Tag Archives: দুর্নীতি

১৪ বছরে সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে

১৪ বছরে সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে প্রায় ৫১ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি: টিআইবি

১৪ বছরে সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে প্রায় ৫১ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি: টিআইবি

ডেস্ক রিপোর্ট:

গত ১৪ বছরে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের আওতায় বাস্তবায়িত উন্নয়ন প্রকল্পের নির্মাণ কার্যক্রমে ২৯ হাজার ২৩০ কোটি থেকে ৫০ হাজার ৮৩৫ কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

বুধবার সকালে ধানমন্ডির টিআইবির কার্যালয়ে ‘সড়ক ও মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সুশাসনের চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক গবেষণার ফল উপস্থাপনের সময় এ তথ্য জানানো হয়।

গবেষণায় বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির অধীনে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের আওতায় থাকা সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রকল্পগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। দেশীয় অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্পগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে এক হাজার কোটি টাকার নিচের প্রকল্পগুলোকে গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

গবেষণায় প্রকাশিত তথ্যে দেখা গেছে, ২০০৯-১০ থেকে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের মধ্যে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের আওতায় বাস্তবায়িত প্রকল্পগুলোর প্রাক্কলিত দুর্নীতির পরিমাণ ২৯ হাজার ২৩০ কোটি থেকে ৫০ হাজার ৮৩৫ কোটি টাকা। সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের মোট দুর্নীতির হার ২৩ থেকে ৪০ শতাংশের মধ্যে, যার মধ্যে কার্যাদেশ প্রাপ্তি ও ঠিকাদারের বিল পাওয়ার ক্ষেত্রে ১১-১৪ শতাংশ দুর্নীতি ঘটে। এছাড়া রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, ঠিকাদার ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যে আঁতাতের মাধ্যমে ১০-২০ শতাংশ দুর্নীতি সংঘটিত হয়। দরপত্র লাইসেন্স ভাড়া দেওয়া, কার্যাদেশ বিক্রি, সমঝোতা এবং রাজনৈতিক চাঁদাবাজির মতো ক্ষেত্রগুলোতে দুর্নীতির হার ২-৬ শতাংশ।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে অতিরিক্ত ব্যয়ে সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে, যার ফলে নির্মিত সড়ক ও সেতুর মান খারাপ হচ্ছে এবং তা টেকসই হচ্ছে না। এটি প্রকল্পের উদ্দেশ্য অর্জনে বাধা সৃষ্টি করছে এবং জাতীয় সম্পদের অপচয় ঘটাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, সড়ক ও মহাসড়ক উন্নয়ন খাতে রাজনীতিবিদ, আমলা ও ঠিকাদারের ত্রিপক্ষীয় আঁতাতের মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের বিভিন্ন ধাপে স্বার্থের দ্বন্দ্ব ও রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের কারণে অনিয়ম ও দুর্নীতির ব্যাপক উপস্থিতি দেখা গেছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু ক্ষেত্রে পরিকল্পনা কমিশনের প্রকল্প অনুমোদন সভায় দ্রুত প্রস্তাব উত্থাপন এবং গোপনে প্রকল্প প্রস্তাব মূল্যায়নের জন্য সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের কিছু কর্মকর্তা কমিশনের কর্মচারীদের ঘুষ প্রদান করে থাকেন, যার পরিমাণ ২ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

মুজিবুল-বাহার ও তার মেয়েসহ

মুজিবুল-বাহার ও তার মেয়েসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি অনুসন্ধানে দুদক

মুজিবুল-বাহার ও তার মেয়েসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি অনুসন্ধানে দুদক

ডেস্ক রিপোর্ট:

সাবেক রেলমন্ত্রী ও কুমিল্লা-১১ আসনের এমপি মুজিবুল হক এবং কুমিল্লা-৬ আসনের সাবেক এমপি আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারসহ চারজনের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

এছাড়া, বাহারের মেয়ে ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র তাহসিন বাহার সূচনা এবং সাবেক স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর সাবেক পিএস মো. কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে।

মঙ্গলবার (৮ অক্টোবর) দুদকের প্রধান কার্যালয়ে কমিশনের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এই চারজনের বিরুদ্ধে অর্থপাচার, ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রকল্পে অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাৎসহ দেশে-বিদেশে বিপুল অবৈধ সম্পদ গড়ার অভিযোগ রয়েছে। দুদকের গোয়েন্দা ইউনিটের তথ্য বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

