All posts by jitu

জেনে নিন ঘাড়-কোমরের ব্যথা থেকে মুক্তির উপায়

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

ঘাড় ও কোমরের ব্যথায় ভোগেন অনেকেই। কম বয়সে এই ব্যথার উৎস মাসকিউলার স্ট্রেন হলেও বয়স বাড়লে ডিজেনারেটিভ ডিজিজ বা ক্ষয়ের কারণে বিভিন্ন রকমের আর্থ্রাইটিক পরিবর্তন হয়ে থাকে। ফলে শিরদাঁড়ার অস্থিসন্ধি, নার্ভ ও অন্যান্য অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ঘাড়ে-কোমরে ব্যথা বৃহত্তর আকার ধারণ করে।

এই ব্যথার উৎস নানান ধরনের। মানুষ এবং অন্যান্য স্তন্যপায়ী জীবের মধ্যে পার্থক্য, মানুষ দুই পায়ে ভর দিয়ে দাঁড়াতে ও চলাফেরা করতে পারে। মেশিনের মতোই মানবদেহও বছরের পর বছর ভার বহন করতে করতে ক্ষয় হয়। স্পাইনাল কর্ড বা শিরদাঁড়ার মধ্যে আমাদের ঘাড়-কোমরের অংশ সহজেই নড়ানো যায়। পিঠের শিরদাঁড়ায় ডিজেনারেটিভ চেঞ্জ, যাকে আমরা স্পন্ডিলোসিস বলি, সেটা অনেক কম হয়।

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ডিজেনারেটিভ পরিবর্তন হয়। জেনেটিক কম্পোজিশন অনুযায়ী এই ক্ষয় কারও ক্ষেত্রে খুব দ্রুত হয়, কারও ক্ষেত্রে ধীরে। পুরোপুরি প্রতিরোধ করতে না পারলেও এটি পিছিয়ে দেওয়া সম্ভব। অর্থাৎ ৪০ বছর বয়স থেকেই ঘাড়-কোমরের যন্ত্রণায় ভোগার পরিবর্তে তা গিয়ে ষাটের পরে দেখা দেবে। শরীরে ওজন কমানো একটি প্রধান উপায়। এতে শিরদাঁড়ার ওপরে ভার লাঘব হয় অনেকটাই। দ্বিতীয়ত, ভারটা ভাগ করে নিতে পারে যে মাংসপেশী, তাকে শক্তিশালী করে তোলা।

আর্থ্রাইটিক পরিবর্তন ও অন্যান্য

ভারতের নিউরোসার্জন (ব্রেন অ্যান্ড স্পাইন) ডা. অমিতাভ চন্দ জানান, শিরদাঁড়ার ডিজেনারেটিভ ডিজিজ এক ধরনের আর্থ্রাইটিস, সময় থাকতে সচেতন হলে অনেকটাই প্রতিরোধ করা সম্ভব। ‘নার্ভ বা স্পাইনাল কর্ডের ওপরে অতিরিক্ত চাপ পড়া থেকেই যাবতীয় সমস্যার সৃষ্টি।

ব্যথা যখন কোমর থেকে পায়ে আসে, তখন তাকে সায়াটিকা বলে। ঘাড়ে-কোমরে স্পন্ডিলোসিস, শিরদাঁড়ায় স্লিপড ডিস্কের সমস্যা ও তা থেকে নার্ভে চাপ পড়া— এসব তো আছেই। এ ছাড়া ব্যাক পেইনও থাকতে পারে। যেমন, স্পাইনাল কর্ডে টিউমর বা ইনফেকশন হতে পারে। টিবি-র জন্যও হতে পারে। অনেক সময়ে কিছু কিডনির অসুখ বা নারীদের পেলভিক ডিজিজে শিরদাঁড়ার অপারেশন করাতে হতে পারে।’

