Tag Archives: আসামি

চৌদ্দগ্রামে মাদক মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেফতার

 

চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি :

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে র‌্যাব-১১, সিপিসি-০২ এর বিশেষ অভিযানে আসলাম মিয়া নামের মাদক মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত এক আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

গ্রেফতার হওয়া আসলাম মিয়া উপজেলার জগন্নাথদীঘি ইউনিয়নের সাতঘরিয়া গ্রামের মৃত নুরু মিয়ার ছেলে।

মঙ্গলবার (০৩ মার্চ) দুপুরে তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লার র‌্যাব-১১, সিপিসি-০২ এর উপ-পরিচালক সাদমান ইবনে আলম।

তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার ভোর রাতে র‌্যাব-১১, সিপিসি-০২ এর একটি আভিযানিক দল চৌদ্দগ্রাম উপজেলার জগন্নাথদীঘি ইউনিয়নের সাতঘরিয়া এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় মাদক মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি আসলাম তার নিজ বাড়িতে অবস্থান করছে বলে আমাদের কাছে খবর আসে। তাৎক্ষনিক র‌্যাব সদস্যরা আসামির বাড়িতে অভিযান চালিয়ে মাদক মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি মো. আসলাম মিয়াকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

র‌্যাবের প্রাথমিক অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, গ্রেফতারকৃত আসামি কুমিল্লা আদালত কর্তৃক মামলার রায় ঘোষণার পর সাজা এড়াতে আত্মগোপনে চলে যায় এবং বিভিন্ন জায়গায় সু-কৌশলে আত্মগোপনে থাকে। গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে সাজা কার্যকরের জন্য আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

নোয়াখালীতে ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় মামলা: আসামি ৬৩

নোয়াখালীতে ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় মামলা: আসামি ৬৩

নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ

নোয়াখালীতে  ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল করার ঘটনায় সংগঠনটির ৬৩ নেতাকর্মিকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে ৬জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শুক্রবার (১ আগস্ট) বিকেলে মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেন বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিটন দেওয়ান।

তিনি বলেন, ৪৩ জনের নাম উল্লেখ করে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশ বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করে। এছাড়া মামলায় অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে ১৫-২০জনকে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, চৌমুহনী পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের করিমপুর এলাকার নুর নবী ওরফে রাজু (৩১) ও আবদুল আহাদ (১৮), শরিফুল ইউনিয়নের বাবুনগর গ্রামের মো. শ্রাবণ (১৯), চৌমুহনী পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের গনিপুর গ্রামের জাহিদুল হাসান (১৯) ও সদর উপজেলার ১৯ নম্বর পূর্ব চরমটুয়া ইউনিয়নের চর কাউনিয়া গ্রামের মো. আরমান (১৯)।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে পৌনে ৪টার দিকে উপজেলার চৌমুহনী রেললাইন থেকে হাসান সড়ক এলাকায় ২৫ থেকে ৩০ জন কিশোর–তরুণকে কয়েকটি ফেস্টুন ও একটি ছাত্রলীগের ব্যানারে মিছিল করতে দেখা যায়। মিছিলে তারা অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে এবং শেখ হাসিনা ফিরবে বলে স্লোগান দেন। এতে নেতৃত্ব দেন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ কর্মি জিহাদ হাসান রতন। পরে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা নাজমুল শিহাব ঝটিকা মিছিলের একটি ভিডিও নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে শেয়ার করেন। মিছিলের পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৬জনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে দুটি ফেস্টুন, তিনটি লাঠি উদ্ধার করা হয়।

বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিটন দেওয়ান আরও বলেন, এ ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ৫জন এজাহার নামীয় আসামি এবং আরেক আসামি এজাহারের বাহিরে। অপর আসামিদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।

ভাবিকে খুন

ভাবিকে খুন করে তাবলিগ জামায়াতে যান দেবর, অতঃপর গ্রেপ্তার

ভাবিকে খুন করে তাবলিগ জামায়াতে যান দেবর, অতঃপর গ্রেপ্তার

নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে এক গৃহবধূকে সড়কে পথ আটকে নির্মমভাবে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) দুপুরে আসামিকে নোয়াখালী চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা করা হয়। এর আগে, সোমবার নরসিংদী জেলার মনোহরদী থানাধীন মৌলভীবাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত সাইফুল সাইফুল্ল্যাহ ওরফে খালেদ (২৮) উপজেলার চৌমুহনী পৌরসভার ৯নম্বর ওয়ার্ডের পৌর হাজীপুর এলাকার চিরণভূঁইয়ার নতুন বাড়ির আব্দুল কাইয়ুম লিটন ওরফে ডিশ লিটনের ছেলে। নিহত শাহনাজ আক্তার পিংকি (৩০) উপজেলার চৌমুহনী পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পৌর হাজীপুর এলাকার নোয়াবাড়ির কুয়েত প্রবাসী জাহাঙ্গীর আলমের স্ত্রী এবং ২ ছেলের জননী।