অভিযোগের সূত্রে জানা যায়, সাবেক রেলমন্ত্রী মুজিবুল হকের বিরুদ্ধে টেন্ডার বাণিজ্য, নিয়োগ বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে রেলওয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ করে নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নামে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে।

আইনজীবী মো. জিয়া উদ্দিনের আবেদন ও টেন্ডার বাণিজ্য, নিয়োগ বাণিজ্যসহ অন্যান্য অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের প্রেক্ষিতে ওই অনুসন্ধান শুরু করা হয়।

অন্যদিকে, বাহাউদ্দিন বাহার, তাহসিন বাহার সূচনা এবং কামাল হোসেনসহ অন্যান্যদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, নিয়োগ বাণিজ্য, টেন্ডারবাজি ও অনিয়মের মাধ্যমে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া, বিদেশে অর্থপাচারসহ নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নামে শত শত কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ

অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ, অধ্যক্ষের অপসারণ দাবী

অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ, অধ্যক্ষের অপসারণ দাবী

জাকির হোসেন হাজারী, দাউদকান্দি:

দাউদকান্দির পিপইয়াকান্দি আমানুল উলুম ইসলামিয়া সিনিয়র মাদরাসার অধ্যক্ষ মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ তুলে অপসারণের দাবীতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশে করেছেন ওই প্রতিষ্টানের শিক্ষক কর্মচারী, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী। রবিবার বেলা ১১টায় মাদরাসার সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমবাবেশ বক্তব্য রাখেন মাদরাসার সহকারী অধ্যাপক ছালেহ উদ্দিন ভুঞা, আবুল কালাম বিশ্বাস, প্রভাষক রাশিদা আক্তার, মাদরাসার প্রাক্তন ছাত্র সাচার কলেজের প্রভাষক ইসমাইল হোসেন ও স্থানীয় কামাল হোসেন প্রমূখ।

বক্তারা বলেন, মাদরাসার অধ্যক্ষ মতিউর রহমান ২০০১সালে এই মাদরাসায় যোগদান করেন। প্রথম দিকে ভালো থাকলেও পরে বিভিন্ন অনিয়ম ও অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়েন। এমন অভিযোগ মাথায় নিয়ে ২০১৪ সালের জুন মাসে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন অধ্যক্ষ মতিউর রহমান। পরে কূটকৌশল অবলম্বন করে প্রভাবশালী লোকজনের মাধ্যমে একবছর তিনমাস পর আবার সে মাদরাসায় যোগদান করেন। এরপর তিনি বেপরোয়া হয়ে উঠেন। ভুয়া ভাউচার দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতে মেতে উঠেন।

মাদরাসার পানি নিস্কাশন ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের জন্য সরকারি অনুদানের পাঁচ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন। এছাড়া শিক্ষক কর্মচারী নিয়োগ নিয়েও অনিয়মের মাধ্যমে টাকার বানিজ্য করেছেন।

বক্তারা বলেন , গত ১সেপ্টেম্বর মাদরাসার শিক্ষক কর্মচারীরা অধ্যক্ষের অনিয়মের বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করেছি। বার বার অভিযোগ করলেও টাকার জোরে ধামাচাপা দিয়ে দেয় অধ্যক্ষ মতিউর রহমান।

বক্তারা আরও বলেন, অধ্যক্ষ মতিউর রহমান মাদরাসার ৭ম শ্রেণীর ছাত্রীসহ অন্যান্য ছাত্রীদের যৌন হয়রানী করাসহ নানা কৌশলে ছাত্রীদের বিরক্ত করতেন। দুইজন মহিলা প্রভাষক রাশিদা আক্তার- (গণিত) ও রাশিদা আক্তার (জীব বিজ্ঞান) অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে গত মার্চ মাসে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট যৌন হয়রানির লিখিত অভিযোগ করলেও কোন সুরাহা হয়নি। মাদরাসার শিক্ষক- শিক্ষিকাদের সাথে চরম দুর্ব্যবহার এবং কুরুচিপূর্ণ ও অশালিন ভাষা ব্যবহার করতেন। সরকারী সুযোগ সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষকদেরকে বিভিন্ন ভাবে হয়রানি করাসহ ছুটির আবেদনপত্র আবেদনকারী শিক্ষকের সামনেই ছিড়ে ফেলে দিতেন। আমরা এমন দুর্নীতিবাজ অধ্যক্ষের দ্রুত অপসারণের দাবী জানাচ্ছি।