ব্যথার উৎস সন্ধান

কারোর বসে থাকলে সমস্যা নেই, কিন্তু হাঁটলেই ব্যথা। কারোর কোমর থেকে ব্যথা ছড়াচ্ছে পায়ের দিকে। নিউরোলজিক্যাল ব্যথার কারণ জানা জরুরি। ডা. চন্দ বললেন, ‘শিরদাঁড়ার হাড়গুলো পরপর স্তরে-স্তরে সাজানো থাকে। এর ফাঁকে থাকে ডিস্ক। কম বয়সে তা জেলির মতো থাকে, ফ্লুয়িড বা জলীয় ভাগ অনেক বেশি। এগুলো শক অ্যাবজর্বার হিসেবে কাজ করে।

বয়স বাড়লে পানির ভাগ শুকোতে থাকে। ফলে হাড়গুলো কাছাকাছি এসে ঘষা খায়। এ ধরনের আর্থ্রাইটিস পরিবর্তন হাড়কে ইরিটেট করতে থাকে। দু’-একটা বোনি স্পিকিউল বেরিয়ে পড়ে ও সেগুলো নার্ভকে খোঁচা মারতে শুরু করে। ফলে শুটিং পেন হতে পারে।’

ডিস্কগুলো শুকিয়ে এলে হাড় একে অন্যের কাছে চলে আসে এবং দেহের উচ্চতা কমে যায়। আধ সেন্টিমিটার করে কমলেও, ২৬টি সেগমেন্টে মোট ১৩ সেন্টিমিটার উচ্চতা কমে যেতে পারে। শিরদাঁড়ার সামনে ডিস্কের জয়েন্ট ছাড়াও পিছনেও দু’টি জয়েন্ট থাকে। সেখানকার হাড়গুলো ঘষা খেতে শুরু করলে কার্টিলেজের ক্ষয় হয়। এই কারণে অস্বাভাবিক হাড়ের গ্রোথ হলেই ঘাড়ে, কোমরে ব্যথা শুরু হয়।

ঘাড়ে-কোমরে ব্যথার প্রধানত ৩টি উপসর্গ। প্রথমত, লোকাল পেন। শুধুই ঘাড়ে-কোমরে ব্যথা হলে, অন্য কোনও উপসর্গ না থাকলে সে ক্ষেত্রে নন-অপারেটিভ ট্রিটমেন্ট করা হয়। ‘কিছু ক্ষেত্রে আলট্রাসনিক মাসাজ দেওয়া হয়। সেঁক যাতে বেশি গভীরে ঢুকতে পারে।’

দ্বিতীয়ত, নার্ভে চাপ পড়তে শুরু করলে তাকে বলা হয় ‘রেডিকিউলোপ্যাথি’। ঘাড় থেকে হাতে কিংবা কোমর থেকে পায়ে ব্যথা সরে যায়। নার্ভ যতটা অংশে ছড়িয়ে আছে, ততখানি জুড়েই ব্যথা হয়। ‘স্পাইনাল ক্যানালের মধ্য দিয়ে নার্ভগুলো পাস করে শরীরের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ে। শিরদাঁড়ার ক্ষয়ে নার্ভে প্রবল চাপ পড়ে, এতে মাংসপেশি দুর্বল হয়ে পড়ে। পেশি অসাড় হয়ে যাওয়া, অনুভূতি কমে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। এ সব ক্ষেত্রে অপারেশন করাতে হয়।’

তৃতীয়ত, চাপ যদি সরাসরি শিরদাঁড়াতেই পড়ে, তাহলে অস্ত্রোপচার ছাড়া আর উপায় থাকে না। চিকিৎসকদের মতে, শিরদাঁড়ার অপারেশন নিয়ে অনেকের ভয় কাজ করে। পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা করেন। তবে এই ভয় অমূলক। অপারেশনের ক্ষেত্রে বয়সটা কোনও বাধা নয়। ব্যক্তিবিশেষে ও জীবনযাত্রার উপরে নির্ভর করে। তবে ১০০ জনের মধ্যে ৯০ জনের অপারেশনের দরকার হয় না।

সময় থাকতেই নিয়মিত শারীরচর্চা ও খাদ্যাভ্যাস, জীবনযাত্রায় নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে যত্ন নিন হাড় ও পেশির। তাহলে বয়স বাড়লে ক্ষয় প্রতিরোধ ও ব্যথা রোধ করা সম্ভব হবে অনেকাংশেই।

