি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) কার্যালয়ে মেলার উদ্বোধন করেন দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাছরীন আক্তার।

এবারের ভূমিসেবা মেলার প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে–জনবান্ধব অটোমেটেড ভূমি ব্যবস্থাপনা সুরক্ষিত ভূমি, সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ। মেলা চলবে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত।


অনুষ্ঠানের সভাপতি সহকারী কমিশনার (ভূমি) রেদওয়ান ইসলাম বলেন, মেলা আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য হলো- ভূমি সেবা সহজীকরণ, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও নাগরিক সেবা সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা এবং প্রান্তিক পর্যায়ে সেবাগুলো পৌঁছে দেয়া।

তিনি বলেন, তিনদিনব্যাপী এই মেলার শেষদিনে বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহনে কুইজ প্রতিযোগীতা ও সেমিনারের মাধ্যমে সমাপনি অনুষ্ঠান হবে। ইউনিয়ন ভিত্তিক সর্বোচ্চ ভূমিকর আদায়কারীকে পুরষ্কৃত করার মাধ্যমে ভূমি সংক্রান্ত সেবা পদ্ধতি সম্পর্কে জনগণকে ধারণা দেয়া হবে এবং প্রয়োজনীয় সেবা প্রদান করা হবে।

বুড়িচংয়ে তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিকে পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে হত্যা: প্রধান আসামি গ্রেফতার

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার বুড়িচংয়ে তৃতীয় লিঙ্গের এক ব্যক্তিকে হাত-পা বেঁধে শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)-১১।

সোমবার দিবাগত রাতে সাতক্ষীরা জেলার ভোমরা এলাকা থেকে যৌথ অভিযানে তাকে আটক করা হয়।

গ্রেফতারকৃত আসামি জহির ইসলাম ওরফে আপন ওরফে জহির হিজড়া (৪৬) কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার বাসিন্দা। মঙ্গলবার র‌্যাব-১১ সিপিসি-২, কুমিল্লার কোম্পানি অধিনায়ক ও সিনিয়র সহকারী পরিচালক মিঠুন কুমার কুণ্ডু স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

র‌্যাব সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ মে সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে বুড়িচং বাজারের মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স সংলগ্ন একটি টিনশেড বাসায় এ ঘটনা ঘটে। সেখানে তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তি এনামুল হক শিশির (২৯)-কে হাত-পা বেঁধে তার শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। আগুনে দগ্ধ হয়ে তিনি চিৎকার শুরু করলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হয়ে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৭ মে ভোররাতে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে বুড়িচং থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোড়নের সৃষ্টি হয়।
র‌্যাব জানায়, ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্তরা আত্মগোপনে চলে যায়। পরে গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় র‌্যাব-১১ সিপিসি-২ এবং র‌্যাব-৬ সিপিসি-১ এর যৌথ আভিযানিক দল সোমবার রাত ১১টা ২০ মিনিটে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ভোমরা এলাকা থেকে প্রধান আসামি জহির ইসলামকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে র‌্যাব জানতে পেরেছে, নিহত শিশির ও গ্রেফতারকৃত আসামিসহ সংশ্লিষ্ট সবাই তৃতীয় লিঙ্গের এবং দীর্ঘদিন ধরে একই বাসায় বসবাস করতেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যমতে, তাদের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। মূলত মাদকের অর্থ ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধের জের ধরে পরিকল্পিতভাবে শিশিরকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
র‌্যাব আরও জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামি হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

বাংলাদেশে ঈদুল আজহার তারিখ ঘোষণা

বাংলাদেশে ঈদুল আজহার তারিখ ঘোষণা

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

দেশের আকাশে ১৪৪৭ হিজরি সনের পবিত্র জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেছে। এর ফলে আগামী ২৮ মে বৃহস্পতিবার সারাদেশে উদযাপিত হবে পবিত্র ঈদুল আজহা

সোমবার (১৮ মে) সন্ধ্যায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা শেষে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়েকোবাদ এ ঘোষণা দেন।

তিনি জানান, কক্সবাজারের আকাশে জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেছে। সেই হিসেবে মঙ্গলবার (১৯ মে) থেকে জিলহজ মাস গণনা শুরু হবে।

এদিকে, সৌদি আরবেও জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেছে। দেশটির ঘোষণা অনুযায়ী, সোমবার থেকে জিলহজ মাস শুরু হয়েছে। আগামী ২৬ মে পালিত হবে পবিত্র আরাফাত দিবস এবং ২৭ মে উদযাপিত হবে পবিত্র ঈদুল আজহা।

