মোজাফফর আহমদ: নির্মোহ মানুষের প্রতিকৃতি
জায়েদুল আহসান পিণ্টুঃ
অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ। ৮২ বছর আগে ব্রিটিশ আমলে রাজনীতিতে আপনার হাতেখড়ি হয়। সেই ১৯৩৭ সাল থেকে আজ পর্যন্ত এক মুহূর্তের জন্যও নীতি থেকে সরে আসনেনি; তাই আপনাকে স্যালুট অধ্যাপক মোজাফফর।
রাজনীতিকে আপনি সংজ্ঞায়িত করেছেন কোনো পেশা বা ব্যবসা হিসেবে নয়, রাজনীতি একটা ব্রত আপনার কাছে। রাজনীতির মূল লক্ষ দেশপ্রেম, জনসেবা। এই ব্রত নিয়ে এখনও আপনি আছেন। ব্যাপকভাবে জনগণকে সংগঠিত করতে পারেননি বলে রাজনীতিতে ‘সফল’ হতে পারেননি, যদি সেই সফলতার সংজ্ঞা হয় রাষ্ট্রক্ষতায় গিয়ে জনগণের সেবা। কিন্তু যে সততার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তার বিন্দুপাঠও যদি আজকের রাজনীতিবিদরা করতেন তাহলে জনগণের ভাগ্যের কিছুটা পরিবর্তন হত।
অধ্যাপক মোজাফফর, আপনাকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ আমার হয়নি। সেই স্কুলজীবনে একবার দেখেছি নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে। সম্ভবত ১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচন করেছিলেন আপনি। ‘আমার নাম মোজাফফর, মার্কা আমার কুঁড়েঘর’, এই শ্লোগান আমার শৈশবের অন্যতম স্মৃতি। সাধারণ মানুষের মতো রাস্তায় রাস্তায় ভোট চেয়েছিলেন। আমার মতো কিশোর তখন রাষ্ট্রপতি শব্দটির মানে বুঝে গেছে। কিন্তু রাষ্ট্রপতি হতে চান এমন একজন মানুষ কীভাবে এত সহজে ভোট চান সেটা আমার কচি মনে দাগ কেটেছিল।
সাংবাদিকতা করছি ছাব্বিশ বছর ধরে। কত নেতার বক্তৃতা কাভার করার সুযোগ হয়েছে, কিন্তু আপনার বক্তৃতা কাভার করার সুযোগ খুব বেশি হয়নি। যতদূর মনে পড়ে, আপনি বক্তৃতা দিতেন খোলামেলা ও সহজ সরল ভাষায়। ঢাকার মানুষের কথ্যভাষায় বলতেন সব সময়। আপনার জীবনযাপন নিয়ে আগ্রহ ছিল অনেক। তবু খোঁজখবর নেওয়া হয়নি। যেমন এই রাষ্ট্রও নেয়নি। মহান মুক্তিযুদ্ধে আপনার ভূমিকা জেনে ইচ্ছে ছিল দীর্ঘ সাক্ষাৎকার নেওয়ার। সেটিও পারিনি। রাষ্ট্রের মতো আমিও ব্যর্থ।
আপনার কিছু লেখা ও বই পড়ে যৎকিঞ্চিত জেনেছি আপনার সম্পর্কে। আজ এই হানাহানি, রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার আর ধর্মের নামে মুক্তচিন্তার মানুষ হত