Tag Archives: ইসরায়েল

ইরানে সরাসরি হামলা চালানোর হুমকি ইসরায়েলের

ইরানে সরাসরি হামলা চালানোর হুমকি ইসরায়েলের

ডেস্ক রিপোর্ট:

ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যকার চলমান যুদ্ধ যেন অন্যত্র ছড়িয়ে না পড়ে সে ব্যাপারে প্রথম থেকেই হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছে পশ্চিমা দেশগুলো। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য অঞ্চলে যুদ্ধের বিস্তৃতি ঠেকাতে কাজ করছে আরব দেশগুলোর নেতারাও।

তবে পশ্চিমাদের হুঁশিয়ারি এবং আরব নেতাদের চেষ্টার পরও হামাস-ইসরায়েলের যুদ্ধে ইতিমধ্যে ‘কিছুটা’ জড়িয়ে গেছে লেবাননের শক্তিশালী সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। লেবাননভিত্তিক এই মিলিশিয়া বাহিনী গত কয়েকদিন ধরে ইসরায়েলের সেনাদের অবস্থান লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে। সামনের দিন গুলোতে দুই পক্ষের মধ্যে বড় যুদ্ধ বেঁধে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে এখন।

তবে হিজবুল্লাহ যদি ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ায় তাহলে ইসরায়েল সরাসরি ইরানে হামলা চালাবে বলে হুমকি দিয়েছেন ইসরায়েলের অর্থ ও শিল্পমন্ত্রী নির বারকাত।

রোববার (২২ অক্টোবর) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেছেন, হিজবুল্লাহকে দিয়ে ইরানই মূলত ইসরায়েলে হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছে।

তিনি বলেছেন, ‘ইরানের লক্ষ্য হলো ইসরায়েলের ওপর সব দিক দিয়ে হামলা চালানো। যদি আমরা বুঝতে পারি তারা (হিজবুল্লাহ) ইসরায়েলে হামলা চালাতে চায়, শুধুমাত্র আমাদের সব ফ্রন্টে নয়, আমরা সাপের মাথা, ইরানের ওপরও হামলা চালাব।’

ইসরায়েলি অর্থ ও শিল্পমন্ত্রী হুঁশিয়ারির সুরে বলেছেন, যদি হিজবুল্লাহ ইসরায়েল-লেবানন সীমান্তে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু করে তাহলে এর ফলাফল হিসেবে ‘পৃথিবীর বুক থেকে হিজবুল্লাহ নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।’

সূত্র: হারেৎজ

ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর হামলায় ধসে পড়েছে গাজার ঐতিহাসিক মসজিদ

ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর হামলায় ধসে পড়েছে গাজার ঐতিহাসিক মসজিদ

ডেস্ক রিপোর্ট:

ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর হামলায় ধসে পড়েছে গাজা উপত্যকার ঐতিহাসিক আল-ওমারি মসজিদ। গাজার উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত মসজিদটি ধ্বংস হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছে সেখানকার স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম কুদস নিউজ নেটওয়ার্ক মাইক্রো ব্লগিং সাইট এক্সে শুক্রবার একটি পোস্টে মসজিদটির তিনটি ছবি প্রকাশ করেছে।

ছবিগুলো দেখে যা বোঝা যাচ্ছে, যেখানে নামাজ আদায় করা হতো সেখানে বোমা ফেলা হয়েছে। তবে মসজিদটির মিনার ও গম্বুজটি অক্ষত আছে। ছবিগুলোতে সবুজ রঙের গম্বুজ ও সাদা রঙের মিনারটি দেখা যাচ্ছে।

গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের অবৈধ বসতি লক্ষ্য করে হামলা চালায় গাজাভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস। এরপর থেকেই গাজায় বিমান হামলা চালানো শুরু করে ইসরায়েলি বিমান বাহিনী। তাদের এ নির্বিচার হামলায় এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ৭০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। যার মধ্যে শিশুর সংখ্যাই ১ হাজার ৫০০ জনের বেশি।

যদিও ইসরায়েল দাবি করছে তারা হামাসের অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। তবে হামাসের যোদ্ধাদের চেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সেখানকার বেসামরিক মানুষ।

বোমা হামলার পাশাপাশি গাজায় সর্বাত্মক অবরোধও আরোপ করেছে ইসরায়েল। এরমাধ্যমে ছোট এই উপত্যকায় খাদ্য, পানি, জ্বালানিসহ সব ধরনের পণ্য সরবরাহ বন্ধ রেখেছে তারা। আর অতিপ্রয়োজনীয় এসব পণ্যের অভাবে এখন গাজায় মানবিক বিপর্যয়ের শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সূত্র: আল জাজিরা