এর আগে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়াও ঈদুল আজহার তারিখ ঘোষণা করেছে। মালয়েশিয়ায় ১৮ মে থেকে জিলহজ মাস শুরু হওয়ায় দেশটিতে ২৭ মে বুধবার পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে। একই দিনে ইন্দোনেশিয়াতেও পালিত হবে ঈদুল আজহা।

এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতেও আগামী ২৭ মে বুধবার পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে।

১৬৩ ফ্লাইটে সৌদিতে পৌঁছেছেন ৬৩২৬১ বাংলাদেশি হজযাত্রী

১৬৩ ফ্লাইটে সৌদিতে পৌঁছেছেন ৬৩২৬১ বাংলাদেশি হজযাত্রী

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

বাংলাদেশ থেকে চলতি হজ মৌসুমে এখন পর্যন্ত ১৬৩টি ফ্লাইটে মোট ৬৩ হাজার ২৬১ জন হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন।

বাংলাদেশ হজ অফিসের পরিচালক মো. লোকমান হোসেন জানান, সোমবার সকাল ১০টা পর্যন্ত এসব ফ্লাইট জেদ্দায় অবতরণ করেছে।

হজ বুলেটিনের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল পর্যন্ত স্বাভাবিক কারণে ১৭ জন হজযাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে ১২ জন পুরুষ ও পাঁচজন নারী। এর মধ্যে মক্কায় ১২ জন এবং মদিনায় পাঁচজন মারা গেছেন।

এদিকে, সৌদি মেডিক্যাল টিম এ পর্যন্ত ৩৪ হাজার ৩৭০ জন হজযাত্রীকে চিকিৎসাসেবা দিয়েছে। পাশাপাশি আইটি হেল্পডেস্কের মাধ্যমে সহায়তা পেয়েছেন ১৭ হাজার ৯৮৮ জন হজযাত্রী।

চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজ পালনের অনুমতি পেয়েছেন। এর মধ্যে ৪ হাজার ৫৬৫ জন সরকারি ব্যবস্থাপনায় এবং ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালন করবেন। বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৬৬০টি এজেন্সি হজ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর মধ্যে ৩০টি লিড এজেন্সি এবং ৬৩০টি সমন্বয়কারী এজেন্সি রয়েছে।

এয়ারলাইন্সভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ৮৩টি ফ্লাইটে ৩২ হাজার ৮৪০ জন, সৌদি এয়ারলাইন্সের ৫৮টি ফ্লাইটে ২১ হাজার ৯৬৫ জন এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্সের ২২টি ফ্লাইটে ৮ হাজার ৪৫৬ জন হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন।

হজ অফিস জানিয়েছে, অবশিষ্ট ১৫ হাজার ১২৬ জন হজযাত্রী পর্যায়ক্রমে নির্ধারিত ফ্লাইটে সৌদি আরবে যাবেন।

উল্লেখ্য, ৪১৮ জন হজযাত্রী নিয়ে প্রথম হজ ফ্লাইট বিজি-৩০০১ গত ১৭ এপ্রিল রাত ১১টা ৫৭ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে জেদ্দার কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। ফ্লাইটটির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

অন্যদিকে, ঢাকায় অবস্থিত সৌদি দূতাবাস এ পর্যন্ত ৭৮ হাজার ৩৮৭টি হজ ভিসা ইস্যু করেছে। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৪৬৫টি এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৩ হাজার ৯২২টি ভিসা দেওয়া হয়েছে।

সৌদি আরবে গত রোববার পবিত্র জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ায় আগামী ২৭ মে দেশটিতে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে। এর আগের দিন ২৬ মে অনুষ্ঠিত হবে পবিত্র হজ।

এদিকে, ফিরতি হজ ফ্লাইট আগামী ৩০ মে থেকে জেদ্দা থেকে শুরু হবে। সর্বশেষ ফিরতি ফ্লাইট নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ৩০ জুন।

মুরাদনগরে গাঁজাসহ ২ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

ডেস্ক রিপোর্ট:

মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানায় মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে গাঁজাসহ ২ মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

রবিবার (১৭ মে) বিকালে উপজেলার শ্রীকাইল ইউনিয়নের রোয়াচালা গ্রাম থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার সাতমোড়া গ্রামের মৃত আব্দুর রহিম মিয়ার ছেলে মো. রুবেল মিয়া (৩২) ও শাহজাহান মিয়ার ছেলে রহিম (১৯)।

পুলিশ জানিয়েছে, ওসির নির্দেশনায় বাঙ্গরা বাজার থানার এসআই সাজ্জাদ উল করিম সংগীয় ফোর্স নিয়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোয়াচালা গ্রামে অভিযান চালিয়ে মাদক কারবারি মো. রুবেল মিয়া ও রহিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ২৫০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

