Tag Archives: গ্রেফতার

কুমিল্লায় বাড়ি থেকে ডেকে নেওয়ার ৭ দিন পর মিশুক চালকের লাশ উদ্ধার

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লায় বাড়ি থেকে ডেকে নেওয়ার ৭ দিন পর মো. পরান মিয়া নামে এক মিশুক চালকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

গত ১৭ মে নগরীর টিক্কারচর এলাকার নিজ বাড়ি থেকে ডেকে নেওয়া হয় ওই মিশুক চালককে।

পরদিন তার স্ত্রী মরিয়ম বেগম বাদী হয়ে ভোলা মিয়া নামের একজনকে আসামি করে কোতোয়ালি মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

শুক্রবার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের হাড়াতলী এলাকার একটি সিএনজি পাম্পের পাশ থেকে তার লাশ উদ্ধার করেছে ময়নামতি হাইওয়ে থানা পুলিশ। নিহত পরান মিয়ার (৪০) টিক্কারচর এলাকার বাসিন্দা।

পুলিশ এবং স্থানীয়রা জানান, গত ১৭ মে টিক্কারচর এলাকার মিশুক চালক পরান মিয়াকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায় একই এলাকার ভোলা মিয়া। একদিন পর বাড়ি ফিরে না আসায় তার স্ত্রী এবং পরিবারের সদস্যরা অনেক জায়গায় তাকে খোঁজাখুঁজি করেন। পরে কোতয়ালি মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়। তাকে ডেকে নেয়ার পর থেকে ভোলা মিয়া পালাতক রয়েছেন।

ময়নামতি ক্রসিং হাইওয়ে থানার এসআই খোরশেদ আলম জানান, শুক্রবার সকালে একটি অজ্ঞাত মরদেহ দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। এ সময় হাড়াতলী সিএনজি পাম্পের পাশ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে পরান মিয়ার স্ত্রী মরিয়ম বেগমসহ পরিবারের সদস্যরা এসে লাশ শনাক্ত করেন।

কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি ফিরোজ হোসেন জানান, এ ঘটনায় সন্দেহভাজনদের গ্রেফতারে পুলিশ অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

চৌদ্দগ্রামে আড়াই লাখ টাকা সহ আন্তঃজেলা অজ্ঞান পার্টির ২ সদস্য আটক

ফখরুদ্দীন ইমন:

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে জাতীয় জরুরী সেবা ৯৯৯ এর মাধ্যমে সংবাদ প্রাপ্তির মাত্র এক ঘন্টার মধ্যে বিশেষ অভিযান চালিয়ে চোরাই যাওয়া আড়াই লাখ টাকা সহ মো: নাছির উদ্দিন (৩৬) ও কামাল হোসেন (৪০) নামে আন্তঃজেলা অজ্ঞান পার্টির সক্রিয় দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশ।

আটককৃত মো: নাছির উদ্দিন নোয়াখালীর সেনবাগ থানাধিন পদুয়া গ্রামের মৃত লকিয়ত উল্লাহ এর ছেলে ও কামাল হোসেন একই থানাধিন হাজারী বাড়ী গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক এর ছেলে। বৃহস্পতিবার বিকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চৌদ্দগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ত্রিনাথ সাহা।

জানা গেছে, গত বুধবার সকাল সাড়ে আটটায় ভিকটিম ফেনী জেলার সদর উপজেলার বালিগাঁও গ্রামের মৃত দলিলুর রহমানের ছেলে মো: রবিউল হক সুমন (৪৫) একই গ্রামের তাহার পরিচিত মো: নুরুল আফছার এর ছেলে মো: নজরুল ইসলাম (৩৪) সহ ফেনী মহিপাল বাসস্ট্যান্ড থেকে লোকাল যাত্রীসেবা বাসে (ঢাকা মেট্রো-জ-১১-১৪১৮) করে কুরবানীকে সামনে রেখে গরু কিনার উদ্দেশ্যে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে চৌদ্দগ্রাম থানাধিন মীরশ্বানী গরু বাজারের যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওয়ানা করে। সকাল অনুমান দশটায় যাত্রীবাহী বাসটি মহাসড়কের চৌদ্দগ্রাম থানা এলাকার বাবুচি বাজারে থামলে ভিকটিম মো: রবিউল হক সুমনের মুখ হতে ফেনা বের হচ্ছে দেখে পিছন থেকে কয়েকজন যাত্রী শোরগোল শুরু করে। এ সময় সন্দেহজনক দুই ব্যক্তি গাড়ী থেকে দ্রুত নেমে যেতে চাইলে যাত্রীরা একজনকে আটক করে রাখে এবং অপর সন্দেহভাজন ব্যক্তি পালিয়ে যায়।

