,

নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও কারিগরি শিক্ষায় দেশকে এগিয়ে নিতে হবে: কৃষিমন্ত্রী হাজী ইয়াছিন

আজকের কুমিল্লা ডট কম :
October 3, 2026
news-image

হাবিবুর রহমান মুন্না:

কৃষিকাজে কোনো লজ্জা নেই। মাঠে যেতে হবে, নিজের ফসল নিজেকেই উৎপাদন করতে হবে। সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে কৃষি উৎপাদন বাড়াতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিনুর রশীদ ইয়াছিন।

শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে কুমিল্লা টাউনহল মাঠে কুমিল্লা জেলা কারিগরি, ভোকেশনাল শিক্ষা ও ট্রেনিং ইনস্টিটিউশন ফোরাম (টিভিইটি) আয়োজিত তিন দিনব্যাপী কারিগরি শিক্ষা ও উদ্ভাবনী মেলার দ্বিতীয় দিনে অনুষ্ঠিত সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

‘টেকসই কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তার জন্য কারিগরি শিক্ষা এবং উদ্ভাবন’ শীর্ষক সেমিনারে কৃষিমন্ত্রী বলেন, “আমরা গরুর দুধ খাই, মাংস খাই, তাহলে গরুর গোবর ফেলতে কিসের লজ্জা? কৃষিকাজকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। আমাদের নিজেদের উৎপাদন বাড়াতে হবে এবং সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।”

বাংলাদেশের কৃষি সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, কৃষি উৎপাদনের জন্য বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম উর্বর অঞ্চল। এ দেশের মাটি, বাতাস, আলো ও বৃষ্টির অনুকূল পরিবেশ এবং মানুষের পরিশ্রম কৃষিকে এগিয়ে নেওয়ার বড় শক্তি। তবে ফসলে অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের কারণে জনস্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। বিজ্ঞানীদের গবেষণায় কৃষকদের মধ্যে ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকির বিষয়টিও উঠে এসেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, আগামীর প্রজন্মকে সুরক্ষিত রাখতে এবং নিজেদের সুস্থ রাখতে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। পৃথিবীতে খাদ্যের অভাব না থাকলেও নিরাপদ খাদ্যের (সেফ ফুড) বড় ঘাটতি রয়েছে। তাই কৃষি উৎপাদনের পাশাপাশি খাদ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও জরুরি।

কৃষিপণ্য রপ্তানির সম্ভাবনা ও সরকারের পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কৃষিপণ্যকে দেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানি পণ্য হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত বিদেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়নি। ভবিষ্যতে বাংলাদেশ পেঁয়াজসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য বিদেশে রপ্তানি করবে—এমন স্বপ্ন দেখছে সরকার।

তিনি আরও বলেন, দুঃখজনক হলেও সত্য, এখনো কাঁচা মরিচ, গাজর ও টমেটোর মতো কৃষিপণ্য আমদানি করতে হয়। তবে উৎপাদন বাড়াতে পারলে একসময় এসব পণ্য আর আমদানি করতে হবে না, বরং বাংলাদেশই রপ্তানি করতে পারবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ছুটির দিনে বাড়িতে গিয়ে মা-বাবার সঙ্গে কৃষিকাজে সহযোগিতা করছে—এমন দৃশ্য তাঁকে আশাবাদী করেছে বলেও জানান কৃষিমন্ত্রী।

এর আগে মেলায় প্রদর্শিত বিভিন্ন স্টল ও শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী প্রকল্প ঘুরে দেখেন কৃষিমন্ত্রী। এ সময় শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী উদ্যোগের প্রশংসা করেন তিনি।

কুমিল্লার জেলা প্রশাসক রোজী আক্তারের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. ইউসুফ মোল্লা টিপু। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কুমিল্লা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ভাইস প্রিন্সিপাল প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হাসান। স্বাগত বক্তব্য দেন কুমিল্লা কৃষি ও কারিগরি কলেজের অধ্যক্ষ পরমানন্দ গোস্বামী।

এ ছাড়া মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন সিসিএন শিক্ষা পরিবারের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. তারিকুল ইসলাম চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা টাউনহলের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুল কবীর, কুমিল্লা মডার্ন স্কুলের সভাপতি নিজাম উদ্দিন কায়সার, কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার, আদর্শ সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সফিউল আলম রায়হান, সিসিএন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মো. জামাল নাছের, লিবারেল আর্টস অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আলী হোসেন চৌধুরীসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সাংবাদিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।