ইসরায়েলে রকেট হামলা চালিয়েছে আল-কাশেম ব্রিগেডস

ইসরায়েলে রকেট হামলা চালিয়েছে আল-কাশেম ব্রিগেডস

ডেস্ক রিপোর্ট:

ইসরায়েলের তেল আবিব শহরে রকেট হামলা চালানোর দাবি করেছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামীগোষ্ঠী হামাসের সামরিক শাখা আল-কাশেম ব্রিগেডস। গাজা উপত্যকায় বেসামরিকদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি হামলার প্রতিশোধে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুরের দিকে তেল আবিবে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে তারা। তবে এতে তাৎক্ষণিকভাবে কোনও ক্ষয়ক্ষতি কিংবা হতাহতের তথ্য পাওয়া যায়নি।

টেলিগ্রামে নিজেদের চ্যানেলে দেওয়া এক বার্তায় আল-কাশেম ব্রিগেডস বলছে, গাজায় বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে ইহুদিবাদী ইসরায়েলের গণহত্যার প্রতিশোধে তেল আবিবে বোমা হামলা করা হয়েছে।

টাইমস অব ইসরায়েলের এক প্রতিবেদনে তেল আবিবে রকেট হামলার তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার তেল আবিবে রকেট হামলা হয়েছে। তবে ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আয়রন ডোমের মাধ্যমে শূন্যেই সেই রকেট ধ্বংস করা হয়েছে। তেল আবিব ছাড়াও ইসরায়েলের রামাত গ্যান, কিরিয়ান ওনো, অর ইয়েহুদা, বিনেই ব্রাক ও গিভাট এশমুয়েল শহরে সাইরেন বাজিয়ে বাসিন্দাদের রকেট হামলার ব্যাপারে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে।

ইসরায়েলের উদ্ধারকারী সংস্থা দ্য মেগান ডেভিড অ্যাডম বলছে, তাৎক্ষণিকভাবে রকেটের সরাসরি আঘাত হানার তথ্য পাওয়া যায়নি। এমনকি এতে কোনও হতাহত হয়েছে কি না তাও জানা যায়নি। এর আগে, একই দিন সকালের দিকে গাজা উপত্যকায় ইহুদিবাদীদের বসতি আশকেলোনে ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেট হামলা চালায় হামাসের সামরিক শাখা আল-কাশেম ব্রিগেডস।

এদিকে, হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধের ১৩তম দিনেও ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্তে সামরিক স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান-সমর্থিত লেবাননের সশস্ত্রগোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। বৃহস্পতিবার ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ইয়েনেটের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তর ইসরায়েলে সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ট্যাংক-বিধ্বংসী দুটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে হিজবুল্লাহ।

হামলার জবাবে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী লেবাননের হুলা এবং মায়েজ আল-জাবাল এলাকায় গোলাবর্ষণ করেছে। লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলীয় সীমান্তে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর সদস্যদের সাথে হিজবুল্লাহর মাঝে প্রত্যকদিনই হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটছে। মঙ্গলবার সীমান্ত এলাকায় হিজবুল্লাহর পাঁচ সদস্য নিহত হওয়ার পর ইসরায়েলে হামলার পরিমাণ বৃদ্ধি করেছে লেবাননের সশস্ত্র এই গোষ্ঠী। মঙ্গলবার দিনভর লেবানন থেকে ইসরায়েলি ভূখণ্ডে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে হিজবুল্লাহ। হামলায় ইসরায়েলে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

গত ৭ অক্টোবর হামাসের সাথে ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে ইসরায়েলে হামলা চালিয়ে আসছে হিজবুল্লাহ। গত ১৩ দিনের হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধে ইসরায়েলের বোমা হামলায় ৩ হাজার ৭৮৫ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত ও আরও ১২ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন। অন্যদিকে হামাসের হামলায় ইসরায়েলে ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। যুদ্ধে ইসরায়েল থেকে প্রায় ২০০ জনকে ধরে নিয়ে জিম্মি করেছে হামাস।

সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল, হারেৎজ, মেহের নিউজ।

ইসরায়েলের পাশে বন্ধু হিসেবে দাঁড়াতে পেরে গর্বিত: ঋষি সুনাক

ইসরায়েলের পাশে বন্ধু হিসেবে দাঁড়াতে পেরে গর্বিত: ঋষি সুনাক

ডেস্ক রিপোর্ট:

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক। বৃহস্পতিবার তাদের এই সাক্ষাৎ হয়।

আগের দিন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন নেতানিয়াহুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
ইসরায়েলি প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেছেন সুনাক। ডাউনিং স্ট্রিট মুখপাত্র জানায়, সুনাক ইসরায়েলের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন আন্তর্জাতিক আইন মেনে ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী তাদের মধ্যকার বৈঠক নিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন। নেতানিয়াহু ঋষি সুনাককে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেছেন, এই সফর সমর্থনের দৃঢ় বিবৃতি- আমরা এটি গভীরভাবে উপলব্ধি করি।

নেতানিয়াহু সুনাককে জানান, ৮০ বছর আগে ব্রিটিশরা নাৎসিদের সঙ্গে লড়াই করেছিল। হামাস হলো নব্য নাৎসি। সেই অন্ধকার সময়ে বিশ্ব আপনাদের পাশে দাঁড়িয়ে ছিল। এখন আমাদের অন্ধকার সময়, বিশ্বের অন্ধকার সময়। এই কারণে আপনার সমর্থনকে আমি মূল্য দিই… আমরা একসঙ্গে জিতব।

তিনি বলেন, এটি একটি দীর্ঘ যুদ্ধ এবং আপনার অব্যাহত সমর্থন আমাদের প্রয়োজন। উত্থান-পতন ও নানা জটিলতা থাকবে। আমাদের জনগণ ঐক্যবদ্ধ।

তিনি আরও বলেন, এই যুদ্ধ শুধু ইসরায়েলের যুদ্ধই নয়, এটি সভ্য ও মুক্ত বিশ্ব ও আধুনিক আরব দেশগুলোর যুদ্ধ। এই যুদ্ধের মন্দ বিপক্ষ শক্তির মধ্যে রয়েছে, হামাস, হিজবুল্লাহ ও ইরান।

ঋষি সুনাক বলেন, এই সপ্তাহে হাসপাতালের বিস্ফোরণের দৃশ্যে আমরা সবাই হতবাক হয়েছি এবং নিরীহ নাগরিকের জীবন হারানোর ঘটনায় শোক প্রকাশ করছি।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, ফিলিস্তিনি বেসামরিকরাও হামাসের শিকার। গাজা উপত্যকায় সাহায্য প্রবেশের অনুমতির সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান সুনাক। তিনি বলেন, যুক্তরাজ্য এই অঞ্চলে সহায়তা বাড়াবে এবং যত দ্রুত সম্ভব সেখানকার মানুষের জন্য আরও সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করবে

সুনাক বলেন, ইসরায়েল তার অস্তিত্বের প্রতিটি দিন ধরে সহিংসতা ও সন্ত্রাসবাদের মধ্য দিয়েই যাচ্ছে। যুক্তরাজ্য আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকারকে সম্পূর্ণভাবে সমর্থন করে।

সবশেষে তিনি নেতানিয়াহুকে বলেন, ইসরায়েলের অন্ধকার সময়ে বন্ধু হিসেবে এখানে আপনার পাশে দাঁড়াতে পেরে আমি গর্বিত। সংহতি জানিয়ে আমরা আপনার পাশে থাকব, আপনার জনগণের সঙ্গে থাকব। আমরা আপনার জয় চাই।

বুধবার ইসরায়েল সফরে যাচ্ছেন জো বাইডেন

বুধবার ইসরায়েল সফরে যাচ্ছেন জো বাইডেন

ডেস্ক রিপোর্ট:

ইসরায়েল ও হামাসের যুদ্ধের মধ্যেই বুধবার (১৮ অক্টোবর) ইসরায়েল সফরে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। মঙ্গলবার (১৬ অক্টোবর) ভোরে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন তেল আবিব থেকে এ ঘোষণা দিয়েছেন।

ব্লিনকেন বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ডের এই সফর ইসরায়েল, মধ্যপ্রাচ্য এবং বিশ্বের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে এসেছে।

ইসরায়েল ও হামাসের স্বাধীনতাকামীদের মধ্যে যুদ্ধের ১১ দিন চলছে। গত ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত চার হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছে। এর মধ্যে প্রায় ১৪০০ ইসরায়েলি এবং ২৭৫০ জন ফিলিস্তিনি রয়েছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কূটনীতিক অ্যান্টনি ব্লিনকেন গত চার দিন ধরে মধ্যপ্রাচ্য চষে বেড়াচ্ছেন। গত ৭ অক্টোবর হামাসের সাথে ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর তিনি আরব বিশ্বের ছয় দেশ জর্ডান, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব এবং মিসর সফর করেছেন। এই সফর শেষে সোমবার ইসরায়েলে ফিরে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সাথে বৈঠক করেছেন তিনি।