পরে জাতীয় জরুরী সেবা ৯৯৯ এর মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার মো: আব্দুল মান্নান (বিপিএম) এর নির্দেশনায় চৌদ্দগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ত্রিনাথ সাহার সার্বিক তত্বধানে থানার উপ-পরিদর্শক মোহাম্মদ ওসমান গণির নেতৃত্বে সঙ্গীয় ফোর্স সহ পুলিশের একটি টিম দ্রূতু ঘটনাস্থলে পৌঁছে জনতা কর্তৃক আটককৃত আসামী নাছির উদ্দিন ও তার কাছ থেকে উদ্ধারকৃত ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা পুলিশি হেফাজতে নেয়। পরে তথ্য প্রযুক্তি ও স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় উপজেলার ঘোলপাশা ইউনিয়নের বাবুচি বাজার জামে মসজিদের টয়লেট থেকে চোরাই যাওয়া ১ লাখ টাকা সহ অপর আসামী কামাল হোসেনকে আটক করে পুলিশ। এরপর চোরাই যাওয়া অর্থের মালিক মো: নুরুল আফছার চৌদ্দগ্রাম থানায় উপস্থিত হয়ে আটককৃত দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে এজাহার (মামলা নং-০১/০১.০৫.২০২৪ খ্রিস্টাব্দ) দায়ের করলে বৃহস্পতিবার দুপুরে তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, আটককৃত ০১ নং আসামী নাছির উদ্দিনের বিরুদ্ধে একটি ডাকাতির প্রস্তুতি মামলা, একটি চুরির মামলা এবং ০২নং আসামী কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে একটি চুরির মামলা বিজ্ঞ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ত্রিনাথ সাহা বলেন, ‘জাতীয় জরুরী সেবা ৯৯৯ এর মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে মাত্র এক ঘন্টার মধ্যেই চোরাই যাওয়া আড়াই লাখ টাকা সহ আন্তঃজেলা অজ্ঞান পার্টির দুই সদস্যকে আটক করা হয়েছে। এ সংক্রান্তে আটককৃতদের বিরুদ্ধে চৌদ্দগ্রাম থানায় মামলা দায়ের শেষে বৃহস্পতিবার তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ডাকাতির প্রস্তুতি ও চুরির একাধিক মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশ সার্বক্ষণিক তৎপর রয়েছে।’

ফখরুলের মুখে জানমালের নিরাপত্তার কথা বলাটা ভূতের মুখে রামনাম ছাড়া কিছু নয়: কাদের

ডেস্ক রিপোর্ট:

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, দেশ ধ্বংসের মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নে তৎপর বিএনপি। সূচনালগ্ন থেকেই বিএনপি অত্যাচার-নির্যাতনের স্টিমরোলার চালিয়ে দেশের জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকারের পথ রুদ্ধ করে রাজনীতি করে আসছে। সুতরাং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মুখে গণতন্ত্র ও সুশাসনের কথা বেমানান।

গণতন্ত্র ও ‍সুশাসন নিযে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বিবৃতির নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে এ মন্তব্য করেন ওবায়দুল কাদের।

বিবৃতিতে ওবায়দুল কাদের বলেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মুখে মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে কথা বলাটা ভূতের মুখে রামনাম ছাড়া কিছু নয়। একুশে আগস্টের গ্রেনেড হামলায় নির্বিচারে বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের যারা হত্যা করেছিল; যাদের পৃষ্ঠপোষকতায় জঙ্গিগোষ্ঠী ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট সারাদেশে সিরিজ বোমা হামলা চালিয়েছিল, যারা ১০ ট্রাক অস্ত্র আমদানি করেছিল, যারা অগ্নিসন্ত্রাস করে কয়েকশ নিরীহ মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করেছে, সেই খুনিদের দল যখন জননিরাপত্তা নিয়ে কথা বলে তখন জনগণ আরও ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে।

তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নির্বিচারে কাউকে গ্রেফতার করে হয়রানি করছে, এমন অভিযোগ ভিত্তিহীন। বিএনপির যেসব ক্যাডার অগ্নিসন্ত্রাস এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও জনগণের ওপর হামলার সঙ্গে জড়িত তাদের গ্রেফতার করাটা কোনোভাবেই হয়রানিমূলক হতে পারে না। সন্ত্রাসীদের আইন ও বিচারের মুখোমুখি করা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব ও কর্তব্য।

বিবৃতিতে ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, একথা আজ বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত ও প্রমাণিত যে, সফল রাষ্ট্রনায়ক বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার সাহসী নেতৃত্বে বাংলাদেশ সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

বাংলাদেশের মানুষের জানমালের নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। দেশের জনগণ যেকোনো সময়ের তুলনায় স্বস্তিতে বসবাস করছে। যেকোনো মূল্যে আমরা জনগণের শান্তি, নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধির জন্য কাজ করে যাব।

চৌদ্দগ্রামে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী সাবেক কাউন্সিলর বাদশা গ্রেফতার

চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি:

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর মো: ফরিদ উদ্দিন বাদশা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছে। আদালতের একটি মামলায় (মামলা নং-৩৮/২৪) তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকায় চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে। সে পৌরসভাধিন পশ্চিম চাঁন্দিকরার মৃত সুরুজ মিয়ার ছেলে। বৃহস্পতিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার উপ-পরিদর্শক মো: আব্দুল মতিন।

জানা গেছে, নিয়মিত ওয়ারেন্ট তামিলের অংশ হিসেবে চৌদ্দগ্রাম থানার উপ-পরিদর্শক মো: আব্দুল মতিনের নেতৃত্বে সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্স সহ বুধবার রাতে চৌদ্দগ্রাম পৌর এলাকার পশ্চিম চাঁন্দিশকরা গ্রামে বিশেষ অভিযান চালিয়ে গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত আসামী, পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর মো: ফরিদ উদ্দিন বাদশাকে তার নিজবাড়ী থেকে আটক করা হয়। এর আগেও তিনি বিভিন্ন মামলায় একাধিকবার গ্রেফতার হন বলে জানিয়েছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ত্রিনাথ সাহা বলেন, ‘ওয়ারেন্ট তামিলের অংশ হিসেবে থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে ওয়ারেন্টভুক্ত ফরিদ উদ্দিন বাদশা নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে থানা পুলিশ সদা তৎপর রয়েছে।’

কুমিল্লায় রোহিঙ্গাদের ভুয়া পাসপোর্ট তৈরী সহায়তাকারী ৩ জন গ্রেফতার

শাহ ইমরান:

কুমিল্লায় যৌথ অভিযানে রোহিঙ্গা নাগরিকের ভুয়া পাসপোর্ট তৈরী সহায়তাকারী ১৪ টি পাসর্পোট সহ ৩ জন গ্রেফতার করা হয়েছে।

শনিবার একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানায় কুমিল্লা জেলা পুলিশ।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার রোহিঙ্গা নাগরিকের পাসপোর্ট তৈরির মামলা সংক্রান্তে গ্রেফতারকৃত মুল আসামী রোহিঙ্গা নাগরিক মোঃ ইয়াছির (১৯) কে আদালতে প্রেরণ করলে আদালতে সে তাকে সহায়তাকারী ব্যক্তিদের নাম প্রকাশ করে জবানবন্দি প্রদান করে।

উক্ত জবানবন্দির সূত্র ধরে কুমিল্লা ডিবি ও কোতয়ালী থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে ফয়সাল মিয়া (২৬), সন্দিগ্ধ আসামী মোশারফ (৩৫) ও শরীফ (২৫) কে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত আসামী মোঃ ফয়সাল মিয়া মুরাদনগর থানার ব্রাহ্মণচাপিতলা গ্রামের শফিক মিয়ার ছেলে, অপর আসামী মোশারফ হোসেন কোতয়ালী থানার আড়াইওরা পশ্চিম পাড়া গ্রামের আবুল বাশার মিস্ত্রি ছেলে এবং মোঃ শরিফুল ইসলাম শরিফ মুরাদনগর থানার বাখরনগর গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে।