সূত্র : আনন্দবাজার।

আবরারের ছোট ভাই ঢাবিতে ৪৪তম, তবে বুয়েটেই পড়ার ইচ্ছা

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের হাতে খুন হওয়া আবরার ফাহাদের ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ এবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ক’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় ৪৪তম হয়েছেন। তিনি এর আগে বুয়েটের ভর্তি পরীক্ষায় ৪৫০তম স্থান অর্জন করেন। তবে বুয়েটেই পড়ার ইচ্ছা তার।

সোমবার (৪ জুলাই) ঢাবি ‘ক’ ইউনিটের ফল প্রকাশের পর তার ফল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত হতে থাকে।

এ বিষয়ে জানতে আবরার ফাইয়াজের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ভর্তি পরীক্ষায় ৪৪তম হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

ফাইয়াজ বলেন, আমি ঢাবিতে ৪৪তম হয়েছি। তবে বুয়েটেই ভর্তি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। বাবারও ইচ্ছা বুয়েটে ভর্তি করানোর। তবে মা এখনো বুয়েটে ভর্তির বিষয়ে রাজি না।

আবরার ফাইয়াজ বুয়েটের মেধাতালিকায় ৪৫০তম স্থানে আছেন, যন্ত্রকৌশল বিভাগে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন তিনি।

কুমিল্লার চান্দিনায় ৬ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ প্রতিবেশী নানার বিরুদ্ধে

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

কুমিল্লার চান্দিনায় ছয় বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে তার চাচাতো নানার বিরুদ্ধে। রোববার দুপুর ২টায় উপজেলার মাইজখার ইউনিয়নের ছনবাড়িয়া গ্রামে ওই ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী শিশু স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্রী। জন্মগতভাবে কানে কম শুনতে পাওয়া ওই শিশুটি নানা-নানির সঙ্গে থাকে। একই বাড়ির চাচাতো নানা সুতা ব্যবসায়ী নজির মিয়া (৫৫) গরু ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ করেন শিশুটির বাবা।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, আমার বাড়ি পার্শ্ববর্তী মুরাদনগর উপজেলায়। আমার এক ছেলে দুই মেয়ের মধ্যে এই মেয়েটি দ্বিতীয়। ছোটবেলা থেকেই নানার বাড়ি ছনবাড়িয়া থাকে। রোববার দুপুরে তার চাচাতো নানা নজির আমার মেয়েকে গরু ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে।

এদিকে আমার শাশুড়ি আমার মেয়েকে বিভিন্ন স্থানে খুজতে থাকে। পরে ওই গরু ঘরের সামনে গেলে হঠাৎ ওই গরু ঘর থেকে আমার মেয়েকে ধাক্কা দিয়ে বের করে পালিয়ে যায় নজির। পরে তাকে চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসি।

চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত চিকিৎসক সিরাজুম মুনিরা জানান, প্রাথমিকভাবে ওই শিশুর মধ্যে কিছুটা চিহ্ন পাওয়া গেছে।

এ ব্যাপারে জানতে অভিযুক্ত নজির মিয়ার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

চান্দিনা থানার ওসি মোহাম্মদ আরিফুর রহমান বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ফোন করলে আমার অফিসার তথ্য সংগ্রহ করে নিয়ে আসেন। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় অতিরিক্ত মাদক সেবনে প্রাণ গেল যুবকের

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় অতিরিক্ত মাদক সেবনে শরিফ মিয়া নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

শরিফ মিয়া উপজেলার গোপালনগর গ্রামের লিল মিয়ার ছেলে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শরিফ মিয়া পেশায় ভাঙ্গারি ব্যবসায়ী। শুক্রবার সকালে মাদক সেবন করে বাড়িতে আসার পর তার পেটে ব্যথা শুরু হয়। পরিবারের সদস্যরা তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেন। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে চিকিৎসকরা তাকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন।

বাড়িতে আসার কিছু সময় পর শরিফের আবার পেটে ব্যথা শুরু হয়। এরপর বিকাল ৫টায় তিনি মারা যান। পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে।

পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, অতিরিক্ত মাদক সেবনের কারণে শরিফের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় শরীফের বোন বাদী হয়ে থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করেছেন।

