Tag Archives: লক্ষ্মীপুর

অজু করতে গিয়ে মা দেখলেন

অজু করতে গিয়ে মা দেখলেন পুকুরে ভাসছে মেয়ের নিথর দেহ

অজু করতে গিয়ে মা দেখলেন পুকুরে ভাসছে মেয়ের নিথর দেহ

ডেস্ক রিপোর্ট:

লক্ষ্মীপুরের সমসেরাবাদ এলাকার মাতাব্বর বাড়িতে একটি পুকুরের পানিতে ডুবে দুই বছরের এক শিশু, আরিবা জান্নাত, মারা গেছে। শনিবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। জান্নাতের মা বিউটি আক্তার পুকুরে অজু করতে গিয়ে তার সন্তানের মরদেহ পানিতে ভাসতে দেখেন।

মৃত জান্নাত আবুল কাশেমের ছোট মেয়ে। তার মৃত্যুতে পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনদের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। জান্নাতের চাচা আরিফ হোসেন বলেন, “আছরের নামাজের সময় জান্নাতের মা বিউটি আক্তার এবং চাচী স্বর্ণা আক্তার অজু করতে পুকুরে যান। সেই সময় তারা পুকুরে জান্নাতের মরদেহ ভাসতে দেখেন। ধারণা করা হচ্ছে, সবার অগোচরে জান্নাত পুকুরে পড়ে যায় এবং তার মৃত্যু হয়।”

জান্নাতের মরদেহ এশার নামাজের পর পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে। লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়ার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।

লক্ষ্মীপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় উপনির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশ স্থগিত

ডেস্ক রিপোর্ট:

লক্ষ্মীপুর-৩ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে উপ-নির্বাচনের কারচুপির অভিযোগ এনেছেন প্রার্থীরা। অভিযোগ পেয়ে ওই দুই সংসদীয় আসনের উপ-নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশ স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

মঙ্গলবার বিকালে এক সংবাদ সম্মেলনে কমিশন সচিব জাহাংগীর আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনে অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে পরাজিত স্বতন্ত্র প্রার্থী জিয়াউল হক মৃধা বর্তমান নির্বাচন কমিশনকে অদক্ষ আখ্যা দিয়ে উপনির্বাচনে স্থূল কারচুপির অভিযোগ তুলেছেন। সোমবার দুপুরে সরাইল উপজেলার কালীকচ্ছ বাজারে জাতীয় পার্টির দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি এ অভিযোগ করেন। সেই সঙ্গে বর্তমান নির্বাচন কমিশন দিয়ে আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে পরিচালনা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

রোববার ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে দ্বিতীয়বারের মতো উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী শাহজাহান আলম নৌকা প্রতীক নিয়ে ৬৬ হাজার ৩১৪ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী জিয়াউল হক মৃধা কলার ছড়ি প্রতীকে পেয়েছেন ৩৭ হাজার ৫৫৭ ভোট।

এদিকে, লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের উপ-নির্বাচনে অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ তুলে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন দুই প্রার্থী।

রোববার দুপুর দেড়টার দিকে লক্ষ্মীপুর প্রেস ক্লাবে এসে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোহাম্মদ রাকিব হোসেন ও দুপুর ২টার দিকে জাকের পার্টির প্রার্থী শামসুল করিম খোকন ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন।

জাতীয় পার্টির প্রার্থী লাঙ্গল প্রতীকের রাকিব হোসেন অভিযোগ করে বলেন, সকাল থেকে ভোটকেন্দ্রগুলোতে আওয়ামী লীগের লোকজন ব্যাপক জাল ভোট দিয়েছে। ভোটারবিহীন ফাঁকা ভোটকেন্দ্র হলেও ব্যালট কাটা হচ্ছে।

