All posts by jitu

বিএনপির সাহসের উৎস কোথায়, প্রশ্ন ওবায়দুল কাদেরের

ডেস্ক রিপোর্ট:

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘দেশের জনগণও বিএনপির সঙ্গে নেই, বিদেশি বন্ধুরা তাদের ছেড়ে চলে গেছে।’

আজ সোমবার দুপুরে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বাইডেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে লম্বা চিঠি পাঠিয়েছেন বাংলাদেশের সঙ্গে একযোগে কাজ করার জন্য। অর্থনৈতিক উন্নয়নের ব্যাপারে বিশেষভাবে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন তিনি।’

বিএনপির প্রতি প্রশ্ন রেখে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘এখন আপনারা (বিএনপি) কী বলবেন? কে আপনাদের ক্ষমতায় বসানোর জন্য আসবে? কে আমাদের (আওয়ামী লীগ) হটাতে আসবে? যাদের আশায় ছিলেন তারা তো এখন একসঙ্গেই কাজ করার জন্য এসেছেন। নেতারা তো অনেকেই পালিয়ে আছেন, অনেকে প্রকাশ্যে আসেন না। এখন আপনাদের সাহসের উৎস কোথায়? কে সাহায্য করবে? দেশের জনগণ আপনাদের থেকে সরে গেছে।’

তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে ২৮ টি রাজনৈতিক দল অংশ নিয়েছে। সংসদ বসেছে। অধিবেশনের শুরুতেই স্ট্যান্ডিং কমিটি পর্যন্ত হয়ে গেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুরো সংসদীয় স্ট্যান্ডিং কমিটি নিজ হাতে লিখেছেন।’

এসময় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, এস এম কামাল হোসেন, উপ দপ্তর সায়েম খান, কার্যনির্বাহী সদস্য সাহাবুদ্দিন ফরাজী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের অপেক্ষায় ৪০০ চাকমা, সীমান্তের ওপারে চলছে বিমান হামলা

ডেস্ক রিপোর্ট:

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম সীমান্তের ওপারে বেতবুনিয়া রাইট ক্যাম্প দখলে নিতে দেশটির সরকারি বাহিনী ও বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির মধ্যে প্রচণ্ড গোলাগুলি চলছে। এ গোলাগুলির মধ্যে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের অপেক্ষায় আছে ৪০০ চাকমা। আর ইতোমধ্যে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছে মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী পুলিশের (বিজিপি) ৯৮ জন সদস্য।

আজ সোমবার সকাল থেকে মিয়ানমার সরকারি বাহিনী আরাকান আর্মির অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান থেকে বোমা হামলা চালাচ্ছে। আরাকান আর্মির আক্রমণের মুখে বিজিপির ৯৮ জন সদস্য বাংলাদেশে পালিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। তারা বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) হেফাজতে রয়েছেন। বিজিবি পাহারায় গুলিবিদ্ধ ৯ জন বিজিপি সদস্যকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে, আজ দুপুরে মিয়ানমার থেকে ছোড়া মর্টারশেলে বাংলাদেশে দুজন নিহত হয়েছেন। বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুমের জলপায়তলী সীমান্তে এ ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে একজন বাংলাদেশি, অপরজন রোহিঙ্গা।

ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ১ নম্বর জলপায়তলীর ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

অন্যদিকে, মিয়ানমার সীমান্তে বসবাসকারী ৪০০ চাকমা খাদ্যাভাব এবং নিরাপত্তার ঝুঁকির কারণে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজারের শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) কমিশনার মো. মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, মিয়ানমারে দেশটির সরকারের জান্তা বাহিনীর সঙ্গে বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরকান আর্মির সংঘর্ষ চলছে। এতে মিয়ানমার সীমান্তে বসবাসকারীদের মধ্যে খাদ্যসংকট দেখা দিয়েছে এবং তাদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এই অবস্থায় তারা জীবন বাঁচাতে বাংলাদেশে ঢোকার চেষ্টা করছে।

এদিকে, সীমান্ত অতিক্রম করে মিয়ানমার থেকে কোনো রোহিঙ্গা অথবা অন্য কোনো সম্প্রদায়ের লোকজন যাতে অনুপ্রবেশ করতে না পারে সে জন্য সীমান্তে বিজিবি টহল জোরদার করা হয়েছে।

আজ সকালে বিজিবি পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এখন পর্যন্ত মিয়ানমারের বিজিপির ৯৮ জন সদস্য অস্ত্রসহ বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। বিজিবি তাদের নিরস্ত্রীকরণ করে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়েছে।