নিজেকে চিরযৌবনা রাখতে কুমারী মেয়েদের রক্ত-মাংস খেতেন যে নারী

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

ইতিহাসের একদিক যেমন আলোকসজ্জিত তেমনই এর কালো অধ্যায়ের পরিমাণও কম নয়। যুগে যুগে অনেক নারী তাদের কর্ম দিয়ে ইতিহাসকে রজ্জিত করেছেন। কেউ ছিলেন দয়ালু, কেউ আবার নৃসংশতার চরমে পৌঁছেছিলেন। তেমনই এক নারী ছিলেন এলিজাবেথ বাথোরি, যিনি সৌন্দর্য ধরে রাখতে হয়েছিলেন সিরিয়াল কিলার।

চির যৌবনা থাকতে কে না চান। বিশেষ করে নারীরা নিজেদের সৌন্দর্যের ব্যাপারে একটু যেন বেশিই সচেতন। ফিট থাকতে আর নিজের সৌন্দর্য ধরে রাখতে কতো কিছুই না করে থাকেন। তবে এই নারী নিজের রূপ-যৌবন ধরে রাখতে ৬১০ জন কুমারী নারীর রক্ত পান করেছিলেন।

পৃথিবীর ইতিহাসে তিনিই প্রথম নারী সিরিয়াল কিলারের খেতাবপ্রাপ্ত। নিজেকে সুন্দর রাখতে শুধু যে কুমারী মেয়েদের রক্ত পান করতেন তাই না, সেই রক্তে গোসল করতেন এমনকি তাদের মাংসও খেতেন তিনি। বলছিলাম এলিজাবেথ ব্যাথরির কথা। তিনি ছিলেন যেমন বদমেজাজি, তেমনি হিংস্র আর অত্যাচারী।

এলিজাবেথ বিশ্বাস করতেন, কুমারী মেয়েদের রক্ত তাকে চিরযৌবনা রাখবে। আর তাই একের পর এক কুমারীকে হত্যা করতেন তিনি। ইতিহাসে আলোচিত এই সিরিয়াল কিলার পশ্চিমা বিশ্বের সবচেয়ে বেশি সংখ্যার খুনী ছিলেন। যিনি ব্লাড কাউন্টেস বা কাউন্টেস ড্রাকুলা নামেও পরিচিত।

কাউন্টেস ড্রাকুলা নামে পরিচিত এলিজাবেথের জন্ম ১৫৬০ সালের ৭ আগস্ট হাঙ্গেরির ট্রান্সিলভেনিয়ায় এক অভিজাত পরিবারে। ছোটবেলা থেকেই এলিজাবেথ ছিলেন খিটখিটে আর বদমেজাজি। যদিও সম্ভ্রান্ত পরিবারে বেড়ে উঠেছিলেন তিনি। সেখানে কখনো কোনো অত্যাচারের শিকার হতে হয়নি তাকে।

তবে শিশু বয়সেই ভয়ানক সব অত্যাচারের দৃশ্য দেখে অভ্যস্ত ছিলেন এলিজাবেথ। সেই সব ভয়ানক ঘটনার চাক্ষুস সাক্ষীও হয়েছেন অনেকবার। একবার তিনি দেখেন একটি জীবন্ত ঘোড়ার পেট কেটে তার মধ্যে অপরাধীকে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। এরপর ঘোড়ার পেট সেলাই করে দেয় প্রহরীরা। এই ঘটনা তার মনের উপর ব্যাপক প্রভাব ফেলে। তার হিংস্রতা আরও বাড়িয়ে দেয়।

ছোট থেকেই অত্যাচারী মনোভাবের। অন্যের মৃত্যু যন্ত্রণা দেখে তিনি তৃপ্ত হতেন। খুব অল্পতেই রেগে যেতেন। খিঁচুনি আর মাইগ্রেনের সমস্যা থেকে তিনি এমন হয়েছেন বলে মনে করেন অনেক ইতিহাসবিদ। আবার অনেক ইতিহাসবিদ লিখেছেন, তার পরিবারের অপরাধীরকে এমন কঠিন সব শাস্তি দেওয়ার ধরন তার মনে বেশ প্রভাব ফেলেছিল।