এদিকে একই ধরনের অভিযোগ এনে জাকের পার্টির গোলাপ ফুল প্রতীকের প্রার্থী শামসুল করিম ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়ে বলেন, ১১৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে সকাল থেকে আমি ৩৫টি কেন্দ্র ঘুরে দেখেছি। এসব কেন্দ্রে নৌকা প্রতীকের কর্মী-সমর্থকরা অনিয়ম ও কারচুপি করেছে। আমার এজেন্টদের বের করে দিয়েছে। তাই আমি ভোট বর্জন করেছি।

লক্ষ্মীপুরে কিস্তির টাকা তুলতে গিয়ে লাশ হলেন এনজিওকর্মী

লক্ষ্মীপুরে কিস্তির টাকা তুলতে গিয়ে লাশ হলেন এনজিওকর্মী

ডেস্ক রিপোর্ট:

লক্ষ্মীপুরে মো. ইউনুছ (৫০) নামে এক এনজিওকর্মীকে হত্যার পর মরদেহ মাটিতে পুঁতে রাখার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় জাবেদ হোসেন নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার সকালে লক্ষ্মীপুর পৌর শহরের দক্ষিণ মজুপুরের কালু হাজি সড়ক এলাকা থেকে মাটিচাপা অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।

এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. হাসান মোস্তফা স্বপন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. সোহেল রানা ও সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোসলেহ উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

ইউনুস লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড আবদুল গনি হেডমাস্টার সড়কের আবদুর রশিদ মোল্লার ছেলে। তিনি গ্রামীণ মাল্টিপারপাসের মাঠকর্মী হিসেবে কাজ করতেন।

আটক জাবেদ কালু হাজি সড়কের শফিকুর রহমানের ছেলে ও চা দোকানি। তবে তিনি নির্মাণ শ্রমিক হিসেবেও কাজ করেন।

পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ইউনুছের এনজিও থেকে ২০ হাজার টাকা ঋণ নেন জাবেদ। এতে প্রতিদিন ২৫০ টাকা করে জমা দিতে হয়। কিন্তু তিনি কিস্তির টাকা দিচ্ছিলেন না। ২৪ আগস্ট বিকেলে মোটরসাইকেলযোগে ইউনুস বাসা থেকে বের হন। এরপর তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। ২৫ আগস্ট ইউনুছের স্ত্রী সুলতানা জামান সদর মডেল থানায় একটি জিডি করেন। এতে পুলিশ তদন্তের পর অভিযান চালিয়ে বুধবার (৩০ আগস্ট) রাতে জাবেদকে তার এলাকা থেকে আটক করে। পরে তিনি পুলিশের কাছে ঘটনার স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দেয়।

জাবেদ পুলিশকে জানায়, ২৪ আগস্ট রাতে ইউনুছ দোকানে তার কাছে কিস্তির টাকার জন্য যায়। কিন্তু তিনি টাকা না দেওয়ায় দুজনের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায় লাঠি দিয়ে ইউনুসের মাথায় আঘাত করে তিনি। এতে ইউনুছ মারা যান। পরে তিনি নিজেই দোকানের পেছনে নিয়ে ইউনুছের মরদেহটি মাটিতে পুঁতে রাখেন। পরে ইউনুছের ব্যবহৃত মোবাইল ও মোটরসাইকেলটি পাশের পুকুরে ফেলে দেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. হাসান মোস্তফা স্বপন জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত জাবেদকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে। মাটিতে পুঁতে রাখা মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পুকুর থেকে ইউনুছের মোটরসাইকেলটিও উদ্ধার করা হয়েছে।

মাকে কুপিয়ে হত্যার পর আগুনে পুড়িয়ে ফেলার দায়ে ছেলের মৃত্যুদণ্ড

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে আমেনা বেগম নামে এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার পর আগুনে পুড়িয়ে ফেলার দায়ে তার ছেলে রেদওয়ান হোসেন মিলনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। একইসঙ্গে তার ১০ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার (১১ মে) দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. রহিবুল ইসলাম আসামির বিরুদ্ধে এ রায় দেন।

মিলন রামগঞ্জ উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের আশারকোটা গ্রামের মৃত আলী আকবরের ছেলে।