অধ্যক্ষ মতিউর রহমান এবিষয়ে পরে কথা বলবেন বলে মুঠোফোনে এ প্রতিবেদককে জানান।

দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আরাফাতুল আলম বলেন, অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়টি মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তদন্ত করছে। তদন্ত রিপোর্ট পেলে মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। ওখান থেকেই চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।

বিদেশ যেতে পারবেন না খালেদা, মুক্তির মেয়াদ বাড়ছে ৬ মাস

ডেস্ক রিপোর্ট:

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দণ্ড স্থগিত করে আগের দুটি শর্তেই মুক্তির মেয়াদ আরও ৬ মাস বাড়ছে। এ সংক্রান্ত আবেদনে মুক্তির মেয়াদ আরও ৬ মাস বাড়ানোর বিষয়ে মত দিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়। মতামত দিয়ে তা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাঠানো হচ্ছে।

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী আনিসুল হক রাজধানীর সচিবালয়ে বুধবার সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

তিনি বলেন, আগের দুটি শর্তেই দণ্ডের মেয়াদ ৬ মাস বাড়ানোর আবেদনে ইতিবাচক মত দিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়। তবে তিনি বিদেশ যেতে পারবেন না।

এর আগে সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আইনমন্ত্রী জানান, খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে না।

তিনি বলেছিলেন, খালেদা জিয়ার বিদেশে যাওয়ার ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হবে না। তাকে বিদেশ থেকে ডাক্তার এনে চিকিৎসা করার অনুমতিও দিয়েছিলাম। ডাক্তার তাকে চিকিৎসাও করেছিলেন, ডাক্তার তাকে সুস্থও করেছেন।

কেন খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেওয়ার অনুমতি দেওয়া যাবে না, সেই প্রশ্নে পুরোনো ব্যাখ্যা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, একটা জিনিস আমি বুঝতে পারছি না। বহুবার আমি আইনের ব্যাখ্যা দিয়েছি। ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারার বাইরে গিয়ে আমাদের কিছু করার নেই। তারপর প্রতিবারই তারা প্রথম যে চিঠি লিখেছিল সেই আকারেই আবেদন করছে।

সরকারপ্রধান চাইলে খালেদা জিয়াকে বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দিতে পারে কিনা জানতে চাইলে আনিসুল হক বলেন, সরকারপ্রধান মানে হচ্ছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। তিনি যেহেতু এটা নিষ্পত্তি করে দিয়েছেন, এখন এটা পরিবর্তন করার আইনি কোনো বিধান নেই।

তিনি আরও বলেন, সরকার প্রধানকে আইনের ভেতরে থেকে মানবিক বিবেচনা করতে হবে। আইনের বাইরে গিয়ে তিনি মানবিক কারণ দেখাতে পারবেন না। প্রথম বার থেকেই মানবিক কারণে খালেদা জিয়াকে জামিন (নির্বাহী আদেশে সাময়িক মুক্তি) দেওয়া হচ্ছে। এখন সেই মেয়াদ বারবার রিনিউ হচ্ছে, সেটা কিন্তু মানবিক কারণেই হচ্ছে।

গত ৬ মার্চ পরিবারের পক্ষে খালেদা জিয়ার একান্ত সচিব এবিএম সাত্তার আবেদনের চিঠিটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পৌঁছে দেন। গতকাল রোববার সন্ধ্যায় তিনি বলেন, আবেদনপত্রে ম্যাডামের স্থায়ী মুক্তি ও বিদেশে চিকিৎসার অনুমতি চাওয়া হয়েছে। ম্যাডামের ছোটভাই (শামীম ইস্কাদার) অসুস্থ থাকায় আমি চিঠিটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পৌঁছে দিয়েছি। আবেদনপত্রে শামীম ইস্কাদার বলেন, বেগম জিয়ার জীবন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। খালেদা জিয়ার জীবন রক্ষায় দরকার দেশের বাইরে চিকিৎসা।