পরে গ্রেফতারকৃত আসামী ফয়সাল মিয়াকে রিমান্ডের আবেদনসহ আদালতে প্রেরণ করা হয়।

পুলিশ আরো জানায়, সন্দিগ্ধ আসামী মোশারফকে কুমিল্লা কোতয়ালী থানাধীন নোয়াপাড়া এলাকা হতে গ্রেফতারকালে তার প্রতিষ্ঠান আল-মদিনা ট্যুর এ্যান্ড ট্রাভেলস হতে ৬ টি ভুয়া পাসপোর্ট ও পাসপোর্ট জমার স্লিপ উদ্ধার করা হয়।

এ সংক্রান্তে কোতয়ালী মডেল থানায় পাসপোর্ট আইনে আলাদা একটি মামলা রুজু প্রকৃয়াধীন।

পুলিশ জানায়, ভুয়া পাসপোর্ট তৈরিতে সহয়তাকারী অপর আসামী কম্পিউটার অপারেটর শরীফকে মুরাদনগর কোম্পানীগঞ্জ এলাকায় নকিব ট্রাভেলস হতে গ্রেফতারকালে তার প্রতিষ্ঠান হতে ৮ টি ভুয়া পাসপোর্ট ও কিছু পাসপোর্ট জমার কাগজপত্র উদ্ধার করা হয়।

অভিযানকালে প্রতিষ্ঠানের মালিক নাসির উল্ল্যাহ কৌশলে পালিয়ে যায়। এ সংক্রান্তে গ্রেফতারকৃত ও পলাতক আসামীদের বিরুদ্ধে মুরাদনগর থানায় পাসপোর্ট আইনে অপর একটি মামলা রুজু প্রকৃয়াধীন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ছিনতাইকারী চক্রের ৬ সদস্য গ্রেফতার

ডেস্ক রিপোর্ট:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ছিনতাইয়ের অভিযোগে দুই ভাইসহ ছিনতাইকারী চক্রের ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। বৃহস্পতিবার তাদেরকে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সুলতানপুরের শেখ অবুজ (২৫) ও শেখ সবুজ (২৮), শহরের কান্দিপাড়ার পিয়াস (৩০), শিপন মিয়া (২৮), সুলতানপুরের হৃদয় (২৩) ও আওয়াল মিয়া (৪০)।

র‌্যাব-৯ ব্রাহ্মণবাড়িয়া ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মেজর জালিশ মাহমুদ খান জানান, ৩০ ডিসেম্বর দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সুলতানপুর থেকে বেকারীর মালামাল তৈরি করার জন্য পিকআপ ভ্যানে ২০ বস্তা চিনিসহ ভাদুঘর ভিআইপি বেকারীর দিকে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে ৬ জন ব্যক্তি ৩টি মোটরসাইকেল যোগে এসে পিকআপটি গতিরোধ করে নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে কৌশলে পিকআপসহ অপহরণ করে নিয়ে যায়।

পিকআপে থাকা চালককে মারধর ও অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে নগদ ৫০ হাজার জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয় এবং বিকাশের মাধ্যমে আরো প্রায় ৪০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এই ঘটনায় মামলা দায়েরের পর র‌্যাব তদন্ত শুরু করে। পরে অভিযানে এই ঘটনায় জড়িত জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ৬জন ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করা হয়।

কুমিল্লা তিতাসের চাঞ্চল্যকর মোস্তফা কামাল হত্যার ২ আসামি গ্রেফতার

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লায় ডাকাতির টাকা পয়সা ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে মোস্তফা কামাল নামের একজনকে খুন করা হয়েছে। ১৮ ডিসেম্বর দুপুরে উপজেলার নারান্দিয়া ইউনিয়নের নয়াচর গ্রামের হোরন মিয়ার চায়ের দোকানের সামনে তাস খেলার মাঝে এ ঘটনা ঘটে।

রোববার (৩১ ডিসেম্বর)  দুপুরে  কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার মো. আব্দুল মান্নান সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

গ্রেফতার দুই আসামি হলেন, এজাহারনামীয় আসামি তিতাস উপজেলার খোশকান্দি গ্রামের মো. নাজিম উদ্দীন (৩৯) ও রুমন ব্যাপারী ওরপে সুমন।