লক্ষ্মীপুর জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) জসিম উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আসামি নিজেই তার মাকে হত্যার ঘটনা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। রায়ের সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

আদালত ও এজাহার সূত্র জানায়, ২০২২ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি রাতে মিলন রাগ করে তার মা আমেনাকে দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। পরে কাপড় ও কম্বল দিয়ে মুড়িয়ে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। ২৪ ফেব্রুয়ারি ভোর ৫টার দিকে ঘর থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখে স্থানীয়রা তাদের বাসার গ্লাস ভেঙে দেখতে পায় মেঝেতে আগুন জ্বলছে। পরে দরজা ভেঙে বাসায় ঢুকে সবাই মেঝেতে আমেনার লাশ দেখতে পায়। আগুনে আমেনার শরীরের বেশিরভাগ অংশই পুড়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মিলনকে আটক করে। একইদিন আমেনার ভাই টিপু সুলতান বাদী হয়ে রামগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন।

জবানবন্দিতে বলা হয়, চিকিৎসার জন্য মিলনকে ২-৩ জন ডাক্তার দেখায় তার মা আমেনা। এ নিয়েই তিনি মায়ের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। এতে ফজরের আযানের আগ মূহুর্তে মিলন তার মাকে কুপিয়ে হত্যা করে। পরে লাশ গুমের উদ্দেশ্যে কাপড় ও কম্বল মুড়িয়ে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়।

২০২২ সালের ২২ জুন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও রামগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. অলিউল্লাহ আদালতে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দায়ের করেন। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে সন্দেহাতীতভাবে আসামী দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় আদালত এ রায় দেওয়া হয়।

১৪ লিটার দুধে ২৬ লিটার পানি

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে ১৪ লিটার দুধের সঙ্গে ২৬ লিটার পানি মিশিয়ে বিক্রির সময় জগৎপুর ইমি ডেইরি ফার্মের কর্মচারী ফারুক হোসেনকে জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

মঙ্গলবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেন রামগঞ্জের ইউএনও উম্মে হাবীবা মীরা।

এর আগে সোমবার (১০ এপ্রিল) রাত ৮টায় রামগঞ্জ থানার পিছনে ওয়াবদা সড়কের চৌরাস্তায় ভেজাল দুধ বিক্রি করতে গেলে জনতার হাতে আটক হয় দুধ বিক্রেতা ফারুক হোসেন। পরে সাংবাদিকের উপস্থিতিতে রামগঞ্জ পৌর সেনেটারী ইন্সপেক্টর আলমগীর হোসেন, উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা রাকিবুল হাসান ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার উম্মে হাবীবা মীরা এসে দুধগুলো পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখেন, দুধের মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ পানি মিশানো হয়েছে।

এ সময় দুধে পানি মিশিয়ে বিক্রির দায়ে বিক্রেতা ফারুককে ১ হাজার টাকা জরিমানা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে হাবীবা মীরা। পরে পানি মিশ্রিত দুধ পার্শ্ববর্তী মোহাম্মদিয়া এতিমখানায় দিয়ে দেন তিনি।

ভেজাল দুধ বিক্রেতা ফারুক হোসেন বলেন, আমি জগৎপুর ইমি ডেইরি ফার্মে চাকরি করি। ফার্মের মালিক বাচ্চু মিয়া আমাকে প্রতিদিন সন্ধ্যায় ৪০ লিটার দুধ দেয়। আমি সেগুলো ৫০, ৬০,৭০ টাকা দরে এখানে বিক্রি করি। এই খামার থেকে প্রতিদিন ২৫০ থেকে ৩০০ লিটার দুধ পুরো রামগঞ্জে বিক্রি করা হয়। আজকে ১৪ লিটার দুধে ২৬ লিটার পানি মিশানো হয়েছে বলে ফারুক জানিয়েছে।