তার এই সফরের উদ্দেশ্য গাজার বেসামরিক নাগরিকদের কীভাবে সর্বোত্তম মানবিক সহায়তা এবং বিদেশি নাগরিকদের চলে যেতে দেওয়া যায় সেই বিষয়ে আরব বিশ্বের চিন্তা-ভাবনা শোনা, জানা এবং আলোচনা করা।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরটি এই অঞ্চলকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বার্তা জানিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে সাজানো হয়। সেই বার্তাটি হল, হামাসের প্রতি ইরানের সমর্থনে বাধা দিতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। গাজা উপত্যকার ক্ষমতাসীন এই গোষ্ঠীকে দীর্ঘদিন ধরে ইরান অর্থ এবং অস্ত্র সহায়তা দিয়ে আসছে। যুক্তরাষ্ট্র্র ইরানের এই সহায়তা ঠেকাতে চায়।

সফর শেষে সোমবার ইসরায়েলে ফিরে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও তার প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করেছেন ব্লিনকেন। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেছেন, ইসরায়েলের প্রতিশ্রুতি, নিজেকে এবং তার জনগণকে রক্ষা করার বাধ্যবাধকতা বোঝে যুক্তরাষ্ট্র। ইসরায়েল এই কাজে সবসময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন পাবে।

হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য সফরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্লিনকেন হামাসের ‘সন্ত্রাসবাদ থেকে আত্মরক্ষা করার জন্য ইসরায়েলের অধিকারের’ প্রতি তার দৃঢ় সমর্থনের ওপর জোর দিয়েছেন। একই সঙ্গে নাগরিকদের সুরক্ষার জন্য যে ধরনের সহায়তা প্রয়োজন ইসরায়েলি সরকারকে যুক্তরাষ্ট্র তা দেবে বলে ওয়াশিংটনের অঙ্গীকারের পুনরাবৃত্তি করেছেন তিনি।

ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্তে হামলা চালিয়েছে হিজবুল্লাহ

ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্তে হামলা চালিয়েছে হিজবুল্লাহ

ডেস্ক রিপোর্ট:

ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্ত এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান-সমর্থিত লেবাননের সশস্ত্রগোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। হামাসের সাথে ইসরায়েলের যুদ্ধের মাঝেই রোববার ইসরায়েলি একটি গ্রামে এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে। এতে ইসরায়েলের অন্তত এক নাগরিক নিহত ও আরও তিনজন আহত হয়েছেন। রোববার হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের চিকিৎসকরা এই তথ্য জানিয়েছেন বলে খবর দিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

প্রাথমিকভাবে ইসরায়েলের চিকিৎসকরা বলেন, লেবাননের আয়তা-আ-শাব এলাকার সীমান্তের অপরপাশের ইসরায়েলের শটুলা কৃষি খামারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলি এক নাগরিক নিহত ও তিনজন আহত হয়েছেন।

ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী বলেছে, হামলার জবাবে লেবাননের ভূখণ্ডে গোলাবর্ষণ করা হয়েছে। একই সাথে লেবানন সীমান্ত লাগোয়া ইসরায়েলি ভূখণ্ডের ৪ কিলোমিটার এলাকায় ‘নিরাপদ অঞ্চল’ ঘোষণা করা হয়েছে। এই এলাকায় জনসাধারণের চলাচল সীমিত করেছে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী।

তিনটি নিরাপত্তা সূত্র রয়টার্সকে নিশ্চিত করে বলেছে, লেবাননের দক্ষিণের কয়েকটি এলাকায় গোলাবর্ষণ করেছে ইসরায়েল।

• সীমান্তে নিরাপদ অঞ্চল ঘোষণা ইসরায়েলের

রোববার ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) বলেছে, উত্তরাঞ্চলে লেবানন সীমান্তের কাছে ইসরায়েলি ভূখণ্ডে চার কিলোমিটার এলাকায় ‘নিরাপদ অঞ্চল’ ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে ওই এলাকার বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। একই সাথে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সেখানে বেসামরিক নাগরিকদের চলাচল সীমিত থাকবে।