এলিজাবেথ যেহেতু ছিলেন অভিজাত বংশের মেয়ে, সেই সুবাদে তার বিয়েও হয়েছিল সম্ভ্রান্ত পরিবারেই। তবে বিয়ের আগেই মাত্র ১৩ বছর বয়সে মা হন এলিজাবেথ। এরপর ১৫ বছর বয়সে ফেরেন্স নাডাসডি নামে এক উচ্চবংশীয় লোকের সঙ্গে বিয়ে হয় তার। ফেরেন্স ছিলেন হাঙ্গেরির রাজ্যের সেনাপতি। কথিত আছে, ফেরেন্স তার স্ত্রী এলিজাবেথের মতোই অত্যাচারী ছিলেন। অটোম্যান বন্দীদের উপর নির্মম অত্যাচার চালাতেন তিনি। নিজের দাসদের দুই পায়ের গোড়ালির মাঝে কাগজ রেখে আগুন ধরিয়ে দিতেন।

এছাড়াও অটোম্যানদের যুদ্ধে তার হিংস্রতা আর অমানবিকতার কারণে তাকে ডাকা হত ব্ল্যাক হিরো অব হাঙ্গেরি। বিয়ের কিছুদিন পরই ফেরেন্স যুদ্ধে চলে যান। তবে সেখান থেকে এলিজাবেথকে তিনি অত্যাচারের নতুন নতুন পন্থার কথা জানাতেন।

তবে এলিজাবেথও কম ছিলেন না। তার অমানবিক অত্যাচারের কথা বলে হয়তো শেষ করা যাবে না। তিনি শুধু যে কুমারী মেয়েদের রক্ত পান এবং গোসল করতেন তাই নয়, তাদেরকে হত্যার জন্য অবলম্বন করতেন ভয়ংকর সব পদ্ধতি। এক্ষেত্রে তিনি স্বামীর সহযোগিতা পেয়েছেন সবসময়। এছাড়াও তার কয়েকজন বিশ্বস্ত দাস ছিল। যারা এলিজাবেথের সব অপকর্মের সাক্ষী। এলিজাবেথ কুমারী মেয়েদের খুবই ছোট্ট খাঁচায় বন্দি করতেন। এরপর তাদের সিলিংয়ে ঝুলিয়ে রেখে শরীরে বরফ পানি দিতেন। যেন তারা ঠান্ডায় জমে মারা যায়।

তার দাস দাসিদের হাতের তালুতে গরম লোহা রেখে দিত। তাদের যন্ত্রনায় পৈশাচিক আনন্দ উপভোগ করত বিকারগ্রস্থ এলিজাবেথ। সাঁড়াশি দিয়ে দাসদের আঙ্গুল টেনে ছিঁড়ে ফেলত। একবার এলিজাবেথ এমন এক কাজ করেন যা ছিল সব নৃশংসতার উর্ধ্বে। এক দাসীর শরীর থেকে মাংস কেটে তাকে দিয়ে রান্না করিয়ে তাকেই খেতে বাধ্য করেছিল সে। এছাড়াও মেয়েদের শরীরে মধু লাগিয়ে সারাদিন বাইরে রেখে দিত। যাতে মৌমাছি এবং অন্যান্য পোকামাকড় তাদের খেয়ে ফেলতে পারে।

স্বামী ফেরেন্সের মৃত্যুর পর এলিজাবেথ আরো বেশি নৃশংস হয়ে ওঠে। সে মেয়েদের নখে, ঠোঁটে, গালের নিচে সুঁই ফুটিয়ে রাখত, শরীর থেকে মাংস কেটে নিত। এলিজাবেথ এভাবেই ক্ষান্ত হয়নি। অনেক পুরুষের জীবনও নিয়েছে। বিয়ের আগে এবং তার স্বামীর মৃত্যুর পর অসংখ্য পুরুষের সঙ্গে তার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কিছুদিন পর নতুন একজনকে পেলে আগের জনকে মেরে ফেলত সে। এছাড়াও এলিজাবেথের সম্পর্কে আরো একটি তথ্য জানা যায়, তিনি উভকামী ছিলেন। তবে এ ব্যাপারে তেমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

