Tag Archives: চিকিৎসা

ব্রাহ্মণপাড়ায়

ব্রাহ্মণপাড়ায় ত্রাণ বিতরণকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আহত ৯

ব্রাহ্মণপাড়ায় ত্রাণ বিতরণকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ

স্টাফ রিপোর্টারঃ

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় ত্রাণ বিতরণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে আহত হয়েছে ৯ জন।

বুধবার বিকেল ৫ টায় উপজেলার দুলালপুর বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

আহত সকলে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছে।

আহতদের সূত্রে জানা যায়, হামলাকারী কাশেম (গংদের) সাথে ত্রাণ বিতরণের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গত দুদিন আগে কথা কাটাকাটি হয় মৃত. আলী আমদের ছেলে দুলাল মিয়া ও ত্রাণ বিতরণকারী অন্যদের সাথে। এতে হামলাকারীরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের বাড়ির সামনে রাস্তা বন্ধ করে দেয়। এই নিয়ে বিকাল ৫ টায় দুলালপুর বাজারের দুলাল মিয়ার মিষ্টি দোকানের সামনে কথা কাটাকাটি হলে দুলালপুর উত্তরপাড়া গ্রামের কাশেমের নির্দেশে তার ছেলে শিপন ও আলমগীর, মোঃ আলী, আলী মিয়ার ছেলে সাকিব, মৃত. মতিন মিয়ার ছেলে তারামিয়া, তার ছেলে মান্নান, হান্নান, জহির মিয়ার ছেলে নজু, কাদেরের ছেলে ইউসুফ, কামরুল (চৌকিদার), সাইদুল, ইউসুফ মিয়ার ছেলে রিয়াদ, আব্দুল মান্নানের ছেলে আনোয়ার এবং মান্নানসহ আরও ১০/১২ জন হামলা চালায়।

তাদের হামলায় আহতরা হলেন, মৃত. আলী আহাম্মেদের ছেলে দুলাল মিয়া (৪৬) তার ছেলে তাওহিদ (২৪), মুজাহিদ (২০), মোবারক হোসেনের ছেলে সজীব (২৪), আব্দুল আলীমের ছেলে আরিফুল ইসলাম (২২), কাজল মিয়ার ছেলে বাছির (২০), রমিচ উদ্দিনের ছেলে মোতালেব (৩৬), ফরিদ মিয়ার ছেলে ওসমান (২৫), আল-আমিন (২০) পিতা অজ্ঞাত। এ ব্যাপারে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

গণপিটুনির শিকার

মহানবীকে নিয়ে কটূক্তি: গণপিটুনির শিকার সেই কলেজছাত্র এখনও জীবিত

উৎসব মণ্ডল

ডেস্ক রিপোর্টঃ

খুলনায় মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে উৎসব মণ্ডল (১৮) নামে এক কলেজছাত্রকে উত্তেজিত জনতা গণপিটুনি দিয়েছে।

বুধবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাতে নগরীর সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বর্তমানে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সেনাবাহিনীর হেফাজতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, উৎসব মণ্ডল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মহানবীকে নিয়ে কটূক্তি করে পোস্ট দেয়। রাত পৌনে ৮টার দিকে এ ঘটনা জানাজানি হলে কয়েকজন শিক্ষার্থী তাকে ধরে সোনাডাঙ্গায় ডেপুটি পুলিশ কমিশনারের (দক্ষিণ) কার্যালয়ে নিয়ে যায়। এরপর বিষয়টি জানাজানি হলে শত শত লোক সেখানে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করতে শুরু করে এবং তাকে তাদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনী সদস্যরা সেখানে উপস্থিত হন এবং পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন।

তবে রাত পৌনে ১২টার দিকে উত্তেজিত জনতা পুলিশের নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেদ করে কার্যালয়ের তিনতলায় প্রবেশ করে এবং উৎসব মণ্ডলকে গণপিটুনি দেয়।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) তাজুল ইসলাম জানান, উৎসব মণ্ডলের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করা সম্ভব হয়নি। এক পর্যায়ে তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাধা পেরিয়ে তাকে মারধর করে।

চৌদ্দগ্রামে সড়ক দুর্ঘটনার ৬দিন পর যুবকের মৃত্যু

ফখরুদ্দীন ইমন:

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে গত সোমবার মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার শিকার হয়ে গুরুতর আহত হয় মো: কামরুজ্জামান রিয়াদ (২৯ ) নামে এক যুবক।