এদিকে, আজ বেলা ১১টার দিকে মিয়ানমার থেকে কক্সবাজারের টেকনাফের হোয়াইক্যং উলুবনিয়া সীমান্ত পার হয়ে একটি রোহিঙ্গা পরিবার বাংলাদেশে ঢুকে পড়লে দায়িত্বরত বিজিবি সদস্যরা তাদের আটক করে। স্বামী-স্ত্রী ছাড়াও তাদের সঙ্গে ৩ শিশু রয়েছে।

টেকনাফ-২ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. মহিউদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘সীমান্তে আমরা সতর্ক অবস্থানে আছি এবং সীমান্তে বিজিবি টহল জোরদার করা হয়েছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য বিজিবি সদস্যরা সর্বাত্মক প্রস্তুতি রয়েছে।’

উল্লেখ্য, মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের রয়েছে ২৭১ কিলোমিটার সীমান্ত। এর বড় অংশ বান্দরবান ও কক্সবাজার জেলায়। কয়েক সপ্তাহ ধরে বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্ত–সংলগ্ন এলাকায় যুদ্ধ জোরালো করেছে আরাকান আর্মিসহ কয়েকটি গোষ্ঠী।

আদালতের অনুমতি ছাড়া বিদেশ যেতে পারবেন না ড. ইউনূস

ডেস্ক রিপোর্ট:

শ্রম আইন লঙ্ঘনের মামলায় সাজার রায় থেকে অব্যাহতি পাওয়া গ্রামীণ টেলিকমের চেয়ারম্যান নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে বিদেশ গমনের ক্ষেত্রে আদালতের অনুমতি নিতে হবে।

সোমবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কাজী ইবাদত হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দিয়েছেন।

এদিন ড. ইউনূসের ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের রায়ের কার্যক্রম স্থগিত করে শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালের দেওয়া আদেশের বিরুদ্ধে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের করা আবেদনের বিষয়ে শুনানি নিয়ে এ আদেশ দেন হাইকোর্ট।

এর আগে গতকাল রোববার এ মামলায় ড. ইউনূসসহ চারজনের সাজার রায় স্থগিত করে শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালের দেওয়া আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আবেদন করেন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর। সেই আবেদনে আদালতের অনুমতি ছাড়া ড. ইউনূস যেন বিদেশ যেতে না পারেন সে বিষয়েও আর্জি জানানো হয়।আবেদন করা হয়েছে।

শ্রম আইন লঙ্ঘনের ওই মামলায় গত ১ জানুয়ারি ড. ইউনূসসহ চারজনকে ছয় মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও প্রত্যেককে ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন ঢাকার শ্রম আদালত-৩ এর বিচারক বেগম শেখ মেরিনা সুলতানা।

রায় ঘোষণার পর আপিল করার শর্তে তাদের এক মাসের জামিন দেন একই আদালত। ড. ইউনূস ছাড়া অন্য তিনজন হলেন- গ্রামীণ টেলিকমের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আশরাফুল হাসান, পরিচালক নুর জাহান বেগম ও মো. শাহজাহান।

তাদের শ্রম আইনের ৩০৩ (ঙ) ধারায় সর্বোচ্চ ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে ১০ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অন্যদিকে ৩০৭ ধারায় ২৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেন আদালত।

এরপর আসামিপক্ষ ওই রায়ের বিরুদ্ধে গত ২৮ জানুয়ারি আপিল করেন। শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনাল আবেদনটি ওইদিন শুনানির জন্য গ্রহণ করেন। আদালত সে আবেদন মঞ্জুর করে পাঁচ হাজার টাকা বন্ডে এক মাসের জন্য জামিন দেন। রায় ঘোষণার পর আপিলের শর্তে তাদের এক মাসের জামিন দেন একই আদালত। সেই সময়সীমার মধ্যেই আপিল করেন দণ্ডপ্রাপ্তরা।

তৃতীয় শ্রম আদালতের দেওয়া রায় আগামী ৩ মার্চ পর্যন্ত স্থগিত করেন শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে চারজনকে জামিন দেন। পরবর্তী শুনানির জন্য ৩ মার্চ দিন ধার্য করা হয়।

শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালের ২৮ জানুয়ারি দেওয়া আদেশের বৈধতা নিয়ে আবেদনটি করা হয়েছে বলে জানান আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান। তিনি বলেন, রায় স্থগিত করার এখতিয়ার নেই আপিল আদালতের।