বাঙ্গরা বাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিউল আলম জানায়, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে আজ সোমবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কুমিল্লা জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ চলছে। বাঙ্গরা বাজার থানা এলাকাকে অপরাধমুক্ত করতে আমাদের অভিযান আরও জোরদার করা হবে। পাশাপাশি অপরাধ দমনে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

বুড়িচংয়ে তৃতীয় লিঙ্গের একজনকে পুড়িয়ে হত্যা

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার বুড়িচংয়ে মাদক ব্যবসার দ্বন্দ্বের জেরে তৃতীয় লিঙ্গের (হিজড়া) এক ব্যক্তিকে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পুলিশ একজনকে গ্রেফতার করলেও প্রধান অভিযুক্ত জহিরুল ইসলাম এখনো পালাতক।

রোববার (১৭ মে) বিকেল ৪টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

রাত ৯টায় বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নিহত এনামুল হক শিশির ওরফে মাহি (৩৫) বুড়িচং পৌরসভার পূর্ণমতি গ্রামের কামরুল হক ফরহাদের সন্তান। গ্রেফতার তৃতীয় লিঙ্গের দোলা (২৭) কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার ঘোষগাঁও এলাকার বাসিন্দা। প্রধান অভিযুক্ত তৃতীয় লিঙ্গের জহিরুল ইসলাম এখনো পালাতক রয়েছেন। তিনি বুড়িচং উপজেলার ময়নামতি জাফর আলীর সন্তান।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানা গেছে, গত ১৩ মে সকাল ৯টার দিকে বুড়িচং পৌরসভার মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে সিএনজি স্ট্যান্ড এলাকায় মাহির শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন একই সম্প্রদায়ের জহিরুল ইসলাম আপন ওরফে জহির। এতে তিনি গুরুতর দগ্ধ হন। এসময় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়।

স্থানীয়দের দাবি, মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স এলাকার সরকারি জায়গায় কয়েকজন তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তি ঘর নির্মাণ করে বসবাস করতেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। নিহত মাহিও এর আগে মাদকসহ গ্রেফতার হয়ে কারাভোগ করেছেন। সম্প্রতি মাদকের টাকার ভাগাভাগি নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এর জের ধরেই এ হামলার ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান জানান, এ ঘটনায় নিহতের বাবা কামরুল হক বাদী হয়ে বিকেল ৫টায় তিনজনকে আসামি করে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় দোলাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রধান আসামি জহিরকে গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে অভিযানে রয়েছে।

সার ডিলার নিয়োগ ও নীতিমালা বহাল না বাতিল : কোন পথে হাটছে সরকার

শেখ ফরিদ উদ্দিন:

সদ্য সমাপ্ত সংসদের প্রথম অধিবেশনে এক প্রশ্নের জবাবে কৃষি মন্ত্রী আমিনুর রশিদ জানান, কৃষকদের মাঝে সার ও বীজ সরবরাহ যথা সময়ে সহজ ও নিশ্চিত করতে সরকার নানাবিদ পদক্ষেপ গ্রহন করেছে। মৌসুমের শুরতে কৃষকদের হয়রানী দূরীকরণের ব্যবস্থা গ্রহন বিষয়ে মন্ত্রী এ কথা বলেন।

তিনি গত ( ১৫ এপ্রিল) সংসদে নীলফামারী-১ আসনের বিরোধী দলের (জামায়াতে ইসলামী) সদস্য আব্দুস সাত্তারের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান।

কৃষি মন্ত্রী বলেন, সার বিতরণ ব্যবস্থা আরও সময়োপযোগী ও কার্যকর করার লক্ষ্যে ইতোমধ্যেই ‘সার ডিলার ও সার বিতরণ সংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা-২০২৫’ প্রবর্তন করা হয়েছে, যা গত বছরের ১৩ নভেম্বর থেকে কার্যকর রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী প্রতিটি ইউনিয়নে, পৌরসভায় ও সিটি কর্পোরেশনে নিয়োজিত ডিলারের মাধ্যমে কৃষকদের হয়রানি দূরীকরণে ওয়ার্ড ভিত্তিক নিয়োজিত খুচরা বিক্রয় কেন্দ্রের দ্বারা প্রত্যন্ত অঞ্চলে সহজেই সার পৌঁছানো সম্ভব হবে।
মন্ত্রী বলেন, বরাদ্দকৃত রাসায়নিক সার ডিলারগণের উত্তোলন থেকে বিতরণ পর্যন্ত সর্বস্তরে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এবং জেলা ও উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক নিবিড় মনিটরিং করা হয়।