জানা যায়, পারিবারিকভাবে ১৬ বছর আগে পিংকির সঙ্গে জাহাঙ্গীরের বিয়ে হয়। খালেদ পিংকির দূর সম্পর্কের চাচাতো দেবর হয় এবং একই বাড়ির বাসিন্দা। বছর খানেক আগে পিংকির ব্যবহৃত মোবাইল নষ্ট হয়ে যায়। স্বামী প্রবাসে থাকায় তার বড় ছেলের মাধ্যমে সেটি বাজার থেকে ঠিক করে আনতে দেয় খালেদকে। ওই সময় খালেদ মোবাইল থেকে পিংকির স্বামীকে পাঠানো ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও নিজের মুঠোফোনে নিয়ে নেয়। এরপর ওই ছবি ও ভিডিও দিয়ে পিংকিকে ব্ল্যাকমেইল করে সাত লাখ টাকা আদায় করে। একই কায়দায় পরকীয়া ও শারীরিক সম্পর্কে জড়ানোর চেষ্টা চালায়। এরপর সে আরও টাকা দাবি করে এবং পরকীয়ায় ব্যর্থ হয়ে গত মঙ্গলবার ১৭ ডিসেম্বর বেলা সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার চৌমুহনী পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের হাজীপুর এলাকার মাইল্যা বাদশা মিয়ার বাড়ির সামনের সড়কে পিংকিকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে খালেদ। একই সময়ে আসামি ভিকটিমের শ্বশুর রেজাউল হক (৮০) কেও কুপিয়ে জখম করে।

পুলিশ জানায়, ঘটনার পর পরই আসামি খালেদ ফেনী থেকে বাস যোগে সরাসরি ঢাকা কাকরাইল জামে মসজিদে গিয়ে তাবলিগ জামায়াতের সাথে যোগ দিয়ে আত্মগোপন করে। পরবর্তীতে ঢাকায় ৩ দিন তাবলিগ জামায়াত সম্পন্ন করে নরসিংদী জেলার মনোহরদী থানার মৌলভীবাজার এলাকার নলুয়া জামে মসজিদে গিয়ে তাবলীগে জামায়াতে যোগদান করে। বেগমগঞ্জ মডেল থানার আভিযানিক দল তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় আসামির অবস্থান নির্ণয় করে। পরে গতকাল সোমবার নলুয়া জামে মসজিদে তাবলীগ জামায়াত শেষ পর্যায়ে অপর মসজিদে যাওয়ার সময় তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

নোয়াখালীর পুলিশ সুপার (এসপি) মো.আব্দুল্লাহ আল ফারুক বলেন, আসামিকে নোয়াখালী চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। পুলিশ অপর আসামিদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চালাচ্ছে।

কুমিল্লায় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে

কুমিল্লায় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে চোরাকারবারী ও মানবপাচারকারী আসামি গ্রেফতার

কুমিল্লায় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে চোরাকারবারী ও মানবপাচারকারী আসামি গ্রেফতার

শাহ ইমরান:

ভারত (ত্রিপুরা)-বাংলাদেশ সীমান্তে চোরাকারবারী ও মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে এক আসামিকে গ্রেফতার করেছে কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা শাখার একটি চৌকস টিম।

বুধবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় কুমিল্লা জেলার ব্রাহ্মণপাড়া থানার শংকুচাইল বাজারে পাকা রাস্তার উপর থেকে কোতয়ালী মডেল থানার নিয়মিত মামলার আসামি মোঃ সুমন মিয়া মেম্বার (৩৬) গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত আসামি কুমিল্লার দক্ষিণ তেথা ভূমি এলাকার বাসিন্দা, তার পিতার নাম আলী আশরাফ ও মাতার নাম নেহারা বেগম।

জেলা গোয়েন্দা শাখা সূত্রে জানা গেছে, বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে বিভিন্ন থানায় অভিযান চালানোর সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। সুমন মিয়া মেম্বারের বিরুদ্ধে চোরাচালান ও মানবপাচারের একাধিক অভিযোগ রয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চোরাকারবারী ও মানবপাচার রোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