প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়াকে সাজা দেন আদালত। সেই থেকে প্রায় দুই বছর জেলে ছিলেন তিনি। পরে মহামারী করোনা ভাইরাসের প্রকোপ বৃদ্ধি পেলে ২০২০ সালের ২৫ মার্চ সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার দণ্ড স্থগিত করে দুটি শর্তে সরকারের নির্বাহী আদেশে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল।

প্রথমটি হলো, তাকে বাসায় থেকে চিকিৎসা নিতে হবে। দ্বিতীয় শর্তটি হলো, তিনি বিদেশ যেতে পারবেন না। তখন করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে তার পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে ৬ মাসের জন্য মুক্তি দেওয়া হয়। এরপর থেকে পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ছয় মাস অন্তর অন্তর তার মুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হচ্ছে।

সর্বশেষ গত বছরের ১২ সেপ্টেম্বর খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ ছয় মাস বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ওই মেয়াদ শেষ হচ্ছে ২৪ মার্চ। এবার নবম বারের মতো মুক্তির মেয়াদ বাড়ছে খালেদা জিয়ার।

শিক্ষিত তরুণরা রাজনীতিতে না এলে অযোগ্য লোক নেতৃত্ব দেবে: মন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট:

শিক্ষিত তরুণ সমাজের রাজনীতিতে আসার প্রয়োজন রয়েছে মন্তব্য করে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেছেন- তা না হলে অযোগ্য লোক সমাজকে নেতৃত্ব দেবে।

শুক্রবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (বিএফডিসি) ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত ‘স্থানীয় সরকার শক্তিশালী করার মাধ্যমে স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণ সম্ভব’ শীর্ষক এক পাবলিক পার্লামেন্ট বিতর্ক প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

স্মার্ট বাংলাদেশের জন্য শক্তিশালী স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করে তাজুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত ও স্মার্ট বাংলাদেশের যে পথনাথ তৈরি করেছেন সে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে শক্তিশালী স্থানীয় সরকার অপরিহার্য।

তিনি বলেন, শক্তিশালী স্থানীয় সরকার বলতে শুধুমাত্র বাজেট বা টাকা পয়সা দিয়ে সহায়তা বুঝায় না, রাজস্ব আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে স্থানীয় নানা ধরনের সমস্যার সমাধান করাকে-ও বুঝায়। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি করে সে ধরনের অবস্থানে নিয়ে যাওয়াই সরকারের লক্ষ্য।

মো. তাজুল ইসলাম এ সময় স্থানীয় সরকার শক্তিশালীকরণের পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহিতা এবং তাদের কাজের মূল্যায়নের ওপরও জোর দেন। তিনি বলেন, ঢালাওভাবে জনপ্রতিনিধিদের খারাপ বলা উচিত নয়, তেমনি অনেক জনপ্রতিনিধি নানা ধরনের ভালো কাজ করছেন তাদের সে ভালো কাজের মূল্যায়নও সমাজে প্রয়োজন।

আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় নানা ধরনের দুর্নীতি রয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সাধারণত দুর্নীতি বলতে আমরা আর্থিক দুর্নীতিটাকেই বেশি বুঝে থাকি কিন্তু নিজের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন না করাও অনেক বড় দুর্নীতি। স্মার্ট বাংলাদেশ তৈরি করতে গেলে স্মার্ট জনপ্রতিনিধি এবং স্মার্ট জনগণ দুটোই লাগবে।

জনপ্রতিনিধি ও জনগণ তাদের নিজেদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করলেই দুর্নীতিমুক্ত স্মার্ট বাংলাদেশ তৈরি করা সম্ভব।

মন্ত্রী উন্নত বিশ্বের উদাহরণ দিয়ে বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার ও স্থানীয় সরকার কেউ কারো প্রতিদ্বন্দ্বী নয়। আইন দ্বারা এই দুই ব্যবস্থার কাজের পরিধি সুনির্দিষ্টভাবে ভাগ করা রয়েছে। তবে প্রশ্ন হচ্ছে স্থানীয় সরকার তাদের নিজেদের কাজ সঠিকভাবে করছে কি না, তাদের রাজস্ব আয়ের নানা ধরনের উপায় সৃষ্টি করতে পারছে কি না এবং স্থানীয় মানুষকে তাদের সমস্যার অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাধানের দিকে নিয়ে যেতে পারছে কি না। স্থানীয় সরকার কিংবা কেন্দ্রীয় সরকার সবাই মানুষের জীবনমান উন্নয়নের জন্য কাজ করবে।