সড়ক দুর্ঘটনার ৬দিন পর শনিবার (২০ এপ্রিল) রাতে রাজধানীর পপুলার হাসপাতালে চিকিৎসাধিন অবস্থায় মৃত্যুরবণ করে রিয়াদ (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

নিহত রিয়াদ উপজেলার কনকাপৈত ইউনিয়নের আগুনশাইল গ্রামের দক্ষিণ পাড়ার মাস্টার আবু রশিদ এর ছেলে।

ব্যক্তি জীবনে রিয়াদ বিবাহিত। মাত্র তিনমাস পূর্বেই সে বড় ভাইয়ের শালিকার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। রোববার বিকালে পরিবারের পক্ষ থেকে নিহতের বড় ভাই রিপন বিষয়টি নিশ্চত করেন।

জানা গেছে, গত সোমবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে মোটরসাইকেলযোগে আত্মীয় এর বাড়ীতে যাওয়ার সময় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বাতিসা এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি মাইক্রোবাসের সাথে সজোরে ধাক্কা দিলে মোটরসাইকেল আরোহী কামরুজ্জামান রিয়াদ মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত জখম সহ গুরুতর আহত হন। এ ঘটনায় মোটরসাইকেল চালক রিয়াদের আপন বড় ভাই শামসুর রহমান রিপনও আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাদেরকে উদ্ধার করে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান এবং চিকিৎসা প্রদান করেন।

আশঙ্কাজনক অবস্থায় ওইদিন সন্ধ্যায় রিয়াদকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে অবস্থার আরো অবনতি হলে পরিবারের লোকজন তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানীর পপুলার হাসপাতালে নিয়ে যান।

সেখানে তাকে আইসিইউতে রেখে চিকিৎসকরা নীবিড় পর্যবেক্ষণে রাখেন। এরপর শনিবার রাত সাড়ে বারটায় চিকিৎসাধিন অবস্থায় সেখানেই তার মৃত্যু হয়। রোববার সকাল এগারটায় মরহুমের নিজবাড়ীতে জানাযা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

বিদেশ যেতে পারবেন না খালেদা, মুক্তির মেয়াদ বাড়ছে ৬ মাস

ডেস্ক রিপোর্ট:

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দণ্ড স্থগিত করে আগের দুটি শর্তেই মুক্তির মেয়াদ আরও ৬ মাস বাড়ছে। এ সংক্রান্ত আবেদনে মুক্তির মেয়াদ আরও ৬ মাস বাড়ানোর বিষয়ে মত দিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়। মতামত দিয়ে তা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাঠানো হচ্ছে।

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী আনিসুল হক রাজধানীর সচিবালয়ে বুধবার সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

তিনি বলেন, আগের দুটি শর্তেই দণ্ডের মেয়াদ ৬ মাস বাড়ানোর আবেদনে ইতিবাচক মত দিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়। তবে তিনি বিদেশ যেতে পারবেন না।

এর আগে সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আইনমন্ত্রী জানান, খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে না।

তিনি বলেছিলেন, খালেদা জিয়ার বিদেশে যাওয়ার ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হবে না। তাকে বিদেশ থেকে ডাক্তার এনে চিকিৎসা করার অনুমতিও দিয়েছিলাম। ডাক্তার তাকে চিকিৎসাও করেছিলেন, ডাক্তার তাকে সুস্থও করেছেন।

কেন খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেওয়ার অনুমতি দেওয়া যাবে না, সেই প্রশ্নে পুরোনো ব্যাখ্যা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, একটা জিনিস আমি বুঝতে পারছি না। বহুবার আমি আইনের ব্যাখ্যা দিয়েছি। ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারার বাইরে গিয়ে আমাদের কিছু করার নেই। তারপর প্রতিবারই তারা প্রথম যে চিঠি লিখেছিল সেই আকারেই আবেদন করছে।

সরকারপ্রধান চাইলে খালেদা জিয়াকে বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দিতে পারে কিনা জানতে চাইলে আনিসুল হক বলেন, সরকারপ্রধান মানে হচ্ছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। তিনি যেহেতু এটা নিষ্পত্তি করে দিয়েছেন, এখন এটা পরিবর্তন করার আইনি কোনো বিধান নেই।