কুমিল্লায় জোড়া খুনের মামলায় ৬ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৭ জনের যাবজ্জীবন

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লা সদর দক্ষিণে ২০১৬ সালের একটি জোড়া খুনের মামলায় ছয়জনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে সাত আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (১৫ জুলাই) দুপুরে কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ চতুর্থ আদালতের বিচারক জাহাঙ্গীর হোসেন এ রায় দেন।

আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) জহিরুল ইসলাম সেলিম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন কুমিল্লা সদর দক্ষিণের ধনাইতরী গ্রামের আতর আলীর ছেলে তোফায়েল আহমেদ তোতা (৩৮), মৃত মমতাজ উদ্দিনের ছেলে কামাল হোসেন (৪৮), আব্দুর রহিমের ছেলে আলমগীর হোসেন (৩৮), ফরিদ উদ্দিনের ছেলে মো. মামুন (২৮), মৃত আনোয়ার আলীর ছেলে মো. বাবুল (৩৫) ও মৃত আনোয়ার আলীর হারুনুর রশিদ (৪৫)।

যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন কুমিল্লা সদর দক্ষিণের ধনাইতরীর মৃত জনাব আলীর ছেলে হায়দার আলী (৬৫), আব্দুর রহিমের ছেলে আবদুল মান্নান (৩২), মৃত মমতাজ উদ্দিনের ছেলে জামাল হোসেন (৪৫), মৃত আবদুল খালেকের ছেলে আবুল বাশার (২৮), মৃত আব্দুর রশিদের ছেলে জাকির হোসেন, মৃত আবদুল খালেকের ছেলে আবদুল কাদের (৩২) ও মৃত ইউসুফ মিয়ার ছেলে আব্দুল কুদ্দুস (৪৫)।

খালাসপ্রাপ্তরা হলেন একই গ্রামের মৃত মমতাজ উদ্দিনের ছেলে মো. আমান (৪০) ও গ্রাম চৌয়ারার জুনাব আলীর ছেলে সেলিম মিয়া (৫০)।

আদালত সূত্র জানায়, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ২০১৬ সালে ১২ আগস্ট রাত সোয়া ৮টার দিকে সদর দক্ষিণ উপজেলার ধনাইতরী এলাকায় গিয়াসউদ্দিন ও জামাল হোসেন নামের দুজনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহত গিয়াস উদ্দিনের ছেলে মামলা করেন। পরে ২০১৭ সালের ২০ আগস্ট তদন্তকারী কর্মকর্তা ১৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন। আজ রায় ঘোষণা করেন আদালত।

১৭ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার

নোয়াখালী প্রতিনিধি:

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে অস্ত্র মামলায় ১৭ বছরের সাজাপ্রাপ্ত ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক এক আসামিকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব-১১।

শনিবার (১ জুন) রাতে উপজেলার মিরওয়ারিশপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার আবুল কাশেম বাবুল (২৭) উপজেলার আমানউল্যাপুর ইউনিয়নের অভিরামপুর গ্রামের আরিফুর রহমানের ছেলে।

র‍্যাব জানায়, আসামি বাবুল একজন অস্ত্র ও মাদক ব্যবসায়ী। দীর্ঘদিন যাবত সে নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর জেলা এলাকায় অস্ত্র এবং মাদক ব্যবসা করে আসছিল।

২০১৯ সালের ৩০ মে তাকে আমানউল্যাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সামনে থেকে বেগমগঞ্জ থানার পুলিশ ১টি দেশীয় তৈরি পাইপগান, ২টি কার্তুজ ও ৫০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করে। যার পরিপ্রেক্ষিতে বেগমগঞ্জ থানায় তার বিরুদ্ধে একটি অস্ত্র ও একটি মাদক মামলা রুজু হয়। ওই অস্ত্র মামলায় আদালত দীর্ঘ শুনানি শেষে আসামি বাবুলকে ১৭ বছরের সশ্রম কারাদন্ডাদেশ প্রদান করেন। মামলার রায়ে সাজাপ্রাপ্ত হওয়ার পর থেকে সে গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপনে চলে যায়।

র‍্যাব-১১, সিপিসি-৩, নোয়াখালী কোম্পানি কমান্ডার (ভারপ্রাপ্ত) সহকারী পুলিশ সুপার মো. গোলাম মোর্শেদ বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে সাজাপাপ্ত ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বেগমগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

নোয়াখালীতে লুঙ্গিতে রক্তের দাগে ধরা পড়ল খুনি, অতঃপর

নোয়াখালী প্রতিনিধি:

নোয়াখালীর সুবর্ণচরে জেলে রিপন হত্যার রহস্য উদঘাটন ও মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-১১।