মানিকগঞ্জ-১ আসনের সরকারি দলের সদস্য এস এ জিন্নাহ কবীরের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে কৃষি মন্ত্রী বলেন, ‘সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ সংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা ২০২৫’ এর আলোকে বিএডিসি ও বিসিআইসি ডিলারদের সমন্বিতভাবে নতুন সার ডিলারশীপ নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। যে সকল ডিলার অনিয়ম করবে বা উপকরণ সরবরাহ প্রক্রিয়ায় বাধা প্রদান করবে, তারা যে দলেরই হোক না কেন, সার ও কীটনাশক ডিলারশীপ বাতিলসহ তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

২০২৫ এর নীতিমালা বাতিলের দাবীতে সার ব্যবসায়ীদের অবস্থান ধর্মঘট : ৪৬ হাজার পরিবারকে বাঁচানোর আকুতি ।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রণীত সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণসংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা ২০২৫ বাতিলের দাবিতে গত ১১ মে সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে ৪র্থ বারের মত খুচরা সার বিক্রেতাদের মানববন্ধন ও অবস্থান ধর্মঘট পালিত হয়েছে।

মানববন্ধনে সারা দেশ থেকে আগত কয়েক হাজার খুচরা সার বিক্রেতা অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে বক্তাগণ বলেন, ২০২৫ সালের নীতিমালা অন্তর্বর্তী সরকারের কিছু আমলা একটি গোষ্ঠীকে সুবিধা প্রদানের লক্ষ্যে অংশীজনদের মতামত না নিয়ে তাড়াহুড়ো করে এই নীতিমালা প্রণয়ন করেছেন। এটি বাস্তবায়ন হলে বিদ্যমান ৪৬ হাজার খুচরা সার বিক্রেতা বেকার হয়ে যাবে এবং মাঠপর্যায়ে তাদের বিনিয়োগকৃত লক্ষ লক্ষ টাকা অনাদায়ী থেকে যাবে বলে অভিযোগ রয়েছে। এর ফলে তারা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হবেন।

তাদের মতে জনস্বার্থবিরোধী নীতিমালা ২০২৫ বাতিল করে সকল অংশীজনদের মতামত নিয়ে নতুন করে যুগোপযোগী নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানিয়ে আসছে সার ডিলার ও খুচরা সার বিক্রেতা গন। অনতিবিলম্বে তাদের দাবী মেনে না নিলে সারাদেশব্যাপী সকল সার ডিলার ও খুচরা সার বিক্রেতাগণ কঠিন আন্দোলনে যাওয়ার ঘোষণা দেন। সমাবেশে সারা দেশ ব্যাপী কৃষকদের কাছে সার বিক্রয় ও সরবরাহ বন্ধ করে দেয়ার হুমকি প্রদান করা হয়। পাশাপাশি তাদের দাবী আদায়ের লক্ষ্যে সারাদেশে রাজপথ অবরোধ কর্মসূচি পালন করে রাস্তাঘাট অচল করে দেওয়া হবে বলেও কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

এর ফলে সামনে আমন মৌসুমে কৃত্রিম সার সংকট তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং কৃষি খাতে বিরাট বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে। এর দায়দায়িত্ব সরকারকেই বহন করতে হবে বলে তারা বক্তব্য রাখেন।

ইতিপূর্বে সার ডিলারদের দাবিতে জনস্বার্থবিরোধী নীতিমালা ২০২৫ বাতিলের দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে আরও তিনবার বিএফএ ও খুচরা সার বিক্রেতাগণ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। তারা বলেন, এরপরও সরকার এমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি নিয়ে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে কোনো সুষ্ঠু সমাধানের ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।

সম্প্রতি কৃষিমন্ত্রী আমিনুর রশিদের নির্দেশে সার নীতিমালা নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সরকারের করণীয় বিষয়ে অধিকতর পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সেলিম খানকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়।

কমিটির প্রধান সেলিম খানের কাছে তার কমিটির সিদ্ধান্ত সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, খুচরা সার বিক্রেতাদের বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিতে দেখা হচ্ছে। সরকার সকল অংশীজনের স্বার্থ রক্ষার বিষয়টি বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। আমরা এ বিষয়ে খুব সতর্কতার সঙ্গে কাজ করছি।সকল অংশীজনের সাথে আমরা কথা বলছি। এ বিষয়ে খুব শীগ্রই আমরা সরকারের নীতিনির্ধারকদের বরাবরে একটা প্রতিবেদন দাখিল করবো। এমন একটি নীতিমালা প্রনয়নের দাবী জানাবো যেখানে সকল অংশীশনের স্বার্থই রক্ষা হবে।

