ছয় বছরেও সন্ধান মেলেনি দাউদকান্দির ছাত্রদল নেতার
জাকির হোসেন হাজারী, দাউদকান্দি:
ছয় বছরেও সন্ধান মেলেনি কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর ইউনিয়ন ছাত্রদল নেতার। তাঁকে ফিরে পাওয়ার দাবীতে আজ বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৪টায় গৌরীপুর বাসস্ট্যান্ডে নাহার কমপ্লেক্সের সামনে এ নাগরিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে নিখোঁজ সাইফুলের স্ত্রী মোসা. ফাতেমা ইসলাম শিমলা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, চব্বিশের ৫আগষ্টের পর বাংলাদেশের যত আয়না ঘর আছে সব খানেই খুজেছি আমার স্বামীকে। ছয় বছর ধরে আমার স্বামীর অপেক্ষায় আছি। দেশের বিভিন্ন জায়গায় তাঁকে খুঁজেছি। আমি আমার স্বামীকে জীবিত বা মৃত ফিরে পেতে চাই। আর যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের বিচার চাই ।
সাইফুলের আট বছর বয়সী মেয়ে মাঈমুনা বাবার ছবি হাতে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বাবাকে ফিরে পেতে আকুতি জানান।
সাইফুলের বড় ভাই জহিরুল ইসলাম ও মো. জাকির বলেন, ছয় বছর ধরে আমরা বিভিন্ন জায়গায় খুঁজেছি। কিন্তু আজও আমার ভাইয়ের সন্ধান পাইনি। আমরা তাঁকে ফিরে পেতে চাই।
দাউদকান্দি উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক আব্দুল বাসেদ এর সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মারুফ হোসেন।
তিনি বলেন, গুম হওয়া সাইফুলের পরিবারের কাছ থেকে জানতে পেরেছি, তাদের কাছে একটি ভিডিও ফুটেজ রয়েছে, যেখানে দুজনকে দেখা যাচ্ছে। আমরা বিশ্বাস করি, তাদের গ্রেপ্তার করতে পারলেই গুম হওয়া সাইফুলের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে। সাইফুলের পরিবারকে আমি কীভাবে সান্ত্বনা দেব, সেটাই বুঝতে পারছি না। এঘটনার সঙ্গে ঘটনার নেপথ্যেসহ জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবী জানান।
সমাবেশে কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. আবুল হাশেম বলেন, প্রকাশ্য দিবালোকে গৌরীপুর মোড় থেকে সাইফুলকে গাড়িতে তুলে নেওয়া হয়েছিল। আমরা চাই, দ্রুত তদন্ত করে সাইফুলের সন্ধান বের করা হোক এবং ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হোক।
সমাবেশে এছাড়া বক্তব্য রাখেন জাসাস এর কেন্দ্রীয় নেতা মোঃ লিয়াকত আলী ও জাতীয় মানবাধিকার সমিতি “মায়ের ডাক” এর সমন্বয়ক মঞ্জুর হোসেন ঈসা প্রমূখ।
সমাবেশে সাইফুল ইসলামের পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর দুপুরে দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে গৌরীপুর ইউনিয়ন ছাত্র দলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলামকে সাদা পোশাকে কালো মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়। পরে থানা, কুমিল্লা ডিবি পুলিশ অফিস ও র্যাব অফিসসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজ নিয়েও তার কোনো সন্ধান পায়নি পরিবার।