আইনের যে ধারায় তারা (ড. ইউনূসসহ চারজন) আপিল করেছেন, সে ধারায় পুরো রায় স্থগিতের কোনো বিধান নেই। রায়ে দুটি দিক থাকে। একটি সাজা ও অন্যটি দণ্ড। আপিল ট্রাইব্যুনাল দুটিই স্থগিত করে দিয়েছেন।

এই অংশ অবশ্যই বাতিল হওয়া উচিত। কারণ, উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্ত ও ফৌজদারি কার্যবিধির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

ওই আবেদনের কপি পাওয়ার বিষয়টি জানিয়ে ড. ইউনূসসহ চারজনের আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন ‘আসলে আবেদনটি করা হয়েছে হয়রানি করার জন্য। শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালে যখন ড. ইউনূসসহ চারজনের আপিল আবেদন করা হয়, সেখানে সাজা সাসপেন্ড চাওয়া হয়েছিল। এটি আবেদনে সুষ্পষ্টভাবে আছে।

আপিল ট্রাইব্যুনালে তখন ওনারা (বাদীপক্ষের আইনজীবী) আপত্তি জানান যে সাসপেন্ডেড হবে না, স্টে হবে। উনিই (বাদীপক্ষের আইনজীবী) আপত্তি তুলেছেন, তাহলে বিষয়টি নিয়ে আবার এসে এখানে ক্রিমিনাল রিভিশন (আবেদন) করলেন।

আবেদনের প্রার্থনায় দেখা যায়, তৃতীয় শ্রম আদালতের ১ জানুয়ারি দেওয়া রায় ও আদেশের কার্যক্রম স্থগিত করে শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালের ২৮ জানুয়ারি দেওয়া আদেশ কেন বাতিল হবে না, এ বিষয়ে রুল চাওয়া হয়েছে।

রুল হলে তৃতীয় শ্রম আদালতের রায় ও আদেশ স্থগিত করে ট্রাইব্যুনালের ২৮ জানুয়ারি দেওয়া সিদ্ধান্তের অংশবিশেষের কার্যক্রম স্থগিত চাওয়া হয়েছে।

তৃতীয় শ্রম আদালতের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিলটি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালের প্রতি নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট আদালতের অনুমতি ছাড়া প্রতিপক্ষ (ইউনূসসহ চারজন) যেন দেশত্যাগ করতে না পারেন, সে বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়ার আর্জিও জানানো হয় আবেদনে।

ভালোবাসার টানে ২৫ বছরের শিক্ষকতায়, একদিনও নেননি ছুটি

মুরাদনগর প্রতিনিধি:

জীবনের পুরোটা সময়ই কাটিয়েছেন প্রিয় শিক্ষার্থীদের কথা ভেবে। সেই ভালোবাসার টানে কর্মজীবনের ২৫ বছরের শিক্ষকতায় সরকার নির্ধারিত’র বাইরে একদিনও নেননি ছুটি। তা অর্জিত হোক আর বাৎসরিক। কাটাননি অসু¯’তাজনিত ছুটিও। মাদ্রাসার এই শিক্ষক পুরো চাকরিজীবন কাটিয়েছেন ‘আরবি’ পড়িয়ে।

ব্যতিক্রমী আপাদমস্তক এই শিক্ষাগুরু আর কদিন বাদেই যাবেন অবসরে। রোদ কিংবা ঝড়-বৃষ্টি, যাই হোক না
কেনো, মাদ্রাসায় আসেননি এমন রেকর্ড নেই তার। বলছি কুমিল্লার মুরাদনগরের মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীনের কথা। সে মুরাদনগর উপজেলার ধামঘর গ্রামের মৃত ওয়াছি উদ্দিন খাঁনের ছেলে ও শুশুন্ডা ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসার ‘আরবি’ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক।

মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন জানালেন, তিনি ১৯৮৮ সালের জানুয়ারি মাসে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন মুরাদনগর উপজেলার জাহাপুর ইউনিয়নের শুশুন্ডা ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসায়। তবে চাকুরিতে বেতনভূক্ত হন ১৯৯৪ সালে। পরে ১৯৯৯ সালের শেষের দিকে ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ চলে যাওয়ায় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষর দায়িত্ব পান তিনি। তখন মনে মনে সিদ্ধান্ত নেন কর্মজীবনে কখনও ফাঁকি দেবেন না, এই ব্রত ছিল তার। সে অনুযায়ী কাজ করতে করতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই হয়ে ওঠে তার জীবনের ধ্যান-জ্ঞান। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষর দায়িত্বে
ছিলেন ২০০৫ সাল পর্যন্ত এরই মধ্যে মাদ্রাসায় তিনি দাখিল বিভাগ (এসএসসিসমমান) চালু করতে সক্ষম হন।

মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন বলেন, মূলত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষর দায়িত্ব পালন করার সময় প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে নিয়ে যেতে এতটাই মনোযোগী হয়েছিলাম যে, ছুটি কি জিনিস সেটা ভুলেই গিয়েছিলাম। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষর দায়িত্ব ছেড়েছি ঠিকই, প্রতিষ্ঠানের প্রতি যে ভালোবাসা তৈরি হয়েছে, তা আর ছাড়তে পারিনি। তাই সে ভালোবাসার টানে মাঝে মধ্যে রাতে শরীরটা অসু¯’ হলেও সকালে মাদ্রাসায় যাওয়ার কথা ভাবতেই নিজেকে মানসিকভাবে সু¯’ মনে হতো। এই প্রতিষ্ঠানের প্রতি এখন এতটাই মায়ায় পরেছি, চাইলেই এখানে না এসে থাকতে পারিনা।

শিক্ষার্থীরা জানান, আমরা গর্ববোধ করি স্যারের কাছ থেকে কিছুটা হলেও শিখতে পেরেছি। স্যার শিক্ষা দেয়ার পাশা-পাশি সবসময় আমাদেরকেও মাদ্রাসা বন্ধ না করতে উৎসাহিত করেন।

এমন একজন ব্যক্তিকে সহকর্মী হিসেবে পেয়ে গর্বিত অন্য শিক্ষকরাও। তারা বলছেন, মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন শিক্ষক সমাজের জন্য অনুকরণীয়।

শুশুন্ড ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মোঃ গিয়াস উদ্দিন বলেন, জয়নাল আবেদীন সাহেব চাইলেই অন্য শিক্ষকদের মতো প্রতি বছর ২১ দিন করে ছুটি কাটাতে পারতো।

অথচ দীর্ঘ ২৫ বছরে তার পাওনা ৫২৫ দিন ছুটি নেননি তিনি। তার কাছ থেকে আমাদের অনেক কিছু শিখার আছে। সে শিক্ষক সমাজের গর্ব।

২০২৯ সালে চাকরি জীবনের ইতি টানবেন শিক্ষার্থীদের প্রিয় জয়নাল আবেদীন স্যার। এতদিন যে মাদ্রাসার সাথে আত্মার সম্পর্ক, অবসরের পরদিন থেকে সেই মাদ্রাসার করিডোরে আর হাঁটবেন না তিনি। এ কথা মনে আসতেই চোখ ছল ছল করে ওঠে তার। জানালেন, অবসরে গিয়েও বসে থাকবেন না তিনি।

বুড়িচংয়ে ইউনিয়ন পরিষদের দুইদিন ব্যাপী প্রশিক্ষণ ও সনদপত্র বিতরণ

কুমিল্লা প্রতিনিধি:

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলা প্রশাসনের বাস্তবায়নে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সচিব, হিসাব সহকারী ও ইউপি সদস্য গণের স্থানীয় সম্পদের আহরণ ও বাজেট ব্যবস্থাপনা বিষয়ক দুইদিন ব্যাপী প্রশিক্ষণ ও সনদপত্র বিতরণ উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। দুইদিন ব্যাপী অনুষ্ঠিত এ প্রশিক্ষণের আয়োজনে ছিলেন জাতীয় স্হানীয় সরকার ইনস্টিটিউট (এন আই এল জি) বাস্তবায়নে বুড়িচং উপজেলা প্রশাসন।

আয়োজিত প্রশিক্ষনে উপজেলার ৯ ইউনিয়ন থেকে ৯ জন ইউপি চেয়ারম্যান, সচিব ৯ জন, ৯ হিসাব সহকারী এবং ১০৭ জন ইউপি সদস্য সহ মোট ১৩৪ জন প্রশিক্ষণে অংশ গ্রহণ করেন।

এতে প্রধান প্রশিক্ষক হিসেবে ভার্চুয়ালে প্রশিক্ষণ প্রদান করেন জাতীয় স্হানীয় সরকার ইনস্টিটিউট এন আই এলজি মহাপরিচালক মনোজ কুমার রায়।

সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং প্রশিক্ষক হিসেবে প্রশিক্ষণ প্রদান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাহিদা আক্তার।
আরও প্রশিক্ষণ প্রদান করেন জাতীয় স্হানীয় সরকার ইনস্টিটিউট এন আই এলজির সহকারী পরিচালক ওমর ফারুক, বুড়িচং উপজেলা রিসোর্স সেন্টারের ইন্সট্রাক্টর মো: মোস্তফা কামাল।

বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন ইউপি চেয়ারম্যান যথাক্রমে আলহাজ্ব মোঃ আবু তাহের, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবুল কাসেম মাষ্টার, আলহাজ্ব ইঞ্জিনিয়ার জয়নাল আবেদীন, হাজী মোঃ বিল্লাল হোসেন, লালন হায়দার, মোঃ সাহেব আলী, এডভোকেট ইস্কান্দার আলী ভূইয়া আমির,ওমর ফারুক, ইউপি সচিব , আবুল মনসুর আহমেদ মজুমদার, লিয়াকত আলী, আব্দুর রহমান ভূইয়া, খাবির উদ্দিন, আব্দুল কুদ্দুস মজুমদার সোহেল রানা, আব্দুর রউফ, ইউপি সদস্য যথাক্রমে লিটন রেজা, সুলতান আহমদ মুন্সি, জাকির হোসেন, জসিম উদ্দিন প্রমূখ।

প্রশিক্ষণ শেষে সকল প্রশিক্ষনার্থীদের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাহিদা আক্তার সনদপত্র বিতরণ করেন।

প্রশিক্ষণ শেষে ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আবু জাহের ও মোঃ সাহেব আলীর হাতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাহিদা আক্তার সনদপত্র তুলে দেন।

চৌদ্দগ্রামে গাঁজা ও ইয়াবা ট্যাবলেট সহ মাদক ব্যবসায়ী আটক

ফখরুদ্দীন ইমন:

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৩০০ গ্রাম গাঁজা ও ১২৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট সহ মো: সাইফুল ইসলাম প্রকাশ সোনা মিয়া (৪৫) নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে। আটককৃত সাইফুল উপজেলার গুনবতী ইউনিয়নের ঝিকড্ডা পশ্চিম পাড়ার মৃত এন্তু মিয়ার ছেলে। সোমবার (০৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন চৌদ্দগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ত্রিনাথ সাহা।

জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চৌদ্দগ্রাম থানাধিন কনকাপৈত পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপ-পরিদর্শক মো: শরীফুর রহমান ও সহকারী উপ-পরিদর্শক মো: জাকির হোসেন সঙ্গীয় ফোর্স সহ রোববার বিকাল সাড়ে তিনটায় উপজেলার গুনবতী ইউনিয়নের ঝিকড্ডা পশ্চিম পাড়া এলাকায় সাইফুল ইসলাম প্রকাশ সোনা মিয়ার বাড়ীতে তার টিনশেড বসতঘরে অভিযান চালিয়ে পেপারে মোড়ানো ৩০টি গাঁজার রোল (ওজন ৩০০ গ্রাম) ও নীল রঙের বায়ুনিরোধক পলিপ্যাকে সংরক্ষিত ১২৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এ সময় মাদক ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলামকে আটক করা হয়। পরে আটককৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে চৌদ্দগ্রাম থানায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

এ বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ত্রিনাথ সাহা বলেন, ‘রোববার বিকালে থানা পুলিশের অভিযানে গাঁজা ও ইয়াবা সহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়। আটককৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে থানায় মাদক আইনে মামলা দায়ের শেষে সোমবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে থানা পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

ভোটের রাতে গণধর্ষণ: ১০ জনের ফাঁসি, ৬ জনের যাবজ্জীন

নোয়াখালী প্রতিনিধি:

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটের দিন রাতে বহুল আলোচিত নোয়াখালীর সুবর্ণচরে গৃহবধূকে গণধর্ষণ মামলায় ১০ জনের ফাঁসি ও অপর ছয় আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সাথে তাদের অর্থদন্ড করা হয়।

সোমবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে নোয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক (জেলা জজ) ফাতেমা ফেরদৌস এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আদালতে কাঠগড়ায় পনের আসামি উপস্থিত ছিলেন এবং এক আসামি পলাতক ছিলেন।