গ্রেপ্তার মো.জামাল উদ্দিন (৪০) উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের ৮নম্বর ওয়ার্ডের চরমাকছুমুল গ্রামের মো.মোস্তফা সওদাগরের ছেলে।

শনিবার (১ জুন) রাত পৌনে ৯টার দিকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন র‍্যাব-১১, সিপিসি-৩, নোয়াখালী কোম্পানি কমান্ডার (ভারপ্রাপ্ত) সহকারী পুলিশ সুপার মো. গোলাম মোর্শেদ। এর আগে, গতকাল শুক্রবার ৩১ মে জেলার বেগমগঞ্জের চৌরাস্তা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত মঙ্গলবার ২৮ মে রাতে উপজেলার চরমাকছুমুল গ্রামের মেঘনা নদী সংলগ্ন এলাকায় এই হত্যা কান্ডের ঘটনা ঘটে।

নিহত মো.রিপন (৫২) উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের ৮নম্বর ওয়ার্ডের চরমাকছুমুল গ্রামের মৃত মো.হাবিব উল্ল্যার ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ মে নিজ বাড়ি থেকে রিপন ও তার ভগ্নিপতি জামাল পৃথক সময়ে মেঘনা নদীতে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। এরপর ২৯ মে দুপুর ২টার দিকে নিহত রিপনের বোনের স্বামী জামালবাড়িতে ফিরে আসে। বাড়িতে ফেরার পর তার স্ত্রী স্বামীর লুঙ্গিতে রক্ত লেগে থাকতে দেখে। এরপর জামাল ভোর বেলায় চট্টগ্রাম যাচ্ছে বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে ফিরে আসেনি।

নিহতের ছেলে আরমান হোসেন অভিযোগ করে বলেন, গত কিছু দিন আগে আমার ফুফা জামাল উদ্দিন ও তার সাঙ্গপাঙ্গরাসহ একটি মাছ ধরার ফিশিংবোট চুরি করে নিয়ে আসে। পরে বোটটি আমার বাবা স্থানীয় চেয়ারম্যানের সহযোগিতায় বোটটি মালিকের কেছে ফিরিয়ে দেয়। গত উপজেলা নির্বাচন শেষ হলে এলাকায় আমার ফুফা কয়েটি চুরির ঘটনা ঘটায়। বিষয়টি আমার বাবা স্থানীয়দের জানালে তারা তাকে পুলিশে সোপর্দ করে। এরপর ফুফা দুদিন জেল খেটে বেরিয়ে এসে আমার বাবাকে তার সহযোগী একই এলাকার দিদার, রবি, সোহাগ ও নিজামের সহযোগিতায় কুপিয়ে হত্যা করে মরদেহ মেঘনা নদীতে ফেলে দেয়।

র‍্যাব জানায়, গ্রেপ্তার আসামি জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার কথা স্বীকার করে বলেন, পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তার স্ত্রী এবং স্ত্রীর বড় ভাই ভিকটিম রিপনের সাথে তার বিরোধ চলে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় তাকে হত্যার পরিকল্পনা গ্রহণ করে। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গত ২৮ মে রাত ১১টার দিকে একটি লোহার রড নিয়ে উপজেলার শিউলী একরাম বাজার থেকে দক্ষিণে বেলাল কোম্পানী মসজিদের পাশে অন্ধকারে আড়ালে ওঁৎ পেতে থাকে। একপর্যায়ে ভিকটিম ঘটনাস্থলে পৌঁছল জামাল তার হাতে থাকা লোহার রড দিয়ে ভিকটিমের মাথায় আঘাত করলে ভিকটিম রাস্তায় পড়ে যায়। তখন বাজার থেকে কিছু পথচারী ঘটনাস্থলের রাস্তা দিয়ে আসতে দেখে ভিকটিমকে টেনে রাস্তার পাশে ডোবার পানিতে ফেলে দিয়ে আসামি জামাল বাড়িতে চলে যায়।

বাড়িতে এসে তার পরিহিত জামা কাপড় পরিবর্তন করে রাত দেড়টার দিকে পুনারায় ঘটনাস্থলে পৌঁছে রিপনের মৃত্যু নিশ্চিত দেখে লাশটি কাঁধে নিয়ে মেঘনা নদীর কিনারায় ফেলে দেয়। পরে তার স্ত্রীকে বিশেষ প্রয়োজনে চট্টগ্রামে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে আত্মগোপনে চলে যায়।