১৬০৩ সালে রাজা কাউন্ট গির্জি থুরজোকে সিসজে ক্যাসলে এলিজাবেথকে বিচারের আউতায় আনেন। সেসময় রাজ্যের অনেক মেয়ের নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় সবাই শঙ্কায় থাকত। তবে খুব একটা পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। একজন বিখ্যাত শিল্পী এলিজাবেথের প্রাসাদে গানের অনুষ্ঠান করতে যাওয়ার পর থেকেই নিখোঁজ হয়। এতেই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। আর তখনই ধরা পড়ে এলিজাবেথের অপকর্ম। সেসময় তার সঙ্গে চার সহযোগীকেও বিচারের আউতায় আনা হয়।

তার প্রধান দুই সহযোগীর ভাষ্য মতে, সে ৫০ জন মেয়েকে হত্যা করেছে। অন্য একজন বলেছে এর সংখ্যা ৮০। তবে এর আসল সংখ্যা ছিল ৬০০ এরও বেশি। এই তথ্য পাওয়া যায় এলিজাবেথের নিজের লেখা ডায়েরি থেকেই। একজন সহযোগীই তার ডায়রি আদালতে উপস্থাপন করেন।

সে সময় রাজ্যের গরিব পরিবারের মেয়েদের কাজের লোভ দেখিয়ে নিয়ে আসা হত এলিজাবেথের কাছে। আর অসহায় মেয়েরা শিকার হত এলিজাবেথের বিকারগ্রস্থ স্বভাবের নির্মম শাস্তির। একের পর এক মেয়েরা নিখোঁজ হতে থাকলে এসব পরিবার আর তাদের মেয়েদের সেখানে পাঠাতে চাইতেন না।

এরপর মধ্যবিত্ত পরিবার এমনকি অভিজাত পরিবারের মেয়েদেরকে ভালোভাবে লালন পালনের প্রতিশ্রুতিতে আনা হত। তার সহযোগীর তিনজনকে ফাঁসি এবং চতুর্থ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এলিজাবেথকে বন্দি রাখা হয় জানালাবিহীন ছোট এক ঘরে। সেখানেই ১৬১৪ সালে ৫৪ বছর বয়সে তিনি মারা যান।

অনেক ইতিহাসবিদ মনে করেন, মানসিক সমস্যা থেকেই এলিজাবেথ এমন নৃশংস হয়ে উঠেছিলেন। তবে এলিজাবেথের পরিবারে শুধু সেই খুনি ছিলেন না। অন্যান্য সদস্যরাও ছিলেন খুবই নিষ্ঠুর প্রকৃতির। এলিজাবেথের ফুফু ক্লারা ছিলেন জাদুকরী এবং উভকামী। তিনি কালো জাদু চর্চা করতেন এবং এলিজাবেথকেও উৎসাহ দিতেন। নিজের স্বামীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছিলেন তিনি। অবশেষে ক্লারাকে জেলে পাঠানো হয়। সেখানেও তিনি কারারক্ষীদের তার ফাঁদে ফেলতেন।

তবে অনেক ইতিহাসবিদ দাবি করেন, ক্লারা এবং তার এক প্রেমিক অটোম্যানদের হাতে বন্দি হন। এরপর তাদের হত্যা করা হয়। এলিজাবেথের চাচা স্টিফেন ব্যাথরি ছিলেন একজন দক্ষ যোদ্ধা। নির্মমভাবে হত্যা করতেন বিপক্ষের বন্দিদের। তিনি পোল্যান্ডের রাজাকে হত্যা করে রানিকে বিয়ে করেছিলেন। এলিজাবেথের পরিবারের অনেক ব্যক্তিই অত্যাচারী হিসেবে পরিচিত হয়ে আছেন ইতিহাসে। হয়তো বংশগতভাবেই এই স্বভাব পেয়েছিলেন এলিজাবেথ।

সূত্র: দ্য ভিন্টেজ নিউজ, অল দ্যাট ইন্টেরেস্টিং

বিশ্বে সবচেয়ে দুখী দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান সপ্তম