তিনি আরও বলেন, সরকার প্রধানকে আইনের ভেতরে থেকে মানবিক বিবেচনা করতে হবে। আইনের বাইরে গিয়ে তিনি মানবিক কারণ দেখাতে পারবেন না। প্রথম বার থেকেই মানবিক কারণে খালেদা জিয়াকে জামিন (নির্বাহী আদেশে সাময়িক মুক্তি) দেওয়া হচ্ছে। এখন সেই মেয়াদ বারবার রিনিউ হচ্ছে, সেটা কিন্তু মানবিক কারণেই হচ্ছে।

গত ৬ মার্চ পরিবারের পক্ষে খালেদা জিয়ার একান্ত সচিব এবিএম সাত্তার আবেদনের চিঠিটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পৌঁছে দেন। গতকাল রোববার সন্ধ্যায় তিনি বলেন, আবেদনপত্রে ম্যাডামের স্থায়ী মুক্তি ও বিদেশে চিকিৎসার অনুমতি চাওয়া হয়েছে। ম্যাডামের ছোটভাই (শামীম ইস্কাদার) অসুস্থ থাকায় আমি চিঠিটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পৌঁছে দিয়েছি। আবেদনপত্রে শামীম ইস্কাদার বলেন, বেগম জিয়ার জীবন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। খালেদা জিয়ার জীবন রক্ষায় দরকার দেশের বাইরে চিকিৎসা।

প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়াকে সাজা দেন আদালত। সেই থেকে প্রায় দুই বছর জেলে ছিলেন তিনি। পরে মহামারী করোনা ভাইরাসের প্রকোপ বৃদ্ধি পেলে ২০২০ সালের ২৫ মার্চ সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার দণ্ড স্থগিত করে দুটি শর্তে সরকারের নির্বাহী আদেশে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল।

প্রথমটি হলো, তাকে বাসায় থেকে চিকিৎসা নিতে হবে। দ্বিতীয় শর্তটি হলো, তিনি বিদেশ যেতে পারবেন না। তখন করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে তার পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে ৬ মাসের জন্য মুক্তি দেওয়া হয়। এরপর থেকে পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ছয় মাস অন্তর অন্তর তার মুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হচ্ছে।

সর্বশেষ গত বছরের ১২ সেপ্টেম্বর খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ ছয় মাস বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ওই মেয়াদ শেষ হচ্ছে ২৪ মার্চ। এবার নবম বারের মতো মুক্তির মেয়াদ বাড়ছে খালেদা জিয়ার।

নোয়াখালীতে পাওয়ার টিলার-সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষে নারীর মৃত্যু, আহত ৪

নোয়াখালী প্রতিনিধি:

নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় বেপরোয়া গতির সিএনজি চালিত অটোরিকশা ও পাওয়ার টিলারের মুখোমুখি সংঘর্ষে এক বৃদ্ধ নারীর মৃত্যু হয়েছে।এ দুর্ঘটনায় আরও ৪ সিএনজি যাত্রী গুরুত্বর আহত হয়েছেন। আহতরা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহতরা হাতিয়ার চানন্দী ও হরণী ইউনিয়নের বাসিন্দা।

নিহত নুর নাহার বেগম (৬৫) হাতিয়া উপজেলার হরণী ইউনিয়নের মোস্তাফিজুর রহমানের স্ত্রী।

শুক্রবার (২৭ অক্টোবর) দুপুর ১২টার উপজেলার ২নং চরবাটা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ঘাট টু সোনাপুর সড়কের তালতলি সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চরবাটা দক্ষিণ পশ্চিম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। শুক্রবার দুপুরের দিকে ওই সড়কে নির্মাণাধীন ভবনের মালামাল নিয়ে আসে একটি পাওয়ার টিলার। একই সময়ে চেয়ারম্যান ঘাট থেকে সোনাপুরের উদ্দেশে ছেড়ে আসে একটি যাত্রীবাহী সিএনজি। সিএনজি তালতলি এলাকায় পৌঁছলে সামনে থাকা পাওয়ার টিলারটি হঠাৎ সড়কের উল্টো দিকে ঘুরাতে গেলে অটোরিকশার সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক নুর নাহারকে মৃত ঘোষণা করে।

চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ন কবির বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। নিহত নারীর মরদেহ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় ঢাকায় আসছেন যুক্তরাষ্ট্রের ৩ চিকিৎসক

খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় ঢাকায় আসছেন যুক্তরাষ্ট্রের ৩ চিকিৎসক