আইডিএফ বলছে, উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্তে ক্রমাগত রকেট হামলা, অনুপ্রবেশের চেষ্টা এবং উত্তেজনার পর নিরাপদ অঞ্চল ঘোষণা করাটা প্রয়োজনীয় হয়ে পড়েছিল। সীমান্তের দুই কিলোমিটারের মধ্যে যারা বসবাস করেন, তাদের বোমা হামলা থেকে বাঁচতে আশ্রয়কেন্দ্র ও নিরাপদ কক্ষে অবস্থান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জেরুজালেম পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার সকালের দিকে ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলের মোশাভ এলাকার বাসিন্দাদের তাৎক্ষণিকভাবে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়েছে। পরবর্তীতে কিরিয়াত শমোনা পৌরসভা সীমান্তে হিজবুল্লাহর সাথে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলি বিনিময়ের পর সীমান্তের এই শহরের বাসিন্দাদের আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়াও ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলের ইফতাচ, মেনারা, মায়ান বারুচ, মিসগাভ আম, ইয়েরন, বার’আম, জিভন, ড্যান, দাফনা, স্নির এবং কাফার হাগিলাদির পাশাপাশি কিবুতজিমের বাসিন্দাদেরও রোববার সকালে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে আইডিএফ।

সূত্র: রয়টার্স, জেরুজালেম পোস্ট।

হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধে নিহত ১১ সাংবাদিক

হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধে নিহত ১১ সাংবাদিক

ডেস্ক রিপোর্ট:

অব্যাহত বিমান হামলা, স্থল লড়াই আর ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিভ্রাটের মাঝে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধের সংবাদ পরিবেশন সাংবাদিকদের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক করে তুলেছে। শনিবার সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষায় সোচ্চার বৈশ্বিক সংগঠন কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে) বলেছে, হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধে এক সপ্তাহে অন্তত ১১ সাংবাদিক নিহত হয়েছেন।

সংগঠনটি বলছে, নিহত সাংবাদিকদের মধ্যে ৯ জন ফিলিস্তিনি, একজন লেবানন এবং একজন ইসরায়েলি বংশোদ্ভূত। এছাড়া যুদ্ধের সংবাদ সংগ্রহের সময় ইসরায়েলি এক সাংবাদিক নিখোঁজ এবং আরও অনেকে আহত হয়েছেন।

চলমান যুদ্ধে গাজা উপত্যকায় অথবা এর কাছের এলাকায় নিহত, আহত এবং নিখোঁজ অন্যান্য সাংবাদিকদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এই সংগঠন। সিপিজে বলছে, শুক্রবার লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর গোলার আঘাতে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের একজন ভিডিওগ্রাফার নিহত এবং আরও কমপক্ষে ৬ সাংবাদিক আহত হয়েছেন।

কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টসের মধ্যপ্রাচ্য সমন্বয়ক শেরিফ মনসুর বলেছেন, গাজার সাংবাদিকরা সেখানকার তথ্য সংগ্রহ এবং প্রকাশের চেষ্টা করছেন। একই সঙ্গে তাদের পরিবারের সদস্যদের যুদ্ধের ময়দান থেকে সরিয়ে নেওয়া এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যাপক লড়াই করছেন।

তিনি জানান, ইসরায়েলি হামলায় অনেক সাংবাদিক তাদের বাড়িঘর এবং অফিস হারিয়ে ফেলেছেন। বর্তমানে অনেকে হাসপাতালে থেকে কাজ করছেন। কারণ সাংবাদিকের কাজের জন্য এখন এটাই একমাত্র জায়গা; যেখানে তারা বিদ্যুৎ এবং ইন্টারনেট পরিষেবা পেতে পারেন।

সিপিজে বলছে, গাজার সাংবাদিকরা চলমান বিমান হামলার মাঝে সংবাদ সংগ্রহ এবং পরিবেশনে উচ্চ ঝুঁকির মুখোমুখি হয়েছেন।

শেরিফ মনসুর জানায়, সাংবাদিকরা সংকটের সময় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। বেসামরিক ব্যক্তি এবং যুদ্ধরত পক্ষগুলোর সাংবাদিকদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা উচিত নয়। সাংবাদিকরা এই গুরুত্বপূর্ণ সংঘাতের খবর পরিবেশনের জন্য অঞ্চলজুড়ে ব্যাপক ত্যাগ স্বীকার করছেন। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সবপক্ষকে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

সুত্র: ওয়াশিংটন পোস্ট, আনাদোলু।

ইসরায়েলি আগ্রাসনের প্রতিবাদে দেবিদ্বারে বিক্ষোভ

ইসরায়েলি আগ্রাসনের প্রতিবাদে দেবিদ্বারে বিক্ষোভ

দেবিদ্বার প্রতিনিধি :