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

বিশ্বে সবচেয়ে দুখী দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান সপ্তম বলে নতুন একটি বৈশ্বিক জরিপে উঠে হয়েছে।

‘২০২২ গ্লোবাল ইমোশনস রিপোর্ট’ শীর্ষক প্রতিবেদনে ১২২টি দেশের তালিকা প্রকাশ করা হয়। ওই তালিকায় বাংলাদেশের স্কোর ৪৫। ৫৯ স্কোর নিয়ে দুখী দেশের তালিকার শীর্ষে রয়েছে আফগানিস্তান।

চলতি বছরের ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩০ মার্চের মধ্যে বাংলাদেশে পরিচালিত জরিপে মোট এক হাজার মানুষ অংশ নেন।

বিশ্বের ১২২টি দেশের এক লাখ ২৭ হাজার প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির ওপর জরিপ চালিয়ে দেখা গেছে, ২০২০ সালের তুলনায় ২০২১ সালে মানুষ বেশি মানসিক চাপে ছিল।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেতিবাচক অভিজ্ঞতা সূচকে স্কোর উচ্চতর হলে বোঝায়, দেশের জনসংখ্যার বড় অংশ এ ধরনের আবেগ অনুভব করছে।

শারীরিক জটিলতা, উদ্বেগ, বিষণ্ণতা, মানসিক চাপ ও ক্রোধ অনুভব করেছেন কি না, এ সংশ্লিষ্ট প্রশ্নও জরিপে অন্তর্ভুক্ত ছিল।

গ্যালাপের বৈশ্বিক ব্যবস্থাপনা অংশীদার জন ক্লিফটন বলেন, বর্তমান বিশ্ব যুদ্ধ, মুদ্রাস্ফীতি ও মহামারিতে ভুগছে।

এর মধ্যে যেকোনো একটির প্রভাব আরও প্রকটভাবে বিশ্বে পড়বে। তবে, এই সমস্যাগুলো আলোচনায় আসার বেশ আগে থেকেই বিশ্বব্যাপী অসন্তোষের বিষয়টি শুরু হয়েছিল। এক দশক ধরে এই অসন্তুষ্টি বাড়ছে বলেও ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ৪২ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, তারা অনেক বেশি উদ্বেগের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, যা ২০২০ সালের তুলনায় দুই শতাংশ বেশি।

নীতিনির্ধারকদের অবশ্যই বুঝতে হবে কেন অনেক মানুষ অভূতপূর্বভাবে নেতিবাচক আবেগ অনুভব করছে এবং তাদেরকে অত্যন্ত ইতিবাচক জীবনের দিকে মনোনিবেশ করতে হবে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

এই অসন্তুষ্টির কারণ উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈশ্বিক অসন্তুষ্টি বাড়ার পেছনে পাঁচটি উল্লেখযোগ্য কারণ রয়েছে। সেগুলো হলো—দারিদ্র্য, একটি সম্প্রদায়ের মধ্যে নেতিবাচক পারিপার্শ্বিকতা, ক্ষুধা, একাকীত্ব ও কাজের সুযোগের অভাব।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, জরিপে অংশ নেওয়া প্রতি ১০ জনের মধ্যে ৩ জন শারীরিক জটিলতা (৩১ শতাংশ), চার জনের মধ্যে একজনেরও বেশি মানসিক অবসাদ (২৮ শতাংশ) ও ক্রোজ (২৩ শতাংশ) অনুভব করে।

নেতিবাচক সূচকে আফগানিস্তানের স্কোর ৩২। যার মানে বোঝায় বিশ্বের মধ্যে সেখানকার জনগণ সবচেয়ে বেশি মানসিক অবসাদে ভোগেন। ১৬ বছর আগে গ্যালাপ যখন এই জরিপ শুরু করে, তখন থেকেই আফগানিস্তানের স্কোর সর্বনিম্ন। ইতিবাচক সূচকে পানামার স্কোর ৮৫। যার মানে বোঝায় বিশ্বের মধ্যে সেদেশের জনগণই সবচেয়ে কম মানসিক অবসাদে ভোগেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বছরখানের আগেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জনগণের মধ্যে দুঃখ, উদ্বিগ্নতা ও মানসিক চাপ আরও কম ছিল।