তিনি আর-ও বলেন, কৃষক পর্যায়ে সার সরবরাহ ও বিতরণ অব্যাহত রাখার জন্য সরকার ইতোমধ্যে ২০২৫ এর নীতিমালার ২ (ঙ) অনুচ্ছেদে উল্লেখিত আদেশ প্রয়োগ না করে ৩১ মার্চের পরিবর্তে ৩০ এপ্রিল এবং পরবর্তীতে ৩০ মে পর্যন্ত খুচরা সার বিক্রেতা গন আগের মতই সার বিক্রয় ও বিতরন করতে পারবে বলে কৃষি মন্ত্রনালয় দুটি পরিপত্র জারী করে। এতে ৩০ মে পযর্ন্ত সার সরবরাহ সিস্টেম চলমান থাকবে।

অন্য দিকে পত্র প্রত্রিকায় প্রকাশিত কৃষি মন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী ২৩১১ জন অভিযুক্ত সার ব্যবসায়ীদের বিরুদ্বে কি ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে জানতে চাইলে সেলিম খান বলেন, অভিযুক্ত সার ব্যবসায়ীদের কোন সঠিক তালিকা এখনো প্রস্তুত করা হয় নি। আর কেহ যদি কোনরুপ অন্যায় অনিয়মের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়,তা হলে সেটা নির্দিষ্ট আইনের গতিতেই আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। দূর্নীতির বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর জিরো টলারেন্সে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

জাতীয় সংসদে চীফ হুইপের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর সংসদে আলোচনায় ফ্যাসিবাদের সময়ে নিয়োগ পাওয়া সার ডিলারদের লাইসেন্স বাতিল করে দেয়া হবে এমন পরিস্থিতিতে বর্তমানে সরকারের অবস্থান জানতে চাইলে অতিরিক্ত সচিব সেলিম খান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে বিকৃত করে প্রচারের কোন সুযোগ নাই। প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন,সংসদের সকল সদস্যগন যদি এ বিষয়ে একমত পোষণ করেন তা হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। সেই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে সরকারের বর্তমান অবস্থান জানতে চাইলে তিনি বলেন,সার ডিলারদের লাইসেন্স বাতিল ও নতুন করে নিয়োগের বিষয়ে আমাদের কাছে সরকারের কোন সিদ্ধান্ত আসেনি। .

. উল্লেখ্য যে, গত ২৬ এপ্রিল কৃষি মন্ত্রনালয়ের এক পরিপত্রে ৩০ মে পর্যন্ত খুচরা সার বিক্রেতাগন তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারবেন বলে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এরপর থেকে তাদের আর কোন কার্যক্রম চলবেনা। ৩০ মে’র পর কিভাবে চলবে সার সরবরাহ ব্যবস্থাপনা এটাই এখন কৃষক,সার ডিলার ও খুচরা সার বিক্রেতাদের এক অজানা উৎকন্ঠা।

সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনের উৎকন্ঠা নিরোসনে ৩০মের পর কিভাবে চলবে কৃষক পর্যায়ে সার সরবরাহ ব্যবস্থাপনা এবং এ বিষয়ে সরকার কোন পথে হাটছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে গতকাল ১৭ মে সরকারের কৃষি সচিব রফিকুল ই মোহামেদ জানান, সার সরবরাহ ব্যবস্থাপনা ঠিক রাখার জন্য বিদ্যমান ব্যবস্থাপনায় আরো বহুবার সময় বর্ধিত করা হবে। ডিলার নিয়োগ ও সার সরবরাহ নীতিমালা নিয়ে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নেয়া পর্যন্ত বর্তমান ব্যবস্থাপনায়ই চলবে সার সরবরাহ।

২০২৫ এ প্রণীত নীতি মালা বাতিল নাকি বহাল রাখা হবে? এমন প্রশ্নের জবাবে কৃষি সচিব জানান, বিসিআইসি সার ডিলার ও বিএডিসি ডিলারদের সমন্বয় করে সকলের স্বার্থ রক্ষা করে একটা যুগোপযোগী নীতিমালা প্রনয়ন ও সার সরবরাহ ব্যবস্থাপনা দাঁড় করাতে চাই। তিনি আর-ও বলেন, তবে এর আগে বিদ্যমান নীতিমালা সমূহ অধিকতর পর্যালোচনা করে সকল অংশীজনের স্বার্থ রক্ষা হয় এমন একটি সুপারিশসহ প্রতিবেদন তৈরী করছে মন্ত্রনালয়ের গঠিত কমিটি। অচিরেই এই প্রতিবেদন উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে দাখিল করা হবে। দেখি এ প্রতিবেদনে কি ফুটে ওঠে।

এই প্রতিবেদনের ওপরই নির্ভর করছে সারডিলার নিয়োগ ও সার সরবরাহ ও বিতরণ নীতিমালা প্রনয়নে সরকার কোন পথে হাটছে।

ট্রাম্পের চীন সফরের অন্তরালের গল্প

কর্নেল নাজমুল হুদা খান (অব.):