ডেস্ক রিপোর্ট:

প্রায় ৭৮ দিনের বেশি সময় ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তার চিকিৎসার বিষয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ড তাকে বিদেশে চিকিৎসার বিষয়ে একাধিকবার সুপারিশ করলেও ‘আইনি জটিলতায়’ তা সম্ভব হচ্ছে না। তবে এবার খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় বিদেশ থেকে চিকিৎসক আসছে ঢাকায়। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে তিনজন চিকিৎসক আসবেন। তবে, এই নিয়ে সরকার ও বিএনপির কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব জাহাঙ্গীর আলম জানান, ‘এ বিষয়ে এখন কিছু বলতে পারছি না। আগামীকাল অফিসে গিয়ে দেখে বলতে হবে।’

বিএনপির চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং সদস্য শায়রুল কবির খান জানায়, ‘খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ, তার বিদেশে উন্নত চিকিৎসার জন্য পরিবার ও দলের পক্ষ থেকে বারবার সরকারের কাছে বলার পরও কোনো ব্যবস্থা করা হচ্ছে না। তিনি ২ মাসের অধিক সময় ধরে এভার কেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পরিবার ও দলের পক্ষ থেকে বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আনার জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে।’

বিএনপি সূত্র জানান, স্বরাষ্ট্র ও স্বাস্থ্য উভয় মন্ত্রণালয় থেকেই চিকিৎসক আনার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে খুব দ্রুত চিকিৎসকরা ঢাকায় আসবে।

জানা গেছে, যে তিনজন চিকিৎসক আসছেন তারা হলেন ডা. ক্রিস্টোস জর্জিয়াডস, জেমস পিটার অ্যাডাম হ্যামিল্টন ও হামিদ আহমেদ আবদুর রব।

সূত্র: ঢাকাপোষ্ট

খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিদেশ যেতে হলে আবার জেলে যেতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিদেশ যেতে হলে আবার জেলে যেতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট:

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিদেশ যেতে হলে আবার জেলে যেতে হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শনিবার যুক্তরাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ভয়েস অব আমেরিকার সঙ্গে আলাপকালে প্রধানমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।

প্রধানমন্ত্রী জানান, আমি যে তাকে বাসায় থাকার পারমিশন দিয়েছি, সেটি থেকে ফিরে এসে তাকে জেলে যেতে হবে, আদালতে যেতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী এমন সময় এ কথা বললেন, যখন খালেদা জিয়ার স্থায়ী মুক্তি ও বিদেশে চিকিৎসার সুযোগ চেয়ে তার ছোটভাই শামীম ইস্কান্দার সোমবার (২৫ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবারও আবেদন করেন। এ বিষয়ে মতামতের জন্য আবেদনটি আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল গণমাধ্যমকে বলেছিলেন— কয়েক দিন আগে আবেদন করা হয়েছে। যেটা পরে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

অন্যদিকে সোমবার সচিবালয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জানান, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর ব্যাপারে আইনের বিদ্যমান অবস্থান থেকে সরকারের আর কিছু করার নেই। ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ (১)-এর ধারার ক্ষমতাবলে শর্ত যুক্তভাবে তার সাজা স্থগিত রেখে শর্তযুক্ত মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

সেটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মহানুভবতায়। এখন আইনের যদি কোনো পরিবর্তন আনতে হয় তা হলে খালেদা জিয়াকে দেওয়া শর্তযুক্ত মুক্তি আগে বাতিল করতে হবে। বাতিল করে আগের অবস্থায় যাওয়ার পর আবার অন্য বিবেচনা করা যাবে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী জানান, এ বিষয়ে আবেদন সরাসরি আইন মন্ত্রণালয়ে করা যায় না। সেটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে করতে হবে। আইন মোতাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আইনি মতামতের জন্য সেটি আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে।

বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল জানায়, চিকিৎসার জন্য বিদেশ পাঠাতে আবেদন করা হয়েছে। নতুন করে আবেদন করার কথা বলে সরকার সময়ক্ষেপণ করে খালেদা জিয়াকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

তিনি জানায়, খালেদা জিয়াকে বিদেশ পাঠাতে আদালতের আদেশের প্রয়োজন নেই। সরকার নির্বাহী আদেশে তাকে অস্থায়ীভাবে মুক্তি দিয়েছেন। নির্বাহী আদেশেই তাকে বিদেশ পাঠাতে পারেন।

