,

কিশোরীর আপত্তিকর ভিডিও: দেবীদ্বারে মাদ্রাসা সুপারকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে দিল জনতা

আজকের কুমিল্লা ডট কম :
August 15, 2026
news-image

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার দেবীদ্বারে এক মাদরাসা সুপারের বিরুদ্ধে এক কিশোরীর সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও ভিডিও ধারণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় লোকজন ওই সুপারকে মারধর করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন।

আজ শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার জাফরগঞ্জ ইউনিয়নের হোসেনপুর ভূঁইয়াবাড়ি এলাকার হোসেনপুর পশ্চিম ও উত্তরপাড়া নূরে মদিনা মাদরাসা ও এতিমখানা কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত ব্যক্তি ওই মাদরাসার সুপার ও স্থানীয় মসজিদের ইমাম।

আটককৃত ব্যক্তি হাফেজ মাওলানা মো. মিজানুর রহমান (৫০)। তিনি বরুড়া উপজেলার দক্ষিণ ভবানীপুর ইউনিয়নের পোমতলা গ্রামের মৃত আব্দুল মান্নানের ছেলে।

স্থানীয়রা জানায়, এক কিশোরীর সঙ্গে মিজানুর রহমানের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজন তাকে মারধর করে মাদরাসা কমপ্লেক্সে আটকে রাখেন। পরে কয়েকজন তাকে সেখান থেকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেন বলে স্থানীয়দের দাবি। বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয় লোকজন ধাওয়া করে চরবাকর-হোসেনপুর সীমান্ত এলাকা থেকে তাকে আটক করেন এবং মারধরের পর পুলিশে সোপর্দ করেন।

কমপ্লেক্সের বাবুর্চি মো. ইব্রাহিম বলেন, মাদরাসা সুপারের ছেলে সিয়াম (১২) তার বাবার মোবাইলে কিছু ভিডিও দেখে বিষয়টি মাকে জানায়। পরে সে বন্ধুদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে। সেখান থেকে ভিডিওগুলো স্থানীয় কয়েকজনের হাতে যায় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে বলে তার দাবি।

অভিযোগকারী কিশোরী জানায়, প্রায় দেড় বছর ধরে মিজানুর রহমান তাকে বিরক্ত করতেন। এ কারণে তিনি তার কাছে প্রাইভেট পড়া বন্ধ করে দেন। কিশোরী অভিযোগ করে বলেন, পরে তাকে অচেতন করে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণ করা হয়েছে।

দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, এক ছাত্রীর সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে স্থানীয় লোকজন মাদরাসা সুপারকে মারধর করে আটকে রেখেছেন—এমন খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। এ সময় বিক্ষুব্ধ লোকজন তাকে ঘেরাও করার চেষ্টা করেন। ভুক্তভোগীর বাবা মামলা করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।