মার্কিন প্রেসিডেন্ট  ট্রাম্পের এর সাম্প্রতিক চীন সফর আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশ্ব রাজনীতির দুই প্রধান শক্তি—যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার সম্পর্ক গত এক দশকে যেমন প্রতিযোগিতা, অবিশ্বাস ও বাণিজ্যযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করেছে, তেমনি আবার বৈশ্বিক অর্থনীতি ও নিরাপত্তার প্রশ্নে একে অপরের ওপর নির্ভরশীলতাও বেড়েছে। এই বাস্তবতায় চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এর সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠক শুধু দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয় ছিল না; বরং এর সঙ্গে জড়িয়ে ছিল মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ, বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রযুক্তি প্রতিযোগিতা, তাইওয়ান সংকট এবং ভবিষ্যৎ বিশ্বব্যবস্থার প্রশ্নও।

ট্রাম্পের এই সফরকে অনেক বিশ্লেষক “প্রয়োজনের কূটনীতি” বলছেন। কারণ, বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় যুক্তরাষ্ট্র বুঝতে পারছে যে, চীনকে সম্পূর্ণ পাশ কাটিয়ে আন্তর্জাতিক সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। বিশেষ করে ইরান–ইসরায়েল যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বেইজিংয়ের ভূমিকা এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চীন ইরানের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অংশীদার। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে ওয়াশিংটনের জন্য বেইজিংয়ের সহযোগিতা অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।

এই সফরের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য ছিল ইরান ইস্যুতে চীনের সহযোগিতা আদায় করা। হরমুজ প্রণালি ঘিরে সৃষ্ট উত্তেজনা বিশ্ব তেলবাজারকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে। চীন বিশ্বের বৃহত্তম জ্বালানি আমদানিকারক দেশগুলোর একটি হওয়ায় তারাও এই সংকট দ্রুত সমাধান চায়। ট্রাম্প আশা করেছিলেন, শি জিনপিং ইরানের ওপর চাপ প্রয়োগ করবেন যাতে তেহরান যুদ্ধবিরতি ও আলোচনায় রাজি হয়। তবে বৈঠকের পর বোঝা গেছে, চীন সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে অবস্থান নেয়নি; বরং কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখার নীতিই অনুসরণ করেছে।

সফরের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল বাণিজ্য ও প্রযুক্তি ইস্যু। ২০১৮ সালে ট্রাম্প প্রশাসনের সময় থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু হয়। মার্কিন প্রশাসন চীনা পণ্যের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপ করলে পাল্টা পদক্ষেপ নেয় বেইজিংও। এর ফলে দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্কের অবনতি ঘটে। যদিও পরে কয়েক দফা আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়, তবুও বিরোধের মূল কারণগুলো এখনও রয়ে গেছে।

বর্তমান সফরে ট্রাম্প চেয়েছিলেন চীনা বাজারে মার্কিন কৃষিপণ্য ও শিল্পপণ্যের প্রবেশ বাড়াতে। আলোচনার পর চীন যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় ২০০টি বোয়িং বিমান কেনার আগ্রহ প্রকাশ করে এবং বিপুল পরিমাণ মার্কিন সয়াবিন ও কৃষিপণ্য আমদানির প্রতিশ্রুতি দেয়। এটি ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একটি ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—চীনা পণ্যের ওপর মার্কিন শুল্ক কমানো কিংবা উন্নত প্রযুক্তির চিপ রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার ক্ষেত্রে কোনো বড় অগ্রগতি হয়নি। ফলে অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, সফরটি প্রতীকী গুরুত্ব পেলেও বাস্তব সাফল্য সীমিত।

এই সফরের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক ছিল ট্রাম্পের সফরসঙ্গী প্রতিনিধি দল। তার সঙ্গে ছিলেন মার্কিন ব্যবসা ও প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ ব্যক্তিত্বরা। তাদের মধ্যে ছিলেন ইলন মাস্ক, টিম কুক, জেনসেন হুয়াং, লেরি ফিংক-সহ প্রযুক্তি ও আর্থিক খাতের শীর্ষ নির্বাহীরা। এটি স্পষ্টভাবে দেখিয়েছে যে, বর্তমান বিশ্বে কূটনীতি শুধু রাষ্ট্রনেতাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; বরং প্রযুক্তি কোম্পানি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শিল্প এবং বৈশ্বিক করপোরেট শক্তিও এখন আন্তর্জাতিক রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি নিয়ে দুই দেশের প্রতিযোগিতা বর্তমানে সবচেয়ে বড় ভূরাজনৈতিক ইস্যুগুলোর একটি। বৈঠকে এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার ঠেকাতে যৌথ নিরাপত্তা কাঠামো তৈরির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে বাস্তবে প্রযুক্তিগত প্রতিদ্বন্দ্বিতা কমার কোনো লক্ষণ এখনও দেখা যায়নি। বরং এনভিডিয়া ও উন্নত সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তি ঘিরে বিরোধ আরও স্পষ্ট হয়েছে।