কয়েকজন ক্রেতা জানান, আমরা যখন এখান থেকে দুধ ক্রয় করি তখন বাড়িতে গিয়ে দেখি দুধের অধিকাংশই পানি। আমাদের মনে সন্দেহ থাকার কারণে সাংবাদিক এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সহযোগিতায় তাকে পানি মিশানো ভেজাল দুধসহ আটক করি। এ সময় উপস্থিত সাংবাদিকবৃন্দ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবিহিত করেন। জগৎপুর ইমি ডেইরি ফার্মের মালিক বাচ্চু মিয়া বলেন, মানুষ ৩০-৪০ টাকা দিয়ে দুধ কিনে। দুধে পানি মেশাবোনাতো কি মেশাবো।

রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উম্মে হাবীবা মীরা বলেন, দুধে পানি মিশিয়ে বিক্রির দায়ে বিক্রেতা ফারুককে ১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তাকে সতর্ক করে দেয়া হয়েছে। পরবর্তীতে একই অপরাধে জড়ালে তাকে কারাদণ্ড দেয়া হবে।

নাঙ্গলকোটে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে অস্ত্রসহ গ্রেফতার ৫

 

স্টাফ রিপোর্টারঃ

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে ডাকাতির প্রস্তুতির সময় পাঁচ জনকে অস্ত্রসহ গ্রেফতার করা হয়েছে।

সোমবার (৩ এপ্রিল) রাতে উপজেলার তেজের বাজার এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ।

মঙ্গলবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে পুলিশ সুপার মো. আবদুল মান্নান সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার পূর্ব খইয়াছড়া এলাকার মো. সেলিম (৩০), লক্ষ্মীপুর জেলার চর জগবন্ধুর গ্রামের নুর মোহাম্মদ (৪০), গাইবান্ধা জেলার মৌঞ্জাম আলী বাড়ির মো. আনোয়ারুল ইসলাম ওরফে কাঞ্চিয়া (২৫), লক্ষ্মীপুর জেলার কালিবিত্তি গ্রামের মো. নুরু উদ্দিন (২৪) এবং নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার মৌলভীবাজার এলাকার মো. বাদশা (১৯)।

পুলিশ সুপার মান্নান বলেন, ‘গ্রেফতার পাঁচ জনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক চুরি ডাকাতি ও দস্যুতার মামলা রয়েছে। তাদের মঙ্গলবার আদালতে পাঠানো হয়েছে।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) খন্দকার আশফাকুজ্জামান, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলামসহ জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা।

লক্ষ্মীপুরে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ১৬০টি পরিবারের জন্য ৩২ টি ব্যারাক হস্তান্তর করেছে সেনাবাহিনী

 

স্টাফ রিপোর্টারঃ

লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ১৬০টি পরিবারের জন্য ৩২ টি ব্যারাক হস্তান্তর করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

বৃহস্পতিবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২ টায় উপজেলার চরপোড়াগাছা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের চরপোড়াগাছা গ্রামের আশ্রয়ণ প্রকল্পে ব্যারাকগুলো হস্তান্তর কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের মেজর মো. রায়হানুল হাসান রামগতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম শান্তুনু চৌধুরীর কাছে ব্যারাকগুলোর চাবি হস্তান্তর করেন।  এ সময় উপস্থিত ছিলেন ৩ নং চরপোড়াগাছা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নুরুল আমিন হাওলাদার এবং স্থানীয় নেতৃবৃন্দসহ আরো অনেকে।

ব্যারাক হস্তান্তর বিষয়ে ৩৩ পদাতিক ডিভিশন কুমিল্লার ১৭ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারির মেজর রায়হানুল হাসান বলেন, ১৯৯৯-২০০০ সালে আশ্রয়ণ প্রকল্পে নির্মিত টিনশেট ঘরগুলো জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে। এতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নতুন করে ঘরগুলো সেমিপাকা করে নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। ২০২২ সালের ১০ সেপ্টেম্বর কাজ শুরু হয়। সেনাবাহিনীর ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের অধীনস্থ ৩৩ আর্টিলারি ব্রিগেডের তত্ত্ববধানে ১৭ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করে। এতে ৫টি করে ৩২টি ব্যারাক নির্মাণ করা হয়। প্রতিটি ব্যারাকে ৫টি পরিবার করে ১৬০টি পরিবার বাসস্থানের সুযোগ পাবে। ব্যারাকগুলোর কাজ শেষ হওয়ায় উপজেলা প্রশাসনের কাছে চাবি হস্তান্তর করা হয়েছে।