জেলা পুলিশ সুপার আব্দুল মান্নান বলেন, হত্যাকাণ্ডের শিকার মোস্তফা কামাল (৩৩) ও এজাহারভুক্ত আসামি সাইদুল(৩৬), নাজিম উদ্দিন(৩৯) ও মো. মাইন উদ্দীন একই গ্রামের বাসিন্দা। তারা সবাই আন্ত:জেলা ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য। কিছুদিন পূর্বে ডাকাতির টাকা পয়সা ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে মোস্তফা কামালের সাথে সাইদুল, নাজিম ও মাইন উদ্দীনের কথা কাটা-কাটি ও একপর্যায়ে মারামারি হয়। এই প্রেক্ষিতে সাইদুল, নাজিম ও মাইন উদ্দীন ভিকটিম মোস্তফা কামালের উপর ক্ষুব্ধ ছিল। এতে তাদের মাঝে বিরোধ তৈরি হয়।

গত ১৮ ডিসেম্বর দুপুরে নারান্দিয়া ইউনিয়নের নয়াচর গ্রামের হোরন মিয়ার চায়ের দোকানের সামনে তাস খেলছিল। এসময় আসামি সাইদুল ও নাজিম উদ্দীন মোস্তফা কামালকে ঘাড়ে, মাথায় ও কপালে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে। পরে আসামিরা আত্মগোপনে চলে যায়। এঘটনার পর তিতাস উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামের রুজিনা আক্তার (৩১) স্বামী হত্যার বিচার চেয়ে বাদী হয়ে তিতাস থানার মামলা দায়ের করে। গত ৩০ ডিসেম্বর হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত মোঃ নাজিম উদ্দীনকে (৩৯) ও পরে রুমনকে পুলিশ গ্রেফতার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে উক্ত হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খন্দকার আশফাকুজ্জামান, মো. নাজমুল হাসান, জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাজেশ বড়ুয়া।

মুরাদনগরে কুপিয়ে আহতের ২০দিন পর প্রবাসীর স্ত্রীর মৃত্যু

মুরাদনগর প্রতিনিধি:

কুমিল্লার মুরাদনগরে বাসায় ডুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে কুপিয়ে
আহত করার ২০দিন পর দুবাই প্রবাসীর স্ত্রী সুমি বেগম মারা গেছে। মঙ্গলবার
ভোরে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি
মৃত্যুবরন করেন। নিহত সুমি বেগম(৪১) দুবাই প্রবাসী ইউনুছ মিয়ার স্ত্রী।

একাধিক সুত্রে অর্থের বিনিময়ে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে
বলে নিশ্চিত করলেও হামলার তিন সপ্তাহে পেছনের মূলহোতা এবং এরসাথে জড়িত
আর কাউকে গ্রেফতার বা হামলার রহস্য উদঘাটন করেত পারেনি পুলিশ। এই নিয়ে
জনমনে বিরুপ প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

জানা যায়, গত (০৮ই নভেম্বর) বুধবার রাতে উপজেলার নবীপুর পশ্চিম ইউনিয়নের
রহিমপুর গ্রামের জিয়ার বাঁধ এলাকায় সুমি বেগম নামের এক দুবাই প্রবাসীর
স্ত্রীকে বাসায় ডুকে হত্যার উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করে
সন্ত্রাসীরা।

এসময় তার শোর-চিৎকারে স্থানীয়রা গিয়ে তাকে শরীরের
বিভিন্নস্থানে কোপানো ও রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পায়। তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে
প্রেরণ করেন। সুমি বেগম কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন
ছিলেন। এঘটনায় হামলাকারীদের একজন রহিমপুর গ্রামের মৃত আলী আজগর
ভান্ডারীর ছেলে জাবেদ (৩১)কে আটক ও হামলায় ব্যবহৃত ধারালো ছুরিটি উদ্ধারসহ
তাকে কারাগারে পাঠিয়েছে মুরাদনগর থানা পুলিশ। ভিকটিম সুমি বেগম বাদী
হয়ে থানায় মামলা দায়ের করে ছিলেন।

এব্যাপারে মুরাদনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) প্রভাষ চন্দ্র ধর বলেন, সুমি
বেগমের মৃত্যুর খবর পেয়ে সুরতহাল করার জন্য মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে কুমিল্লা
মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠনো হয়েছে। এখন এটি হত্যা মামলা হবে। দ্রুত
রহস্য উদঘাটন করা হবে এবং ঘটনায় জড়িত কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মুরাদনগর সার্কেল) পীযুষ চন্দ্র দাষ বলেন, টাকার বিনিময়ে
হামলার ঘটনা ঘটে থাকলে তদন্তের মাধ্যমে জড়িত সকলকে আইনের আওতায় আনা
হবে। কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।