মুক্তিকামী ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতা সংগ্রামের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে দেবিদ্বারে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার জুমা নামাজের পর উপজেলার মোহাম্মদপুরে এই বিক্ষোভ হয়। এতে ওই এলাকার শতাধিক ধর্মপ্রাণ মুসল্লী অংশগ্রহণ করেছেন।

দেখা গেছে, মোহাম্মদপুর বাইতুল আমান কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ সামনে থেকে ভিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়। মিছিলটি ওই এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে মোহাম্মদপুর মাদ্রাসা মার্কেটে এসে শেষ হয়। মিছিলে আগ্রাসনের প্রতিবাদে বিভিন্ন পোস্টার, ফেস্টুন নিয়ে স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত করে তুলেন পুরো এলাকা। পরে মোহাম্মদপুর মাদ্রাসা মার্কেটের সামনে প্রতিবাদ সভা হয়।

বক্তারা বলেন, বায়তুল মুকাদ্দাস মুসলমানদের স্মৃতিবিজড়িত পবিত্র স্থান। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে দখলদার ইসরায়েল ফিলিস্তিনের ওপর আগ্রাসন চালিয়ে আসছে। ইসরায়েলি আগ্রাসন থেকে ফিলিস্তিনিদের মুক্তি দিতে হবে।

সাংবাদিক মোঃ শাহজালাল ও আবুল হোসেনের সঞ্চালায় বক্তব্য রাখেন, সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ্ ভূইয়া, অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম, মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন সরকার, মাওলানা আবদুস ছামাদ, মাওলানা মাহফুজুর রহমান,মাওলানা তানভীরুল ইসলাম খান,মাওলানা ইব্রাহিম খলিল প্রমুখ।

এবার লেবাননে হামলা শুরু করল ইসরায়েল

এবার লেবাননে হামলা শুরু করল ইসরায়েল

ডেস্ক রিপোর্ট:

‘ইসরায়েলের ভূখণ্ডে কয়েক মিনিট আগে গুলি চালানোর’ পরে লেবাননে আর্টিলারি হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী এ কথা বলেছে।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী বলেছে, ইসরায়েলের ভূখণ্ডে লেবানন থেকে কিছুক্ষণ আগে গুলি চালানোর পর থেকে তারা লেবাননে আর্টিলারি হামলা চালাচ্ছে।

গাজার সরকারি কর্মকর্তারা বলছে, গাজায় নিহত মানুষের সংখ্যা ২৩০–এরও বেশি।

আহত হয়েছেন আরো ১ হাজার জন। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী অবরুদ্ধ গাজার সাতটি এলাকার বাসিন্দাদের ঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে বলেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছেন যে কয়েক ডজন পরিবার তাদের বাড়িঘর ছেড়ে জাতিসংঘ পরিচালিত স্কুলে আশ্রয় নিতে শুরু করেছে। এমন পরিস্থিতি বিশ্ব নেতারা সংযমের আহ্বান জানালেও, অনেক পর্যবেক্ষক ধারণা করছেন, গাজায় বড়সড় হামলার ঘটনা ঘটতে পারে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) গাজাবাসী ইসরায়েলের বিমান হামলার বর্ণনা দিয়েছেন। তারা বলছেন, ইসরায়েল নির্বিচারে হামলা চালাচ্ছে।

আলজাজিরা বলছে, গাজার বাসিন্দারা অন্ধকার ও অনিশ্চয়তার মধ্যে রাত কাটিয়েছে। কারণ ইসরায়েল এই অঞ্চলে বিদ্যুৎ লাইন কেটে দিয়েছে।

এই অন্ধকারের মধ্যেই তীব্র বোমাবর্ষণ করেছে ইসরায়েল। গাজার একটি ১৪ তলা ভবনেও হামলা চালানো হয়েছে। এই ভবনটিতে হামাসের কার্যালয় রয়েছে।

এদিকে, হামাসের পলিটিকাল ব্যুরোর ডেপুটি চিফ সালেহ আল-আরোরি আলজাজিরাকে বলেছেন, হামাস ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাসহ বিপুল সংখ্যক ইসরায়েলিকে বন্দী করে রেখেছে। ইসরায়েলি জেলে থাকা সমস্ত ফিলিস্তিনিকে মুক্ত করতে হামাসের কাছে পর্যাপ্ত ইসরায়েলি বন্দী রয়েছে।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর বরাত দিয়ে বিবিসি বলেছে, ‘উল্লেখযোগ্য সংখ্যক’ ইসরায়েলি বেসামরিক ও সৈন্যকে হামাসের হাতে জিম্মি রয়েছে।

জেরুজালেম পোস্টের সামরিক বিশ্লেষক ইয়োনাহ জেরেমি বব বলেছেন, এক বা দুই দিনের মধ্যে ইসরায়েলের বিশাল শক্তি দেখাবে। গাজায় হামাস বাহিনীকে পরাস্ত করতে সক্ষম হবে তারা।

সূত্র: বিবিসি, আলজাজিরা।

হামাস কেন আকস্মিক আক্রমণ করলো ইসরায়েলে ?