এ বিষয়ে রামগতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম শান্তনু চৌধুরী বলেন, পূর্বে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলো ছিল জরাজীর্ণ। নতুন করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উদ্যোগে এখানে ১৬০টি পরিবারের জন্য সেমিপাকা ঘর নির্মাণ করা হয়েছে।

এসময় সেনাবাহিনীর কাছ থেকে ব্যারাকগুলো বুঝে পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যারাক প্রাপ্ত স্থানীয় মোখলেছুর রহমান ও ছকিনা খাতুন নামে দুইজনকে চাবি হস্তান্তর করা হয়েছে।

পূর্ব শত্রুতার জেরে এতিমখানা পুড়িয়ে ছাই করে দিল দুর্বৃত্তরা

ডেস্ক রিপোর্টঃ

লক্ষ্মীপুরের সদর উপজেলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একটি এতিমখানার খাবারঘরসহ আসবাবপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটতে পারে বলে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ দাবি করছে।

শুক্রবার (১৮ ডিসেম্বর) ভোরে সদর উপজেলার মান্দারীর যাদৈয়া গ্রামের মাওলানা আহম্মদ উল্লাহ মাদরাসা কমপ্লেক্স ও এতিমখানায় এ ঘটনা ঘটে।

সংশ্লিষ্টরা জানায়, ভোরে প্রতিদিনের মতো মাদরাসা শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ফজরের নামাজের জন্য ঘুম থেকে ওঠেন। এ সময় খাবার ঘরে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। এর আগে মাদরাসার বাইরে অজ্ঞাত মানুষের কথাবার্তাও শোনা যায়।

পরে শিক্ষার্থীদের সহযোগিতায় শিক্ষকরা আগুন নেভাতে চেষ্টা করেন। বিষয়টি থানা পুলিশকে জানানো হয়। পরে পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম মাদরাসায় এসে ফায়ার সার্ভিসে খবর দিলে লক্ষ্মীপুর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

তবে এর আগেই চাল-তরকারি, ফ্রিজ ও আসবাবপত্রসহ খাবার ঘরটি পুড়ে ছাই হয়ে যায়। মাদরাসার নিরাপত্তা দেয়ালের ওপর থেকে পেট্রল ঢেলে আগুন দেওয়া হয় বলে দাবি করেছে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানের পার্শ্ববর্তী সাইফ উদ্দিন, আবদুল মালেকদের সঙ্গে রাস্তা নির্মাণ নিয়ে মাদরাসা কর্তৃপক্ষের দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। সাইফ উদ্দিনরা মাদরাসার জমির ওপর দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করার চেষ্টা করেন। এতে বাধা দিলে মাদরাসা পরিচালক মনিরের ওপর একাধিকবার হামলা চালানো হয়।

এছাড়া মাদরাসার দুটি গাছ রাস্তা নির্মাণের জন্য সাইফ উদ্দিনরা জোরপূর্বক কেটে ফেলেন। এসব ঘটনায় মাদরাসার পরিচালক মনির বাদী হয়ে আদালতে দুটি মামলা করেন। ইতোমধ্যে আদালতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেসটিগেশন (পিবিআই) একটি মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দিয়েছে।

মাদরাসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহ মোহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, কে বা কারা আগুন দিয়েছে আমরা দেখিনি। তবে রাস্তা নির্মাণ নিয়ে সাইফ উদ্দিন ও আবদুল মালেকদের সঙ্গে বিরোধ রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে শত্রুতার জের ধরে তারাই আগুন লাগিয়েছে।

অভিযোগ অস্বীকার করে সাইফ উদ্দিন বলেন, আমি ঢাকায় আছি। মাদরাসায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি আমার জানা à¦