ল্যাটিন আমেরিকার দেশগুলো বিশ্বে সবচেয়ে ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে উল্লেখ করে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সূচকে উদ্বেগ দুই পয়েন্ট এবং চাপ ও বিষণ্ণতা এক পয়েন্ট বেড়েছে।

ইতিবাচক আবেগ সূচকে ৮৫ স্কোর নিয়ে তালিকার শীর্ষে রয়েছে পানামা। ৮০ স্কোর নিয়ে তালিকায় পানামার পরেই রয়েছে প্যারাগুয়ে, এল সালভাদর, হন্ডুরাস ও নিকারাগুয়া। লাতিন আমেরিকার বাইরে আইসল্যান্ড, ফিলিপাইন, সেনেগাল, ডেনমার্ক ও দক্ষিণ আফ্রিকাও ২০২১ সালে সবচেয়ে ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে।

সৌদিতে হজ্ব পালনে গিয়ে কুমিল্লাসহ ১২ বাংলাদেশীর মৃত্যু

 

ডেস্ক রিপোর্ট:

হজ পালনে সৌদি আরব গিয়ে আরো এক বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে সৌদি আরবে এখন পর্যন্ত ১২ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে ৮ জন পুরুষ ও চারজন নারী রয়েছেন। রবিবার (৩ জুলাই) ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইটি হেল্প ডেস্কের হজের প্রতিদিনের বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

হজ বুলেটিন সূত্রে জানা যায়, সর্বশেষ রবিবার (৩ জুলাই) মক্কায় মো. খয়বর হোসেন (৫৫) নামে এক হজযাত্রী মারা যান। তার বাড়ি রংপুর জেলায়। তার পাসপোর্ট নম্বর- ঊঋ০১৫৬১৬২।

এদিকে রবিবার (৪ জুলাই) পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে হজ পালনে সৌদি আরব পৌঁছেছেন ৫৬ হাজার ৯৫২ জন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় রয়েছেন তিন হাজার ৮৯০ জন ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনার ৫৩ হাজার ৬২ জন। মোট ১৫৭ ফ্লাইটে সৌদি যান এসব হজযাত্রী। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ৮৬টি, সৌদি এয়ারলাইনস পরিচালিত ৫০টি এবং ফ্লাইনাসের ১১টি ফ্লাইট রয়েছে।

বুলেটিনে আরো জানানো হয়, বাংলাদেশি হজযাত্রীদের মধ্যে এখন পর্যন্ত সাতজন পুরুষ ও তিনজন নারীসহ মোট ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন ঢাকার বিউটি বেগম, রংপুরের পীরগাছার আবদুল জলির খান, কুমিল্লা আদর্শ সদরের ধনপুরের মোছা. রামুজা বেগম, জয়পুরহাট সদরের মো. হেলাল উদ্দিন মোল্লা, নোয়াখালী জেলার নুরুল আমিন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের মো. জাহাঙ্গীর কবির, টাঙ্গাইলের মো. আব্দুল গফুর মিয়া, তপন খন্দকার, মো. রফিকুল ইসলাম এবং সর্বশেষ রংপুরের মো. খয়বর হোসেন। এর মধ্যে মক্কায় ১০ জন ও মদিনায় দুজন হজ যাত্রী মারা গেছেন।

সৌদি আরবে চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ৮ জুলাই হজ অনুষ্ঠিত হবে। এবার সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রীর কোটা চার হাজার এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনার কোটা ৫৩ হাজার ৫৮৫। পরবর্তীতে কোটা বাড়িয়ে বাংলাদেশ থেকে অতিরিক্ত দুই হাজার ৪২৫ হজযাত্রীকে সুযোগ দেওয়া হয়। হজযাত্রীদের সৌদি আরবে যাওয়ার ফ্লাইট গত ৫ জুন শুরু হয়েছে। সৌদি আরবে যাত্রার শেষ ফ্লাইট ৫ জুলাই। হজ শেষে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে আগামী ১৪ জুলাই। ফিরতি ফ্লাইট শেষ হবে ৪ আগস্ট।