সূত্র: যুগান্তর

মানবিক কারণে চিকিৎসার স্বার্থে খালেদা জিয়াকে দ্রুত বিদেশে পাঠানো হোক: মির্জা ফখরুল

মানবিক কারণে চিকিৎসার স্বার্থে খালেদা জিয়াকে দ্রুত বিদেশে পাঠানো হোক: মির্জা ফখরুল

ডেস্ক রিপোর্ট:

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে সিসিইউতে নিয়ে গেছে। এ দফায় তাকে দুইবার সিসিইউতে নেওয়া হলো। তিনি গুরুতর অসুস্থ। এ সরকারের আজ্ঞাবহ বিচার বিভাগ মিথ্যা মামলায় তাকে সাজা দিয়ে পাঁচ বছর আগে কারারুদ্ধ করেছিল। এরপর তাকে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে। শর্ত দিয়েছে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে পারবেন না। চিকিৎসা ব্যবস্থা একজন নাগরিকের মৌলিক অধিকার। কারাগারে থাকলেও সব বন্দিকে চিকৎসা দিতে হবে। তার চিকিৎসকরা ও দলের পক্ষ থেকে বলেছি, মানবিক কারণে চিকিৎসার স্বার্থে দ্রুত বিদেশে উন্নত হাসপাতালে পাঠানো হোক। পরিষ্কার করে বলতে চাই- দেশনেত্রীর যদি সুচিকিৎসা না হয়, উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানো না হয় তাহলে এই হাসিনার সরকার দায়ী থাকবে।

শুক্রবার রাজধানীর উত্তরার আব্দুল্লাপুরে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির উদ্যোগে এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল জানান, কারাবন্দি অবস্থায় বিদেশে পাঠানোর অনেক নজির আছে। জেএসডি সভাপতি আ স ম আব্দুর রবকে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছিল। আজকের যিনি জোর করে ক্ষমতায় বসে আছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকেও ওয়ান ইলেভেনের সময় কানের চিকিৎসার জন্য প্যারোলে আমেরিকায় পাঠানো হয়েছিল। আমরা সে কথা তো ভুলে যাইনি। আর আজকে দেশনেত্রীর জীবন মরণের সমস্যা। তার চিকিৎসকরা বলছেন, এখন যে অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে যদি তার সঠিক চিকিৎসা না হয় জীবন বিপন্ন হয়ে যাবে।

তিনি জানায়, খালেদা জিয়া এ দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের এক নম্বরের নেত্রী। শহিদ রাষ্ট্রপতি ও স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর এ দেশের গণতন্ত্রকে হরণ করা হয়েছিল। তা মুক্ত করার জন্য সেদিনকার গৃহবধূ রাস্তায় নেমে এসেছিলেন। খালেদা জিয়ার রাজনীতির সঙ্গে সম্পর্ক ছিল না। দেশের মানুষের জন্য, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য রাস্তায় নেমেছিলেন। গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে, পথে-প্রান্তে গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছেন। স্বৈরাচারকে উৎখাত করে ৯১ সালে জনগণের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছিলেন। দুইবার প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। এখনও কারাগারে থেকেও অসুস্থ অবস্থায় খালেদা জিয়া ফ্যাসিস্ট সরকারের সঙ্গে কোনো আপস করেননি।

মির্জা ফখরুল জানান, খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করে চলেছেন। সব কিছু বাদি দেন, একজন নারী তিনি স্বামীকে হারিয়েছেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি দুই শিশুপুত্রকে হাতে ধরে নিয়ে পালিয়ে পালিয়ে বেরিয়েছেন। আজকে এ দেশের জন্য ত্যাগ স্বীকারে যদি কেউ থেকে থাকেন তার মধ্যে খালেদা জিয়া এক নম্বর, দুই নম্বর তারেক রহমান। নেত্রীকে শুধুমাত্র প্রতিহিংসার কারণে আটক করে রেখেছে। অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে এ অবস্থায় নিয়ে গেছে। তারা জানে দেশনেত্রী যদি বাইরে বেরিয়ে আসেন তাহলে তার ডাকে কোটি কোটি মানুষ বেরিয়ে আসবে।

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনারের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব আমিনুল হকের সঞ্চালনায় সমাবেশে কেন্দ্রীয়সহ মহানগর ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন। সমাবেশে বিপুল সংখ্যক নেতারা অংশ নেন।