হামাস কেন আকস্মিক আক্রমণ করলো ইসরায়েলে ?

ডেস্ক রিপোর্ট:

ইসরায়েলে স্থল, সমুদ্র ও আকাশপথে আকস্মিক হামলা শুরুর পর গাজার ক্ষমতাসীন সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস এবং ইসরায়েল কার্যত আরেকটি প্রাণঘাতী যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে। শনিবার সকালে শুরু হওয়া হামাসের হামলায় এখন পর্যন্ত ২২ ইসরায়েলি নিহত এবং কয়েকশ আহত হয়েছেন বলে ইসরায়েলের গণমাধ্যমের খবরে জানানো হয়েছে। এই হামলার জবাবে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় বিমান হামলা শুরু করেছে ইসরায়েল। ইসরায়েলি হামলায় সেখানে শত শত মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

কিন্তু হঠাৎ করে কেন ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধের ঘোষণা দিয়ে হামলা শুরু করল হামাস?

কী ঘটছে এবং কখন?

• ফিলিস্তিনের সশস্ত্র ইসলামপন্থি গোষ্ঠী হামাস শনিবার ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন আল-আকসা ফ্লাড’ শুরু করেছে। ২০২১ সালের ১১ দিনের এক যুদ্ধের পর এবারের এই সংঘাত সবচেয়ে ভয়াবহ হিসেবে দেখা দিয়েছে।

• হামাস বলছে, হামলা শুরুর প্রথম ২০ মিনিটের মধ্যেই ইসরায়েলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ৫ হাজারের বেশি রকেট-ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। ইসরায়েলের ভূখণ্ডে হামাসের ঢুকে পড়ার তথ্য নিশ্চিত করেছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী।

• ইসরায়েলের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ড্যানিয়েল হাজারি বলেছেন, হামাসের যোদ্ধারা স্থল, সমুদ্র এবং আকাশপথে আক্রমণ শুরু করেছে।

• হামাসের প্রথম দফার রকেট হামলা শুরু হয় স্থানীয় সময় শনিবার সকাল সাড়ে ৬টায়।

• গাজা উপত্যকায় হামাসের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন আয়রন সোর্ডস’ শুরু করার দাবি জানিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।

কোথায় হামলা হয়েছে?
• ইসরায়েলের তেলআবিব শহরের উত্তরে রকেট হামলা হয়েছে। এছাড়া ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলের একাধিক শহরে যোদ্ধাদের পাঠিয়েছে হামাস।

• ইসরায়েলি গণমাধ্যম বলছে, দেরত শহরে চলন্ত গাড়িতে বেসামরিকদের লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে হামাসের বন্দুকধারীরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসা ভিডিওতে দেখা যায়, হামাসের সশস্ত্র যোদ্ধারা ইসরায়েলি শহরে গাড়ি নিয়ে ঢুকছে। তারা আশপাশের বিভিন্ন ভবন ও পথচারীদের ওপর গুলি ছুড়ছে।

• হামাসের যোদ্ধারা একাধিক ইসরায়েলি বেসামরিক কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। সেখানকার বাসিন্দারা ইসরায়েলি সরকারের সহায়তা চেয়ে আকুতি জানিয়েছে।

• ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বলেছে, তাদের একাধিক যুদ্ধবিমান গাজা উপত্যকায় হামাসকে লক্ষ্য করে অভিযান শুরু করেছে।

• বর্তমানে ইসরায়েলের ফার আজা, দেরত, সুফা, নাহাল ওজ, মাজেন, বে’ইরি ও রিম শহরে হামাসের যোদ্ধাদের সাথে ইসরায়েলি বাহিনীর সংঘর্ষ চলছে বলে জানিয়েছে টাইমস অব ইসরায়েল।

ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনে কতজন হতাহত?
• স্থানীয় গণমাধ্যমে হামাসের হামলায় ২২ ইসরায়েলি নিহত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। ইসরায়েলের জরুরি সেবা সংস্থা ৫০০ জনের বেশি মানুষের আহত হওয়ার তথ্য দিয়েছে।

• তুরস্কের সংবাদ সংস্থা আনাদোলু বলছে, হামাস এবং ইসরায়েলি বাহিনীর সংঘাতে অন্তত ৪ ফিলিস্তিনি নিহত ও আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন।

ইসরায়েলে হামাসের আক্রমণ কেন?
• হামাসের মুখপাত্র খালেদ কাদোমি আলজাহজিরাকে বলেছেন, গত কয়েক দশক ধরে ফিলিস্তিনিরা যে নৃশংসতার মুখোমুখি হয়েছে, তার জবাবেই হামাস সামরিক অভিযান শুরু করেছে।

• তিনি বলেন, আমরা গাজা উপত্যকায়, ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর ও আমাদের পবিত্র স্থাপনা আল-আকসায় ইসরায়েলি নৃশংসতার অবসানে বিশ্ব সম্প্রদায়ের সহায়তা চাই। এই লড়াই শুরুর পেছনের কারণ এসবই।

• হামাসের সামরিক কমান্ডার মোহাম্মদ দেইফ বলেছেন, ‘এই পৃথিবীর শেষ দখলদারিত্বের অবসানের সর্বশ্রেষ্ঠ যুদ্ধের দিন আজ।’ ইসরায়েলে হামলা শুরুর কয়েক মিনিটের মধ্যে ৫ হাজার রকেট ছোড়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

• আজ প্রত্যেকের বন্দুক হাতে তুলে নেওয়া উচিত। সেই সময় এসে গেছে, বলেন দেইফ।

• টেলিগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে হামাস ‘পশ্চিম তীরে প্রতিরোধ যোদ্ধাদের’ পাশাপাশি আরব ও ইসলামি দেশগুলোকে যুদ্ধে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

কী বলছে ইসরায়েলের সরকার?
• ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী গাজা উপত্যকার কাছাকাছি এলাকায় বসবাসকারী নাগরিকদের সতর্ক করে দিয়েছে। তাদের বাড়িঘরে অবস্থান অথবা আশ্রয় কেন্দ্রে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

• ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বলেছে, গত কয়েক ঘণ্টায় হামাসের যোদ্ধারা গাজা উপত্যকা থেকে ইসরায়েলি ভূখণ্ডে ব্যাপক পরিসরে রকেট নিক্ষেপ শুরু করেছে। সীমান্তের বিভিন্ন এলাকা দিয়ে ইসরায়েলে অনুপ্রবেশ করেছে হামাসের সদস্যরা। এই হামলার ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হবে হামাসকে।

• ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, তার দেশ যুদ্ধে রয়েছে। এই যুদ্ধে ইসরায়েল জিতবে।

• ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ বলেছেন, ইসরায়েল ‘অত্যন্ত কঠিন মুহূর্তের’ মুখোমুখি হয়েছে।

• ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্ট বলেছেন, ইসরায়েল এই যুদ্ধে জয়ী হবে। হামাস আজ সকালে একটি গুরুতর ভুল করেছে এবং ইসরায়েল রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেছে। আইডিএফের সৈন্যরা প্রত্যেকটি স্থানে শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াই করছে। আমি ইসরায়েলের সকল নাগরিককে নিরাপত্তার নির্দেশাবলী মেনে চলার আহ্বান জানাচ্ছি। ইসরায়েল এই যুদ্ধে জয়ী হবে।

স্থল লড়াইয়ের সর্বশেষ
• টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজা উপত্যকার সীমান্তের কাছে ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলের অন্তত সাতটি স্থানে হামাসের যোদ্ধাদের সাথে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর মুখোমুখি লড়াই চলছে।

• ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সদরদপ্তরে স্থানীয় সময় দুপুর ১টায় মন্ত্রিসভার জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া কী?
• চেক প্রজাতন্ত্রের অন্যতম মিত্র ইসরায়েলে হামাসের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে প্রাগ।

• ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রধান জোসেপ বোরেল ইসরায়েলের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন।

• ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় বলেছে, ইসরায়েল এবং এর জনগণের প্রতি সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা জানায় ফ্রান্স। চলমান এই সংঘাতে ইসরায়েলের প্রতি ফ্রান্সের পুরো সমর্থন আছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

• ইসরায়েলে হামাসের আকস্মিক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেমস ক্লেভারলি।

সূত্র: আলজাজিরা, টাইমস অব ইসরায়েল, এএফপি।