তাইওয়ান ইস্যু ছিল বৈঠকের সবচেয়ে স্পর্শকাতর অংশ। চীন তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে দেখে এবং এটিকে “রেড লাইন” বলে ঘোষণা করেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে তাইওয়ানকে সামরিক ও রাজনৈতিক সহায়তা দিয়ে আসছে। বৈঠকে শি জিনপিং ট্রাম্পকে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, তাইওয়ান প্রশ্নে কোনো আপসের সুযোগ নেই। এই অবস্থান ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে আরও বড় উত্তেজনার কারণ হতে পারে।

সফরের সবচেয়ে আলোচিত ও রসাত্মক ঘটনা ছিল ট্রাম্পের প্রতিনিধি দলের আচরণ। সফর শেষে তারা চীনে ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, উপহারসামগ্রী এবং স্মারকসামগ্রী বেইজিংয়েই ফেলে রেখে যান। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর আশঙ্কা ছিল, এসব ডিভাইসে আড়িপাতার প্রযুক্তি বা স্পাইওয়্যার থাকতে পারে। ঘটনাটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয় এবং দুই দেশের পারস্পরিক অবিশ্বাস কতটা গভীর, তা আবারও সামনে নিয়ে আসে।

এই সফরের লাভ–ক্ষতির হিসাব করলে দেখা যায়, উভয় পক্ষই কিছু কূটনৈতিক সুবিধা পেয়েছে, আবার সীমাবদ্ধতাও রয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র চীনের সঙ্গে সংলাপ পুনরুজ্জীবিত করতে পেরেছে এবং কিছু অর্থনৈতিক আশ্বাস আদায় করেছে। অন্যদিকে চীন দেখাতে সক্ষম হয়েছে যে, বিশ্ব রাজনীতিতে এখনো তাদের সহযোগিতা ছাড়া বড় আন্তর্জাতিক সংকট সমাধান সম্ভব নয়। তবে কোনো বড় কৌশলগত চুক্তি না হওয়ায় সফরটিকে পুরোপুরি সফলও বলা যাচ্ছে না।

তবে ট্রাম্পের চীন সফর ছিল বিশ্ব রাজনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এ সফর তাৎক্ষণিকভাবে বড় কোনো পরিবর্তন আনতে পারেনি সত্য, কিন্তু ভবিষ্যৎ আন্তর্জাতিক সম্পর্কের দিকনির্দেশনা বোঝার ক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই সফর প্রমাণ করেছে যে, প্রতিদ্বন্দ্বিতা যতই তীব্র হোক না কেন, বিশ্বের দুই পরাশক্তিকে শেষ পর্যন্ত আলোচনার টেবিলে বসতেই হয়। কারণ বর্তমান বিশ্বে যুদ্ধ, অর্থনীতি, প্রযুক্তি ও নিরাপত্তা—সবকিছুই এখন পরস্পরের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত।

লেখক-

কর্নেল নাজমুল হুদা খান (অব.)

পরিচালক, মেডিক্যাল সার্ভিসেস, বিআরবি হাসপাতাল

ধর্মের নামে কোন মাজার, মন্দির ভাঙ্গচূর করা যাবে না: হাসনাত আবদুল্লাহ এমপি

ধর্মের নামে কোন মাজার, মন্দির ভাঙ্গচূর করা যাবে না: হাসনাত আবদুল্লাহ এমপি

 

হোমনা প্রতিনিধি:

আমরা ভিন্ন ভিন্ন ধর্মে বিশ্বাসী হতে পারি। কিন্তু ধর্মের নামে কোন মাজার ও মন্দির ভাঙ্গচুর করা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন এনসিপির দখিনাঞ্চলের মূখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ।

এসময় তিনি আরো বলেন, কারো ধর্ম কে কটাক্ষের রাজনীতি এনসিপি করে না। ইসলাম ধর্ম ছাড়া ও অন্য ধর্মের যারা আছেন তাদের কে আমরা সংলঘু মনে করি না। ভিন্ন ধর্মের লোকদের উদ্দেশ্যে বলেন আপনারা সংলঘু না, আপনারা আমাদের ভাই, আপনারা বাংলাদেশের নাগরিক।

রবিবার বিকেলে কুমিল্লার হোমনা পৌর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হাসনাত আবদুল্লাহ আরো বলেন, আমরা আজকের রাজনীতি করি, আগামী দিনের বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ বিনির্মানের জন্য। আমরা এনসিপি কোন টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, দালালি ও ঘুষের রাজনীতি করি না।