নির্বাচনে প্রার্থীদের হলফনামায় নজর রাখছে দুদক: মাহবুব হোসেন

ডেস্ক রিপোর্ট:

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের হলফনামার দিকে নজর রাখছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। যাদের হলফনামায় অস্বাভাবিক সম্পদের তথ্য পাওয়া যাবে তাদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান করা হবে।

আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন দুদক সচিব মো. মাহবুব হোসেন। ঢাকার সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

দুদক সচিব বলেন, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন দুদক আয়োজিত আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবসের কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। শিল্পকলার জাতীয় নাট্যশালায় কমিশনের কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে।

নাইকো দুর্নীতি মামলায় সাক্ষ্য দিতে আদালতে কানাডার দুই পুলিশ

ডেস্ক রিপোর্ট:

নাইকো দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ আটজনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে আদালতে হাজির হয়েছেন কানাডা অ্যান্ড রয়েল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশের সদস্য কেবিন দুগ্গান ও লয়েড শোয়েপ।

সোমবার (৩০ অক্টোবর) সকালে কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে অবস্থিত ঢাকার ৯ নম্বর (অস্থায়ী) বিশেষ জজ আদালতের বিচারক শেখ হাফিজুর রহমানের আদালতে হাজির হন তারা। চলছে সাক্ষ্যগ্রহণ।

এর আগে বৃহস্পতিবার (১৯ অক্টোবর) কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে অবস্থিত ঢাকার ৯ নম্বর (অস্থায়ী) বিশেষ জজ আদালতের বিচারক শেখ হাফিজুর রহমান ৩০ অক্টোবর তাদের আদালতে এসে তাদের সাক্ষ্য দিতে এ সমন জারি করেন। এদিন মামলার বাদী দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তৎকালীন সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ মাহবুবুল আলমকে জেরা করার দিন ধার্য ছিল। খালেদা জিয়ার পক্ষে তার আইনজীবী হাজিরা দাখিল করেন।

এরপর খালেদা জিয়াসহ অপর আসামির পক্ষে বাদীকে জেরা করেন তাদের আইনজীবীরা। জেরা শেষ হওয়ায় পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ৩০ অক্টোবর দিন ধার্য করেন আদালত।

গত ১৭ সেপ্টেম্বর খালেদা জিয়াসহ আটজনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (এফবিআই) একজন এবং কানাডিয়ান রয়েল মাউন্টেড পুলিশের দুজনকে অনুমতি দেন আদালত। তারা হলেন- যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যরো অব ইনভেস্টিগেশনের অবসরপ্রাপ্ত সুপারভাইসরি স্পেশাল এজেন্ট ডেবরা লাপরিবট্ট গ্রিফিথ, কানাডা অ্যান্ড রয়েল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশের সদস্য কেবিন দুগ্গান ও লয়েড শোয়েপ।

খালেদা জিয়ার আইনজীবী জিয়া উদ্দিন জিয়া ও হান্নান ভুইয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর দুদকের তৎকালীন সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম তেজগাঁও থানায় খালেদা জিয়াসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। কানাডিয়ান প্রতিষ্ঠান নাইকোর সঙ্গে অস্বচ্ছ চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতিসাধন ও দুর্নীতির অভিযোগে এ মামলা করা হয়।

এরপর ২০১৮ সালের ৫ মে খালেদা জিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। এতে তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকা আর্থিক ক্ষতিসাধনের অভিযোগ আনা হয়। ২০২৩ সালে ১৯ মার্চ কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে অবস্থিত ঢাকার ৯ নম্বর (অস্থায়ী) বিশেষ জজ আদালতের বিচারক শেখ হাফিজুর রহমান আসামিদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ গঠন করেন।

মামলার অন্য সাত আসামি হলেন- তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব খন্দকার শহীদুল ইসলাম, সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব সি এম ইউছুফ হোসাইন, বাপেক্সের সাবেক মহাব্যবস্থাপক মীর ময়নুল হক, ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুন, ইন্টারন্যাশনাল ট্রাভেল করপোরেশনের চেয়ারম্যান সেলিম ভূঁইয়া ও নাইকোর দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশেম শরীফ।

অন্যদিকে, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেন ও বাপেক্সের সাবেক সচিব মো. শফিউর রহমান মারা যাওয়ায় মামলা থেকে তাদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।