র‍্যাব-১১, সিপিসি-৩, নোয়াখালী কোম্পানি কমান্ডার (ভারপ্রাপ্ত) সহকারী পুলিশ সুপার মো. গোলাম মোর্শেদ বলেন, এ ঘটনায় নিহতের ছেলে আরমান হোসেন বাদী হয়ে চরজব্বর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। হত্যা মামলায় ধৃত আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চরজব্বর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

নোয়াখালীতে আগ্নেয়াস্ত্রসহ ৪ ডাকাত গ্রেপ্তার

নোয়াখালী প্রতিনিধি:

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ থানার পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৪ ডাকাতকে গ্রেপ্তার করেছে। এ সময় তাদের কাছ ১টি দেশীয় এলজি, ২টি ছোরা, ১টি গ্রিল কাটার, ১টি হাতুড়ি ও ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত ১টি সিএনজি উদ্ধার করা হয়।

মঙ্গলবার দিবাগত রাতে উপজেলার একাধিকস্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলো, সদর উপজেলার আন্ডারচর ইউনিয়নের পশ্চিম মাইজচরা গ্রামের কালা মিয়া ছৈয়াল বাড়ির মো.সুমন (৩৮) একই ইউনিয়নের পূর্ব মাইজচরা গ্রামের মো.সৈয়দ আলম (২৯), লক্ষীপুরের চর পোড়াগাছা ইউনিয়নের নোমানাবাদ কলোনীর মো.বেলাল হোসেন (৪০) চট্রগ্রামের কর্ণফুলী থানার চরলক্ষ্যা গ্রামের মোহাম্মদ নুর গোষ্ঠী নতুন বাড়ির সাইফুল ইসলাম (৩০)।

পুলিশ জানায়, গত ১৬ মে ভোর রাতের দিকে বেগমগঞ্জের লাকুড়িয়া কান্দি গ্রামের সিরাজ মিয়ার বাড়ির রুহুল আমিন মিয়ার টিনশেড বিল্ডিং ঘরে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ওই সময় অজ্ঞাতনামা ১০/১২ জন ডাকাত ঘরের লোকজনদের মারধরসহ অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে হাত-পা বেঁধে ঘরে থাকা ১৮ লাখ ৭৬ হাজার ২০০ টাকার মালামাল লুণ্ঠণ করে নিয়ে যায়। এ দুর্র্ধষ ডাকাতির ঘটনায় দায়েরকৃত এজাহারের ভিত্তিতে বেগমগঞ্জ মডেল থানার পুলিশ অভিযানে নামে।

জানা যায়, গতকাল মঙ্গলবার রাতে পুলিশ উপজেলার দূর্গাপুর ইউনিয়নের লক্ষ্মীনারায়ণপুর গ্রামের ফেনী-লক্ষ্মীপুর জাতীয় মহাসড়কের দক্ষিণ পাশে সরুগো পুল নামক স্থানে রাস্তার উপর চেকপোস্ট স্থাপন। ওই সময় চৌমুহনীর দিকে ২টি সিএনজি দ্রুত গতিতে আসতে দেখলে পুলিশ সিএনজি দুটি থামার জন্য সংকেত দেয়। থামানোর সংকেত দেওয়ার পরেও সিএনজটি ঘটনাস্থল থেকে চৌমুহনীর দিকে চলে যায়। পিছনের সিএনজির ড্রাইভারও সংকেত না মেনে দ্রুত গতিতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ সিএনজির পিছনে ধাওয়া করে। এ সময় সিএনজিতে থাকা ৪ জন আসামি কৌশলে পালিয়ে যায়। তাৎক্ষণিক পুলিশ ধাওয়া করে সিএনজিতে ড্রাইভার হিসেবে থাকা ১নং আসামি সুমনকে সিএনজিসহ আটক করে। পরে গ্রেপ্তার আসামির তথ্যমতে চৌমুহনী রেল স্টেশন ও চৌমুহনী ফলপট্রি থেকে অপর আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়।

নোয়াখালীর পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, গ্রেপ্তার ডাকাতেরা ডাকাতির ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথাও স্বীকার করে। আসামিদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে অপরাপর আসামি গ্রেপ্তারসহ লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারের জন্য অভিযান পরিচালনা অব্যাহত আছে।

গ্রেপ্তার আসামিরা পেশাদার ডাকাত। তারা বিভিন্ন সময় নোয়াখালী জেলার বিভিন্ন থানাসহ এর আশপাশের জেলা ও থানা সমূহে ডাকাতি করে বেড়ায়।

বিএনপির রাজনীতি টিকিয়ে রাখতে হলে আগে তারেক রহমানকে পরিত্যাগ করতে হবে: নানক