আমরা প্রত্যেক টা নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে চাই। আমরা চাই প্রত্যেক নাগরিক তার মর্যাদা নিয়ে চলুক। এসময় নারীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, নারীদের সম্মান ও সমান অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। তাদের সুশিক্ষা ও নিরাপদ কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। নারী নেতৃত্বকে গুরুত্ব দিতে হবে। নারীদের কে পিছিয়ে আমরা কখনো সমাজ কে অগ্রসর করতে পারবো না।

জনসভায় তিনি তরুণ প্রজন্ম কে প্রাধান্য দিতে হবে, তরুণ প্রজন্মের মতামত কে গুরুত্ব দিতে হবে। তরুণ প্রজন্ম কে হতাশায় নিমজ্জিত হতে দেওয়া যাবে না মন্তব্য করেন এই নেতা।

এসময় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ, জেলা ও উপজেলার নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এসময় আগামী হোমনা পৌরসভার মেয়র নির্বাচনে এনসিপির মেয়র প্রার্থী হিসেবে মোঃ রাজু আহমেদ কে মনোনীত করা হয়।

চৌদ্দগ্রামে হামে আক্রান্ত হয়ে এক শিশুর মৃত্যু

ডেস্ক রিপোর্ট:

বিয়ের ১৬ বছরে পারভেজ আহমেদ সুমন ও সুলতানা আক্তার দম্পতির ঘরে ৩ কন্যা সন্তানের পর পুত্র সন্তানের জন্ম নেওয়ায় আনন্দের সীমা ছিলো না। নাম রাখা হয় সাজিদ আল নাহিয়ান। কিন্তু কে জানতো মাত্র ৭ মাস বয়সে মহামারি হামে আক্রান্ত হয়ে তাকে দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করতে হবে।

হামে আক্রান্ত হওয়ার পর ছোট্ট সাজিদকে বাঁচানোর জন্য এই দম্পতি চৌদ্দগ্রাম, ফেনীসহ রাজধানী ঢাকার ৭ হাসপাতাল ঘুরেও একমাত্র আদরের ছেলেকে বাঁচাতে পারলো না।

আজ রবিবার সকালে ঢাকার একটি বেসরকারী হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা (আইসিইউ) তে সাজিদের মৃত্যু হয়। মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের মুন্সিরহাটের সিংরাইশ গ্রামে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এপ্রিল মাসের ১৪ তারিখ সাজিদ জ্বর, সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত হলে চৌদ্দগ্রাম বাজারস্থ একটি প্রাইভেট হাসপাতালে ডাক্তারের পরামর্শ নেয় এই দম্পতি। ডাক্তারের পরামর্শে এন্টিবায়েটিক ওষুধ খাওয়ানোর পর সাজিদ কিছুটা সুস্থ্য হয়।

এরপর আবারও ১২ মে অসুস্থ্য হলে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে দুইদিন চিকিৎসার পর অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তাকে প্রথমে ফেনীর একটি বেসরকারী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে কোন পরিবর্তন না হওয়ায় ঢাকা শিশু হাসপাতাল, ঢাকা ন্যাশনাল হেলথ কেয়ার হসপিটাল ও সর্বশেষ তেজগাঁও ইনপালস্ হসপিটালে ভর্তি করানো হয়। সেখানে পরীক্ষা-নীরিক্ষা শেষে সাজিদ হামে আক্রান্ত হয়েছে জানায় চিকিৎসক।

সেখানে সাজিদের অবস্থা অবনতি হলে জরুরী ভিত্তিতে তাকে নিবিড় পরিচর্যা ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়। রবিবার সকালে সাজিদ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।

সাজিদের বাবা পারভেজ আহমেদ সুমন জানায়, ৩ কন্যা সন্তানের পর আমাদের কোলজুড়ে এসেছিলো সাজিদ। ১৬ বছর পর ছেলে সন্তান জন্ম নেওয়ায় পরিবারে আনন্দের বন্যা বয়েছিলো। হঠাৎ করে সাজিদের জ্বর, সর্দি-কাশি দেখা দিলে আমরা চৌদ্দগ্রামের একটি প্রাইভেট হাসপাতালে ডাক্তার দেখাই। সেখান থেকে চৌদ্দগ্রাম, ফেনী ও ঢাকাসহ ৭টি হাসপাতালে নিয়েও আমি আমার আদরের মানিককে হামের হাত থেকে বাঁচাতে পারলাম না।

চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. রশিদ আহমেদ তোফায়েল জানায়, সাজিদ হামের উপসর্গ নিয়ে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে আমরা তার পরিবারকে ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেই। শুনেছি আজ সকালে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গিয়েছে।