দন্ডপ্রাপ্তরা হলেন, সুবর্ণচরের মধ্যম বাগ্যা গ্রামের মো. সোহেল (৩৮), মো. হানিফ (৩০), স্বপন (৪২), মো. চৌধুরী (২৫), ইব্রাহীম খলিল বেচু (২৫), মো. বাদশা আলম বসু (৪০), আবুল হোসেন আবু (৪০), মোশারফ (৩৫), মো. সালাউদ্দিন (৩২), মো. জসিম উদ্দিন (৩২), মো. হাসান আলী বুলু (৪৫), মো. মুরাদ (২৮), মো. জামাল ওরফে হেঞ্জু মাঝি (২৮) ও মো. সোহেল (২৮)। আসামি মো. মিন্টু ওরফে হেলাল (২৮) ঘটনার পর থেকে পলাতক।

মামলা ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রাতে স্বামী-সন্তানদের বেঁধে রেখে এক নারীকে (৪০) মারধর ও গণধর্ষণ করা হয়। নির্যাতনের শিকার নারী চার সন্তানের জননী। নির্যাতিত নারীর অভিযোগ ছিল, ভোটকেন্দ্রে থাকা ব্যক্তিদের পছন্দের প্রতীকে ভোট না দেওয়ার জের ধরে ওই হামলা ও ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি তখন দেশে-বিদেশে ব্যাপক আলোচিত হয়। ওই ঘটনার পরদিন (৩১ ডিসেম্বর) নির্যাতনের শিকার নারীর স্বামী বাদী হয়ে চর জব্বর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। পরে মামলার তদন্ত শেষে সুবর্ণচর উপজেলা আওয়ামী লীগের বহিষ্কার হওয়া প্রচার সম্পাদক রুহুল আমিন মেম্বারসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে বিগত ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর ছালেহ আহম্মদ সোহেল খান বলেন, এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ ২৩ জন সাক্ষী উপস্থাপন করে। আসামি পক্ষের পাঁচজন সাফাই সাক্ষী প্রদান করে। তবে কোনো সাক্ষীই ভোট কেন্দ্রে পছন্দের প্রতীকে ভোট না দেওয়ায় জেরে এমন ঘটনা ঘটেছে বলে তাদের বক্তব্যে উল্লেখ করেনি।

কুবির ‘তিন অনিয়মের দায়’ উপাচার্যের উপর চাপালেন ট্রেজারার

কুবি প্রতিনিধি:

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) শিক্ষকদের তোপের মুখে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমালোচিত ‘তিন অনিয়মে’ উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এফ এম আবদুল মঈনকে দোষারোপ করলেন কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো: আসাদুজ্জামান।

গত বুধবার (৩১ জানুয়ারি) “সার্ভিস রুলস, একাডেমিক রুলস অ্যান্ড রেগুলেশন” (পরীক্ষা, ছুটি এবং আপগ্রেডেশন বিধি) শিরোনামে একটি প্রশিক্ষণের আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেল (আইকিউএসি)। এতে রিসোর্স পারসন হিসেবে ছিলেন কোষাধ্যক্ষ।

কিন্তু এমন একটি প্রশিক্ষণে নির্ধারিত বিষয়ের উপর কোন বিশেষজ্ঞকে না রেখে কোষাধ্যক্ষকে রিসোর্স পারসন হিসেবে কেন রাখা হয়েছে, অংশগ্রহণকারী শিক্ষকগণ বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এসময় শিক্ষকগণ কোষাধ্যক্ষের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমালোচিত বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় শিক্ষকদের প্রাপ্ত ভাতা থেকে কোন প্রকার নীতিমালা ছাড়াই ভাইস চ্যান্সেলরের নামে বৃত্তি প্রদান, বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ খরচে গেস্ট হাউজ রাখা হলেও শিক্ষকদের বঞ্চনায় ডুবিয়ে সেটি উপাচার্যের দখলের কারণ, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন-২০০৬ ও ইউজিসির আইন অমান্য করে শিক্ষক নিয়োগে, পদোন্নতিতে বৈষম্য সৃষ্টির পাশাপাশি সঠিক নিয়মে আপগ্রেডেশন না দেওয়াসহ গুরুতর অনিয়মের বিষয়গুলো নিয়ে শিক্ষকগণ প্রশ্ন তোলেন। পরে এসকল অনিয়মের দায় উপাচার্যের উপর চাপান কোষাধ্যক্ষ।

এবিষয়ে বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো: মোকাদ্দেস-উল-ইসলাম বলেন, ‘আমরা ট্রেজারারের কাছে সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে প্রক্টর কাজী ওমর সিদ্দিকীর পিএইচড